সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

আজকালের মেয়েদের নষ্টামির শুরু তাদের মায়েদের কাছ থেকে

ঘরের কোনের মায়ের মেকআপ বাক্সটা তাকে ছোটবেলা থেকেই শিখিয়েছে যে, সৌন্দর্য্য ছাড়া সে সমাজে মুল্যহীন, শিখিয়েছে কি করে গালে,ঠোঁটে রঙ মেখে ভাঁড় সাজতে হয়। বিক্রি হয়ে যায়। সে বুঝতে পারে না, তার শরীরের প্রতিটা ইঞ্চি ইঞ্চি অংশ চোখ দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চেটেপুটে খায়। যার যেভাবে খুশি সেভাবে খায়। নারীরূপ দেহবল্লরি ভোগের জন্য চড়া দামে বিক্রি হয় তার চুল,নখ,চোখ,চোখের চাহনী,গায়ের সাদা মাংস, ঠোঁট শরীরের প্রতিটি রোমকূপ। সমাজের উঁচু চেয়ার দখল করে বসে থাকা কর্পোরেট গুরুদের চাই তার সবকিছু। তার উপরে,নিচে, ডানে, বাঁয়ে সবদিক থেকে রেডি থাকে সেন্সর ক্যেমেরা। চারপাশে চোখ ধাঁধাঁনো উজ্জল আলোর ঝলকানি। যতটা কাছ থেকে পারা যায় তুলতে হবে সাব্জেক্টের ছবি। সাব্জেক্টের কোন কিছুই বাদ দেওয়া যাবে না। যেভাবেই হোক ফুটিয়ে তুলতে হবে সাব্জেক্টের শরীরের প্রতিটা ইঞ্চি লোভোনীয় সৌন্দর্য্য, কোমলতা। দু’হাত, দু’পা, মাথা, কোমর, ঠোট, চুল, আঙ্গুল, বুক হেলিয়ে দুলিয়ে ছড়িয়ে দিয়ে পোজ দিতে হবে ক্লাইন্টদের মনোরঞ্জনের জন্য । পোশাক খুলিখুলি খুললাম ভংগিতে নেশা ধরানো ফটোতে দারুন ব্যবসা, বিক্রি হবে কোটি টাকায়। হাটে ওঠা গাভীর মত খদ্দেররা তাকে যাচাই করে। সামনে, পেছনে, ডানে, বাঁয়ে সবদিকে থেকে হেঁটে দেখায় খদ্দেরদের। নেচে, গেয়ে, কেটওয়াক করে যতভাবে সম্ভব সে নিজেকে মেলে ধরে মোবাইলের এসএমএসে হাকা হয় তার দাম। যার ঝুলিতে যত বেশি এসএমএস তার দাম তত বেশি এই চামুকচুমুকের হাঁটে । বাধ্য রমনী তখন নেমে যায় কুৎসিত প্রতিযোগিতা নামক অঙ্গমন্থনের সাঙ্গলীলায়। সেরা অঙ্গ বিক্রেতার পদ পেতে ট্রাম জয়ী হওয়ার বাসনায় সে অস্থির হয়ে সঙ্গ দেয় সকলের । তার সবকিছু সে আরো উজাড় করে দিতে চায় গুদাম উদাম করে । পাবলীক বঊয়ের এওয়ার্ড টি জিততে যে তাকে হবেই। সে হয়তো জানে না তাকে কর্পোরেট গুরুদের ভাষায় বলে “প্রোডাক্ট”। খোলা বাজারে তার শরীরের মাংস বিক্রি করে তারা তাদের ঘরের চাল কেনে। তাকে একজন মানুষ হিসেবে আর কখনো সম্মান করা হয় না। তাকে দেখা হয় কেবলমাত্র একটি ভোগের,বিনোদনের বস্তু হিসেবে। আদর করে তাকে হয়তো সুপারস্টার খেতাবটা দেওয়া হয়। সাথে থাকে অনেক টাকা,খ্যাতি আর হাততালি সাথে উরোচুম্বন তো আছেই । কিন্তু দিনশেষে কেউ প্রোডাক্ট কেউ ‘মাল’ আবার কেউ ‘কঠঠিন জিনিস’ বলেই সম্বোধন করে এই সাব্জেক্টটাকে ! অতপর কয়েক মাসেই চুম্বকীয় মোহোকাটলে এই সাবজেক্টের সেম্পল চিজটা চেঞ্জ করে ঝলসানো কাবাবের মতো নতুন সেম্পলকে সাব্জেক্ট করা হয়, শুরু হয় তাকে কর্পোরেট মহলের উপোযোগী প্রডাক্ট বানানোর ত্বরীকা….. ফের শুরু হয় শেয়ালের কন্ঠে মুরগি অধিকার বিষক স্লোগান…..

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন