শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

হাদিল নামের যে ফিলিস্তিনি কন্যাকে নিয়ে আমি কয়েকদিন আগে লিখেছিলাম,


হাদিল নামের যে ফিলিস্তিনি কন্যাকে নিয়ে আমি কয়েকদিন আগে লিখেছিলাম, কোনোভাবেই ১৮ বছর বয়সী এই তেজস্বী মেয়েটির কথা আমি ভুলতে পারছি না। ঠিক যে বয়সে আমাদের মেয়েরা কৈশোর পেরিয়ে তারুণ্যে পা রাখে, উচ্ছলতা আর চঞ্চলতায় কারও আসক্তি কিংবা বিরক্তির কারণ হয়ে ঘুরে বেড়ায়, ঠিক ওই বয়সে এই মেয়েটি কী অসীম সাহসিকতা দেখিয়ে গেল। 
ফিলিস্তিনের পশ্চিম প্রান্তে আলখলিল শহরে আশশুহাদা সড়কের ওপাশে গত ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সে গিয়েছিল তার স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে। আর দুদিন পর ঈদ, সেজন্যই হয়তো তার এই সাক্ষাত ছিল আপনজনদের কাছে। কিন্তু ফেরার পথে সদ্য টহলে আসা ইসরাইলি সেনাদের চেকপোস্টে তাকে মুখের নেকাব সরাতে বলা হয়েছিল, কিন্তু সে তা সরায়নি। ইসরাইলি সেনাদের অপমানসূচক মন্তব্যের কঠিন জবাব দিয়েছিল সে। বোরকায় আবৃত এক তরুণীর এমন তেজস্বী ধমক গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল ওই সেনাদের। ঠিক তখনই তার চোখের সামনে অস্ত্র তাক করে বুকে, পেটে এবং পায়ে মোট ১৫টি গুলি ছোঁড়া হলো, তবুও হার মানেনি এই সাহসীনী। অস্ত্র কিংবা গুলি নয়, ইহুদি কিংবা খ্রিস্টানও নয়, স্বদেশি চোর-ডাকাতের সামনে বস্ত্র সমর্পণ করে দিগম্বর হয়ে দৌড়াতে পারদর্শি আমাদের বেলায় এমন ঘটনা যে সত্যিই অকল্পনীয়, তা বলতে শরমবোধ হলেও লজ্জা নেই। আর নানারকম ভেংচি করে সেলফি তোলায় ব্যস্ত এই দেশের তরুণীসমাজ হয়তো বলবেন, চেহারাটা দেখালে কীইবা হতো! 
এই তরুণীর সাহসিকতা ইসরাইলি নিষ্ঠুর সেনাদের এতোটাই ক্রুদ্ধ করেছিল যে গুলি করার পর যখন তার শরীরটি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে কাঁপছিল, তখনও ৩০ মিনিট পর্যন্ত রেড ক্রিসেন্টের অ্যাম্বুলেন্সকে কাছে আসতে দেয়নি তারা। বরং নিজেরা অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার পর মৃত্যু নিশ্চিত হলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে তার লাশ হস্তান্তর করে ইহুদি সেনারা। যেন তারা শপথ নিয়েছিল, এমন কঠিন মেয়ে বেঁচে থাকলে তা তাদের জন্য বড় শঙ্কা হয়ে দেখা দেবে। হাদিলের জানাজায় যে বিপুলসংখ্যক লোকের সমাগম হয়েছিল, তা ফিলিস্তিনি গণমাধ্যমের কাছেও বিস্ময়কর লেগেছে। 
হাদিলের মতো আরও কিছু তরুণীর জন্ম হোক ফিলিস্তিনে এবং গোটা মুসলিম বিশ্বে, হাজারও কাপুরুষের চেয়ে এমন তাদের জন্যই স্বাধীনতার জয়ধ্বনি ছড়িয়ে পড়–ক পরাধীন পৃথিবীর আকাশে বাতাসে। মুছে যাক ‘শির দেগা, নেহি দেগা আমামা,’ বরং লেখা হোক, ‘শির দেগা, নেহি দেগা বোরকা’।
হাদিলকে নিয়ে করা আমার আগের পোস্ট শেয়ার হয়েছে ৮৪০ বার। সেখানে অনেকে মন্তব্য করেছেন, মেয়েটিকে আল্লাহ জান্নাত নসিব করুন। বোধহীন এইসব মন্তব্যে আফসোস চেপে রেখে বলি, ইহুদির গুলিতে শহীদ হওয়া মেয়েটির জন্য জান্নাত এমনিতেই প্রাপ্য, বরং দুআ করুন, ওর এই সাহসের কিঞ্চিত হলেও যেন পরম শক্তিমান আমাদের দান করেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন