সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

সকল পাঠক, বাংলাদেশের প্রশাসন ও চ্যানেল আই কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

আপনারা জানেন, কোরবানী ঈদ নিয়ে অনলাইনে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে একটি বড় সাংঘার্ষিক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এই সাংঘার্ষিক অবস্থার সৃষ্টি মূল কারণ ছিলো বাংলাদেশী ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিমের একটি ছবি। মুশফিকুর রহিম কুরবানী করছেন, এমন একটি পোস্ট করা এবং অতঃপর ছবিটি সরিয়ে নেয়া হয়। এই ছবি সরিয়ে নেওয়াই এই সাম্প্রদায়িক সাংঘার্ষিক অবস্থার মূল কারণ।
মুলতঃ এই ঘটনার মুল অনুঘটক এবং উস্কানিদাতা হিসেব কাজ করেছে, চ্যানেল আই নিউজের বার্তা সম্পাদক জাহিদ খান নেওয়াজ। জাহিদ নেওয়াজ সাংবাদিকতার আড়ালে মুসলিম ধর্মাবলম্বী মুশফিকুর রহিমের ধর্মীয় কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করে এবং বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে বাধ্য করে, ফলে ছবিটি সরিয়ে নেয় ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম । সেখান থেকেই উৎপত্তি হয় সাম্প্রদায়িক অস্থিতিশীলতার। বিশেষ করে জাহিদ খান নেওয়াজের বক্তব্যের যে অংশটি মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে বেশি আঘাত করে, তা হলো-
“আপনি (মুশফিকুর রহিম) একটা ভুল করেছেন। ফেসবুকে নিজ হাতে গরু জবাইয়ের যে ফটো আপনি পোস্ট করেছেন তা অনুচিত হয়েছে।....আপনার মনে রাখা উচিত ছিলো যে গরু জবাইয়ের রক্তাক্ত ওই দৃশ্য অনেকের জন্য অসহনীয় হতে পারে।.....ধর্মীয় অনুষঙ্গ হলেও, খেয়াল করে দেখুন, কোনো সুস্থ গণমাধ্যম পশু জবাইতো দূরের কথা, কোরবানির পশুর রক্তও দেখায় না। এটাই সাধারণ সভ্যতা।”
(http://goo.gl/fdLGvC)
জাহিদ খান নেওয়াজের এ বক্তব্যটি অবশ্যই মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির হস্তক্ষেপ, যা বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতির বিরুদ্ধচারণ। একইসাথে যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ট মুসলিম দেশের পশু জবাই একটি বহুল প্রচলিত ধর্মীয় অনুসঙ্গ, তাই তিনি কিছুতেই সেটার সাথে ‘অসহনীয়’, সুস্থতা, সভ্যতার বিপরীত শব্দগুলো মেনশন করতে পারেন না। এতে করে একদিকে তিনি যেমন নিজেই দেশের সংখ্যাগরিষ্ট জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছেন, অন্যদিকে মুশফিকুর রহিমকে প্ররোচিত করেছেন মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার জন্য। এবং মুশফিকুর রহিমের পোস্টে মুসলিম ও হিন্দুদের মধ্যে যে সাম্প্রদায়িক দ্বন্দ্ব, সেটার জন্য অবশ্যই এ জাহিদ নেওয়াজই দায়ি। জাহিদ নেওয়াজের পেশাগত দায়িত্ব ছিলো নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশ করা, কিন্তু তিনি সেই বাধন অতিক্রম করে আরেকজনকে ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন, বিরুদ্ধচারণ করতে প্ররোচিত করেছেন এবং সাম্প্রদায়িক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছেন।
একটা কথা না বললেই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে চানেল আই’র ভূমিকা অনেক ক্ষেত্রেই প্রশ্নবিদ্ধ। বিশেষ করে ‘ল্যাক্স-চানেল আই সুপার স্টার’ অনুষ্ঠানের মত একটি বিতর্কিত ‘সংস্কৃতি বিরুদ্ধ’ অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা করায় বর্তমান তরুণ সমাজের কাছে চ্যানেলটির গ্রহণযোগ্য নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে’ এরই মধ্যে মুসলমানদের কোরবানীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের উস্কানি সৃষ্ট করার জন্য চ্যানেল আই’র নাম বিশেষভাবে যুক্ত হলো।
এ ব্যাপারে প্রথমে চ্যানেল আইকেই পদক্ষেপ নিতে হবে। তাকে অবশ্যই ধর্মীয় উস্কানি সৃষ্টির জন্য বার্তা সম্পাদক জাহিদ খান নেওয়াজকে বহিষ্কার করতে হবে এবং প্রশাসনেরও উচিত হবে জাহিদ খান নেওয়াজকে আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। আর যদি চ্যানেল আই কর্তৃপক্ষ জাহিদ খান নেওয়াজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়, তবে বুঝতে হবে চ্যালেন আই’র মালিক কর্তৃপক্ষ কোরবানী বিরোধী অপপ্রচারের কাজ করে যাচ্ছে, ধর্মবিরুদ্ধ উস্কানি সৃষ্টি করছে। তাই তখন চ্যানেল আই টিভি চ্যানেলকে ব্যান করার দাবি উঠবে। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ প্রশাসন ও চ্যানেল আই’র কর্তৃ্পক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আহবান জানাচ্ছি।
----------------------------------------------------
পাঠককেও কোরবানী বিরুদ্ধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। প্রতিবাদ স্বরূপ তারা লেখাটি নিজ আইডিতে কপি করে ছড়িয়ে দিতে পারেন, নয়ত শেয়ার করতে পারেন। একই সাথে প্রিয় হ্যাকার ভাইদেরও কোরবানী বিরোধী অপপ্রচারে এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি।
by--নয়ন চ্যাটার্জি

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন