★★★★★★ ★★★★ ★★ ★★★★★★★★★
হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলী থানবী রহ. এর দিকে সম্পৃক্ত অতুলনীয় একটি কিতাব হল বেহেশতী জেওর। কিতাবটিতে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রয়োজনী প্রায় সকল বিষয় রয়েছে। শুধু শরীয়তের মাসআলা-মাসাইল নয়, দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনী জাগতিক বিষয়ের সমাধানও রয়েছে অসাধারণ এই কিতাবটিতে। একজন মানুষ কীভাবে কলমের কালি তৈরি করবে, সে পদ্ধতিও তিনি লিখে দিয়েছেন। এই কিতাবের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ হল, এতে বিভিন্ন রোগ ও এর চিকিৎসা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। থানবী রহ. এর সময়ে যেহেতু আধুনিক চিকিৎসার ততটা উন্নতি হয়নি, একারণে কিতাবের অধিকাংশ চিকিৎসা পদ্ধতি হেকিমি। ভেষজ উদ্ভিদ ও বিভিন্ন প্রাণির উপাদান থেকে কীভাবে একজন মানুষ আরোগ্য লাভ করবে, এর ব্যবস্থাপত্র দেয়া হয়েছে। সাধারণ রোগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যধি সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়েছে। উলামায়ে কেরামের প্রতি সাধারণ মানুষকে বীতশ্রদ্ধ করার জন্য ইংরেজ কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত তথাকথিত আহলে হাদিস এই কিতাবের উপর বিভিন্ন প্রপাগান্ডা চালিয়ে আসছে। এদের একজন সেদিন আমাকে বেহেশতী জেওর থেকে ধ্বজভঙ্গ রোগের একটি চিকিৎসা সম্পর্কে বলল, এটা সম্পর্কে আপনার মতামত কি? আমি বললাম, এটি ধ্বজভঙ্গ রোগের চিকিৎসা। এটা নিয়ে আপনার প্রশ্নের কারণ কী? এটা কুরআনের কোন আয়াতের বিরোধী বা কোন হাদীসের বিরোধী হয়েছে বলুন? তিনি একেবারে লা জওয়াব। কোন উত্তর দিলেন না। থানবী রহ. ধ্বজভঙ্গের যে চিকিৎসা দিয়েছেন, সেটা যদি শরীয়ত বিরোধী না হয়, তাহলে এটা নিয়ে মিথ্যাচার কেন করছেন?আরব শায়খরা ভায়াগ্রা ব্যবহার করলে আপনারা অভিযোগ করেন না, কিন্তু সাধারণ মানুষের ধ্বজভঙ্গের চিকিৎসা দেয়াটা আপনাদের কাছে অপরাধ?
প্রবৃত্তিপূজারী তথাকথিত আহলে হাদীস সম্প্রদায়ের মুখোশ উন্মোচনে দু'টি নোট লিখেছিলাম। "তথাকথিত আহলে হাদীসদের যৌন সমাচার" ও " এ মূর্খতার শেষ কোথায়"। আহলে হাদীসরা এর উত্তর না দিয়ে নতুনভাবে মিথ্যাচার শুরু করেছে। তাদের প্রতিক্রিয়া থেকে স্পষ্ট, নিজে ষোল আনা অপরাধ করে সেটা অন্যের ঘাড়ে চাপাতে এরা সিদ্ধহস্ত। চোর নিজে চুরি করে যদি অন্যকে দোষারোপ করে আত্মতৃপ্তি লাভ করতে চাইলে ব্যক্তিগতভাবে করতে পারে, কিন্তু তার এই আত্মতৃপ্তি পাবলিকের হাত থেকে তাকে বাচাতে পারবে না। সাধারণ মানুষের কাছে, আহলে হাদীসদের বাস্তবতা স্পষ্ট হয়েছে এবং মুসলিম উম্মাহকে বিভক্ত করার ক্ষেত্রে এদের গভীর ষড়যন্ত্র সম্পর্কে অনেকেই অবগত। ইনশাআল্লাহ আজকের আলোচনায় এদের বাস্তবতা আরেকটু স্পষ্ট হবে বলে আশা রাখি।
আশরাফ আলী থানবী রহ. এর মত জগৎ বিখ্যাত আলেম ও বুজুর্গকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য আনিসুর রহমান মারাত্মক মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছে। আনিসুরের পোস্টের লিংক:https://www.facebook.com/permalink.php?story_fbid=638529129608443&id=100003540851590&substory_index=0
প্রথমত: আশরাফ থানবী রহ. যৌন বিষয়ে যা কিছু লিখেছেন, এগুলো মূলত: ধ্বজভঙ্গ রোগের চিকিৎসা হিসেবে লিখেছেন। ইসলামী শরীয়তে স্বামীর জন্য স্ত্রীর যৌন অধিকার রক্ষা করা ফরজ। স্বামী যদি ধ্বজভঙ্গ হয়, তাহলে উক্ত স্বামীকে চিকিৎসার সুযোগ দেয়া হবে। চিকিৎসায় ধ্বজভঙ্গ রোগ না সারলে স্ত্রীকে তালাক দিতে হবে। এই মাসআলাটি যে কোন ফিকহের কিতাবে রয়েছে। একারণে ধ্বজভঙ্গ রোগের চিকিৎসা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বরং স্বামীর জন্য এ রোগের চিকিৎসা করা ফরজ। ধ্বজভঙ্গ রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে ইউনানী, হোমিউপ্যাথি, আয়ুর্বেদী যে কোন চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারে। বেহেশতী জেওরে কিছু হেকিমি চিকিৎসা পদ্ধতি লেখা হয়েছে। এই পদ্ধতির কোনটাই থানবী রহ. এর নিজস্ব নয়। অধিকাংশ পদ্ধতি উপমহাদেশের হেকিমি চিকিৎসকদের। যে কোন হাকিমের লেখা বইয়ে এধরনের চিকিৎসা পাওয়া যাবে। ধ্বজভঙ্গ রোগের চিকিৎসায় থানবী রহ. যেসব শব্দ ব্যবহার করেছেন, এগুলো চিকিৎসার ক্ষেত্রে খুবই কমন বিষয়। বর্তমানে মেডিলের যে কোন বইয়ে এধরনের শব্দ থাকতে বাধ্য। চিকিৎসা বিষয়ক যে কোন বই খুলুন, এধরনের শব্দ রয়েছে।
বর্তমানে উন্নত বইগুলোতে চিত্রসহ রোগের বিবরণ থাকে। চিকিৎসার প্রয়োজনে যৌন বিষয়ক শব্দ ব্যবহারের কারণে এগুলো যদি রগরগে যৌণ বর্ণনা হয়, তাহলে পৃথিবীর সকল চিকিৎসার বই রগরগে চটি বই। আনিসুর রহমানের সবচেয়ে বড় শয়তানি হল, সে একটিবারও একথা বলেনি যে, এটি যৌন রোগের চিকিৎসা হিসেবে লেখা হয়েছে। আনিসুর রহমানের নোংরা মানসিকতা থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট, চিকিৎসা বিষয়ক বই থেকেও তিনি রগরগে যৌন স্বাদ পেয়ে কুকড়ে যান। চিকিৎসা বিষয়ক পথ্য থেকে যারা এধরনের রগরগে যৌন স্বাদের গন্ধ পায়, তাদের রুচিবোধ সম্পর্কে আর কিছু বলার আছে বলে মনে করি না। আমি এই প্রথম এত নীচু মানসিকতার লোক দেখেছি, যে যৌন চিকিৎসার আলোচনায় রগরগে যৌন স্বাদের গন্ধ পায়। বাংলাদেশে হোমিও প্যাথির উপর লেখা অসংখ্য বইয়ে এধরনের বর্ণনা আছে, হামদর্দের ঔষধগুলোতে এধরনের বর্ণনা থাকে, ভেষজ উদ্ভিদের বইয়ে এধরণের বর্ণনা থাকে, কিন্তু এ পর্যন্ত কোন নোংরা মানসিকতার লোক পাইনি যে এসব বই থেকে যৌন স্বাদ পায়। এসব বই কে চটি হিসেবে গণ্য করার মত এত নীচ মানসিকতা কীভাবে তৈরি হয়, সেটাই বিস্ময়।
আশরাফ থানবী রহ. এর সম্পূর্ণ আলোচনার স্ক্রিনশট দেখুন:
নোট লিঙ্ক =
আনিসুর রহমানের নোংরা মানসিকতাসম্পন্ন বক্তব্যগুলো দেখুন,"আমরা অত্র কিতাব অধ্যায়ন করে দেখেছি যে, এই কিতাবে এমন কিছু বিষয়ের অবতারনা করা হয়েছে যে, কোনো নারী তো দূরে থাক সর্বসাধারনও এগুলো পাঠ করতে লজ্জায় কুঁকড়ে যাবে। যৌনতার রগরগে বর্ণনা, পুরুষের যৌনাঙ্গ লৌহ দণ্ডের ন্যায় মোটা-তাজাকরনের অদ্ভুত পদ্বতি, মহিলাদের লজ্জাস্থান ছোট-টাইট করনের আজগুবি পদ্বতি বর্ণনা ইত্যাদি দ্বারা কিতাবটি ভরপুর। যৌনতার এমন রগরগে বর্ণনা ইসলামী শিক্ষার নামেই চালানো হচ্ছে।"
অর্থাৎ আনিসুর রহমানের অধ্যয়নে যৌন রোগের চিকিৎসার জন্য লিখিত পথ্য হল যৌনতার রগরগে বর্ণনা। চিকিৎসা বিষয়ক লিখিত পথ্য থেকে আনিসুর রহমানের এধরনের নোংরা মানসিকতা প্রমাণ করে সকল মেডিকেল বই আনিসুর রহমান গংদের নিকট রগরগে যৌন বর্ণনা। বাংলাদেশের অন্যান্য ডাক্তারদের লেখা বইও আনিসুর রহমান সাহেবদের নিকট চটি বই। আমরা আনিসুর রহমানের পরবর্তী স্ট্যাটাসের অপেক্ষায় আছি, কবে তিনি চিকিৎসা বিষয়ক অন্যান্য বই অধ্যয়ন করে এধরনের স্ট্যাটাস দিয়ে তার নোংরা মানসিকতার বহিপ্রকাশ ঘটাবেন।
পাঠকদের সামনে নমুনা হিসেবে ডা. বশির মাহমুদ ইলিয়াসের লেখা "ইমার্জেন্সী হোমিও প্যাথিক চিকিৎসা " বই থেকে ধ্বজভঙ্গ রোগের চিকিৎসা পেশ করছি। এটি পড়ে দয়া করে বলুন, থানবী রহ. এর আলোচনার সাথে ডা. বশির মাহমুদের আলোচনার পার্থক্য কোথায়??????????????
স্ক্রিন সর্টের লিঙ্ক=
আনিসুর রহমানের মিথ্যাচার:আনিসুর রহমান থানবী রহ. কে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য তার নামে মিথ্যাচার করে লিখেছে, "যৌনতার এমন রগরগে বর্ণনা ইসলামী শিক্ষার নামেই চালানো হচ্ছে।"আমরা আনিসুর রহমানকে চ্যালেঞ্জ করছি, ধ্বজভঙ্গের চিকিৎসাকে থানবী রহ. কোথায় ইসলামী শিক্ষা বলে উল্লেখ করেছেন? যদি বিন্দুমাত্র আল্লাহর ভয় থাকে, তাহলে আপনি থানবী রহ. এর নামে যে মিথ্যাচার করেছেন তার প্রমাণ দিন, নতুবা সবার সামনে তৌবা করুন। এই অপবাদের কারণে থানবী রহ. আপনাকে মাফ করবে কি না আমরা জানি না। যৌন চিকিৎসাকে 'যৌনতার রগরগে বর্ণনা' উল্লেখ করে আনিসুর রহমান যে নোংরামির পরিচয় দিয়েছে, এটি আনিসুর রহমানের মতো আহলে হাদীসের পক্ষেই কেবল সম্ভব।
আনিসুর রহমানের কাছে একটি অনুরোধ:
আনিসুর রহমানের যেই রাষ্ট্রের মতবাদ প্রচারে এধরনের নোংরামির আশ্রয় নিয়েছে, সেই রাষ্ট্রেরই একটি প্রথম সারির পত্রিকা হল, আর রিয়াদ।
আর রিয়াদ পত্রিকায় ২০০৩ সালের অক্টোবর মাসে একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়।
আর্টিকেলের শিরোনাম, التداوي بالمشتقات الحيوانية" প্রাণি থেকে আহরিত উপাদানের মাধ্যমে চিকিৎসা" ।আর্টিকেলের লিংক:http://www.alriyadh.com/C…/08-10-2003/Mainpage/SAHA_1808.php
এই আর্টিকেলে সৌদির কোন অঞ্চলে কী ধরনের চিকিৎসা প্রচলিত সেগুলোর বিবরণও রয়েছে। আনিসুর রহমান সাহেব নিজে যদি আরবী পড়তে না পারেন, তাহলে আপনাদের আরবী জানা শায়খদের কাছ থেকে সহায়তা নিতে পারেন। আপনারা যেহেতু সৌদি আরবের মতবাদ প্রচারে আত্মনিয়োগ করেছেন, এজন্য সৌদি আরব এসকল চিকিৎসা পদ্ধতিও আপনাদের 'অধ্যয়নের পদ্ধতি' অনুযায়ী প্রচার করবেন। প্রচারের শিরোনাম হবে, " সৌদি শেইখদের রগরগে যৌন বর্ণনা" ।
ভেড়ার অন্ডকোষ:
আর রিয়াদের উক্ত আর্টিকেলে ভেড়ার উপকারিতা সম্পর্ক লেখা হয়েছে,
الماعز: لحمه غذاء جيد وتؤكل خصية التيس لزيادة الباءة
অর্থাৎ ভেড়ার গোশত একটি সুস্বাদু খাবার। যৌন শক্তি বৃদ্ধির জন্য এর অন্ডকোষ খাওয়া হয়।মন্তব্য: আশরাফ আলী থানবী রহ. ধ্বজভঙ্গ রোগের চিকিৎসায় বিভিন্ন পথ্য লিখেছেন। অথচ আপনাদের শেইখ তো সাধারণ যৌন শক্তি বৃদ্ধির জন্য এটি খেতে বলেছেন। থানবী রহ. ছাগলের অন্ডকোষ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক করে দিয়েছেন, ধ্বজভঙ্গের চিকিৎসায় অন্য কোন ঔষধ যদি কাজ না করে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এটি খেতে পারে। অথচ আপনাদের শেইখরা সাধারণ যৌন শক্তি বৃদ্ধির জন্য এটি খাওয়ার কথা বলেছেন। আরেকটি ফতোয়া দেখুন।
সালাফীদের পরিচিত শায়খ সালেহ আল-মুনাজ্জিদকে অন্ডকোষ খাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি লিখেন,
يجوز أكل خصية الذبيحة ؛ حيث لا دليل على عدم الجواز ، والأصل الإباحة .
يجوز أكل خصية الذبيحة ؛ حيث لا دليل على عدم الجواز ، والأصل الإباحة .
" জবাইকৃত পশুর অন্ডকোষ খাওয়া বৈধ। এটি অবৈধ হওয়ার কোন দলিল নেই। প্রত্যেক বিষয়ে মূল হল মুবাহ হওয়া"
যাদের কাছে সাধারণভাবে অন্ডকোষ খাওয়া বৈধ, তারা ছাগল বা গরুর অন্ডকোষ নিয়ে নাক সিটকায় কী হিসেবে? আমরা তো চিকিৎসার প্রয়োজনে কাউকে সাময়িক খাওয়ার অনুমতি দিয়েছে, অথচ সালাফী শায়খরা তো সব সময় এটি খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। আর রিয়াদ পত্রিকায় যৌন শক্তি বৃদ্ধির জন্য এটি খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আনিসুর রহমান সাহেবের কাছে অনুরোধ, শায়খদের এসব ফতোয়ার উপর আমল করতে বিলম্ব করবেন কেন? আপনার ধ্বজভঙ্গ না থাকলেও শায়খদের ফতোয়া অনুযায়ী এগুলো খাওয়া উচিৎ। সেই সাথে সকল সালাফী-আহলে হাদীস ভাইদেরকে এগুলো খাওয়ার দাওয়াত দিন।
সালাফী শায়খদের নিকট যেহেতু অন্ডকোষ খাওয়া বৈধ, সুতরাং একটি বৈধ জিনিসকে অবৈধ বানাবার চেষ্টা, বৈধ জিনিস নিয়ে উপহাস করার কোন হাদীসে আছে? আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন, আমি যে জিনিস হালাল করেছি, তুমি সেটি হারাম করো কেন? আপনাদের নিকট যখন অন্ডকোষ খাওয়া বৈধ, তখন এটি নিয়ে তামাশা করে কীসের প্রমাণ দিলেন?
যৌনাঙ্গে সিংহের তেল মালিশ:
আনিসুর রহমান লিখেছে," ’কুকুরের সঙ্গমকালে যখন মজবুতভাবে লাগিয়া যায় তখন সাবধানতার সহিত কুকুরের লেজ জড় থেকে কাটিয়া লইবে। ৪০ দিন (অর্থাৎ এক চিল্লা!) উহা মাটির নীচে গাড়িয়া রাখিবে। অতঃপর মাটি হইতে বাহির করিবে এবং সুতায় গাঁথিয়া কোমরে ধারন করিবে। যতক্ষণ উহা কোমরে থাকিবে ততক্ষন বীর্যপাত হইবে না’’ বেহেশতী জেওর পৃষ্ঠা নঃ ৩৭৮# আমাদের বক্তব্যঃ এখানে আর চুপ থাকতে পারলাম না। হে সম্মানিত পাঠক! চিন্তা করে দেখুন, একটি জীবিত কুকুরকে তার সঙ্গমকালীন অবস্থায় একদম গোঁড়া হতে লেজ কেটে নেয়া!!! অতঃপর সেটাকে এক চিল্লা অর্থাৎ চল্লিশ দিন মাটির নীচে দাফন করে রাখা! অতঃপর তাবিজের মতো কোমরে ধারন করে...............!আমাদের ভাগ্য ভালো যে, থানভী সাহেব কুকুরের লেজের কথা বলেছেন, বাঘের লেজের কথা বলেননি!!! "
আনিসুর রহমান যেই বক্তব্যে চুপ থাকতে পারেননি, আনিসুর রহমানদের গুরু ও মুজাদ্দিদ নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান ভুপালী তার আদ-দা ওয়াদ দাওয়া বইয়ে হুবহু সেই কথাগুলো লিখেছে। গতকালের আলোচনায় আমরা মূল বইয়ের ছবিসহ উল্লেখ করেছি।
সুতরাং আনিসুর রহমানের সুরে সুর মিলিয়ে বলতে হয়, " আহলে হাদীসদের মুজাদ্দিদ ও মহান সংস্কারকের কুকুরের লেজ সংক্রান্ত পথ্যে আর চুপ থাকতে পারলাম না। হে সম্মানিত পাঠক! চিন্তা করে দেখুন, একটি জীবিত কুকুরকে তার সঙ্গমকালীন অবস্থায় একদম গোঁড়া হতে লেজ কেটে নেয়া!!! অতঃপর সেটাকে এক চিল্লা অর্থাৎ চল্লিশ দিন মাটির নীচে দাফন করে রাখা! অতঃপর তাবিজের মতো কোমরে ধারন করে...............!আমাদের ভাগ্য ভালো যে, থানভী সাহেব কুকুরের লেজের কথা বলেছেন, বাঘের লেজের কথা বলেননি!!! "
আনিসুর রহমানদের মহান মুজাদ্দিদ বাঘের লেজের কথা না বলায় তারা যে খুশি প্রকাশ করেছে এটি সাময়িক। কারণ এই খুশি তাদের আরেক শায়খ ভন্ডুল করে দিয়েছেন। তিনি যৌন শক্তি বৃদ্ধির জন্য সিংহের চর্বি বা তেল দিয়ে যৌনাঙ্গ মালিশ করতে বলেছেন।
"আর রিয়াদ " পত্রিকায় প্রকাশিত আর্টিকেলে বলা হযেছে,
الأسد: يستعمل دهنه في التدليك لإزالة آلام الظهر، وإذا دلك به العضو التناسلي والخصيات نفع مقوياً للباءة
الأسد: يستعمل دهنه في التدليك لإزالة آلام الظهر، وإذا دلك به العضو التناسلي والخصيات نفع مقوياً للباءة
অর্থাৎ সিংহের চর্বি ও তেল দিয়ে যৌনাঙ্গ ও অন্ডকোষ মালিশ করলে সঙ্গমের জন্য এটি শক্তিশালী হবে। আনিসুর রহমান সাহেবদের কাছে অনুরোধ, আপনাদের মুজাদ্দিদ সাহেব যেই অপূর্ণতা রেখেছিলেন, আর রিয়াদ পত্রিকায় সেটি পূর্ণ করা হয়েছে, সুতরাং নতুনভাবে প্রচার করুন, যৌন চিকিৎসায় আহলে হাদীস ও সালাফী শায়খদের রগরগে বর্ণনা।আনিসুর রহমানরা এখন আর কুকুরের লেজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নন, তারা যৌন শক্তির বৃদ্ধির জন্য সিংহের চর্বিও ব্যবহার করেন!!!।
আনিসুর রহমান সাহেব লিখেছে, "কুকুরের লিঙ্গ কাটিয়া লইবে। সঙ্গমের পূর্বে উরুতে বাধিবে। ইহাতে রতিশক্তি বৃদ্ধি পায়। উহা উরুতে বাঁধা থাকাকালীন লিঙ্গ নিস্তেজ হইবে না, কামাগ্নি প্রজ্জলিত থাকিবে’’ বেহেশতী জেওর পৃষ্ঠা নঃ ৩৭৭# আমাদের বক্তব্যঃ কুকুরের লিঙ্গ উরুতে বাঁধার সাথে এগুলোর কি সম্পর্ক! এছাড়া আর কিছুই বলার নেই!"
আনিসুর রহমান সাহেব উভয়ের তাৎপর্য খুজে পাননি। আমি আনিসুর রহমানদের মাথার তাজ সালাফীদের মহান ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. এর বিশিষ্ট ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম রহ. এর কিতাবে হয়ত এর একটি তাৎপর্য পেয়েছি। আশা করি, এই তাৎপর্যটি আনিসুর রহমান সাহেবকে চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে সালাফী শায়খদের অবস্থান বুঝতে সহযোগিতা করবে। "বিভিন্ন হাদীস দ্বারা প্রমাণিত সত্য হল, মানুষের চোখের কু-দৃষ্টির কারণে বিভিন্ন ক্ষতি হয়ে থাকে। অনেক সময় নজর লাগার কারণে ছেলে-মেয়েদের স্বাস্থ্য নষ্ট হয়। বিভিন্ন হাদীসে নজর লাগার চিকিৎসাও বর্ণনা করা হয়েছে। ইবনুল কাইয়্যিম রহ. তার বিখ্যাত কিতাব আত-তিব্বুন নববীতে নজর লাগার একটি চিকিৎসা উল্লেখ করেছেন। আসুন পদ্ধতিটা দেখে নেয়া যাক,"যার কু-দৃষ্টির কারণে নজর লেগেছে তাকে আদেশ দেয়া হবে, সে যেন তার উরুসন্ধি ও পাশের জায়গা ও পায়জামার নীচের অংশ ধৌত করে। পায়জামার নীচের অংশ দু'টি উদ্দেশ্য হতে পারে। ১. যৌনাঙ্গ ধৌত করবে। ২.পায়জামার নীচে শরীরের ডান দিকের অংশ ধৌত করবে। অত:পর, যার নজর লেগেছে, তার পেছন থেকে হঠাৎ সেই পানি তার উপর ঢেলে দিবে। এটি ডাক্তার পদ্ধতি থেকে ভিন্ন। কেউ যদি এটি অস্বীকার করে , কিংবা এটি নিযে উপহাস করে, বা সন্দেহ করে অথবা পরীক্ষা করে দেখার জন্য এটি করে তাহলে তার উপকার হবে না। "[আত-তিব্বুন নববী, পৃ.১৩৪, ইবনুল কায়্যিম রহ]
ছোটকাল থেকেই বিভিন্ন ফার্মেসীতে থানবী রহ. দন্ত-শেফা নামে একটা সাইনবোর্ড দেখে আসছি। এখনও ঢাকা শহরের বিভিন্ন ফার্মেসীতে এটি দেখা যায়। আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি তথা রসায়ন নির্ভর চিকিৎসা পদ্ধতির আগে পৃথিবীতে ভেষজ চিকিৎসা পদ্ধতি ছিল। ইউনানী, আয়ূর্বেদীসহ বিভিন্ন হেকিমি চিকিৎসা পদ্ধতিতে মানুষ তাদের রোগ নিরাময়ের চেষ্টা করত। বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে মানুষ যান্ত্রিক সভ্যতায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি থেকে দূরে সরে এসেছে। বাহ্য দৃষ্টিতে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি ক্যামিস্ট্রি নির্ভর হলেও চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রাণী ও গাছ-গাছড়ার ব্যবহার থেকে মুক্ত হতে পারে নি। আমরা হয়ত ফার্মেসী থেকে এক বোতল সিরাপ, কিংবা এক পাতা ক্যাপসুল কিনে খেয়ে নেই, কিন্তু এই সিরাপ বা ক্যাপসুল কীসের থেকে তৈরি সেটি খেয়াল করি না। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানেও গাছ-পালা ও প্রাণীদের বিভিন্ন উপাদান থেকে হাজারও ঔষুধ তৈরি হচ্ছে। বর্তমানে আমরা সম্পূর্ণ ডাক্তার নির্ভর হওয়ার কারণে কোন প্রাণী থেকে আহরিত ওষুধ সেবন করছি সেটি হয়ত খেয়াল করি না। বর্তমানের সাথে প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতির একটি মৌলিক পার্থক্য হল, প্রাচীন যুগে মানুষ সরারসি গাছপালা ও প্রাণীর বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করত, আধুনিক যুগে আমরা সেগুলোই ল্যাব থেকে প্রক্রিয়াজাত করে ব্যবহার করছি। নতুবা আধুনিক যুগেও প্রায় সত্তর ভাগ ওষুধ প্রকৃতি থেকে আহরণ করা হয়।
যেমন, ২০০৭ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, দীর্ঘ ২৫ বছর যাবৎ আমেরিকায় যে ঔষধ তৈরি হয়েছে এর সত্তরভাগ প্রাকৃতিক উপাদান থেকে নেয়া হয়েছে।
"Around 70 percent of all new drugs introduced in the United States in the past 25 years have been derived from natural products, reports a study published in the March 23 issue of the Journal of Natural Products. The findings show that despite increasingly sophisticated techniques to design medications in the lab, Mother Nature is still the best drug designer.
"Read more at
http://news.mongabay.com/2007/0320-drugs.html…
"Read more at
http://news.mongabay.com/2007/0320-drugs.html…
আমাদের চোখের আড়ালে ল্যাবে যে ওষুধ তৈরি হয়ে লিকুইড বা ট্যাবলেট হয়ে আমাদের কাছে আসছে, সেগুলো বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ও গাছ-পালা থেকে তৈরি হচ্ছে। মুসলিম হিসেবে আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, নিত্যদিন আমরা যেসকল ঔষধ ব্যবহার করছি, এর কতগুলো হালাল? ঔষধের উপাদান হিসেবে যেসব উপাদান ব্যবহার করছে সেগুলো কতটুকু হালাল? বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী ও গাছপালা থেকে ওষুধ তৈরি হচ্ছে, এর সবগুলোই কি হালাল?এর সহজ উত্তর হল, অবশ্যই না। ঔষধে অ্যালকোহলের ব্যবহার একটি সাধারণ বিষয়। অ্যালকোহল হারাম এটি সবারই জানা। এছাড়াও শুকর থেকে বর্তমানে বহু ঔষধ তৈরি হয়। শুকর ছাড়াও অনেক হারাম প্রাণি থেকে ঔষধ তৈরি হয়। বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানি বর্তমানে যে ঔষধ সরবরাহ করে, অধিকাংশ ঔষধে উপাদান লেখা থাকলেও উপাদানগুলো কোন প্রাণী থেকে আহরিত সেগুলো লেখা থাকে না। এটি মুসলমানদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সমস্যা । বৃটিশ মেডিকেল জার্নাল এর রিপোর্ট অনুযায়ী,"বর্তমানে প্রায় চারটি মেডিসিনের তিনটিতে বিভিন্ন প্রাণী থেকে আহরিত উপাদান ব্যবহৃত হয়।"ইংল্যান্ডে একশজন ডাক্তারের উপর জরিপ করে দেখা গেছে, ৭৪ জনের প্রেসক্রিপশনে প্রাণী থেকে আহরতি উপাদান রয়েছে। এর মধ্যে শুকর, গরু থেকে আহরিত উপাদান রয়েছে।
The claim: Nearly three out of four common medications include animal-derived ingredients, according to a new study in the British Medical Journal. Bad news, if you’re a vegetarian.The research: One hundred commonly prescribed drugs in the UK were studied, and 74 of them had lactose, gelatin, or magnesium stearate—ingredients that come from cows, pigs, and fish. Gelatin is often used in capsules or coatings, and lactose and magnesium stearate are often mixed with the active ingredients of the drugs. What it means: The researchers say doctors and patients often aren’t aware that prescription drugs are made with animal by-products. Reading labels does not always help since they found many are unclear or inconsistent.
সবচেয়ে দু:খজনক বিষয় হল, বর্তমানে ডায়বেটিস রোগের ঔষধ হিসেবে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়। অধিকাংশ ইনসুলিন শুকরের পরিপাকতন্ত্র থেকে তৈরি হয়।
[বিস্তারিত, http://blogs.discovery.com/…/10-common-pharmaceuticals-you-… ]
নীচে বিভিন্ন প্রাণী থেকে আহরতি উপাদানের একটি তালিকা রয়েছে। এটা দেখলে ঔষধে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণির ব্যবহার সম্পর্কে সামান্য ধারণা সৃষ্টি হবে।http://www.peta.org/living/beauty/animal-ingredients-list/
প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতিতে শুধু ভেষজ উদ্ভিদই ব্যবহৃত হত না, সেই সাথে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী থেকে আহরিত বহু উপাদান ব্যবহৃত হত। এমনকি এখনও চিকিৎসা হিসেবে এগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষভাবে যৌন রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এখনও অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসার চেয়ে হেকিমি চিকিৎসা জনপ্রিয়। হেকিমি চিকিৎসার উদাহরণ হিসেবে ইউনানী, আয়ুর্বেদী চিকিৎসা বিখ্যাত। যান্ত্রিক সভ্যতায় অভ্যস্ত হওয়ার কারণে আমাদের নিত্যদিনের পথ্যে কী কী উপাদান ব্যবহৃত হচ্ছে, সেগুলো সম্পর্কে আমরা বেখবর। চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোন গাছ-গাছড়া বা প্রাণীর কথা শুনলেই বিষয়টি আমাদের কাছে অপরিচিত মনে হয়। পর্দার আড়ালে আসলে কী হচ্ছে, সেটা না জানার কারণেই আমাদের মাঝে এধরনের মানসিকতা তৈরি হয়েছে। নতুবা সকল চিকিৎসা পদ্ধতিই গাছ-গাছড়া ও বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণির উপর নির্ভরশীল।
আধুনিক বায়োকেমিস্ট্রির উন্নতির পূর্বে আমাদের পূর্বপুরুষগণ চিকিৎসার জন্য হেকিমি চিকিৎসার উপর নির্ভরশীল ছিলেন। সেই সাথে মুসলিম হিসেবে আমরা তিব্বে নববীর ব্যবহারও করে আসছি। বিভিন্ন সময় রাসূল স. যেসব চিকিৎসা পদ্ধতির কথা বলেছেন, সেগুলোই তিব্বে নববী হিসেবে পরিচিত। এর সাথে পরবর্তীতে যোগ হয়েছে শরীয়ত সম্মত রুকিয়া বা তা'বীজ ব্যবস্থা। সালাফে-সালেহীন থেকে বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে বহু রুকিয়া বা তা'বীজের কথা বর্ণিত হয়েছে। এগুলো এক দিকে যেমন উপকারী, সেই সাথে সম্পূর্ণ শরিয়ত সম্মত। কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী তা'বীজের বিধান ভিন্ন । এগুলোর ব্যবহার জায়েজ নয়। কিন্তু কুরআন-সুন্নাহ সম্মত রুকিয়া বা তা'বীজের ব্যবহার সাহাবায়ে কেরাম ও সালাফে - সালেহীনের গুরুত্বপূর্ণ একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। যেসব সালাফী আলেম তা'বীজকে শিরক বলার চেষ্টা করেন, তারাও রুকিয়ার পক্ষে বহু ফতোয়া দিয়েছেন।
http://ruqya.net/ সাইটে রুকিয়া সম্পর্কে সালাফী আলেমদের অসংখ্য ফতোয়া রয়েছে। শায়খ ইবনে উসাইমিন সহজে বাচ্চা প্রসব সহজ হওয়ার রুকিয়া বলে দিয়েছেন। এবং নিজের অভিজ্ঞতালব্ধ রুকিয়ার কথাও আলোচনা করেছেন। বিশেষভাবে ইবনুল কাইয়্যিম রহ. তার 'আত-তিব্বুন নববী" কিতাবে ইসলামী চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। রাসূল স. এর দেয়া ব্যবস্থাপত্রের পাশাপাশি বিভিন্ন রুকিয়া সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। চিকিৎসা শাস্ত্রে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের পাশাপাশি রাসূল স. এর দেয়া বিভিন্ন ব্যবস্থাপত্র, বিভিন্ন দুয়া, রুকিয়া বা তা'বীজ ইসলামী চিকিৎসার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত।
বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞানে অধিকহারে হারাম জিনিসের ব্যবহার একটি সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। হারাম প্রাণি থেকে আহরিত উপাদান ও অ্যালকোহলের ব্যবহার খুবই সাধারণ বিষয়। এজন্য উলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেছেন। বিভিন্ন হাদীসে হারাম জিনিস দ্বারা চিকিৎসা করতে নিষেধ করা হয়েছে। এসব হাদীসের উপর ভিত্তি করে অধিকাংশ ফকীহ হারাম জিনিস দ্বারা চিকিৎসাকে নাজায়েজ বলেছেন। কিছু কিছু হাদীস দ্বারা হারাম জিনিস দ্বারা চিকিৎসার বৈধতারও প্রমাণ দেয়া যায়। এসব হাদীসের প্রতি দৃষ্টি রেখে কিছু কিছু উলামায়ে কেরাম তাদাবী বিল মুহাররম বা হারাম জিনিস দ্বারা চিকিৎসাকে জায়েজ বলেছেন। উভয় মতের সকলেই এ বিষয়ে একমত যে, কেউ যদি হারাম জিনিস দ্বারা চিকিৎসা করতে একান্ত বাধ্য হয় এবং হারাম জিনিস ছাড়া অন্য কোন চিকিৎসা না থাকে, তাহলে তার জন্য প্রয়োজন অনুপাতে হারাম জিনিস দ্বারা চিকিৎসার অনুমতি দেয়া হবে। কারণ পবিত্র কুরআনে জীবন সংকটাপন্ন হলে হারাম জিনিস ভক্ষণের অনুমতি দেয়া হয়েছে। দুররুল মুখতারে হারাম জিনিস দ্বারা চিকিৎসার একটি সুস্পষ্ট মূলনীতি উল্লেখ করা হয়েছে।
এ মূলনীতির আলোকে বিষয়গুলোকে যাচাই করতে হবে। يرخص (أي التداوي بالمحرم) إذا علم فيه شفاء ولم يعلم دواء غيره (الدرالمختار1:210)" হারাম জিনিসের মাঝে চিকিৎসা সুনিশ্চিত হয় এবং এটি ছাড়া অন্য কোন চিকিৎসা না থাকে, তাহলে হারাম জিনিস দ্বারা চিকিৎসার অনুমতি দেয়া হবে "[ আদ-দুররুল মুখতার, খ.১, পৃ.২১০]
হানাফী মাজহাবের কোন ফিকহের কিতাবে কিংবা কোন আলেমের লেখায় বাহ্যিক দৃষ্টিতে হারাম বা শরীয়তবিরোধী কোন চিকিৎসা যদি লেখা থাকে, তাহলে এটি সুনিশ্চিত যে, একান্ত বাধ্য হয়ে হারাম জিনিস দ্বারা চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট। এধরনের চিকিৎসা সম্পর্কে বাস্তব অবস্থা স্পষ্ট না করে এই অপপ্রচার চালান যে, হানাফী মাজহাবে অমুক হারাম জিনিস ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে, তাহলে এটি সুস্পষ্ট মিথ্যা অপবাদ। একান্ত বাধ্য হয়ে কোন হারাম জিনিস দ্বারা চিকিৎসা আর সাধারণভাবে হারাম জিনিস ব্যবহারের মাঝে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে।
মাজহাবের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো এবং উলামায়ে কেরামের প্রতি সাধারণ মানুষকে বীতশ্রদ্ধ করার কাজে নিয়োজিত কিছু লোক এধরনের নোংরা প্রপাগান্ডা চালিয়ে থাকে। এরা কখনই মাসআলার প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে না। কোন ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য সেটিও উল্লেখ করে না। মাসআলার খন্ডিত একটি অংশ নিয়ে ফেকাহ ও ইমামগণের উপর অপবাদ দিয়ে থাকে। দু'টি বক্তব্য লক্ষ্য করুন, ১. "কুরআনে মৃত প্রাণীর গোশত খাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে " ২. "একান্ত বাধ্য হয়ে মৃত গোশত খাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে"। উভয়ের মাঝে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। যারা কুরআনের উপর মিথ্যাচার করতে চায়, তারাই কেবল প্রথম বক্তব্য প্রচার করবে। কিন্তু দ্বিতীয় বক্তব্যে বাস্তব অবস্থাও উঠে এসেছে।মাজহাব ও ইমামগণের প্রতি বিদ্বেষ ছড়াতে আহলে হাদীসদের এধরনের প্রপাগান্ডা সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এরা ফতোয়ায়ে আলমগীরের বিরুদ্ধে বই লিখেছে। খোজ নিলে দেখবেন, এদের সবগুলো দাবী হয়ত প্রপাগান্ডা নতুবা নিজেদের ভুল অন্যের উপর চাপিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা। অনেকক্ষেত্রে এদের সালাফী-আহলে হাদীস আলেমরাও একই ফতোয়া দিলেও তারা এগুলো আলোচনা না করে হানাফী মাজহাবের বিরুদ্ধে মিথ্যার বেসাতি তৈরি করে। মোটকথা, আশরাফ আলী থানবী রহ. এর আমালে কুরআনী কিতাবে কিংবা থানবী রহ. এর মুরীদ আহমাদ আলী রহ. এর লেখা বেহেশতী জেওরে যদি বাহ্য দৃষ্টিতে কোন হারাম চিকিৎসা পদ্ধতি থাকে, তাহলে এটি উপর্যুক্ত মূলনীতির আলোকেই লেখা হয়েছে। অর্থাৎ একান্ত বাধ্য অবস্থায় প্রয়োজন অনুপাতে হারাম জিনিস দ্বারা চিকিৎসা সংক্রান্ত মূলনীতি।
আপনি সালাফী আলেমদের ফতোয়াগুলো যাচাই করেন, তাহলে এধরনের অসংখ্য অনুমতি দেখতে পাবেন। বিশেষভাবে islam Q&A তে এধরনের বহু ফতোয়া দেখতে পাবেন। মদ অল্প হোক কিংবা বেশি এটি হারাম। কিন্তু চিকিৎসার প্রয়োজনে ড.সালেহ আল-মুনাজ্জিদ প্রয়োজনীয় অ্যালকোহল ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। বর্তমানে এধরনের ফতোয়া প্রত্যেক আলেমই দিয়েছেন। সুতরাং চিকিৎসার প্রয়োজনে একান্ত বাধ্য অবস্থায় যেসকল মাসআলা বেহেশতী জেওরে লেখা হয়েছে, সেগুলো নিয়ে যারা অভিযোগ করে, তারা তাদের আলেমদের এসকল ফতোয়ার উপর কখনো অভিযোগ করে না। তাদের এই দ্বিমুখী আচরণ থেকে তাদের মূল উদ্দেশ্য আমাদের কাছে দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট।
বিভিন্ন জরিপ থেকে স্পষ্ট, আমাদের দৈনন্দিন চিকিৎসায় যেসকল ঔষধ ব্যবহার করা হয় সেখানেও প্রচুর হারাম জিনিস থাকে। শুকর থেকে কী পরিমাণ ঔষধ আহরণ করা হয়, সেটা দেখলেই আপনি বুঝতে পারবেন। আমাদের আহলে হাদীস-সালাফী ভাইয়েরা যাচাই-বাছাই ছাড়া এগুলো ব্যবহার করছেন, কিন্তু আঙ্গুল তুলছেন হানাফী মাজহাবের আলেমদের প্রতি। ইনসুলিনের বিষয়টি ধরা যাক। ইনসুলিন উৎপাদনের অনেক পদ্ধতি রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ ইনসুলিন শুকরের পরিপাকতন্ত্র তৈরি হয়। ডায়বেটিস রোগে আক্রান্ত আহলে হাদীস ভাইয়েরা কি কখনও এটি যাচাই করে ব্যবহার করেন যে, এটি কীসের থেকে আহরিত? কোন মুসলমান যদি আমেরিকায় থাকে, আর সেখানে শুধু শুকর থেকে তৈরি ইনসুলিন পাওয়া যায়, তাহলে সেখানকার মুসলমানদের জন্য করণীয় কী? আমাদের আহলে হাদীস ভাইয়েরা এর সমাধান দিলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব। ইসলাম শুধু জোরে আমীন, আর রফয়ে ইয়াদাইনের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়, মানব জীবনে প্রত্যেকটি সমস্যার সমাধানও ইসলাম দিয়েছে। এসকল সমস্যা সমাধানের জন্যই ফিকহের প্রয়োজন। আল্লাহর কসম, ফিকহ ছাড়া আধুনিক যুগের একটি মাসআলাও এসব আহলে হাদীসরা সমাধান করতে পারবে না। আর এসব সমস্যার সমাধান যদি না করা হয়, তাহলে পদে পদে বিভিন্ন হারামে লিপ্ত হয়ে জাহান্নামী হতে হবে। যেসব আহলে হাদীসরা ফেকাহ ও ফকীহ ইমামগণের বিরোধীতা করে, এদের কাছে আধুনিক যে কোন একটি জটিল মাসআলা দিয়ে শুধু কুরআন ও হাদীস থেকে সমাধান আনতে বলুন। যেমন, ইন্সুরেন্স বৈধ কি না, এজাতীয় যে কোন একটি মাসআলা দিলেই হবে। নিমিষেই সকল দম্ভ বের হয়ে অকল্পনীয় নমনীয়তা দেখতে পাবেন। সমালোচনা করা অনেক সহজ, কিন্তু সমাধান করা অনেক কঠিন। পেশাব একটি নাপাক বস্তু। পেশাব থেকে পবিত্র না হওয়ার কারণে কবরে শাস্তি হবে। অথচ বোখারী শরীফে রয়েছে, রাসূল স. উরাইনা গোত্রের লোকদেরকে চিকিৎসার প্রয়োজনে উটের পেশাব খাওয়ার আদেশ দিয়েছেন। এই হাদীস থেকে কিছু কিছু ফকীহ হালাল প্রাণির পেশাবকে পাক বলেছেন। কিন্তু গ্রহণযোগ্য ফতোওয়া হল, এটি নাপাক। হালাল প্রাণির পেশাব পাক ধরা হলেও পেশাব খাওয়ার বিষয়টি কেবল চিকিৎসার প্রয়োজনেই হতে পারে। রাসূল স. চিকিৎসার প্রয়োজনে উরাইনা গোত্রের লোকদেরকে পেশাব খাওয়ার আদেশ দিয়েছেন। চিকিৎসার প্রয়োজনে হারাম জিনিসের ব্যবহারের উপর যারা অভিযোগ করেন, তাদের এই হাদীসের উপরও অভিযোগ করা উচিৎ।
প্রেমের চিকিৎসায় ইবনুল কাইয়্যিম রহ. :
আহলে হাদীস -সালাফী ভাইয়েরা অন্যায়ভাবে হানাফী মাজহাব ও দেওবন্দী উলামায়ে কেরামের দিকে আঙ্গুল তুলতে অভ্যস্ত। যত বড় ইমামই হন না কেন, তাকে মিথ্যা অপবাদে জর্জরিত করতে সামান্য কুন্ঠিত হয় না। বড় বড় ইমামদেরকে নিয়ে তামাশা এদের কাছে খুব সাধারণ বিষয়। অন্যের দোষ খুজতে যারা অভ্যস্ত, তাদের চোখে নিজেদের দোষ কখনও ধরা পড়ে না। এসব আহলে হাদীস-সালাফী ভাইদের খেদমতে ইবনুল কাইয়্যিম রহ. এর একটি ফতোয়া পেশ করছি। এ বিষয়ে তাদের লিখিত প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় থাকব ইনশাআল্লাহ।
ইবনে তাইমিয়া রহ. এর বিশিষ্ট ছাত্র সালাফীদের মহান ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রহ. তার "রওজাতুল মুহিব্বীন" কিতাবে লিখেছেন, " হযরত উমর রা. রাতে মদিনার রাস্তায় হাটাহাটি করতেন। এক রাতে তিনি এক মহিলাকে গান গাইতে শুনলেন, "মদ পানের কোন কি কোন উপায় আছে? নসর ইবনে হাজ্জাজের সান্নিধ্যে যাওয়ার কি কোন উপায় আছে?"হযরত উমর রা. বললেন, উমর যতক্ষণ জীবিত আছে, ততক্ষণ সম্ভব নয়। হযরত উমর রা. সকালে নসর ইবনে হাজ্জাজের নিকট লোক পাঠালেন। নসর ইবনে হাজ্জাজ ছিল খুবই সুদর্শন পুরুষ। উমর রা. তাকে বললেন, তুমি বের হয়ে যাও। মদিনায় তুমি বসবাস করতে পারবে না। নসর ইবনে হাজ্জাজ মদিনা থেকে বের হয়ে বসরায় এল। এখানে সে মুশাজি ইবনে মাসউদের বাড়ীতে আসা-যাওয়া করত। মুশাজি ইবনে মাসউদের অতি সুন্দরী একটি স্ত্রী ছিল। নসর ইবনে হাজ্জাজ তার প্রেমে পড়ে গেল। মুশাজি' এর স্ত্রীও নসর ইবনে হাজ্জাজকে পছন্দ করল। মুশাজি ও নসর এক সঙ্গে গল্প করত। তাদের সাথে তার স্ত্রীও থাকত। একদিন নসর তার প্রেমিকার জন্য মাটিতে একটি চিঠি লিখল। মুশাজির স্ত্রী দেখে বলল, "আমিও"। মুশাজি বুঝল, এটি কোন কথার উত্তর। মুশাজি লেখা-পড়া জানত না। কিন্তু তার স্ত্রী পড়া-লেখা জানত। মুশাজি একটি পাত্র এনে উক্ত লেখা ঢেকে রাখল। একজন লেখককে ডেকে আনে লেখাটি পড়তে বলল। সেখানে লেখা ছিল," আমি তোমাকে এতটা ভালবাসি যে, তোমার উপরে ছায়া হয়ে থাকব, তোমার নীচে থাকলে তোমাকে বহন করব।"মুশাজির এই লেখা উদ্ধারের কথা নসর ইবনে হাজ্জাজের কানে পৌছল। এতে তারা উভয়ে খুবই লজ্জিত হল। নসর তার ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দিল। আস্তে আস্তে তার শরীর শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছিল। মুশাজি তার স্ত্রীকে বলল, "তুমি তার কাছে যাও। তাকে তোমার বুকে আলিঙ্গন কর। নিজ হাতে তার মুখে খাবার তুলে দাও। " মুশাজির স্ত্রী এটি করতে অস্বীকার করল। কিন্তু মুশাজির চাপাচাপিতে সে নসরের কাছে গেল। তাকে আলিঙ্গন করল, নিজ হাতে খাবার খাইয়ে দিল। নসর যখন সুস্থ হয়ে উঠল, সে একটি কবিতা আবৃতি করতে করতে বসরা শরহ ত্যাগ করল। "
এই ঘটনার পরে ইবনুল কাইয়্যিম রহ. লিখেছেন,
فإن قيل: فهل تبيح الشريعة مثل ذلك، قيل: إذا تعين طريقا للدواء، ونجاة العبد من الهلكة، لم يكن بأعظم من مداواة المرأة للرجل الأجنبي ومداواته لها، ونظر الطبيب إلى بدن المريض ومسه بيده للحاجة، وأما التداوي بالجماع فلا يبيحه الشرع بوجه ما، وأما التداوي بالضم والقبلة فإن تحقق الشفاء به كان نظير التداوي بالخمر عند من يبيحه، بل هذا أسهل من التداوي بالخمر، فإن شربه من الكبائر، وهذا الفعل من الصغائر، والمقصود أن الشفاعة للعشاق فيما يجوز من الوصال والتلاق سنة ماضية وسعي مشكور"
কেউ যদি প্রশ্ন করে, এভাবে শরীয়তের হারামকে হালাল করছেন? তাকে উত্তর দেয়া হবে, এটি যদি চিকিৎসা হিসেবে সুনিশ্চিত হয় এবং কোন মানুষ ধ্বংস থেকে বেচে যায়, তাহলে পরপুরুষ দ্বারা মহিলার চিকিৎসা কিংবা পরনারী দ্বারা পুরুষের চিকিৎসা, ডাক্তার রোগীর শরীরের গোপন জায়গা দেখা, প্রয়োজনে স্পর্শ করার চেয়ে এটি বড় কিছু নয়। তবে সহবাস দ্বারা চিকিৎসা শরীয়তে বৈধ নয়। নারীকে আলিঙ্গন ও চুম্বনের দ্বারা যদি কারও চিকিৎসা সুনিশ্চিত হয়, তাহলে এটি মদের দ্বারা চিকিৎসার অনুরূপ হবে। বরং এটি মদের দ্বারা চিকিৎসার চেয়ে সহজ ও লঘু। কেননা মদ পান অনেক বড় গোনাহ, সেই তুলনায় এগুলো ছোট। মোটকথা, প্রেমিকদের চিকিৎসা হিসেবে প্রেমিকার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ এটি পুরনো নিয়ম এবং একটি প্রশংসনীয় কাজ" ।
[ রওজাতুল মুহিব্বীন, পৃ.৫১৬-৫১৭, তাহকীক, মুহাম্মাদ উজাইর শামস]
ডাউনলোড লিংক:http://waqfeya.com/book.php?bid=7002
স্ক্রিনশর্টের লিঙ্ক =
.
.
.
.
.
মন্তব্য:ইবনুল কায়্যিমর রহ. এর বক্তব্যের আমরা কোন মন্তব্য করছি না। বরং সালাফী ও আহলে হাদীস ভাইদের মন্তব্য জানতে চাইছি। তবে একটি কথা অবশ্যই বলব, প্রেমের চিকিৎসা হিসেবে ইবনুল কায়্যিম রহ. যা লিখেছেন, এটিকে জায়েজ বললে সমাজে প্রেম-ভালবাসা ও ব্যভিচার ছড়াবে। এটি না জায়েজ হওয়াটাই যুক্তিযুক্ত। ইবনুল কাইয়্যিম রহ. এটিকে কীভাবে জায়েজ বললেন,সেটাই বিস্ময়।
.
.
.
★★★★★★ ★★★★ ★★ ★★★★★★★★★
.
.
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন