রবিবার, ২১ জুন, ২০১৫

কুরআনের মতো একটি গ্রন্থ লিখা কেন অসম্ভব


অনেকে এটা বলে থাকেন যে কুরআন লেখা আসলেই অনেক সোজা। তাদের জন্য কুরআন শরিফ এর বিভিন্ন জায়গাতে আল্লাহ সুবাহানহু তায়ালা এই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন যে যদি কেউ পারে তবে যেন সে কুরআন এর ন্যায় বা এর অনুরুপ আরও কিছু আয়াত বানিয়ে নিয়ে আসে । এই প্রসঙ্গে কুরআন এর কিছু আয়াত নিচে দেয়া হল।
বলুনঃ
যদি মানব ও জ্বিন এই কোরআনের অনুরূপ রচনা করে আনয়নের জন্যে জড়ো হয়, এবং তারা পরস্পরের সাহায্যকারী হয়; তবুও তারা কখনও এর অনুরূপ রচনা করে আনতে পারবে না। (কুরআন ১৭:৮৮)
এতদসম্পর্কে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মত একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এস। তোমাদের সেসব সাহায্যকারীদেরকে সঙ্গে নাও-এক আল্লাহকে ছাড়া, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো। (কুরআন ২:২৩)
আর কোরআন সে জিনিস নয় যে, আল্লাহ ব্যতীত কেউ তা বানিয়ে নেবে। অবশ্য এটি পূর্ববর্তী কালামের সত্যায়ন করে এবং সে সমস্ত বিষয়ের বিশ্লেষণ দান করে যা তোমার প্রতি দেয়া হয়েছে, যাতে কোন সন্দেহ নেই-তোমার বিশ্বপালনকর্তার পক্ষ থেকে। মানুষ কি বলে যে, এটি বানিয়ে এনেছ? বলে দাও, তোমরা নিয়ে এসো একটিই সূরা, আর ডেকে নাও, যাদেরকে নিতে সক্ষম হও আল্লাহ ব্যতীত, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক। (কুরআন ১০:৩৭-৩৮)
তারা কি বলে? কোরআন তুমি তৈরী করেছ? তুমি বল, তবে তোমরাও অনুরূপ দশটি সূরা তৈরী করে নিয়ে আস এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে পার ডেকে নাও, যদি তোমাদের কথা সত্য হয়ে থাকে।(১১:১৩)
না তারা বলেঃ এই কোরআন সে নিজে রচনা করেছে? বরং তারা অবিশ্বাসী।যদি তারা সত্যবাদী হয়ে থাকে, তবেএর অনুরূপ কোন রচনা উপস্থিত করুক। (৫২:৩৩-৩৪)
এইক্ষেত্রে আব্দুর রহিম গ্রিন বলেন-
These are the sixteen al-Bihar (literally "The Seas", so called because of the way the poem moves, according to its rhythmic patterns): at-Tawil, al-Bassit, al-Wafir, al-Kamil, ar-Rajs, al-Khafif, al-Hazaj, al-Muttakarib, al-Munsarih, al-Muktatab, al-Muktadarak, al-Madid, al-Mujtath, al-Ramel, al-Khabab and as-Saria'. So the challenge is to produce in Arabic, three lines, that do not fall into one of these sixteen Bihar, that is not rhyming prose, nor like the speech of soothsayers, and not normal speech, that it should contain at least a comprehensible meaning and rhetoric, i.e. not gobbledygook. Now I think at least the Christian's "Holy spirit" that makes you talk in tongues, part of your "Tri-Unity" of God should be able to inspire one of you with that!
অনুবাদঃ আরবি কবিতার ক্ষেত্রে ১৬ টা আল বিহার(কথ্য ভাষাতে "সমুদ্রসমুহ", এটা বলা হয় কেননা এই সমস্ত ছন্দবদ্ধ পদ্ধতিতে এই কাব্যসমুহ আকার লাভ করে।) সে গুলো হচ্ছে আত-তাওয়িল,আল বাসিত,আল অয়াফির,আল কামিল,আর রাজস,আল খাফিফ,আল হাজায,আল মুত্তাকারিব,আল মুনসারিহ,আল মুকতাতাব,আল মূকতাদারাক,আল মাদিদ,আল মুজতাহ,আল রামেল,আল খাবাব আর আস -সারিয়া। তো এই চ্যালেঞ্জ টা হচ্ছে আরবিতে সুরা কাউসার এর তিন লাইন এর মত এমন কিছু লেখা যেগুলো এই ১৬ টা ছন্দের সাগর এর মধ্যে পড়ে না, যেগুলো কোন ছড়া বা ছন্দবদ্ধ সংগ্রহ না, কোন সুবক্তার উপদেশ বানী না আর এমনি কোন প্রকারের কোন কথাবার্তা না। আর মনে হয় যে খ্রিস্টান দের পবিত্র আত্না (যা তাদের মুখে কথা ফুটাতে সহায়তা করে) ত্রিত্ববাদের অংশ হিসেবে তোমাদের হয়ে এই কাজটা করে দিতে পারবে!
এই ক্ষেত্রে আমাকে এই ছন্দের সমুদ্র এর ক্ষেত্র সমুহ আলোচনা করার আগে আরবি ভাষা সমন্ধে কয়েকটা কথা বলে নেয়া দরকার।
আরবি ভাষাতে মূলত দুই ধরন এর লেখ্য আর কথ্য রীতি আছে এদের মধ্যে একটা হচ্ছে ছন্দবদ্ধ কবিতা এই রীতি তে মুলত ছন্দ আর মাত্রা এর প্রয়োগ দেখা যায়।যার মানে হচ্ছে এর প্রতিটা লাইন একটা নির্দিষ্ট শব্দে এসে থেমে যায়। যাকে বলা হয় ছন্দ। ছন্দবদ্ধ কবিতা আবার এই ১৬ টা ক্ষেত্রে বিভক্ত যারা হচ্ছে আত-তাওয়িল,আল বাসিত,আল অয়াফির,আল কামিল,আর রাজস,আল খাফিফ,আল হাজায,আল মুত্তাকারিব,আল মুনসারিহ,আল মুকতাতাব,আল মূকতাদারাক,আল মাদিদ,আল মুজতাহ,আল রামেল,আল খাবাব আর আস-সারিয়া।
আরবি কবিতার মাত্রা সমুহ ঠিকভাবে জানার জন্য পড়তে পারেন C J Lyall, Translations Of Ancient Arabian Poetry, Chiefly Pre-Islamic, Williams & Norgate Ltd., London, 1930
আর আরেকটা ক্ষেত্র হচ্ছে গদ্য বা ইংরেজিতে Prose যেটার এমনিতে কোন মাত্রা থাকেনা। এই গদ্যের ভিতরে ছন্দ থাকতে পারে যার মানে এর শেষের দিকে একই রকম এর পুনরাবৃত্তি থাকতে পারে অথবা এই ছন্দগুলো যুথবদ্ধও হতে পারে। এই গদ্যগুলোকে গদ্যছন্দ বা সা'জ বলা হয়। আর আরেকটা কথা হচ্ছে এটা যে গদ্যছন্দ এর ক্ষেত্রেও সরাসরি গদ্য হতে পারে। যাদেরকে মুরসাল বলা হয় এই ক্ষেত্রে গদ্যের বক্তব্য চলতে থাকে কোন রকম এর ছন্দ বা ছন্দবদ্ধ পদ্ধতি ছাড়াই। ছন্দ বা অন্য যেকোন ক্ষেত্রে এটা একই রকম এর কাজ করে।
তাহলে আব্দুর রহিম গ্রিন বলেন- "So the challenge is to produce in Arabic , three lines, that do not fall into one of these sixteen al-Bihar, that is not rhyming prose, nor like the speech of soothsayers, and not normal speech, that it should contain at least a comprehensible meaning and rhetoric, i.e. not gobbledygook."
অর্থাৎ কুরআন এর চ্যালেঞ্জ সুরা কাউসার এর ক্ষেত্রে এমন যে আরবিতে এমন তিনটা লাইন লেখা যা কিনা এই ১৬ টা আল-বিহার এর ,মধ্যে পড়ে না,যেগুলো কোন উপদেশবানি না বা এমনি কোন বক্তব্যও না।কিন্ত এর একটা নির্দিষ্ট মানে আর সাহিত্যমান থাকবে।শুধু শুধু এলোমেলো বক্তব্য না। এই প্রসঙ্গে A F L Beeston, T M Johnstone, R B Serjeant and G R Smith (Editors), Arabic Literature To The End Of The Ummayad Period বলেন-
The Qur'an is not verse, but it is rhythmic. The rhythm of some verses resemble the regularity of sajc, and both are rhymed, while some verses have a similarity to Rajaz in its vigour and rapidity. But it was recognized by Quraysh critics to belong to neither one nor the other category
অনুবাদ: কুরআন কোন কাব্য না বরং এটা ছন্দ, এর কিছু অংশের ছন্দ যদিওবা সা'জ এর ন্যায় আর কিছু অংশ রাজায এর ন্যায় এর ঝঙ্কার আর গতিতে রাজায এর সাথে কুরআন এর মিল থাকলেও এটা রাজায না ,বা এটা অন্য কিছুও না।
এটা একটা অবাক করা বিষয় যে প্রতিটা প্রাক-ইসলামিক আর ইসলাম পরবর্তী কাব্য সমুহ যেটা Louis Cheikho সংগ্রহ করেছিলেন। সেটা এই ১৬ টা আল-বিহার এর মধ্যে পড়ে যায়। আরবি কবিতা কুরআন নাযিল হবার সময়ে নিজের শীর্ষে অবস্থান করছিল এর ছন্দ আর এর সাহিত্যমান এর সমতুল্য তখন কোন কিছু খুঁজে পাওয়া কঠিন ছিল। কিন্ত এর পরেও সমস্ত আরব কবিরা একসাথে হয়েও কুরআন এর সবথেকে ছোট কোন সূরার মতও কিছু বানাতে পারেননি। কেননা কুরআন ওই উপরের একটা অংশেরও মত ছিল না।
এর কারণে কুরাইশ পৌত্তলিকেরা যথেষ্ট অসহায় হয়ে পড়েছিল। তারা কতখানি অসহায় ছিল সেটা তাদের সেই সময়ের কথা দেখলেই বোঝা যায়। আবদ আল মানাফ রসুল (সা) এর সম্বন্ধে যা বলে সেটা এই ক্ষেত্রে একটা মাইলফলক-
Oh Quraish, a new calamity has befallen you. Mohammed was a young man the most liked among you, most truthful in speech, and most trustworthy, until, when you saw gray hairs on his temple, and he brought you his message, you said that he was a sorcerer, but he is not, for we seen such people and their spitting and their knots; you said, a diviner, but we have seen such people and their behavior, and we have heard their rhymes; you said a soothsayer, but he is not a soothsayer, for we have heard their rhymes; and you said a poet, but he is not a poet, for we have heard all kinds of poetry; you said he was possessed, but he is not for we have seen the possessed, and he shows no signs of their gasping and whispering and delirium. Oh men of Quraish, look to your affairs, for by Allah a serious thing has befallen you.
অনুবাদ : ওহে কুরাইশেরা শোন, মুহাম্মাদ তোমাদের মধ্যে যখন যুবক ছিল তখন সে ছিল সবথেকে সত্যবাদি আর সবথেকে বেশি পছন্দনীয়। আর আজ যখন তার মাথার চুলে পাক ধরার উপক্রম হয়েছে তখন সে তার বানী তোমাদের কাছে নিয়ে এসেছে তোমরা বলেছ যে সে একটা জাদুকর। কিন্ত সে না কেননা আমরা এমন ব্যক্তি তাদের মন্ত্রচ্চারন আর গিঁট বাধা দেখেছি। তোমরা তাকে বল একজন কবি কিন্ত না আমরা কবিদেরকেও দেখেছি আর তাদের ছন্দও পড়েছি। আরও বলা হয়েছে সে একজন সুবক্তা কিন্ত আমরা তার বানী শুনে এটা বুঝতে পারিনি, সে পাগলও না কেননা সে তাদের মত উল্টাপাল্টা আচরণও করেনা। হে কুরাইশ এর লোক সকল তোমরা সতর্ক হও নিজের কাজ এর জন্য কেননা আল্লাহ্‌র কসম একটা ভীষণ বস্ত তোমাদের উপরে আপতিত হয়েছে।
এরপরে যখন কুরআন এর সাতটা হুরুফ বা উচ্চারন রীতি নাযিল হয় সেটা ছিল সাতটা বৃহৎ গোত্রের জন্য আরেকটা বড় বিপদ। কেননা এতা (সাত হুরুফ) তাদের জন্য এর থেকেও বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, কেননা তারা নিজেদের আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করেও কুরআন এর মত কিছু লিখতে পারছিল না।
কিছু অরিয়েনটালিস্ট এর বক্তব্য
E H Palmer ১৮৮০ সন এর দিকে কুরআন এর এই অসাধারণ স্বতন্ত্রতা সমন্ধে জানতে পারলেও নিজের মন থেকে সন্দেহ দূর করতে পারেননি। তার এক লেখাতে তিনি আমাদের কে বলেন যে
That the best of Arab writers has never succeeded in producing anything equal in merit to the Qur'an itself is not surprising. In the first place, they have agreed before-hand that it is unapproachable, and they have adopted its style as the perfect standard; any deviation from it therefore must of necessity be a defect. Again, with them this style is not spontaneous as with Muhammad and his contemporaries, but is as artificial as though Englishmen should still continue to follow Chaucer as their model, in spite of the changes which their language has undergone. With the Prophet, the style was natural, and the words were those in every-day ordinary life, while with the later Arabic authors the style is imitative and the ancient words are introduced as a literary embellishment. The natural consequence is that their attempts look laboured and unreal by the side of his impromptu and forcible eloquence.

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন