মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০১৫

মুক্তাদির সূরা ফাতেহা পাঠ করার ব্যাপারে আহলে আদীস ভায়েরা যে সকল দলিল দেয় তার পর্যালোচনাঃ

                                       ★★★★★★ ★★★★ ★★ ★★★★★★★★★
এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের আহলে হাদীস ভায়েরা পরিবেশ যথেষ্ট ঘোলা করেছেন। এ লেখার দ্বারা আবার কেউ এ কথা না বুঝে নেয় যে আমরা মুজতাহীদ ইমামদের সমালোচনা করছি। বরং এ লেখার উদ্দেশ্য হলো গজিয়ে উঠা কিছু অপরিনামদর্শি নব্য তথাকথিত মুজতাহীদদের ফেতনার জবাব দেওয়া। মূল লেখাটি শায়খ গোলামুর রহমান সাহেব দা,বা এর "মুক্তাদির ছূরা ফাতেহা পাঠ" নামক থেকে নেওয়া হয়েছে। কিতাবটির লিঙ্ক নোটের শেষে দেওয়া হয়েছে।
ইমামের কুরআন পাঠের সময় মুক্তাদীগণ চুপ থাকবে এ বিষয়টি সমর্থন করে কেউ কেউ ছূরা ফাতিহাকে এর থেকে ব্যতিক্রম বলতে চায়। অর্থাৎ, কুরআনের অন্য কোন কিছু পড়া যাবে না; তবে ছূরা ফাতিহা ইমামের পিছনেও পড়তে হবে। তাদের এ মতের পক্ষে কুরআনের কোন আয়াত নেই। অবশ্য কিছু হাদীসের প্রকাশ্য অর্থ দেখে মনে হয় যেন তাদের মতটাও সহীহ। কিন্তু বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে যে, তাদের বর্ণিত হাদীস হয়ত স্পষ্ট নয় অথবা সহীহ নয়। তাদের পেশকৃত উল্লেখযোগ্য দলীলসমূহ আমি আপনাদের সামনে পেশ করতঃ তার ব্যখ্যা-বিশ্লেষণের চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ্‌।
তাদের পেশকৃত দলীলসমূহের মধ্যে সবচেয়ে মজবুত দলীল হযরত উবাদা বিন ছামেত (রা.) হতে বর্ণিত বুখারী শরীফের
হাদীস।
যে ব্যাক্তি ছূরা ফাতহিা পড়ল না তার নামায হল নাঃ
হাদীসটি নিম্নরূপ ঃ
حدثنا على بن عبدالله
قال حدثنا سفيان قال حدثنا الزهرى عن محمود بن الربيع عن عبادة بن الصامت ان رسول
الله صلى الله عليه وسلم قال لا صلوة لمن لم يقرأ بفاتحة الكتاب
হযরত উবাদা বিন ছামেত (রা.) হতে বর্ণিত রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি ছূরা ফাতিহা পড়ল না তার নামায হল না (বুখারী : ১/১০৪)।
প্রিয় পাঠকবৃন্দ, লক্ষ্য করুন! এ হাদীসে মুক্তাদীগণকে উদ্দেশ্য করে বিশেষ কোন কিছু বলা হয়নি। অবশ্য মুক্তাদীগণ এ হুকুমের বাইরে এমন কথাও বলা হয়নি।
উল্লিখিত হাদীসের দুই ধরণের অর্থ করা যেতে পারে……
১। এ হাদীসে ইমাম, মুক্তাদী এবং একাকী নামাযী কাউকে আলাদা না করে সকলের জন্যই রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম এর নির্দেশ কার্যকরী হবে। অর্থাৎ, ছূরা ফাতিহা পড়া ব্যতীত কোন ধরণের নামাযীরই নামায সহীহ হবে না। এ অর্থ গ্রহণ করা হলে ছূরা আ’রাফে বর্ণিত কুরআন পাঠের সময় নীরব থাকার হুকুম লঙ্ঘিত হবে। আবু মুসা আশআ’রী (রা.) ও আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত হাদীসদ্বয়ে ইমামের কুরআন পাঠের সময় মুক্তাদীগণকে নীরব থাকার যে নির্দেশ দেয়া হয়েছে সে নির্দেশও লঙ্ঘিত হবে। সাথে সাথে মুক্তাদীর কুরআন পাঠে ইমামের সাথে ঝগড়া করা, রুকু পেলে নামায পাওয়া মর্মে বর্ণিত রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পবিত্র বাণী এবং বিশিষ্ট সাহাবায়ে কেরামের মতামত- সবকিছুর সাথেই এটা সাংঘর্ষিক হবে।
২। উক্ত হাদীসের আরও একটি অর্থ এভাবে হতে পারে যে, উক্ত হাদীসটি ইমাম এবং একাকী নামাযরত ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ, ইমাম এবং একাকী নামাযরত ব্যক্তি যদি তাদের নামাযে ছূরা ফাতিহা না পড়ে তাহলে তাদের নামায হবে না।
ছূরা আ’রাফ ও অন্যান্য সহীহ হাদীসের কারণে ইমামের পিছনে মুক্তাদীগণের ছূরা ফাতিহা পাঠের হুকুম উক্ত হাদীসের আওতাধীন নয়। অর্থাৎ, মুক্তাদীগণের ছূরা ফাতিহা পড়তে হবে না। উল্লি¬খিত হাদীসের অর্থ দু’টির মধ্যে এ অর্থটি গ্রহণ করা হলে আয়াতের সাথে হাদীসের কোন বৈপরিত্য থাকে না। এ হাদীস থেকে যদি আমরা পূর্ববর্ণিত অর্থ গ্রহণ করি তাহলে ছূরা আ’রাফের ২০৪ নং আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ায় হাদীস অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
মুক্তাদীগন এ হাদীসরে হুশয়িারীর মধ্যে গন্য হবে নাঃ
সর্বোপরি হাদীস সহীহ হওয়ার যে সকল শর্ত রয়েছে তন্মধ্যে একটা এই যে, হাদীসে বর্ণিত বিষয়বস্তু কিতাবুল্ল¬াহ’র সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারবে না। সাংঘর্ষিক হলে হাদীস অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত কুরআনের সাথে সংঘর্ষ এড়িয়ে হাদীসের অর্থ করা যায় ততক্ষণ পর্যন্ত সাংঘর্ষিক কোন অর্থ করা বৈধ নয়।
এ কারণেই ইমাম বুখারী (র.) এর উস্তাদ ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল, ইমাম বুখারীর উস্তাদের উস্তাদ সুফিয়ান বিন উয়াইনাসহ আরও অনেক খ্যাতনামা মুহাদ্দিস উক্ত হাদীসের এ অর্থই গ্রহণ করেছেন। আমি তাদের উক্তিগুলো নির্ভরযোগ্য সূত্রে উল্লেখ করছি।
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের উক্তি
وامااحمد بن حنبل فقال
معنى قول النبى صلى الله عليه وسلم لا صلوة لمن لم يقرأ بفاتحة الكتاب اذا كان
وحده
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, ‘যে ব্যক্তি ছূরা ফাতিহা পড়ল না তার নামায হল না’ রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম এর এ হাদীসটি ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে ব্যক্তি একাকী নামায পড়ে (তিরমিযী : ১/৭১)।
সুফিয়ান বিন উয়াইনার উক্তি
حدثنا قتيبة بن سعيد
وابن السرح قالا حدثنا سفيان عن الزهرى
عن محمود بن الربيع عن
عبادة بن الصامت يبلغ به النبى صلى الله عليه وسلم قال لا صلوة لمن لم يقرأ بفاتحة
الكتاب فصاعدا قال سفيان لمن يصلى وحده
হযরত উবাদা বিন ছামেত (রা.) হতে বর্ণিত উক্ত হাদীসটি (যে ব্যক্তি ছূরা ফাতিহা পড়ল না তার নামায হল না) বর্ণনা করার পরে হযরত সুফিয়ান বিন উয়াইনা (র.) বলেন, এটা ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে একাকী নামায আদায় করে (আবু দাউদ : ১/১১৯)।
পাঠকবৃন্দ, লক্ষ করুন! ইমাম বুখারী (র.) উক্ত হাদীসটি যে সকল বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন তাদের মধ্যে
দ্বিতীয় ব্যক্তি অর্থাৎ ইমাম বুখারীর উস্তাদের উস্তাদ সুফিয়ান বিন উয়াইনা উল্লি¬খিত হাদীসের ঐ অর্থই গ্রহণ করেছেন যা গ্রহণ করলে হাদীসের বিষয়বস্তুর সাথে কুরআন এবং অন্যান্য সহীহ হাদীসের বিষয়বস্তুর বৈপরিত্য থাকে না। অর্থাৎ হাদীসটি একাকী নামাযরত ব্যক্তির ক্ষেত্রে কার্যকরী; মুক্তাদীর জন্য নয়।
বিঃ দ্রঃ- একাকী ব্যক্তির নামায এবং ইমামের নামায আদায়ের পদ্ধতি যেহেতু একই রকম তাই ইমাম আহমাদ বিন হা¤¦ল এবং সুফিয়ান বিন উয়াইনা (র.) তাদের মন্তব্যে শুধু একাকী ব্যক্তির নামাযের কথা উল্লেখ করেই শেষ করেছেন।
রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ঘনিষ্ট সাহাবী হযরত জাবের (রা.) হতে বর্ণিত একটি সহীহ হাদীস দ্বারাও প্রমাণিত হয় যে, ছূরা ফাতিহা না পড়লে নামায হয় না। মুক্তাদীগণ রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এই হুকুমের বাইরে। অর্থাৎ, মুক্তাদীর জন্য এ নির্দেশ কার্যকর নয়।
জাবরে রাযি এর ফতোয়াঃ
হাদীসটি নিম্নরূপ:
حدثنا إسحاق بن موسى
الانصارى قال حدثنا معن قال حدثنا
مالك عن أبى نعيم وهب
بن كيسان أنه سمع جابربن عبدالله يقول من صلى ركعة لم يقرأ فيها بأم القرآن فلم
يصل الا ان يكون وراء الامام
হযরত জাবের (রা.) বলেন, যে ব্যক্তি এক রাকাত নামাযও পড়ল অথচ তাতে ছূরা ফাতিহা পড়ল না তার নামায হল না। তবে ইমামের পিছনে থাকলে ভিন্ন কথা। অর্থাৎ, ইমামের পিছনে থাকা মুক্তাদীগণ ছূূরা ফাতিহা পড়বে না (তিরমিযী : ১/৭১)।
উক্ত হাদীসের বর্ণনাকারীগণ সকলেই নির্ভরযোগ্য। এ কারণেই ইমাম তিরমিযী (র.) হাদীসটি বর্ণনা করার পরে মন্তব্য করেছেন যে, হাদীসটি হাসান সহীহ। হযরত জাবের (রা.) এর উক্তি দ্বারা স্পষ্টভাবে বুঝা গেল যে, ছূরা ফাতিহা পাঠ করা প্রত্যেক নামাযীর জন্য জরুরী। তবে ইমামের পিছনে থাকা মুক্তাদীগণ এ নির্দেশের অন্তর্ভূক্ত নয়। হাদীসটি যদিও হযরত জাবের (রা.) এর নিজের মন্তব্য; কিন্তু হাদীসের নীতিমালা অনুযায়ী ইবাদতের ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরামের মন্তব্যও মারফু’ হাদীসের হুকুম রাখে। অর্থাৎ, পরোক্ষভাবে এটা রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পবিত্র এরশাদ বলে পরিগণিত হয়।
হযরত জাবের (রা.) এর যে উক্তি তিরমিযী শরীফ হতে সহীহ সনদে উল্লেখ করা হল যে, ছূরা ফাতিহা পাঠের হুকুম মুক্তাদীগণের জন্য নয়।
মারফূ হাদীসঃ
অনুরূপ মন্তব্য খোদ রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতেও বর্ণিত রয়েছে
বর্ণনাটি নিম্নরূপ :
حدثنا بحر بن نصر قال حدثنا يحى بن سلام قال حدثنا مالك عن وهب بن كيسان عن
جابر بن عبد الله عن النبى صلى الله عليه وسلم انه قال من صلى ركعة فلم يقرأ فيها
بأم القرآن فلم يصل الا وراء الإمام
হযরত জাবের (রা.) হতে বর্ণিত রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি এক রাকাত নামাযও পড়ল অথচ তাতে ছূরা ফাতিহা পাঠ করল না সে নামাযই পড়ল না; তবে ইমামের পিছনে থাকলে ভিন্ন কথা (শরহু মাআ’নিল আছার : ১/১৫৯)।
রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এ পবিত্র বাণী দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, বুখারী শরীফে বর্ণিত উবাদা বিন ছামেতের হাদীসের ঐ দ্বিতীয় অর্থটিই সহীহ যে, ইমামের পিছনে মুক্তাদিগণকে ‘ছূরা ফাতিহা পাঠ করতে হবে না।
উল্লিখিত হাদীসের বর্ণনাকারীদের মধ্যে শুধু ইয়াহইয়া বিন সাল্ল¬াম ব্যতীত সকলেই নির্ভরযোগ্য। আর ইয়াহইয়ার ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণের মিশ্র মন্তব্য পাওয়া যায়। তবে অধিকাংশ মুহাদ্দিস তার বর্ণনা গ্রহণ করেছেন এবং আবুল আরব তাকে হাদীসের হাফেজ এবং শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি বলে মন্তব্য করেছেন (লিছানুল মীঝান, রাবী নং ৯২৫৭)।
এ সামান্য দুর্বলতা সত্ত্বেও যেহেতু হুবহু এই মন্তব্যটি তিরমিযী শরীফে সহীহ সনদে বর্ণিত রয়েছে তাই এ হাদীস কোন ক্রমেই হাসান স্তরের নীচে নয়; যা আমলের ক্ষেত্রে সহীহ হাদীসের মতোই গ্রহণযোগ্য।
‘যে ব্যক্তি ছূরা ফাতিহা পড়ল না তার নামায হল না’ মুক্তাদীগণ রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এ হাদীসের হুকুম থেকে ব্যতিক্রম- এ মর্মে ইমাম বুখারী (র.) এর উস্তাদ আহমাদ বিন হা¤¦ল, উস্তাদের উস্তাদ ও উক্ত হাদীসের বর্ণনাকারী সুফিয়ান বিন উয়াইনার সরাসরি মন্তব্য, সাহাবী হযরত জাবেরের উক্তি এবং তার মাধ্যমে বর্ণিত রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পবিত্র বাণী যা উক্ত অর্থের সমর্থন করে তা আপনাদের খেদমতে পেশ করেছি। উপরন্তু এটা হযরত উবাদা বিন ছামেত (রা.) এর বর্ণিত হাদীসের এমন একটি অর্থ যা কুরআনের আয়াত এবং সহীহ হাদীসের পারস্পারিক বৈপরিত্য নিরসনকারী।
এ হাদীস র্বণনার ক্ষেত্রে ইমাম বুখারী রাহঃ যে বাব বধেছেনেঃ
ইমাম বুখারী (র.) উক্ত হাদীস বর্ণনার পূর্বে যে শিরোনাম পেশ করেছেন তা নিম্নরূপ :
ইমাম এবং মুক্তাদীর জন্য সব ধরণের নামাযে কুরআন পাঠ করা ওয়াজিব তথা সফরের নামাযেও, নিজ এলাকার নামাযেও। সরবে কুরআন পাঠ করা হয় এমন নামাযেও এবং নীরবে কুরআন পাঠ করা হয় এমন নামাযেও।
ইমাম বুখারী (র.) এর এ শিরোনাম দেখে মনে হচ্ছে তিনি উবাদা বিন ছামেত (রা.) এর হাদীসের সম্ভাব্য দু’টি অর্থের মধ্যে প্রথম অর্থটিই উদ্দেশ্য করেছেন। অর্থাৎ, ইমামের পিছনে মুক্তাদীগণকেও ছূরা ফাতিহা পাঠ করতে হবে।
ইমাম বুখারীর মত বড় মাপের মুহাদ্দিসের প্রতি আমি এ নেক ধারণা পোষণ করি যে, হয়ত তিনি কোন দলীলের ভিত্তিতেই ঐ প্রথম অর্থটি উদ্দেশ্য করেছেন। কিন্তু সে দলীল আমার অনুসন্ধানে মেলেনি; বরং আমার অনুসন্ধান অনুযায়ী ইমাম বুখারীর অনুকরণে হযরত উবাদা বিন ছামেতের হাদীসের প্রথম অর্থ গ্রহণ করা হলে তা ইমাম বুখারীর উস্তাদের অর্থের সাথে সাংঘর্ষিক হয় এবং ইমাম বুখারীর উস্তাদের উস্তাদ ও উক্ত হাদীসের বর্ণনাকারী হযরত সুফিয়ান বিন উয়াইনার অর্থের সাথেও সাংঘর্ষিক হয়। সর্বোপরি কুরআনে কারীমের ছূূরা আ’রাফের ২০৪ নং আয়াতে বর্ণিত আল্লাহ তায়া’লার বিধানের সাথে সাংঘর্ষিক হয়।
এসব কিছুকে উপেক্ষা করে চক্ষু বন্ধ করে কারও অন্ধ অনুকরণ হানাফীরা করতে পারে না। এটা করতে পারে অন্য কেউ।
অতএব, অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমি এ কথা বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, ইমাম বুখারীর বর্ণিত হযরত উবাদা বিন ছামেত (রা.) এর হাদীস সহীহ। তবে উক্ত হাদীস দ্বারা ইমামের পিছনে মুক্তাদীগণের ছূরা ফাতিহা পাঠ ওয়াজিব মর্মে ইমাম বুখারী যে দলীল পেশ করেছেন তা কোনক্রমেই সহীহ নয়।
ইমামরে কোরআন পাঠই মুক্তাদীদরে কোরআন পাঠঃ
কোন কোন মুহাদ্দিস হযরত উবাদা বিন ছামেতের হাদীসের প্রথম অর্থটিকে সমর্থন করে একটি ভিন্ন ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন যার মাধ্যমে কুরআন এবং সহীহ হাদীসের সাথে উক্ত হাদীসের দ্বন্দ নিরসন সম্ভব। তারা বলেন যে, উবাদা বিন ছামেতের হাদীস অনুযায়ী মুক্তাদীগণেরও ছূরা ফাতিহা পাঠ করা আবশ্যক; তবে এ কাজে ইমাম তাদের প্রতিনিধিত্ব করবেন। অর্থাৎ, ইমামের কুরআন পাঠ মুক্তাদীগণের কুরআন পাঠ হিসেবে গণ্য হবে। তারা তাদের ব্যাখ্যার পক্ষে একাধিক সহীহ হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করে থাকেন।
তন্মধ্যে একটি নিম্নরূপ :
حدثنا مالك بن اسماعيل
عن الحسن بن صالح عن ابى الزببر عن جابر عن النى صلى الله عليه وسلم قال كل من كان له امام فقرائته له قرائة
হযরত জাবের বিন আব্দুল্ল¬াহ (রা.) নবী কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তির
ইমাম আছে ইমামের কুরআন পাঠই তার জন্য কুরআন পাঠ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ১/১১৪)।
এ হাদীসে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভাষ্য খুবই স্পষ্ট। তিনি ইমামের কুরআন পাঠ করাকে মুক্তাদীগণের কুরআন পাঠ হিসেবে মেনে নিয়েছেন। তবুও ইমামের কুরআন পাঠের সময় মুক্তাদীগণকে নীরব থাকতে হবে- এ নির্দেশের ব্যাপারে কোন আপোষ করেননি। উল্লি¬খিত হাদীসটি সনদের বিবেচনায় অত্যন্ত উঁচুমানের সহীহ। মালেক বিন ইসমাঈল থেকে জাবের বিন আব্দুল্ল¬াহ পর্যন্ত প্রত্যেকজন বর্ণনাকারী রিজাল শাস্ত্রের ইমামগণের দৃষ্টিতে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এবং সকলেই বুখারী অথবা মুসলিম শরীফের বর্ণনাকারী।
মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ছাড়াও হাদীসটি ইবনে মাজা (র.) (১/৬১) পৃষ্ঠায় নিম্ন বর্ণিত সনদে বর্ণনা করেছেন
حدثنا على بن محمد قال
حدثنا عبيدالله بن موسى عن الحسن بن صالح عن جابر و عن ابى الزبير عن جابر قال قال
رسول الله صلى الله عليه وسلم من كان له امام فقرائة الامام له قرائة
মুসনাদে আব্দ ইবনে হুমাইদে নিম্নবর্ণিত সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন :
حدثنا ابو نعيم قال
حدثنا الحسن بن صالح عن ابى الزبير عن جابر عن النبى صلى الله عليه وسلم
মুসনাদে আহমাদ ইবনে মানী’ কিতাবে নিম্নবর্ণিত সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন :
اخبرنا اسحق الازرق
حدثنا سفيان و شريك عن موسى بن ابى عائشة عن عبدالله بن شداد عن جابر عن النبى صلى
الله عليه وسلم
আব্দুর রাজ্জাক নিম্নবর্ণিত সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেন :
عبدالرزاق عن الثورى
عن موسى بن ابى عائشة عن عبد الله بن شداد بن الهاد الليثى قال صلى النبى صلى الله
عليه وسلم الظهر او العصر فجعل رجل يقرأ خلف النبى صلى الله عليه وسلم ورجل ينهى
فلما صلى قال يا رسول الله كنت اقرأ وكان هذا ينهانى فقال له رسول الله صلى الله
عليه وسلم من كان له امام فان قرائة الامام له قرائة
আব্দুল¬াহ ইবনে শাদ্দাদ ইবনুল হাদ বলেন, রাসূল সল্ল¬াল্ল¬াহু আলাইহি ওয়াসাল্ল¬াম যোহর অথবা আছরের নামায পড়লেন। এক ব্যক্তি নবী কারীম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পিছনে কুরআন পড়ছিল। আরেকজন তাকে নিষেধ করছিল। অতঃপর যখন নামায শেষ করলেন তখন সে বলল, ইয়া রাসূলাল্ল¬াহ! আমি কুরআন পড়ছিলাম আর এ ব্যক্তি আমাকে নিষেধ করছিল। তখন রাসূল¬ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্ল¬াম তাকে বললেন, যার ইমাম আছে, ইমামের কুরআন
পাঠই তার কুরআন পাঠ (মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং- ২৭৯৭)।
কুরআন পাঠে ইমাম তার মুক্তাদীগণের প্রতিনিধিত্ব করেন - এ ব্যাখ্যা গ্রহণ করা হলে শুধু উবাদা বিন ছামেতের হাদীসেরই
সমাধান হবে না বরং ঐ অর্থে আরও হাদীস থাকলেও তার সমাধান হয়ে যাবে।
যে সকল লোক মুক্তাদীগণের ছূরা ফাতিহা পড়তে হবে বলে দাবী করেন তাদের প্রধান দলীল বুখারী শরীফে বর্ণিত উবাদা বিন ছামেতের হাদীসের মোটামুটি বিশ্লে¬ষণ আমি এ পর্যন্ত শেষ করছি। এর সারসংক্ষেপ এই যে, উবাদা বিন ছামেত (রা.) হতে বর্ণিত হাদীসটি সনদের বিবেচনায় সহীহ। কিন্তু হাদীসটি মুক্তাদীগণের জন্য প্রযোজ্য নয়; বরং যিনি একাকী নামায পড়েন বা ইমামতি করেন তার জন্য প্রযোজ্য। আর যদি মুক্তাদীগণের জন্য প্রযোজ্য ধরে নেয়া হয় তাহলে মুক্তাদীগণের ছূরা ফাতিহা পাঠের প্রতিনিধিত্ব করবেন তাদের ইমামগণ। অর্থাৎ, ইমামের কুরআন পাঠই মুক্তাদীগণের কুরআন পাঠ। উক্ত ব্যাখ্যা ব্যতীত অন্য কোন ব্যাখ্যা গ্রহণ করা হলে উবাদা বিন ছামেতের হাদীসটি কুরআনের নির্দেশ এবং বহুসংখ্যক সহীহ হাদীসের সাথে
সাংঘর্ষিক হবে যা কোনভাবেই কাম্য নয়।
তাদরে দ্বিতীয় দলিল- আবু
হুরাইরা (রাঃ) র্বণতি মুসলমি শরীফরে হাদীস
যারা মুক্তাদীগণের জন্য ছূরা ফাতিহা পাঠ আবশ্যক মনে করেন তাদের দ্বিতীয় দলীল হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে
বর্ণিত মুসলিম শরীফের একটি হাদীস।
হাদীসটি নিম্নরূপ :
عن ابى هريرة قال قال
رسول الله صلى الله عليه وسلم من صلى صلوة لم يقرأ فيها بأم القران فهى خداج ثلاثا
غير تمام فقيل لأبى هريرة انا نكون وراء الامام قال اقرأ فى نفسك فانى سمعت رسول
الله صلى الله عليه وسلم يقول قال الله تعالى قسمت الصلوة بينى وبين عبدى نصفين
ولعبدى ما سأل.........
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি নামায পড়ল অথচ ছূরা ফাতিহা পড়ল না সে নামায অসম্পূর্ণ। উক্ত কথাটি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনবার বললেন। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) কে বলা হল, আমরা কখনও ইমামের পিছনে থাকি। তিনি বললেন, মনে মনে উহা পড়বে। আমি রাসূল সল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে শুনেছি- আল্লাহ তায়া’লা বলেন, নামায আমার আর বান্দার মাঝে আধাআধি ভাগ করা হয়েছে। আর আমার বান্দা যা চাইবে তা পাবে। বান্দা যখন বলে
الحمد لله رب العلمين
আল্লাহ তায়া’লা তখন বলেন, আমার বান্দা আমার প্রসংশা করেছে। বান্দা যখন বলে الرحمن الرحيم
আল্লাহ তায়া’লা তখন বলেন, আমার বান্দা আমার গুণগান গেয়েছে। বান্দা যখন বলে مالك يوم الدين
আল্লাহ তায়া’লা তখন বলেন, আমার বান্দা আমার মহিমা বর্ণনা করেছে। বান্দা যখন বলে ياك نعبد واياك
نستعين আল্লাহ তায়া’লা বলেন, এটা আমার ও আমার বান্দার মধ্যকার ব্যাপার, আর আমার বান্দা যা চাইবে তা পাবে। বান্দা যখন বলে اهدنا الصراط المستقيم صراط الذين انعمت عليهم غير
المغضوب عليهم ولا الضالين
আল্লাহ তায়া’লা তখন বলেন, এটা আমার বান্দার জন্য, আর আমার বান্দা যা চাইবে তা পাবে (মিশকাত : ৭৮)।
পাঠকবৃন্দ লক্ষ্য করুন! এ হাদীসে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা আল্লাহ তায়া’লার কথার মধ্যে মুক্তাদীগণ সম্পর্কে কিছুই বলা নেই। মুক্তাদীগণকে মনে মনে পড়তে বলেছেন হযরত আবু হুরায়রা (রা.) নিজে। আবার তিনি তাঁর মতের পক্ষে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মাধ্যমে আল্লাহ তায়া’লার যে এরশাদ বর্ণনা করেছেন সেখানেও মুক্তাদীর বিষয়ে কিছুই বলা নেই। তাহলে ইমামের পিছনে মনে মনে ফাতিহা পড়- এটা আবু হুরায়রা (রা.) এর এমন একটি উক্তি যার পক্ষে কুরআন-হাদীসের কোন দলীল নেই; বরং আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নির্দেশ এই যে, ইমাম যখন কুরআন পাঠ করেন তখন তেমারা চুপ থাক। কুরআন-হাদীস ও অন্যান্য সাহাবায়ে কেরামের মতামতের
সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ায় হযরত আবু হুরায়রা (রা.) এর উক্ত নির্দেশ গ্রহণযোগ্য নয়।
ইমামের পিছনে মুক্তাদীগণের ছূরা ফাতিহা পড়ার পক্ষে আরও কিছু সাহাবায়ে কেরামের মতামত খুঁজে পাওয়া যায়। সেগুলির ক্ষেত্রেও এই জবাব কার্যকরী।
তাদরে পশেকৃত তৃতীয় দললিঃ
হাদীস – ছূরা ফাতহিা ব্যতীত তোমরা কোন কছিু(সালাত) পড়বে না
যারা মুক্তাদীগণের জন্য ছূরা ফাতিহা পাঠ আবশ্যক মনে করেন তাদের তৃতীয় দলীল হযরত উবাদা বিন ছামেতের (রা.)
এর অপর একটি হাদীস।
হাদীসটি নিম্নরূপ :
حدثنا عبد الله بن
محمد النفيلى قال حدثنا محمد بن سلمة عن محمد بن اسحاق عن مكحول عن محمود بن
الربيع عن عبادة بن الصامت قال كنا خلف النبى صلى الله عليه وسلم فى صلواة
الفجر فقرأ رسول الله ص لى الله عليه وسلم
فثقلت عليه القرائة فلما فرغ قال لعلكم تقرئون خلف امامكم قلنا نعم هذا يا
رسول الله قال لا تفعلوا الا بفاتحة الكتاب فانه لا صلواة لمن لم يقرأ بها
হযরত উবাদা বিন ছামেত (রা.) বলেন আমরা ফযরের নামাজে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পিছনে
ছিলাম। হুজুরের কুরআন পাঠ করতে কষ্ট হচ্ছিল। নামায শেষে বললেন, তোমরা মনে হয় তোমাদের ইমামের পিছনে কুরআন পাঠ কর ? আমরা বললাম- জী হ্যাঁ, আমরা এটাই করি। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ছূরা ফাতিহা
ব্যতীত তোমরা কোন কিছু পড়বে না। কেননা যে ছূরা ফাতিহা পড়ে না তার নামায হয় না (আবু দাউদ : ১/১১৯)।
যে সকল লোক মুক্তাদীগণের জন্য ছূরা ফাতিহা পাঠ করাকে আবশ্যক মনে করেন তাদের মতের পক্ষে হাদীসটি খুবই স্পষ্ট;
কিন্তু হাদীসটি সহীহ নয়। কারণ মুহাম্মাদ বিন ইসহাক নামীয় বর্ণনাকারী সত্যবাদী হলেও শিয়া ও কাদরিয়ার আকীদায় বিশ্বাসী হওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত এবং তিনি মুদাল্লি¬স রাবী। অর্থাৎ, নিজের উস্তাদ নিম্নমানের হলে তাকে বাদ রেখে উস্তাদের উস্তাদ হতে এমন শব্দে হাদীস বর্ণনা করেন যাতে মনে হয় যে তিনি নিজে তার কাছ থেকে শুনেছেন। অথচ বাস্তবতা তা নয়। এ রকম
বর্ণনাকারীর বর্ণনা গ্রহণযোগ্য হওয়ার শর্ত হল, স্পষ্ট শব্দ দ্বারা বর্ণনা করতে হবে যে, ‘আমি অমুক হতে শুনেছি’ অথবা ‘অমুক আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন’। এ রকম স্পষ্ট শব্দ ব্যতীত তার বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়। আর হাদীসে মুহাম্মাদ বিন ইসহাক রাবী স্পষ্ট শব্দ দ্বারা বর্ণনা করেননি; বরং অস্পষ্ট শব্দ দ্বারা (মাকহুল হতে বর্ণিত) বর্ণনা করেছেন। এ কারণে হাদীসটি গ্রহণযোগ্য নয়।
উক্ত হাদীসের পরবর্তী রাবী মাকহুল দামেশকীও ঠিক একই অপরাধে অপরাধী অর্থাৎ মুদাল্লিস। আবার এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন অস্পষ্ট শব্দে। সুতরাং কোনক্রমেই এ হাদীসটি এত বড় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দলীল হতে পারে না (মুহাম্মাদ বিন ইসহাকের জন্য দেখুন তাকরীব- রাবী নং- ৬৪২৪, আজ্জুয়াফা ওয়াল মাতরুকীন- ২১১পৃষ্ঠা। মাকহুলের জন্য দেখুন মীঝানুল এতেদাল- ৪/১৭৭)।
উল্লিখিত হাদীসের আরও একটি বর্ণনা নাসাঈ শরীফের মধ্যে এসেছে। বর্ণনাটি দ্মনরুও নিম্নরূপ :
اخبرنا هشام بن عمار
عن صدقة عن زيد بن واقد عن حرام بن حكيم عن نافع بن محمود بن ربيعة عن عبادة
الصامت قال صلى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم بعض الصلوة التى يجهر فيها بالقرائة
فقال لا يقرئن احد منكم اذا جهرت بالقرائة الا بأم القرآن
হযরত উবাদা বিন ছামেত (রা.) বলেন, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের একবার এমন নামায পড়ালেন যাতে তিনি উচ্চস্বরে কুরআন পাঠ করলেন। অতঃপর বললেন, আমি যখন উচ্চস্বরে কুরআন পাঠ করি তখন তোমাদের কেউ যেন ছূরা ফাতিহা ব্যতীত অন্য কিছু না পড়ে (নাসাঈ : ১/১০৬)।
উল্লিখিত হাদীসটিও মুক্তাদীর ছূরা ফাতিহা পাঠের ক্ষেত্রে স্পষ্ট; কিন্তু এ হাদীসটিও সনদের বিবেচনায় সহীহ নয়। কারণ উক্ত হাদীসের সনদে নাফে’ বিন মাহমুদ নামীয় রাবী মাজহুল। অর্থাৎ, মুহাদ্দিসগণ এ নামে কোন বর্ণনাকারীকে চেনেন না। সুতরাং হাদীসটি জয়ীফ ও অগ্রহণযোগ্য (নাফে’ বিন মাহমুদের বিষয়ে দেখুন মীঝানুল ইতেদাল- ৪/২৪২, তাহজীবুত তাহজীব-রাবী নং- ৮২১৭, তাকরীবুত তাহযীব রাবী নং- ৭১০৮)।
হযরত উবাদা বিন ছামেত (রা.) এর এ হাদীসটি বিভিন্ন সনদে বিভিন্ন কিতাবে বর্ণিত হয়েছে; কিন্তু প্রত্যেকটি সনদে উল্লিখিত তিনজন রাবী তথা মাকহুল, মুহাম্মাদ ও নাফে’ এর এক বা একাধিকজন রাবী বিদ্যমান রয়েছে। অতএব সনদের বিবেচনায় সে হাদীসগুলোও গ্রহণযোগ্য নয়।
হযরত উবাদা বিন ছামেত (রা.) হতে সদ্য বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বিষয় হযরত আনাস (রা.) হতেও বর্ণিত রয়েছে।
হাদীসটি নিম্নরূপ :
حدثنا ابو الحسن على
بن احمد بن عمرالمقرئ الحمامى ببغداد قال انبنأ احمد بن سليمان الفقيه قال حدثنا
ابو الاحوص محمد بن الهيثم قرائة عليه قال حدثنا ابو توبة الربيع بن نافع عن
عبدالله بن عمرو الرقى عن ايوب عن ابى قلابة عن انس ان رسول الله صلى الله عليه
وسلم صلى باصحابه فلما قضى صلوته اقبل عليهم بوجهه فقال اتقرؤن فى صلوتكم خلف
الامام والامام يقرأ فسكتوا فقالها ثلاث مرات فقال قائل او قائلون انا نفعل قال
فلا تفعلوا وليقرأ احدكم بفاتحة الكتاب فى نفسه
হযরত আনাস (রা.) হতে বর্ণিত যে, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবাদেরকে নামায পড়ালেন। নামাযান্তে তাঁদের দিকে,ফিরে বললেন, ইমাম কুরআন পাঠ করা সত্ত্বে¡ও কি তোমরা নামাযে কুরআন পাঠ কর ? সাহাবাগণ চুপ থাকলেন। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্ল

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন