মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০১৫

"ইসলামে চিন্তার স্বাধীনতা"।আবদুল হক

কুরআন খ্রিস্টানদের মানবিক কাঠামোয় আল্লাহকে স্থাপন করে তাঁর স্ত্রী-পুত্র কল্পনা অথবা হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থাদিতে বর্ণিত ‘সূর্যদেব প্রত্যহ অপরাহ্ণে গরুর গাড়িতে চড়ে পশ্চিমাকাশে গমন করেন’জাতীয় উদ্ভট ধারণায় বিশ্বাস করতে আহ্বান করে না। কুরআনের আহ্বান হলো সৃষ্টি নিয়ে মুক্তচিন্তা ও গবেষণার মাধ্যমে স্রষ্টার সত্তার প্রত্যয় ও তাঁর মাহাত্ম্য অনুধাবনের আহ্বান। মানবজীবনে প্রয়োগযোগ্য শিক্ষা বহন করে না এমন অহেতুক উপকথা কিংবা যুক্তি ও বাস্তববুদ্ধি গ্রাহ্য করে না এমন কোনো রূপকথা কুরআনে নেই। যেমন সূর্য ও নক্ষত্ররাজিকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করা হবে -- এমন আষাঢ়ে কথা কুরআনের কোথাও নেই। অথচ তাফসীর নামে পরিচিত চৌদ্দ শো বছর ধরে সময়ে সময়ে প্রকাশিত কুরআনের বহু ব্যাখ্যাগ্রন্থে কীভাবে যেন এই হাস্যকর ধারণাটি ঢুকে পড়েছে। বানানো উসূলের আরোপিত অনুকরণপ্রবণতা ও প্রথানুগতা এর কারণ বলে মনে হয়। তা না হলে হাজার বছর ধরে একই ভুল ক্রমাগত পুনরাবৃত্ত হতে পারে না। উদাহরণ : স্পেনের আবু আবদুল্লাহ আল-কুরতুবী (১২১৪-১২৭৩) রচিত ‘আল-জামি’ লি আহকামিল কুরআন’ অথবা ‘ভারতের কাযী সানাউল্লাহ পানিপথী (১৭৩১-১৮৩১) প্রণীত ‘তাফসীর-ই মাযহারী’। বস্তুত কুরআনের ৮১তম সূরার শুরুর আয়াতে কিয়ামতের আলামত প্রসঙ্গে বলা হয়েছে ‘যখন সূর্য নিষ্প্রভ করে ফেলা হবে’, তারপর ৭ম আয়াতে ‘যখন সমুদ্র উত্তাল করে তোলা হবে’ -- ব্যস্‌, এটুকু দেখেই তাঁদের অনুমান সূর্য ও সমস্ত নক্ষত্রকে টেনে এনে সমুদ্রে নিক্ষেপ করেছে, যাতে সমুদ্রের উত্তাল বা উত্তপ্ত হওয়ার কারণ আরো স্পষ্ট হয়। আদতে ব্যাপারটি ‘একটি চড়ুইপাখি আস্ত এক উড়োজাহাজ গিলে ফেলেছে’র চেয়েও অসম্ভব। কেননা আজকাল ৫ম শ্রেণীতে পড়ে যে শিশু, তাকে জিজ্ঞেস করেই আমরা জানতে পারি যে, সূর্য পৃথিবীর চে’ ১,৩০০,০০০ গুণ বড়, পৃথিবী থেকে ৯৩,০০০,০০০ মাইল দূরে বলেই তা ছোট দেখায়। অবশ্য এসব বিবেচনা বাদ দিয়ে চোখ বন্ধ করে কেউ বলতে পারেন, আল্লাহর হুকুমে সবই হতে পারে; যদিও তাতে আল্লাহর নেযাম সম্পর্কে নিতান্ত অজ্ঞতাই প্রকাশ পায়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন