এটাই কি তোমাদের প্রতি আল্লাহর নির্দেশ ছিল ? আল্লাহর রাসুল( সা) কি এটাই তোমাদের শিক্ষা দিয়ে গেছেন ??
খবর :
১২০ কেজি স্বর্ণ, ৭শ’ কেজি রেশমি সূতা ও ২৫ কেজি রুপা দিয়ে পবিত্র কাবা শরিফের নতুন গিলাফ তৈরি করা হয়েছে। যারদৈর্ঘ্য ১৪ মিটার এবং প্রস্থ ৪৪ মিটার। এই খবর শুনে হাজার হাজার ফেইসবুক ব্যবহারকারী লাইক দিচ্ছেন আর "আল্লাহু আকবর " , সুবহানাল্লাহ ," " যাযাকাল্লাহ " ইত্যাদি বলে আল্লাহ্র মহিমা ঘোষণা করছেন এবং রাজতন্ত্রের ধ্বজাধারী , মুসলমানদের দুষমন , ক্ষমতালোভী , বিলাসীতায় গা ভাসিয়ে দেওয়া সৌদি শাসকদের ক্রেডিট দিয়ে যাচ্ছেন।দূঃখীত বন্ধুরা , আমি এখানে তাদের কে প্রশংসার বন্যায় ভাসিয়ে দিতে পারছি না বলে।কারণ এটা কখনো আল্লাহর রাসুলের শিক্ষা হতে পারে না। আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন --" তোমাদের কী হয়েছে ? তোমরা কেন জিহাদ ঘোষণা করছ না ? অথচ নিপীড়িত , অত্যাচারীত নারী পুরূষ আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করে বলে - হে প্রভু , অত্যাচারী জালীম শাসকের জনপদ থেকে আমাদের রক্ষা করো"। রসুল (স) বলেছেন--"মুসলিম জাতি হল একটা শরীরের মত, শরীরের কোন অংশে ব্যথা হলে কিংবা কষ্ট পেলে তা পুরো শরীরে অনুভূত হয় , অর্থাৎ পুরা শরীরটাই অসাড় হয়ে যায়।
অথচ আজ তামাম দুনিয়ার মুসলিম জাতি কোন না কোনভাবে নির্যাতিত, নিপীড়িত , বিতাড়িত।মিডিয়া গুলোতে একটু চোখ বুলিয়ে দেখেন ।আমাদের পার্শবর্তী দেশ ইন্ডিয়াতে মুসলমানরা আজ চরমভাবে নিগৃহীত।সেখানে মুসলমানদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের উপর সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা জারী করা হয়েছে।এই সেদেশের হিন্দুত্ববাদী সরকার গরু জবাই করাকে শাস্তিমুলক অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।মুসলমানদের কে সব ধরনের চাকরী থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।আর কাশ্মীরের মুসলমানদের অবস্থা তো আরো ভয়াবহ।আরোপিত আইনের বিশেষ ক্ষমতা বলে ভারতীয় সেনাররা কোন কারণ ছাড়াই হাজার হাজার মুসলিম নারী পুরুষ কে গ্রেফতার করে বিনা বিচারে আটকিয়ে রেখে নির্যাতন -নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে শত বছর ধরে।সেনাদের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন শত শত মা-বোন।
বার্মার (মায়ানমার) অবস্থা কম বেশী হয়ত জানতে পেরেছেন তাও ফেইসবুকের মাধ্যমে।সেখানে হাজার হাজার মুসলিম নারী পুরুষ কে হত্যা করা হয়েছে।অহিংস পরম ধর্ম কিংবা জীব হত্যা মহাপাপের তথা কথিত মানব রচিত ধর্মের ধ্বজাধারী বৌদ্ধ ভীক্ষু খ্যাত সন্ত্রাসী দের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে হাজার হাজার মুসলিম নারী শিশু জন্মভূমির মায়া ত্যাগ করে বাংলাদেশ সহ প্রতিবেশী মুসলিম দেশ গুলোর দ্বারে দ্বারে ধরনা দিয়েছে একটুখানি আশ্রয়ের আশায়।কেউ আশ্রয় দেয়নি।দূর দূর করে তাড়িয়েছে।ফলে নাফ নদীতে ডুবে মরেছে কেউ, ভারত মহাসাগরে সলিল সমাধী হতে হয়েছে হাজার হাজার , মালয়েশিয়া , থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়ায় শত শত গণকবরে লাশ হয়েছে হাজার হাজার মুসলমানদের।
চীনের উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়কে ধর্মীয় ইবাদত রোজা রাখার অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে আন্দোলন করতে হয় , পুলিশের গুলিতে প্রাণ দিতে হয়।নানা বিধি নিষেধ জোর করে চাপিয়ে দেয় সেদেশর অত্যাচারী কম্যুনিস্ট সরকার।চীনের বৌদ্ধরা অযাচিত দাঙ্গা বাধিয়ে , হামলা চালিয়ে ফি-বছর শত শত উইঘুর মুসলমানদের হত্যা করে।
নিজভূমে পরবাসী ফিলিস্তিনীদের কথা এই ছোট্ট পরিসরে বলে হয়তো শেষ করা যাবে না।
সাম্প্রতিক সিরিয়ার উদ্বাস্তুদের কথা আর কী বলব।ভূমধ্যসাগরে সলিল সমাধি হওয়া আশ্রয়প্রার্থী মুসলমানদের ছবি প্রতিদিন সংবাদ পত্রের পাতায় স্থান করে নিচ্ছে।
বলছিলাম আমাদের বিশ্বমুসলিমের অভিভাবক দেশ সৌদি আরবের কথা।বালাদুল আমিন -পবিত্র মক্কা নগরীর দেখভাল করার মহান দায়িত্ব প্রাপ্ত ; দৃশ্যত ইসলামের ঝান্ডাধারী সৌদি রাজপুত শাসকদের কথা।আজ একদিকে সারা জাহানের মুসলিম মার খাচ্ছে ইহুদী নাসারাদের হাতে।বিশ্বব্যাপী তাদের কূটকৌশলের কাছে মুসলিমরা পরাজিত , নিগৃহিত।আর ঠিক তাদের হাতে হাত মিলিয়েছে এই সৌদি রাজপুত শাসকেরা।যালিম অত্যাচারী শাসকদের হাত থেকে মুসলমানদের রক্ষায় এদের কোন উদ্যোগ নেই।অথচ এরাই মুসলমানদের একমাত্র রক্ষকবচ অভিভাবক হওয়ার কথা ছিল।কিন্তু ইসলামের নবীর শিক্ষা হতে বহুদূরে সরে যাওয়া এইসব অতি বিলাসী সৌদি শাসক (যারা বিয়েতে তাদের মেয়েদের কে সোনার টয়লেট উপহার দেয়) তাদের রাজতন্ত্রের তক্তপোষ টিকিয়ে রাখার জন্য সেইসব অত্যাচারী , যুদ্ধপ্রিয় যালিম একচোখা বিশ্বশাসকদের সহযোগীই হয়েছে কেবল।
তাই বলছি তোমরা যতোই আল্লাহর পবিত্র ঘর "ক্বাবা" কে হাজার হাজার টন সোনায় তৈরি গিলাপ দিয়ে মোড়াও না কেন , (আমার বিশ্বাস ) আল্লাহ এতে খুশি হবেন না । বরঞ্চ পুরা মুসলিম জাতি কে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া তোমাদের মতো নির্দয় - অবিবেচক শাসকদের কে ভর্ৎসনাই করবেন ।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন