স্রষ্টা অপরূপ সাজ আর নৈসর্গীক সৌন্দর্য দিয়ে তোমাকে বানিয়েছেন। তোমার ডাগর চোখের চাহনি হাজারো যুবকের মনে কামনার আগুন জ্বালাতে পারে। বাঁকা ঠোঁটের মৃদু হাসি মরা গাছে ফুল ফোটাতে সক্ষম। তোমার পেলব-কোমল মনের ছোঁয়ায় জাগিয়ে দিতে পারো মরা গাঙ্গের স্রোতধারাকে । তুমি চাইলেই একটি সমাজকে রাঙাতে পারো আবার পৌঁছে দিতে পারো ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
:
তুমিই হতে পারো বীরাঙ্গনা খাওলা কিংবা মহীয়সী সুমাইয়া রা.। তুমি পারো হযরত যিন্নিরা রা.-এর মতো হৃদয়ে রাসূল প্রেমের দ্বীপ জ্বালাতে। হতে পারো হযরত মারিয়ম আ. ও ফেরাউন স্ত্রী আসিয়া হতে।
:
প্রিয় ! তোমার গর্ভ থেকে জন্ম হওয়ার কথা ছিল বীর খালিদের মতো কোনো জানবাজ। কথা ছিলো সুলতান সালাহ উদ্দীন আইয়ূবী ও সুলতান টিপুর মতো কোনো দ্বিগ্বিজয়ী বীরের। তোমার গর্ভ থেকে জন্ম নেয়ার কথা ছিলো মুহাম্মাদ বিন কাসিম, মুসা বিন নুসাইর কিংবা বখতিয়ার কাকী র.-এর মতো কোনো প্রভু প্রেমিকের।
:
কিন্তু তুমি কী করছো বোন? আজ তুমি কাকে আদর্শ মনে করছো? কাকে তোমার আইডল বানাচ্ছো। সানি লিয়ন কিংবা নায়লা নাঈমের মতো ঐ নগ্ন রমনীকে?
যাদেরকে সব মানুষেরা লোলুপ দৃষ্টিবানে প্রতি নিয়ত ধর্ষণ করছে তাদেরকে?
:
এটাকে তুমি সম্মান মনে করছো?
বোন ! এটা প্রকৃত সম্মান নয়। বিশ্বাস করো সবাই তোমাকে তখন ভোগ্য সামগ্রী ছাড়া ভিন্ন কিছুই ভাববে না। তুমি কি তাই হতে চাও? নিশ্চয়ই না। তখন তোমাকে শুধু শয্যাসঙ্গী ভাবতেই পছন্দ করবে। ভিন্ন কিছুই না।
:
প্রিয় বোন ! তোমার কি ইচ্ছে হয় না সবাই তোমাকে সম্মান করুক? তোমার কি ইচ্ছে হয় না সবাই তোমাকে দামী মনে করুক? তাহলে কেনো তুমি সবার সামনে নিজেকে প্রকাশ করছো? দামী বস্তু বেশী সহজলভ্য হলে যে বে-কদর হয়ে যায় তা তুমি তো জানো!
:
প্রিয় বোন ! সর্বোপরি পার্থিব জীবনটা খুব বেশী বড়ো নয়। এরপর এক অনন্ত জীবন আছে। তুমি যদি তোমার এ ছোট জীবনে নিজেকে ধর্মের বাঁধনে আটকে রাখতে পারো তাহলে তুমি মহীরুহ হতে পারবে। তোমার জন্য অপেক্ষা করবে অনাবিল সুখের জান্নাত।
:
বোন ! তোমার শাবানা ম্যাডামের কথা মনে আছে? তিনি কিন্তু সব ছেড়ে এখন নিজেকে ধর্মের পথে পরিচালনা করছেন। নিজেই নিউজ পেপারে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন “আমি আমার আগের জীবন সম্পর্কে অনুতপ্ত। এখনকার জীবনকেই আমার স্বাভাবিক জীবন মনে হয়।“
:
প্রিয় বোন ! ফিরে এসো ! আঁধার ছেড়ে আলোর পথে। ফিরে এসো যিল্লতির জীবন ছেড়ে সম্মানের পথে। ফিরে এসো অসুস্থ পথ ছেড়ে স্বাভাবিক পথে।
:
আল্লাহ তোমাকে তৌফিক দান করুক।
:
উৎসর্গ : নাজনীন আক্তার হ্যাপি-কে । যে এখন আঁধার ছেড়ে আলোর পথে হাঁটছেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন