মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

যখন তোমার লজ্জা চলে যাবে তখন তুমি যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে


রসুললুল্লাহ -সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- বলেছেন, 
إذا فاتك الحياء فافعل ما شئت.

"যখন তোমার লজ্জা চলে যাবে তখন তুমি যা ইচ্ছা তাই করতে পারবে, তোমার মধ্যে ভালো মন্দের মাঝে পার্থক্য করার ক্ষমতা থাকবে না।"
একসময় এমন বিজয়উল্লাসে কওমে লূতও মেতে উঠেছিল। লুত (আ:) এর জাতি তাদের প্রাচুর্যময় জীবনযাত্রার সঙ্গে হয়ে উঠে বেপরোয়া। সমাজ জীবনে তারা জুলুম-অত্যাচার, মারামারি, নির্লজ্জতা ও কুকর্মের ক্ষেত্রে এ যুগের সকল জাতিকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এ জাতির চরিত্র ছিল অত্যন্ত জঘন্য প্রকৃতির।
পৃথিবীতে পরিচিত এবং অপরিচিত অপরাধ ও এমন কোন অপরাধ নেই যা সেই জাতির ভিতর ছিল না। অন্যায় আর বেহায়াপনার সাগরে নিমজ্জিত ছিল সেই জাতি। সে সময় তারা আরো একটি অপরাধ অবিষ্কার করেছিল যা তখন পর্যন্ত কোন জাতির লোক এমন অপরাধের সাথে পরিচিত ছিল না। পবিত্র কোরআন হতে জানা যায় যে, তখন পর্যন্ত পৃথিবীর মানুষ জানতো না, এই ধরনের কোন কু-কর্ম করা যায়।
লূত (আ:) এর জাতিই যেই কুকর্মের জন্ম দিয়েছিল,সে কু-কর্মের নাম হলো সমকাম-ইংরেজিতে যাকে হোমোসেক্স বলে। সে জাতির পুরুষেরা নারীর সাথে যৌনক্রিয়া করার চেয়ে পুরুষে পুরুষে রতিক্রিয়া করতে অধিক আগ্রহী ছিল। এই জঘন্য অপকর্ম তারা প্রকাশ্যে করে আনন্দ লাভ করত। সুন্দরী নারীকে ত্যাগ করে তারা পুরুষের সাথে রতিক্রিয়া করতো।
আজ হতে হাজার হাজার বছর পূর্বে এমন একটি জাতি এই ঘৃনিত ও জঘন্য প্রথার আবিষ্কার করেছিল, বর্তমান যুগের সভ্যতাগর্বী মানুষেরা যে জাতিকে অজ্ঞ অশিক্ষিত আর মূখ ছাড়া আর কিছুই বলেনা। কিন্তু সেই অজ্ঞ অশিক্ষিত ও মূর্খ জাতি কর্তৃক আবিষ্কৃত ঘৃণিত ও জঘন্য কর্ম সমকামকে বর্তমানের সভ্যতা গর্বিত মানুষ আনন্দের সাথে স্বাগত জানিয়েছে!!!
কওমে লূতের এই অপকর্মের পরিণামে এসেছিলো আল্লাহর ভয়ংকর শাস্তি, এমন অপকর্মকারীরা ভূপৃষ্ঠে থাকবে তা আল্লাহ পছন্দ করলেন না, তাই জিব্রীল আঃ কে সেই জমিকে উল্টিয়ে দেওয়ার আদেশ দিলেন, জিব্রীল (আঃ) সেই জনপদকে মাটিসহ হাতের তালুতে করে আসমান পর্যন্ত উঠিয়ে নিয়ে যান, এমন কী আসমানের ফেরেশতারাও তাদের আর্তচিৎকার, আজাবের ভয়ে গবাদিপশুর ডাকডাকি শুনতে পায়।
সেই অভিশপ্ত জনপদকে উলটো করে আসমান থেকে জমীনে নিক্ষেপ করা হলো, যা আজ 'মৃত সাগর' বা ‘লূত সাগর’ নামে খ্যাত, ফিলিস্তীন ও জর্ডান নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে বিশাল অঞ্চল জুড়ে নদীর রূপ ধারণ করে আছে, যেটি সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে বেশ নীচু। এর পানিতে তৈলজাতীয় পদার্থ বেশী। এতে কোন মাছ, ব্যাঙ এমনকি কোন জলজ প্রাণী বেঁচে থাকতে পারে না। এ কারণেই একে ‘মৃত সাগর’ বা ‘মরু সাগর’ বলা হয়েছে।
আজও যারা এই রোগে আক্রান্ত, যারা এমন গর্হিত কর্মে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ বোধ করে যাদের লজ্জাশরম উঠে গেছে, রুচি বিকৃত হয়ে গেছে তারা পশুত্বকেও হার মানায়। তারা ভুলে যাবেন না, সেই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতা জিব্রীল আঃ এখনো আছেন।
قل فانتظروا اني معكم من المنتظرين.
তোমরা সেই নির্ধারিত শাস্তি আসার অপেক্ষা করো! আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষমাণ।
আল্লাহ সবাইকে হেদায়াত দান করুন! আমিন!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন