বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

একটি গল্প শোনো-২......................

একলোকের একটি পাঁঠা ছিলো। পাঁঠা ছিলো অত্যন্ত চাপাবাজ আর ভিতু প্রকৃতির। পাঁঠা রোজ রোজ ঘাস খাওয়ার জন্য জঙ্গলে যেতো। জঙ্গলে ঘাস খাওয়া শেষ হলে সন্ধার আগেই আবার বাড়িতে ফিরে আসতো। কিন্তু বাড়িতে এসে চাপাবাজি করতো যে, সে কয়েকটা বাঘকে ঘায়েল করে এসেছে।
:
একদিনের ঘটনা। ঘাস খেতে খেতে বেলা ডুবে গেছে পাঁঠা তা টেরই পেলো না। ফলে সে অন্ধকারে পথ ভুলে হতভম্ব হয়ে গেলো। মনে মনে বাঘের খপ্পরে পড়ে প্রাণ হারানোর আশংকা করতে লাগলো।
দেখতে দেখতেই তার সামনে বিশালাকায় এক বাঘ এসে উপস্থিত হলো। ভয়ে পাঁঠার প্রাণ যায় যায় অবস্থা। কিন্তু সে নিজেকে বললো, এখন তোমাকে মাথা ঠাণ্ডা রেখে কাজ করতে হবে। কোনো ভাবেই ঘাবড়ানো চলবে না।
:
বাঘ জিজ্ঞেস করলো, এ্যাই ক্যারে তুই?
পাঁঠা নিজের দূর্বলতা গোপন করতে আরো জোর আওয়াজে বললো, আগে বল তুই কে?
: আমি বনের রাজা। বাঘ। আর তুই ?
: আমি? আমি বনের শাহেনশাহ টা...ক!
: আচ্ছা ! তুই যে টা..ক তার প্রমান কি?
: আগে তোর প্রমাণ দেখা।
বাঘ এবার সর্বশক্তি যোগ করে দিলো এক হুঁঙ্কার। হা..ল্......লু.....ম.......
ভয়ে পাঁঠা বেহুঁস হয়ে গেলো।
:
বাঘ যখন দেখলো টা...কের কোনো নড়াচড়া নেই তখন ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে এলো। এসে কান ধরে বললো, কিরে ভয়ে মরে গেলি নাকি? কোনো আওয়াজ নেই কেনো?
অনেক্ষণ পর পাঁঠার হুঁস ফিরে আসার পর মনের ভয়কে গোপন করে বললো, আরে নাহ ! তোর হুঁঙ্কারে ভয় পাবো ? তোর আওয়াজের অবস্থা দেখে আমি ঘুমিয়ে গেছিলাম।
( বাঘ মনে মনে আশ্চর্য হলো)
: আচ্ছা ! এবার তাহলে তুই প্রমাণ দে !
( পাঁঠা ভাবলো, আমার তো কোনো প্রমাণ নেই। এতোক্ষণ শুধু চাপার জোরেই টিকে আছি। এবার তাহলে কৌশলে পালাতে হবে)
: ঠিক আছে দিচ্ছি । কাছে আয় ! বাঘ সামনে এলো। (ধমক দিয়ে) আরো কাছে আয় !! আরো কাছে এলো। এবার পাঁঠা নিজের পা উঁচু করে বাঘের চেহারায় পেশাব করে দিলো। পাঁঠার পেশাবের দূর্গন্ধে বাঘ অস্থির হয়ে গেলো। সেই সুযোগে পাঁঠা দে ছুট................
:
দৃশ্যপট [দুই]
:
বিদ‘আতী ও আহলে হাদীসরাও এমন আহলে দেওবন্দের আশে-পাশে বসবাস করে আর দূরে গিয়ে বিনা দলিলে চাপাবাজি করে বেড়ায়। ছড়িয়ে বেড়ায় তারাই প্রকৃত মুসলিম। তারাই আশেকে রাসূল সা. ওরফে (আশেকে টু-পাইস)। ছুন্নি ( আহলে জিলাপি)।
কিন্তু যদি কোনো ক্রমে হক্কানী কোনো আলেমের সামনে পড়ে যায় তাহলে প্রথমে চাপাবাজি আর ধাপ্পাবাজি করে টিকতে না পারলে ঐ পাঁঠার মতো দূর্গন্ধ ছড়িয়ে, লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যায়। কারণ, তারা জানে তাদের পুঁজি শুধুই ধাপ্পাবাজি ছাড়া আর কিছুই নয়। দূর্গন্ধ ছড়ানো-ই তাদের শেষ সম্বল।
:
সুতরাং বাছাধনেরা, সাবধান!! পারলে সামনে এসে নিজেদের হক্ব প্রমাণ করো। আর দূর্গন্ধ ছড়িয়ো না। প্লিজ। তোমাদের কারণে মুসলমান আজ বিভ্রান্ত।
:
আল্লাহ সবাইকে হিদায়েত দান করুক। আমীন।।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন