সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

ফেরাউনের প্রাসাদে থেকে শিশু থেকে যুবক হলেন মুসা [আ.]

ফেরাউনের প্রাসাদে থেকে শিশু থেকে যুবক হলেন মুসা [আ.]
তাওরাতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মুসা আ.-এর মা যখন মুসা আ.-এর দুধ ছাড়ালেন তখন তিনি তাকে ফেরআউনের কন্যার কাছে দিয়ে দিলেন। এরপর মুসা আ. এক দীর্ঘকাল রাজপ্রাসাদে প্রতিপালিত হতে থাকেন এবং ওখানেই তাঁর ক্রমোন্নতি ঘটতে থাকে। কিন্তু তাওরাতের এই উক্তি বাস্তবের সম্পূর্ণ বিপরীত যে, মুসা আ. ফেরআউনের কন্যার পুত্র হয়েছিলেন- “যখন শিশু একটু বড় হলো, তখন মুসার মাতা তাকে ফেরআউনের কন্যার কাছে নিয়ে এলেন এবং সে ফেরআউনের কন্যার পুত্র নির্ধারিত হলো। সে তার নাম রাখলো মুসা এবং বললো, তার এই নাম রাখলাম এই কারণে যে, আমি তাকে পানি থেকে উদ্ধার করেছি।”
হযরত মুসা [আ.] এক দীর্ঘ সময় রাজপ্রাসাদে রাজকীয় আদর-যত্নে প্রতিপালিত হলেন। ধীরে ধীরে তিনি যৌবনে পদার্পণ করলেন। তখন দেখা গেলো তিনি এক সুঠামদেহ সাহসী যুবক। তাঁর মুখমণ্ডল থেকে গাম্ভীর্য ফুটে বের হচ্ছে। কথাবার্তা থেকে বিশেষ ধরনের দৃঢ়তা ও মহত্বের শান প্রকাশ পাচ্ছে। যৌবনে পদার্পণ করার পর তিনি এটাও জানতে পেরেছিলেন যে, তিনি ইসরাইলি বংশোদ্ভূত। মিসরীয় বংশের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি এটাও দেখলেন যে, বনি ইসরাইলকে জুলুম ও নিপীড়ন করা হচ্ছে এবং তারা মিসরে অত্যন্ত লাঞ্ছনা ও দাসত্বের জীবনযাপন করছে। এই অবস্থা দেখে ক্রোধে তাঁর রক্ত টগবগ করতে লাগলো। তিনি সুযোগ পেলেই বনি ইসরাইলের সাহায্য-সহযোগিতা ও তাদের রক্ষায় এগিয়ে যেতেন।
আবু জাফর মুহাম্মদ বিন জারির আত-তাবারি রহ. তাঁর ‘তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক’ গ্রন্থে লিখেছেন, হযরত মুসা [আ.] যখন যৌবনে পদাপর্ণ করেন এবং একজন শক্তিমান যুবকরূপে আবির্ভূত হলেন, তখন বনি ইসরাইলের ব্যাপারে তাঁর সাহায্য ও সুরক্ষার প্রতিক্রিয়া এই হলো যে, বনি ইসরাইলের ওপর মিসরীয় কর্মচারীদের অত্যাচার হ্রাস পেতে শুরু করলো। আর এতে সন্দেহ নেই যে, বনি ইসরাইলের লাঞ্ছনা ও দাসত্বের জন্য মুসা আ.-এর ক্রুদ্ধ ও চিন্তিত হওয়া এবং তাদের সাহায্য-সহযোগিতা ও মুক্তির জন্য তাঁর হৃদয়ে গভীর আগ্রহ ও দৃঢ় স্পৃহা একটি আল্লাহ-প্রদত্ত স্বভাবজাত আবেগ ছিলো।
এখন আল্লাহপাকের দানের হাত আরো অগ্রসর হলো এবং তিনি মুসা আ.-কে দৈহিক শক্তির সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার অলঙ্কারেও ভূষিত করলেন। এখন পরিপক্ব বয়সে পৌঁছে তাঁর সিদ্ধান্ত গ্রহণের শক্তি, সূক্ষ্মজ্ঞান ও চিন্তাশক্তিও উচ্চস্তরে উপনীত হলো। তিনি দৈহিক ও আধ্যত্মিক শক্তিতে পূর্ণতা লাভ করলেন। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَلَمَّا بَلَغَ أَشُدَّهُ وَاسْتَوَى آَتَيْنَاهُ حُكْمًا وَعِلْمًا وَكَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ
‘যখন মুসা পূর্ণ যৌবনে উপনীত হলো ও পরিণত বয়স্ক হলো তখন আমি তাকে হেকমত (সিদ্ধান্ত গ্রহণের শক্তি) ও জ্ঞান দান করলাম; এইভাবে আমি সৎকর্মপরায়ণদেরকে পুরস্কার প্রদান করে থাকি।’ [সুরা কাসাস : আয়াত ১৪] মোটকথা, মুসা [আ.] যুবক বয়সে শহরে ভ্রমণকালে এসব অবস্থা দেখতেন এবং কোনো কোনো বনি ইসরাইলকে সাহায্য করতেন।
সূত্র : কাসাসুল কুরআন, তাফসিরে ইবনে কাসির
হাফেজ মাওলানা সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন