বাংলাদেশী সংবাদপত্রগুলো এমন সব খবর প্রকাশ করে, যা দেখে বিশ্বাস করবো না, চিৎকার করবো বুঝে উঠতে পারি না। যেমন, গত ২২ জানুয়ারী দৈনিক কালের কণ্ঠ একটি খবর করেছে, যার হেডিং-
পাঠক অধিকাংশ মানুষ কিন্তু ভেতর পড়ে না। কেবল হেডিং দেখে। যেমন-
ঐ হেডিং দেখে এক গরুর মুত খেকো কি কমেন্ট করেছে দেখুন-
আবার ঐ হেডিংকে পূজি করে পুটুকামী আচিপ দাবি করেছে- সেও নাকি দেখেছে শরনার্থীরা জার্মান নারীদের বুকে হাত দেয়। (https://goo.gl/1opMbv)
অথচ দেখুন ঐ খবরের ভেতরে কি লেখা আছে- “অবিরত লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার। পোশাক খুলে নগ্ন করার হুমকি।”
কি বুঝলেন !! হেডিং এ বলা হচ্ছে- পোষাক খুলে নগ্ন করা হতো, আর ভেতরে এসেছে পোষাক খুলে নগ্ন করার হুমকি !!!
অর্থাৎ হেডিং আর ভেতরের খবরের কোন মিল নেই। পুরোটা খবর পড়লেই বোঝা যায়, পুরো খবরটাই একপেষে ভুয়া ও অযথাই শরনার্থী ফোবিয়া ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরী করা। আজকাল প্রায়শঃই দেখা যায়, কালেরকণ্ঠ গরুর মূত খাওয়ার জোরে ‘নুসরাত ফারিয়ার পাদ’ দেওয়ার মত এ সকল ভুয়া খবর আমদানি করে থাকে।
আসলে এখানে অমুসলিমদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। সব দোষ মুসলমানদের। কারণ-
১) কেন তাদের নিজস্ব কোন মিডিয়া নেই। তাদের তো টাকা-পয়সার কোন অভাব ছিলো না। তাহলে তারা নিজস্ব মিডিয়া তৈরী করেনি কেন, যেটা সব সময় মুসলিমদের পক্ষে বলবে এবং অমুসলিমদের অপপ্রচারের জবাব দিবে।
২) দেখা যায় মিডলইস্টের ধনীরা ইহুদী মিডিয়াগুলোতে ইনভেস্ট করে কিন্তু মুসলিম মিডিয়ায় ইনভেস্টমেন্ট করে না। যেমন- সউদী যুবরাজ তালাল, ইহুদীবাদী মিডিয়া জায়ান্ট রুপার্ট মারডকের নিউজ কর্পোরেশনে কোটি কোটি ডলার ইনভেস্ট করে (https://goo.gl/A3d8Fj)। যদিও সেই নিউজ কর্পোরেশন সারাদিন মুসলমানদের বিরুদ্ধে অপপ্রচালে লিপ্ত।
৩) মুসলিমরা কেন নিজ ভূমি ছেড়ে ইউরোপে গেলো ? তারা কোন যুক্তিতে বিশ্বাস করলো অমুসলিমরা তাদেরকে নিরাপত্তা দেবে ? তাদের এ ভ্রান্ত বিশ্বাসই এখন তাদের সাগরে ডুবিয়ে মারছে কিংবা শরনার্থী হয়ে মিথ্যা অপবাদে লাঞ্চিত করছে।
সব অপমান আর লাঞ্চনার পেছনে নিজের দোষ খোজাটাই অধিক যুক্তিসঙ্গত। আমার মনে হয় বর্তমানে মুসলমানদের উচিত, নিজ ভুলগুলো আগে চিহ্নিত করে তা সংশোধন করা, সেটাই তাদের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে।
সবাইকে ধন্যবাদ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন