সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

ইসলামী স্মারক কুরবানী নিয়ে অবান্তর প্রশ্ন, আমাদের কিছু কথা:

কুরবানী ইসলামের এক গুরুত্বপূর্ণ শি'আর। আল্লাহ তা'আলা বিষয়টিকে সূরা হজ্বের ৩৬ নং আয়াতে এভাবে বলেছেন: والبدن جعلناها لكم من شعائر الله لكم فيها خير.
আর এই শি'আর বা স্মারক নিয়ে অবান্তর প্রশ্ন কেবল একজন অবিবেচকই করতে পারে।
অনেক আপত্তির মধ্যে যে দু'টিকে ভয়ঙ্কর মনে হয় তা নিয়েই আজকের কথা।
(ক) কুরবানীর সম্পর্ক যেহেতু সম্পদের সাথে তাই আপত্তি হলো এভাবে কোটি কোটি টাকা অপচয় না করে এগুলোকে দারিদ্র্য বিমোচনে লাগালেই ভালো হতো। বাহ্যিকভাবে প্রস্তাবটিতে চমক থাকলেও সেটি বিষধর সাপের চমক, যাতে আছে কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য, ভেতরের খবর সকলেরই জানা।
প্রশ্নটি উত্থাপিত হওয়ার মূলে যে বিষয়টি কাজ করেছে তা হলো ক্বুরবানীর হাকীকত সম্পর্কে অজ্ঞতা।
আমরা ক্বুরবানী কেনো করি?
আল্লাহ তা'আলা কুরআনে কারীমে ওয়াদা করেছেন:
وتركنا عليه في الآخرين
( সূরা সাফ,আয়াত নং ১০৮)
আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রিয় খলীলের ত্যাগ-তিতিক্ষা ও আল্লাহ প্রেমের স্মৃতিকে জাগরুক রাখতেই ইব্রাহীমী সুন্নতকে ইবাদত হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। আর এটা জেনে রাখা দরকার এক ইবাদতের দাবী অন্যটি দিয়ে পূরণ হয় না, যেমন নামাযের দাবী রোযা দিয়ে হবে না।
এখন কেউ যদি ভাবেন রোযা রাখা অনেক কষ্ট তাই আমি এর বদলে নামায একটু বাড়িয়ে দেই, বলার অপেক্ষা রাখে না ইসলামের একটি মৌলিক বিধানকে অস্বীকার করার কারণে তিনি বে-ঈমান হিসেবেই পরিগনিত হবেন।
তাদের জন্য আমাদের পরামর্শ, মসাই প্রথম পরীক্ষাটি আপনার শরিরে প্রয়োগ করুন!
ডানহাত যেহেতু বেশি কার্যকর, তাই বাম হাতটা কেটে ডান পার্শ্বে লাগিয়ে নিন।
কুরবানীর উদ্দেশ্যই হচ্ছে ইব্রাহীমী সুন্নত চর্চার মাধ্যমে আত্মোৎসর্গের চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন, যা অন্য কোনো পন্থায় বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
দান আপনি করুন, তবে কুরবানীর উপর ছুড়ি না চালিয়ে।
চার ছক্কার নামে যখন হাজার হাজার কোটি টাকার অপচয় হয়, অথবা বিদেশী নর্তকী এনে দেশীয় সম্পদ তাদের হাতে তোলে দেওয়া হয় তখন দারিদ্রপীড়িতদের জন্য মায়াকান্না না দেখে আমরা আপনাদের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহে পড়ে যাই।
বিষয়টি কি অর্থনৈতিক? না ইসলামী বিধানে আপত্তি তোলে সহজ সরল মুসলমানদের দ্বীনি বিষয়ে সন্দিহান করে তোলা?
বাস্তবতা হচ্ছে যারা স্বামর্থ থাকা সত্ত্বেও ক্বুরবানী করে না, তারা দানও করে না।
(খ) দ্বিতীয় আপত্তিটি আরো জঘন্য; এভাবে পশু নিধনে পরিবেশের উপর ভয়ঙ্কর প্রভাব ফেলে। পশুশূন্য হয়ে পড়বে দেশ।
আসলে মানুষ যখন আধ্যাত্মিকতা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে বস্তুকেন্দ্রীক চিন্তা-চেতনায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে তখনই আল্লাহ তা'আলার অসীম ক্ষমতা থেকে অন্ধ হয়ে যায়। যাবতীয় ইবাদত তাদের কাছে হয়ে যায় প্রাণহীন ও অর্থ অপচয়ের শামিল।
মহান আল্লাহর সীমাহীন ক্ষমতা সুনিপুণ সৃষ্টিকৌশল সম্পর্কে বেখবর হয়েই এমন অবান্তর প্রশ্ন উঠায়।
জগতে আল্লাহ তা'আলার শাশ্বতরীতি এটাই যে, যখন যে বস্তুর চাহিদা বেড়ে যায় তখন আল্লাহ তা'আলা ঐ বস্তুর উৎপাদনও বাড়িয়ে দেন।
যেমন কেউ যদি কুপের উপর দয়া করে পানি তোলা বন্ধ করে দেয়- তাহলে কুপের স্রোত বন্ধ হয়ে যাবে।
এমতাবস্থায় কোথাও যদি পশু সংকট কুরবানীর কারণে হচ্ছে এই অভিযোগ তোলা হয় তাহলে বাস্তবতা বিবর্জিত ভিত্তিহীন অভিযোগ হবে।
বর্তমান বিশ্বের বহু জায়গায় যেখানে মুসলমানদের সংখ্যা নগন্য হওয়ায় কুরবানী হয় না সেখানে গোশ্তের মূল্য আমাদের চেয়ে অনেক বেশি।
আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, যেখানে গরু জবাই নিষিদ্ধ। এর ফলে কি ভারতের অলিগলিতে গরু আর দুধের নহর বয়ে যাচ্ছে?
কুদরতি সিস্টেম মতো এভাবে যদি জবেহ বন্ধ থাকে তাহলে আর কিছুদিন পর ভারত গরুশূন্য হয়ে পড়বে।
এর জ্বলন্ত প্রমাণ হলো,
শত শত বছর পূর্বে যখন বাহন হিসেবে ঘোড়া ব্যবহার হতো- তখন ঘরে ঘরে ঘোড়া পাওয়া যেতো। কিন্তু যখন মোটরযান ঘোড়ার জায়গা দখল করলো তখন ঘোড়া দুষ্প্রাপ্য প্রাণীতে পরিণত হলো।
আপনারাই বলুন, এখন কি ঘোড়াপ্রাপ্তি আগের থেকে সহজ হয়েছে? মোটেও না। এটাই কুদরতের সিস্টেম।
মহান রবের সম্পূর্ণ ব্যবস্থাপনা অনুধাবন করা মানুষের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। তাই আমাদের উচিৎ যুক্তি আর মস্তিষ্কপ্রসূত ভাবনার পিছনে না ছুটে মহান রবের নির্দেশের সামনে মাথা নুইয়ে দেওয়া।
এতেই আমাদের মঙ্গল, এতেই মুক্তি।
এবং এর নামই ইসলাম।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন