বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

যিলহজ্জ-এর চাঁদ উঠার পর থেকে কুরবানীর পূর্ব পর্যন্ত চুল, নখ ইত্যাদি কর্তন না করার বিশেষ মুস্তাহাব আমল


আজ সন্ধ্যার পর থেকে যিলহজ্জ মাস শুরু হয়েছে। তাই এ সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তা হলো--এখন থেকে কুরবানীর পূর্ব পর্যন্ত চুল, নখ ইত্যাদি কর্তন না করা বাঞ্ছনীয়।
কারণ, যিলহজ্জ মাসের চাঁদ উঠার পর থেকে চুল, মোঁচ, নখ, বগল ও অন্যান্য স্থান সমূহের লোম না কাটা মুস্তাহাব। এ সম্পর্কে হযরত উম্মে সালামা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেছেন--
مَنْ رَئ هِلَالَ ذِى الْحَجَّةِ وَاَرَادَ اَنْ يُّضَحِّىَ فَلَا يَأْخُذْ مِنْ شَعْرِه وَلَا مِنْ اَظْفَارِه
“যে ব্যক্তি যিলহজ্জের চাঁদ দেখে এবং কোরবানীর ইচ্ছা করে, সে যতক্ষণ না কুরবানী করেছে ততোক্ষণ চুল ও নখ না কাটে।” { সহীহ মুসলিম/ মিশকাত-১২৭পৃ।}
এ আমল মুস্তাহাব বা মাসনূন, ওয়াজিব নয়। তাই পালন করলে, ছাওয়াব হবে, কিন্তু না করলে গুনাহ হবে না।
ইসলামের ফিকাহ বিশারদগণ বলেছেন : কুরবানী দাতার নখ, চুল, গোফ ইত্যাদি না কাটার পিছনে হিকমত হচ্ছে, হাজীদের সাদৃশ্য ধারণ করা। বলা বহুল্য যে, হাজী সাহেবানদের ইহরাম-বাঁধা অবস্থায় নখ, চুল, গোফ কর্তন না করা এবং এলোমেলো চুল, গোফ ইত্যাদি অপরিমার্জিত আল্লাহর প্রেমে পাগলপাড়া অবস্থাটি আল্লাহর নিকট অত্যাধিক প্রিয়। তাই উক্ত হাদীসে কুরবানী দাতাগণকে আল্লাহর সেই প্রেমিক দেওয়ানাদের সাদৃশ্য অবলম্বনে অনুপ্রাণিত করা হয়েছে।
আল্লামা ইবনুল কায়্যিম (রাহ.) বলেন, পশু কুরবানীর সাথে সাথে কুরবানীদাতা যেন নিজের কিছু অংশ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কুরবানী (ত্যাগ) করায় অভ্যস্ত হতে পারেন, এ জন্য এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
একটি রিওয়ায়াতে রয়েছে, যার কুরবানী করার সামর্থ নেই, তার জন্যও এটা উত্তম যে, সে অন্যদের কুরবানীর পূর্ব পর্যন্ত তার চুল কাটবে না, নখ কাটবে না এবং নাভীর নীচের চুল সাফ করবে না। তাহলে এতে সে কুরবানীর ছাওয়াব পাবে। (সুনানে নাসায়ী)
এ সম্পর্কে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদীসে আছে, জনৈক সাহাবী রাসূলুল্লাহ সা. কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার তো একটি দুধালু উষ্ট্রি বা ছাগী ছাড়া আর অন্য কিছু নেই। আমি কি সেটা দ্বারা কুরবানী করব? তখন নবীজী (সা.) বললেন- না। অতঃপর ইরশাদ করলেন--
خُذْ مِنْ شَعْرِكَ وَ اَظْفَارِكَ وَ تَحْلُقْ عَانِتَكَ فَذلِكَ تَمَامُ اُضْحِيَّتِكَ
“ তুমি কুরবানীর দিন স্বীয় নখ, চুল, গোফ ও তলদেশের চুল সাফ কর। এটি তোমার কুরবানী বলে গণ্য হবে।” { সুনানে আবু দাউদ, নাসায়ী, মিশকাত।}
*****************************************
দ্বীনী এ পোস্টকে শেয়ার করে ইসলামের আলো পৌঁছে দিন প্রিয়জনদের কাছে। দ্বীনের হিদায়াতের সমূজ্জ্বল আলোকরশ্নিতে আলোকিত হোক মুমিনদের হৃদয়।
*****************************************
--দ্রষ্টব্য : মাসিক আদর্শ নারীর মাসআলার পেজ : 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন