আমেরিকাতে নব মুসলমান এক দম্পতি বসবাস করতো। ইহুদি থেকে মুসলমান হয়েছে। তাদের আমলের কাইফিয়্যত দেখে মুসলমানদের অন্তরও লজ্জা পেতো। তাদের নামাযের তা‘দীলে আরকানের অনুস্বরণ ছিলো ঈর্ষণীয়। নামাযের জন্য সুন্দর ভাবে অযু করে বিশেষ পোশাক পরিধান করতেন।
জুলফিকার আহমাদ নকশবন্দী দা.বা. বলেন, একদিন মহিলা আমাকে তার বাসায় দাওয়াত করেন। আমি মহিলার বাড়িতে গমন করলাম। তার সাথে কিছু মাসআলা নিয়ে আলোচনা হলো। এক পর্যায়ে বললাম, আপনি এমন কোন বিষয়ের সম্মুখীন হয়েছেন, যা আপনার অন্তর জগতকে পাল্টে দিয়েছে? ফলে আপনি ইসলামে দীক্ষিত হয়েছেন?
:
তিনি বলতে শুরু করলেন, আমি ও আমার স্বামী আমেরিকার এক অফিসে কর্মরত ছিলাম। অফিস কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিলো, আমরা জেদ্দায় একটি নতুন অফিস খুলেছি। কেউ সেখানে যেতে চাইলে যেতে পারবে। তার জন্যে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে। বেতন-ভাতার পাশাপাশি অতি সহজে একটি নতুন রাষ্ট্র দেখার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে । তাই আমি ও আমার স্বামী প্রস্তুত হয়ে গেলাম এবং কিছুদিনের মধ্যে আমরা জেদ্দায় গিয়ে পৌঁছলাম।
:
আমি ছিলাম ইহুদি আর আমার স্বামী ছিলেন খৃস্টান। সেখানে দেখতে পেলাম সাদা পোশাকধারী কিছু লোক কোথাও যাচ্ছে। আমি আমার স্বামীকে জিজ্ঞাসা করলাম, এরা কারা ? কোথায় যাচ্ছে? তিনি বললেন, এরা মুসলমান। এখানে তাদের কা’বা রয়েছে। তারা সেখানে যায়। তখন থেকে কা’বা ঘর দেখার জন্য আমার মনে প্রবল আগ্রহ সৃষ্টি হলো। আমার স্বামীকে বিষয়টা জানালে তিনি বললেন, ওখানে অমুসলিমদের ঢুকতে দেয়া হয় না। আমি বললাম, আমরা যেতে পারবো না ঠিক আছে, অন্তত চেষ্টা তো করে দেখতে পারি! হয়তো ঈশ্বর আমাদের জন্য কোনো সুযোগ করে দিবেন।
:
পরদিন। আমি মাথায় মুসলিম নারীর মতো একটা রুমাল বাঁধলাম আর আমার স্বামী মাথায় টুপি পরে নিলেন। এরপর আমরা উভয়ে রওয়ানা হলাম। সময়টা ছিলো ট্রাফিকদের খাবারের সময়। তারা এক ব্যক্তিকে চেক করার জন্য দাঁড় করিয়ে খেতে চলে যায়। সে ছিলো একা, আবার সময়টা ছিলো রাত । তাই সে দূরে দাঁড়িয়ে হাতে ইশারা করে সবাইকে যেতে বলছে। এ সুযোগে আমরাও পার হয়ে যাই। চলতে চলতে মক্কা মুকাররমায় পৌঁছলাম। সেখানে গিয়ে একজনকে জিজ্ঞাসা করলাম, মুসলমানদের কেবলা কোথায়? সে হেরেমের দিকে ইশারা করে দেখিয়ে দিলো।
:
আমরা হেরেম শরীফে প্রবেশ করলাম। চলতে চলতে মাতাফে গিয়ে পৌঁছলাম। বাইতুল্লাহর প্রতি আমাদের দৃষ্টি পড়লো। সেখানে আল্লাহর রহমত ও বরকতের অবারিত ধারা বর্ষিত হচ্ছিলো। আমরা অপলকনেত্রে বাইতুল্লাহর দিকে তাকিয়ে বিভোর হয়ে গেলাম। অজান্তেই চোখের জল গড়িয়ে পড়তে লাগলো আমাদের। কিছু সময় সেখানে দাঁড়িয়ে আমরা উভয়ে কাঁদলাম। আমাদের অন্তরে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করলো। আমরা দু‘জনে চোখাচোখি হলাম।
:
স্বামী জিজ্ঞেস করলেন, এ স্থানের প্রকৃত রূপ ও রহস্য তোমার নিকট উন্মোচিত হয়েছে তো? হ্যাঁ। আপনার নিকট? তিনিও বললেন, হ্যাঁ, হয়েছে। আমরা উভয়ে ঐ মুহূর্তেই কালিমা পড়ে এক সাথে মুসলমান হয়ে গেলাম। আমাদেরকে কোনো মুসলমান দাওয়াত দেয়নি, বরং আল্লাহ পাকের ঘরই আমাদের মুসলমান বানিয়ে দিয়েছে। সুবহানাল্লাহ।
:
বন্ধুরা ! প্রতিদিন আমরা কা’বার দিকে মোতাওয়াজ্জুহ হই। ভালোবাসা আর তৃষ্ণা যেনো বেড়েই যাচ্ছে কা’বা দর্শনের। প্রতিনিয়ত ভালোবাসার পারদের স্তর উপর দিকে উঠছে। কিন্তু এখনো আমাদের মতো বহু কাঙালের কা’বার দর্শন হয়ে ওঠেনি। হাজী সাহেবগন কা’বার দর্শনে তৃপ্ত। আমরা তৃপ্ত হতে পারিনি। আমাদের চোখ তৃপ্ত হতে পারেনি। এ বিচ্ছেদ মৃত্যূসম। এ জ্বলন সয় না মনে। এ দহন সয় না প্রাণে।
:
ও প্রভু ! দাও না সুযোগ করে দেখতে কা‘বা। যে কা’বায় তোমার রহমতের বারিধারা অবারিতধারায় প্রবাহিত। প্রভু! কা’বার ধুলি গায়ে মাখার সুযোগ করে দাও না ! আমরা কা’বার দর্শনে তৃপ্ত হতে চাই। আমাদের ঈমানের আগুনকে আরো তেজ করতে চাই। দিবে না মালিক? প্রভু ! এ কাঙ্গালের আহাজারি কবুল করো।
:
আল্লাহ আমাদের সবাইকে কা’বার প্রেমের সাগরে বিধৌত হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমীন।।
জুলফিকার আহমাদ নকশবন্দী দা.বা. বলেন, একদিন মহিলা আমাকে তার বাসায় দাওয়াত করেন। আমি মহিলার বাড়িতে গমন করলাম। তার সাথে কিছু মাসআলা নিয়ে আলোচনা হলো। এক পর্যায়ে বললাম, আপনি এমন কোন বিষয়ের সম্মুখীন হয়েছেন, যা আপনার অন্তর জগতকে পাল্টে দিয়েছে? ফলে আপনি ইসলামে দীক্ষিত হয়েছেন?
:
তিনি বলতে শুরু করলেন, আমি ও আমার স্বামী আমেরিকার এক অফিসে কর্মরত ছিলাম। অফিস কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিলো, আমরা জেদ্দায় একটি নতুন অফিস খুলেছি। কেউ সেখানে যেতে চাইলে যেতে পারবে। তার জন্যে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে। বেতন-ভাতার পাশাপাশি অতি সহজে একটি নতুন রাষ্ট্র দেখার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে । তাই আমি ও আমার স্বামী প্রস্তুত হয়ে গেলাম এবং কিছুদিনের মধ্যে আমরা জেদ্দায় গিয়ে পৌঁছলাম।
:
আমি ছিলাম ইহুদি আর আমার স্বামী ছিলেন খৃস্টান। সেখানে দেখতে পেলাম সাদা পোশাকধারী কিছু লোক কোথাও যাচ্ছে। আমি আমার স্বামীকে জিজ্ঞাসা করলাম, এরা কারা ? কোথায় যাচ্ছে? তিনি বললেন, এরা মুসলমান। এখানে তাদের কা’বা রয়েছে। তারা সেখানে যায়। তখন থেকে কা’বা ঘর দেখার জন্য আমার মনে প্রবল আগ্রহ সৃষ্টি হলো। আমার স্বামীকে বিষয়টা জানালে তিনি বললেন, ওখানে অমুসলিমদের ঢুকতে দেয়া হয় না। আমি বললাম, আমরা যেতে পারবো না ঠিক আছে, অন্তত চেষ্টা তো করে দেখতে পারি! হয়তো ঈশ্বর আমাদের জন্য কোনো সুযোগ করে দিবেন।
:
পরদিন। আমি মাথায় মুসলিম নারীর মতো একটা রুমাল বাঁধলাম আর আমার স্বামী মাথায় টুপি পরে নিলেন। এরপর আমরা উভয়ে রওয়ানা হলাম। সময়টা ছিলো ট্রাফিকদের খাবারের সময়। তারা এক ব্যক্তিকে চেক করার জন্য দাঁড় করিয়ে খেতে চলে যায়। সে ছিলো একা, আবার সময়টা ছিলো রাত । তাই সে দূরে দাঁড়িয়ে হাতে ইশারা করে সবাইকে যেতে বলছে। এ সুযোগে আমরাও পার হয়ে যাই। চলতে চলতে মক্কা মুকাররমায় পৌঁছলাম। সেখানে গিয়ে একজনকে জিজ্ঞাসা করলাম, মুসলমানদের কেবলা কোথায়? সে হেরেমের দিকে ইশারা করে দেখিয়ে দিলো।
:
আমরা হেরেম শরীফে প্রবেশ করলাম। চলতে চলতে মাতাফে গিয়ে পৌঁছলাম। বাইতুল্লাহর প্রতি আমাদের দৃষ্টি পড়লো। সেখানে আল্লাহর রহমত ও বরকতের অবারিত ধারা বর্ষিত হচ্ছিলো। আমরা অপলকনেত্রে বাইতুল্লাহর দিকে তাকিয়ে বিভোর হয়ে গেলাম। অজান্তেই চোখের জল গড়িয়ে পড়তে লাগলো আমাদের। কিছু সময় সেখানে দাঁড়িয়ে আমরা উভয়ে কাঁদলাম। আমাদের অন্তরে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করলো। আমরা দু‘জনে চোখাচোখি হলাম।
:
স্বামী জিজ্ঞেস করলেন, এ স্থানের প্রকৃত রূপ ও রহস্য তোমার নিকট উন্মোচিত হয়েছে তো? হ্যাঁ। আপনার নিকট? তিনিও বললেন, হ্যাঁ, হয়েছে। আমরা উভয়ে ঐ মুহূর্তেই কালিমা পড়ে এক সাথে মুসলমান হয়ে গেলাম। আমাদেরকে কোনো মুসলমান দাওয়াত দেয়নি, বরং আল্লাহ পাকের ঘরই আমাদের মুসলমান বানিয়ে দিয়েছে। সুবহানাল্লাহ।
:
বন্ধুরা ! প্রতিদিন আমরা কা’বার দিকে মোতাওয়াজ্জুহ হই। ভালোবাসা আর তৃষ্ণা যেনো বেড়েই যাচ্ছে কা’বা দর্শনের। প্রতিনিয়ত ভালোবাসার পারদের স্তর উপর দিকে উঠছে। কিন্তু এখনো আমাদের মতো বহু কাঙালের কা’বার দর্শন হয়ে ওঠেনি। হাজী সাহেবগন কা’বার দর্শনে তৃপ্ত। আমরা তৃপ্ত হতে পারিনি। আমাদের চোখ তৃপ্ত হতে পারেনি। এ বিচ্ছেদ মৃত্যূসম। এ জ্বলন সয় না মনে। এ দহন সয় না প্রাণে।
:
ও প্রভু ! দাও না সুযোগ করে দেখতে কা‘বা। যে কা’বায় তোমার রহমতের বারিধারা অবারিতধারায় প্রবাহিত। প্রভু! কা’বার ধুলি গায়ে মাখার সুযোগ করে দাও না ! আমরা কা’বার দর্শনে তৃপ্ত হতে চাই। আমাদের ঈমানের আগুনকে আরো তেজ করতে চাই। দিবে না মালিক? প্রভু ! এ কাঙ্গালের আহাজারি কবুল করো।
:
আল্লাহ আমাদের সবাইকে কা’বার প্রেমের সাগরে বিধৌত হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমীন।।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন