বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

শিশুর প্রতি সহমর্মিতা

"আব্বু মাটি দিয়ো না" যুবাইরের বড় বোন হেদায়া জামাতে পড়ে মহিলা মাদরাসায়৷ ময়মনসিংহে৷ যুবাইরের জন্মের তেরো দিন পর সে দেখেছে৷ হাসপাতালে থাকার কারনে৷ হাসপাতাল থেকে ময়মনসিংহের বাসায় ছিলো দুই দিন৷ লাবীবা এই দুই দিনই তাকে দেখতে পেয়েছে৷ শেরপুরে আসার পর ইন্তেকালের আগের দিন আসর পর্যন্ত যুবাইর স্বাভাবিক ও সুস্থ ছিলো৷ মাঝে একদিন শিশু বিশেষজ্ঞ দেখানো হয়েছে শেরপুরে৷ যথারীতি তাঁর ফি নিয়েছে এবং বাচ্চাকে খাওয়ানোর জন্য কিছু ঔষুধ লিখে দিয়েছে৷ বাচ্চা যেখানে দুধ খাইতে সমস্যা তবুও তার জন্য ঔষুধ ও নানা পরীক্ষা৷ পরীক্ষা হলো বাড়তি টাকা নেওয়ার ফন্দি হলো মিথ্যা টেস্ট ফেস্ট৷ ডাক্তারদের সিজার করার বাতিক ও টেস্ট দেখে মনে হয় এরা ডাকাত কেসিমের লোক৷ কিছুটা মিথ্যাবাদী৷ ঔষুধ লিখবে যে কোম্পানির মালপানি বেশি পাবে৷ প্যাড পাবে৷ কলম পাবে৷ গিফট পাবে৷ ডিনার পার্টি দেবে৷
যাক ডাক্তার প্রয়োজনে উপকারও করে৷ দীনী মানসিকতা না থাকায় যতসব সমস্যা৷ ডাক্তার সেবক হলেও কথা ছিলো না৷ তারা যখন কসাই তখন মনে হয় তাদের দিলে ইসলামী চেতনার জন্য সিলেবাসে কিছু বিষয় থাকা প্রয়োজন৷ বস্তুবাদী চিন্তার ডাক্তার তো ডাকাতই হবে৷
যুবাইর আব্দুল্লাহর ইন্তেকালের দিন লাবীবার মামা তাকে ময়মনসিংহ থেকে নিয়ে আসে৷ কিন্তু মামা তার রওনা করে নেত্রকোনা থেকে৷ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় দাফন করা হয় মাগরিবের আগে৷ সে মোবাইলে বলে,
আব্বু যুবাইরকে মাটি দিয়ো না৷ একটু রাখবা৷
তার কথা রাখা সম্ভব হয় নি৷ সে দেরিতে আসে যানজটের কারনে৷ সে আর যুবাইরকে দেখতে পেলো না৷ বাসায় এসে কান্না করলো৷ আম্মা কবর দেখতে চাইলেন৷ মেয়েদের নিষেধ কবর জিয়ারত তাই নিয়ে গেলাম না৷ আম্মাও কান্না করলেন৷
যুবাইরের নাকটা সুন্দর ছিলো৷ চেহারাটাও উজ্বল৷ মায়াবী৷
সাদা কাপড়ে নিথর দেহ বার বার দেখেছে মুহাম্মদ৷ সে এখন সাদা কাপড় দেখলে ভয় পায় কিছুটা৷ রাতে বুকে নিয়ে রাখতে হয়৷ সে খোঁজে যুবাইরকে এবং বলে,
ভাইয়া আল্লাহর কাছে চলে গেছে৷ জান্নাতে পাখি হয়ে গেছে৷
উম্মে যুবাইর সেই মঙ্গল বারে আসরের কাছে এসে অশ্রুসিক্ত চোখে সাদা কাপড় খোলে অপলকনেত্রে চেয়ে চেয়ে দেখলো৷ আমিও চোখে পানি নিয়ে কিছুক্ষণ পর মুখ ঢেকে বুকে করে মসজিদে নিয়ে গেলাম৷ জানাযা হলো আসরের পর৷ তিন কাতার মুসল্লি হলো জানাযায়৷ কয়েকশ তালেবে ইলম জানাযা পড়লো৷ এরা হিফয বিভাগের ছাত্র৷ তারা চেহার খোলে এক নজর দেখলো৷
জানাযা পড়ালেন শাইখুল হাদীস মুসলিম উদ্দীন৷ মুফতি সাব হিসেবে পরিচিত শেরপুরে৷ তিনি বাসস্টেশন মসজিদের ইমাম ও খতীব৷ তেরা বাজার মাদরাসার শাইখুল হাদীস৷ গত রমজানে দিয়েছেন তিন চিল্লা৷ যুবাইরের নানা৷
বুকে নিয়ে গেলাম মীরগঞ্জ গোরস্থানে৷ কবরে নামালাম আমি৷ শেষবার মুখটা আমিও দেখলাম…

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন