✬➽আমি সে কথিত আহলে হাদীসকে বললাম-
পূর্ণ দ্বীনের উপর আপনাদের একটি কিতাবও না মক্কায় লিখা হয়েছে, না মদীনায়। আর কুফাতে দ্বীনে ইসলাম সে সকল সাহাবারাই নিয়ে এসেছেন যারা মক্কা মদীনায় ছিলেন। আল্লামা আলাউদ্দীন হাসকাফী রহঃ মদীনা মনোয়ারায় রওযা পাকে বসে একটি পূর্ণাঙ্গ কিতাব “আদ দুররুল মুখতার” লিখেছেন।
পূর্ণ দ্বীনের উপর আপনাদের একটি কিতাবও না মক্কায় লিখা হয়েছে, না মদীনায়। আর কুফাতে দ্বীনে ইসলাম সে সকল সাহাবারাই নিয়ে এসেছেন যারা মক্কা মদীনায় ছিলেন। আল্লামা আলাউদ্দীন হাসকাফী রহঃ মদীনা মনোয়ারায় রওযা পাকে বসে একটি পূর্ণাঙ্গ কিতাব “আদ দুররুল মুখতার” লিখেছেন।
সে কিতাবে তিনি লিখেন-‘ মোটকথা, কুরআন পাকের পর ইমাম আবু হানীফা রহঃ রাসূল সাঃ এর অনেক বড় একটি মোজেজা। আর এর সবচে’ বড় দলিল এটাই যে, সারা দুনিয়ায় তার মাযহাবই সবচে’ বেশি প্রচারিত।
আর দ্বিতীয় দলিল হল এই যে, ইমাম আবু হানীফা রহঃ এমন কোন কথা বলেন নি, যা কোন না কোন ইমামের মাযহাব হয়নি। অর্থাৎ সকল ইমামরা তার থেকে ফায়দা নিয়েছেন।
তৃতীয় দলিল হল-ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর সময়কাল থেকে আজ পর্যন্ত ইসলামী রাষ্ট্রে বাদশাহী এবং আদালতী ফায়সালার দায়িত্ব তারই মুকাল্লিদের হাতে রয়েছে।
আল্লামা শামী রহঃ এর ব্যাখ্যায় বলেন-খেলাফতে আব্বাসীয়া যার রাজত্বের সময়কাল প্রায় ৫শত বৎসর ছিল, তাদের মাঝের অধিকাংশ বিচারক, মাশায়েখ তথা শাইখুল ইসলাম হানাফী ছিল। যেমন ইতিহাস গ্রন্থগুলো এর জ্বলন্ত সাক্ষ্য বহন করছে। এমনিভাবে সাজলুকী ও খাওয়ারজামী সকল বাদশাহ ছিল হানাফী।
এমনকি খেলাফতে উসমানীও হানাফী ছিল। তাদের বিচারক ছিল হানাফী, অর্থাৎ ইবনে আবেদীন শামী রহঃ এর সময়কাল পর্যন্ত ৯শত বৎসরের ইসলামী খিলাফত হানাফীদের দ্বারা পরিচালিত ছিল। হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দেসে দেহলবী রহঃ ও বলেন-সকল শহর, সকল রাষ্ট্রের বাদশাহ হানাফী ছিল, এবং বিচারক ও অধিকাংশ মাদরাসা ও অধিকাংশ সাধারণ মানুষ ছিল হানাফী। {কালিমাতে তায়্যিবাত-১৭৭}
অর্থাৎ সকল শহর ও রাষ্ট্রে বাদশাহগণ হানাফী, অধিকাংশ বিচারক, অধিকাংশ শিক্ষক এবং অধিকাংশ সাধারণ মুসলমান হানাফী ছিল।
মোটকথা- দ্বিতীয় শতাব্দী থেকে ১৪ তম শতাব্দীর মাঝে প্রায় ১২শত বৎসর হারামাইন শরীফাইনের খাদিম হানাফী ছিল, তারপর আজ পর্যন্ত হাম্বলী। তাহলে আহলে কুরআন আর আহলে হাদীসদের আল্লাহ তাআলা কখনো রাজত্ব দিয়ে হারামাইন শরীফাইনের খিদমাত করার সুযোগ দেননি। এ দু দলের রাজত্বতো দূরে থাক, এদের প্রতিষ্ঠাও এ মুবারক শহরে হয়নি। মাওলানা সানাউল্লাহ এর সত্য স্বীকার গায়রে মুকাল্লিদদের শাইখুল ইসলাম ২০ শে অক্টোবর ১৯৩৩ ঈসাব্দে একটি ঘোষণা নিজেদের ফেরক্বাবাজী মুখপত্র “আহলে হাদীস” পত্রিকায় প্রকাশ করে। তাতে তিনি লিখেন-“মুসলমান ভাইয়েরা! [গায়রে মুকাল্লিদরা] অধিকাংশ মানুষ জানে যে, মাওলানা আহমাদ সাহেব দেহলবী সাত আঠ বছর যাবত মদীনায় অবস্থান করছেন। তিনি সেখানে পৌঁছার পর সে পবিত্র শহরে বসবাসকারী কাউকেই আহলে হাদীসের অনুসারী পান নি। এ জামাতের কোন মাদরাসাও ছিল না, ছিল না কোন দাওয়াতী কাজ। সেখানে এ জামাতের কোন কার্যক্রমই ছিল না, ছিল না কোন নামও। এমন মনে হচ্ছিল যে, এ জামাতের কার্যক্রম থেকে কয়েক শতাব্দী যাবত রাসূল সাঃ এর মদীনা শহর বঞ্চিত।
এ অবস্থা দেখে তার মনে অনেক কষ্ট লাগে। খুবই আফসোস লাগে যে, ইসলামের মারকায ও দরবারে নবী সাঃ, যাতে সারা দুনিয়ার মুসলমানরা একত্রিত হয়, সেখানে কোন আহলে হাদীস নামধারী, এবং মাযহাবে আহলে হাদীসের কোন মুবাল্লিগ নেই?! কতটা লজ্জাজনক কথা! সুন্নাতের দাবিদার! অথচ পবিত্র সুন্নাতধারীর গৃহ মদীনা তায়্যিবায় সে দাবিদারদের কোন নাম নিশানাই নেই! আফসোস!
ইন্নালিল্লাহ! এভাবেই ওদের প্রথম মাদরাসা ‘মাদরাসায়ে দারুল হাদীস মুহাম্মদিয়া’ ১২ ই রবিউল আউয়াল ১৩৫২ হিজরীতে শুরু হয়। এর প্রতিষ্ঠা হলেন আব্দুল হক নুনারী [পূর্ব আহমদপুর]।
এর দ্বারা এ বিষয় স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, যেমন কাদিয়ানী ফেতনা, পারভেজী ফেতনা আরব দেশে পাক ও হিন্দ থেকে ঢুকেছে ঠিক তেমনি গায়রে মুকাল্লিদিয়্যাত ফিতনাও পাক ও হিন্দ থেকেই ঢুকেছে আরবে।
যেমন কাদিয়ানী ও আহলে কুরআনের এ দাবি বাতিল যে, তাদের দ্বীন হেজাযী, এমনিভাবে গায়রে মুকাল্লিদদের দাবি “তাদের দ্বীন মক্কা মদীনা থেকে এসেছে” এটাও চরম পর্যায়ের ইতিহাস বিকৃতি সাধন।
✬➽➽আমি লোকটাকে বললাম- আপনাদেরতো মক্কা মদীনার সাথে এতটুকু সম্পর্ক নেই, যতটুকু মুর্তির সম্পর্ক আছে মক্কা মদীনার সাথে। কারণ মুর্তি মক্কা মদীনার না হলেও মক্কা মদীনা থেকেতো বের হয়েছে অন্তত।
✬➽➽আমি তাকে আরো বললাম- আপনি কি ইসলামের ইতিহাসের প্রথম সাড়ে ১৩ শতাব্দীর মাঝে কোন মুসলিম খলীফা, কোন মুসলমান বিচারক, কোন একজন মসজিদে হারামের ইমাম বা মসজিদে নববীর ইমাম, হারামাইন শরীফাইনের কোন ব্যক্তিকে সনদসহ ঐতিহাসিক তথ্য প্রমাণে গায়রে মুকাল্লিদ প্রমাণ করতে পারবেন? এতটুকু প্রমাণ করে দেখান যে, লোকটার মাঝে ইজতিহাদ করার যোগ্যতাও ছিল না, সেই সাথে কারো তাক্বলীদও করে নি। বরং সে গায়রে মুকাল্লিদ ছিল। ইজতিহাদকে ইবলিসের কাজ, আর মুজতাহিদ ও তাক্বলীদকে শিরক বলেছেন। একটি প্রমাণ পেশ করুন। স্রেফ একটি প্রমাণ।
#ইসলামী_রাষ্ট্র
➽লোকটি [কথিত আহলে হাদীস] বলল- “খুব গর্বের সাথে বললেন যে, সকল ইসলামী রাষ্ট্র হানাফী। এটা ঠিক এবং যথার্থ। সকল রাষ্ট্র হানাফী কেন হবে না? যেহেতু হানাফী ফিক্বহ মদ ও জিনার একদম খোল্লামখোলা সুযোগ দিয়ে রেখেছে। ইমাম আবু আবু ইউসুফতো বাদশাহ হারুন রশীদকে নিজেই মদ
বানিয়ে খাওয়াতো। সেই মদের নামই ছিল শরাবে আবি ইউসুফী”।
➽লোকটি [কথিত আহলে হাদীস] বলল- “খুব গর্বের সাথে বললেন যে, সকল ইসলামী রাষ্ট্র হানাফী। এটা ঠিক এবং যথার্থ। সকল রাষ্ট্র হানাফী কেন হবে না? যেহেতু হানাফী ফিক্বহ মদ ও জিনার একদম খোল্লামখোলা সুযোগ দিয়ে রেখেছে। ইমাম আবু আবু ইউসুফতো বাদশাহ হারুন রশীদকে নিজেই মদ
বানিয়ে খাওয়াতো। সেই মদের নামই ছিল শরাবে আবি ইউসুফী”।
✬➽➽আমি তাকে বললাম- বহুত বড় দুঃসাহস দেখি আপনার! পুরো ইসলামী রাষ্ট্রসমূহকে আপনি মদখোর বানিয়ে দিলেন? এতটা জঘন্যভাবে কোন কাফেরওতো মুসলিম রাষ্ট্রের ব্যাপারে আজ পর্যন্ত বলেনি। এর চেয়েও বড় স্পর্ধার কথা এটা যে, আপনি সকল ফুক্বাহায়ে কিরামকে মদ ও জিনাকে জায়েজ সাব্যস্তকারী বানিয়ে দিলেন?! রাসূল সাঃ ফিক্বহকে খায়র তথা কল্যাণ ফুক্বাহাদের খাইয়্যার তথা কল্যাণী সাব্যস্ত করেছেন, আর আপনারা ফিক্বহকে নিকৃষ্ট ফুক্বাহাদের নিকৃষ্টতর সাব্যস্ত করলেন?!
রাসূল সাঃ যথার্থই বলেছেন যে, এ উম্মতের শেষের দিকে একদল লোক আসবে, যারা পূর্ববর্তীদের অভিশাপ দিবে। রাসূল সাঃ এর এ বাণীর পূর্ণ সত্যায়ন ও বাস্তবায়ন গায়রে মুকাল্লিদরা স্বচক্ষে দেখিয়ে দিল”।
➽লোকটি বলতে লাগল-“ফাতওয়ায়ে আলমগীরীতে মদকে জায়েজ বলা হয়েছে। যেটা বাদশাহের জন্য লেখা হয়েছিল। সেই সাথে শরাবে আবি ইউসুফীর কথা সে কিতাবেই লিখা আছে”।
✬➽➽আমি ফাতওয়ায়ে আলমগীরীর উর্দু অনুবাদ তার সামনে রাখলাম।
সেখানে লেখা হল- মদের ব্যাপারে হুকুম হল ৬টি। যথা-
১-সামান্য পান করা বা বেশি পান করা সবই হারাম। এ দিয়ে ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করাও হারাম।
২- মদের হারাম হওয়া অস্বিকারকারী কাফের।
৩-যে পদ্ধতিতে মানুষ উপকারীতা অর্জন করে যেমন দান করে, ক্রয়-বিক্রয় করে, এভাবে নিজে মদের মালিক হওয়া বা অন্যকে মালিক বানানোও হারাম।
৪-মদ মূল্যহীন। এর মূল্য সাব্যস্ত করা বাতিল হয়ে গেছে। এমনকি মদ ধ্বংসকারীর জরিমানাও আবশ্যক হবে না। অর্থাৎ যদি কেউ কারো মদের ভান্ড থেকে মদ ঢেলে ফেলে দেয়, তাহলে এর জরিমানা দিতে হবে না।
৫-মদ প্রস্রাব ও রক্তের মতই নাজাসাতে গলীজা।
৬- মদ অল্প বা বেশি পান করুক, তার উপর শরয়ী শাস্তি আরোপিত হবে। {ফাতওয়ায়ে আলমগীরী-৯/৮১২}
সেখানে লেখা হল- মদের ব্যাপারে হুকুম হল ৬টি। যথা-
১-সামান্য পান করা বা বেশি পান করা সবই হারাম। এ দিয়ে ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করাও হারাম।
২- মদের হারাম হওয়া অস্বিকারকারী কাফের।
৩-যে পদ্ধতিতে মানুষ উপকারীতা অর্জন করে যেমন দান করে, ক্রয়-বিক্রয় করে, এভাবে নিজে মদের মালিক হওয়া বা অন্যকে মালিক বানানোও হারাম।
৪-মদ মূল্যহীন। এর মূল্য সাব্যস্ত করা বাতিল হয়ে গেছে। এমনকি মদ ধ্বংসকারীর জরিমানাও আবশ্যক হবে না। অর্থাৎ যদি কেউ কারো মদের ভান্ড থেকে মদ ঢেলে ফেলে দেয়, তাহলে এর জরিমানা দিতে হবে না।
৫-মদ প্রস্রাব ও রক্তের মতই নাজাসাতে গলীজা।
৬- মদ অল্প বা বেশি পান করুক, তার উপর শরয়ী শাস্তি আরোপিত হবে। {ফাতওয়ায়ে আলমগীরী-৯/৮১২}
আল্লাহ তাআলাকেতো ভয় পাও ভাই! এর নাম কি মদের ব্যাপাওে খোল্লামখোলা সুযোগ দিয়ে রাখা?! আমাদের কাছে মদ প্রস্রাবের মত নাপাক, অথচ আপনাদের কাছে মদ পাক। দেখুন {নুজুলুল আবরার-১/৪৯}”।
➽কথিত আহলে হাদীসটি তখন বলতে লাগল- “তাহলে শরাবে আবি ইউসুফীর ঘটনা কি?”।
✬➽➽আমি বললাম- আবি ইউসুফী কোন মদ না, এর নাম হল বুখতুজ বা মুসাল্লাস। যা আলমগীরীতে উল্লেখ আছে। কাযী আবু ইউসুফ রহঃ মৃত্যু বরণ করেছেন ১৮২ হিজরীতে। আর আপনি উদ্ধৃতি দিলেন আলমগীরী থেকে, যেটা লিখা হয়েছে ১১১৮ হিজরীতে। অথচ ৩০৩ হিজরীতে লিখা সিহাহ সিত্তায় শামিল কিতাব সুনানে নাসায়ীর দিকে তাকালেন না। সুনানে নাসায়ীতে লিখা আছে-
ﺞﺘﺨﺒﻟﺍ ﺬﻴﺒﻨﺑ ﺱﺄﺑ ﻻ ﻢﻴﻫﺍﺮﺑﺍ ﻦﻋ অর্থাৎ সির্কা পান করাতে কোন সমস্যা নেই। [সুনানে নাসায়ী কুবরা, হাদীস নং-৫২৫৮, মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-২৪৫২৪}
ﺞﺘﺨﺒﻟﺍ ﺬﻴﺒﻨﺑ ﺱﺄﺑ ﻻ ﻢﻴﻫﺍﺮﺑﺍ ﻦﻋ অর্থাৎ সির্কা পান করাতে কোন সমস্যা নেই। [সুনানে নাসায়ী কুবরা, হাদীস নং-৫২৫৮, মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-২৪৫২৪}
এবার বলুন- যদি কাযী আবু ইউসুফ রহঃ যদি সে সির্কা পান করতে অনুমতি প্রদান করে থাকেন, তাহলে সেটা কোন হাদীসের বিপরীত?
আপনি কি কোন হাদীস বা আয়াত পেশ করতে পারবেন যাতে বুখতুজ পান করাকে হারাম সাব্যস্ত করা হয়েছে? অথচ বুখারীতে আছে যে, হযরত ওমর রাঃ, হযরত আবু ওবাদা বিন জাররাহ রাঃ, হযরত মুয়াজ বিন জাবাল রাঃ তালায়ে মুসাল্লাস পান করাকে জায়েজ বলেছেন। {উর্দু অনুবাদ সহীহ বুখারী-৩/৩৮০}
কি এসকল হযরাতকেও কি কাযী আবু ইউসুফ রহঃ ফাতওয়া দিয়ে এসেছিলেন নাকি? আপনি শুধুমাত্র একটি রেফারেন্স দিন যে, ফিক্বহে হানাফীতে মদের একটি ফোটা পান করাকে হালাল বা পাক বলা হয়েছে। নতুবা মিথ্যা থেকে তওবা করুন”।
➽লোকটি বলতে লাগল-“ঠিক আছে, আমি মদের [খমর] শব্দ দেখাচ্ছি আদ দুররুল মুখতারে স্পষ্ট আছে যে, খমর তথা মদেও মাঝে কয়েকবার গমের জুস দিয়ে, তারপর একে শুকানোর দ্বারা এটা পাক হয়ে যায়”।
✬➽➽আমি তাকে আদ দুররুল মুখতার খুলে দেখালাম। সেখানে লিখা আছে যে, যখন গম মদের মাঝে পাকানো হয়, তাহলে এটি কখনো পাক হবে না। এর উপরই ফাতওয়া। {আদ দুররুল মুখতার-১৭২}।
মুর্খতার কারণে আপনি কতটা খিয়ানত করেছেন একবার ভাববেন কি?” তারপর আমি তাকে নুজুলুল আবরার দেখালাম। বললাম-আপনাদের এখানেতো মদই পাক। মদ দিয়ে পাকানো গম পাক। বরং মদে আটা মিশিয়ে খামিরা বানিয়ে রুটি বানালে সেটা খাওয়াও হালাল”।
➽এবার লোকটি বলতে লাগল- “আপনাদের হেদায়ায় লিখা আছে যে, মদকে সির্কা বানানো জায়েজ”।
✬➽➽আমি সাথে সাথে তাকে কিতাব খুলে দেখালাম, এ কথা হেদায়ায় লিখার পর সাথে হাদীসও দিয়েছেন।
ﻢﻛﺮﻤﺧ ﻞﺧ ﻢﻜﻠﺧ ﻲﺒﻨﻟﺍ ﻦﻋ ، ﺮﺑﺎﺟ ﻦﻋ ﺮﻴﺧ ﻢﻠﺳﻭ ﻪﻴﻠﻋ ﻪﻠﻟﺍ ﻰﻠﺻ
অর্থাৎ হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-উত্তম সির্কা সেটা মদ থেকে বানানো হয়। {মারেফাতুস সুনান ওয়াল আসার লিল বায়হাকী, হাদীস নং-৩৭০৫}
ﻢﻛﺮﻤﺧ ﻞﺧ ﻢﻜﻠﺧ ﻲﺒﻨﻟﺍ ﻦﻋ ، ﺮﺑﺎﺟ ﻦﻋ ﺮﻴﺧ ﻢﻠﺳﻭ ﻪﻴﻠﻋ ﻪﻠﻟﺍ ﻰﻠﺻ
অর্থাৎ হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-উত্তম সির্কা সেটা মদ থেকে বানানো হয়। {মারেফাতুস সুনান ওয়াল আসার লিল বায়হাকী, হাদীস নং-৩৭০৫}
আপনাদের এখানেওতো তাই লিখা-
ﺮﻴﺼﻓ ﻼﺧ ﺭﺎﺻ ﺍﺫﺍ ﺮﻤﺨﻟﺍ ﺎﻣﺍ ﻻﻼﺣ
অর্থাৎ মদ যখন সির্কা হয়ে যায়, তখন তা হালাল হয়ে যায়। {নুজুলুল আবরার-১/২৮৫} ঠিক আছে,বুখারী দেখুন! বুখারীতেও আছে-
ﺢﺑﺫ ﻱﺮﻤﻟﺍ ﻲﻓ ﺀﺍﺩﺭﺪﻟﺍ ﻮﺑﺃ ﻝﺎﻗﻭ
— ﺲﻤﺸﻟﺍﻭ ﻥﺎﻨﻴﻨﻟﺍ ﺮﻤﺨﻟﺍ . . ﻱﺮﻤﻟﺍ ) ﻪﻴﻓ ﻞﻌﺠﻳ ﺮﻤﺧ ﻮﻫ (
ﻲﻓ ﻊﺿﻮﻳﻭ ﻚﻤﺴﻟﺍﻭ ﺢﻠﻤﻟﺍ
ﻥﺎﻨﻴﻨﻟﺍﻭ ﻪﻤﻌﻃ ﺮﻴﻐﺘﻴﻓ ﺲﻤﺸﻟﺍ
ﻰﻨﻌﻣﻭ . ﺕﻮﺤﻟﺍ ﻮﻫﻭ ﻥﻮﻧ ﻊﻤﺟ
ﺮﻤﺨﻟﺍ ﺕﺮﻬﻃ ﺲﻤﺸﻟﺍ ﻥﺃ ﻪﻟﻮﻗ
ﻚﻤﺴﻟﺍ ﻚﻟﺬﻛﻭ ﺎﻬﺻﺍﻮﺧ ﺖﺒﻫﺫﺃﻭ ﻰﻠﻋ ﺍﺮﺛﺃﻭ ﺎﻬﺗﺪﺷ ﻻﺍﺯﺃ ﺢﻠﻤﻟﺍﻭ
ﺖﺤﺒﺻﺄﻓ ﺎﻬﻠﻴﻠﺨﺗﻭ ﺎﻬﺗﻭﺍﺮﺿ
ﺢﺑﺬﻟﺍ ﻞﺣﺃ ﺎﻤﻛ ﻻﻼﺣ ﻚﻟﺬﺑ ﺔﺤﻴﺑﺬﻟﺍ ﺏﺎﺘﻛ ،ﻯﺭﺎﺨﺒﻟﺍ ﺢﻴﺤﺻ)
ﻪﻠﻟﺍ ﻝﻮﻗ ﺏﺎﺑ ،ﺪﻴﺼﻟﺍﻭ ﺢﺋﺎﺑﺬﻟﺍ
/ { ﺮﺤﺒﻟﺍ ﺪﻴﺻ ﻢﻜﻟ ﻞﺣﺃ } ﻰﻟﺎﻌﺗ
ﺓﺪﺋﺎﻤﻟﺍ) ৯৬ /)
অর্থাৎ হযরত আবু দারদা রাঃ বলেছেন যে, মদের মাঝে যদি মাছ দেয়া হয়, তারপর তা সূর্যের তাপে রাখা হয়, তখন সেটা আর মদ থাকে না, অর্থাৎ তখন সেটা সির্কা হয়ে হালাল হয়ে যায়। বুখারীতো হেদায়ার আগে লেখা হয়েছে। তাহলে প্রথমে প্রশ্ন বুখারীর উপর করা উচিত। তাই নয়কি?’
ﺮﻴﺼﻓ ﻼﺧ ﺭﺎﺻ ﺍﺫﺍ ﺮﻤﺨﻟﺍ ﺎﻣﺍ ﻻﻼﺣ
অর্থাৎ মদ যখন সির্কা হয়ে যায়, তখন তা হালাল হয়ে যায়। {নুজুলুল আবরার-১/২৮৫} ঠিক আছে,বুখারী দেখুন! বুখারীতেও আছে-
ﺢﺑﺫ ﻱﺮﻤﻟﺍ ﻲﻓ ﺀﺍﺩﺭﺪﻟﺍ ﻮﺑﺃ ﻝﺎﻗﻭ
— ﺲﻤﺸﻟﺍﻭ ﻥﺎﻨﻴﻨﻟﺍ ﺮﻤﺨﻟﺍ . . ﻱﺮﻤﻟﺍ ) ﻪﻴﻓ ﻞﻌﺠﻳ ﺮﻤﺧ ﻮﻫ (
ﻲﻓ ﻊﺿﻮﻳﻭ ﻚﻤﺴﻟﺍﻭ ﺢﻠﻤﻟﺍ
ﻥﺎﻨﻴﻨﻟﺍﻭ ﻪﻤﻌﻃ ﺮﻴﻐﺘﻴﻓ ﺲﻤﺸﻟﺍ
ﻰﻨﻌﻣﻭ . ﺕﻮﺤﻟﺍ ﻮﻫﻭ ﻥﻮﻧ ﻊﻤﺟ
ﺮﻤﺨﻟﺍ ﺕﺮﻬﻃ ﺲﻤﺸﻟﺍ ﻥﺃ ﻪﻟﻮﻗ
ﻚﻤﺴﻟﺍ ﻚﻟﺬﻛﻭ ﺎﻬﺻﺍﻮﺧ ﺖﺒﻫﺫﺃﻭ ﻰﻠﻋ ﺍﺮﺛﺃﻭ ﺎﻬﺗﺪﺷ ﻻﺍﺯﺃ ﺢﻠﻤﻟﺍﻭ
ﺖﺤﺒﺻﺄﻓ ﺎﻬﻠﻴﻠﺨﺗﻭ ﺎﻬﺗﻭﺍﺮﺿ
ﺢﺑﺬﻟﺍ ﻞﺣﺃ ﺎﻤﻛ ﻻﻼﺣ ﻚﻟﺬﺑ ﺔﺤﻴﺑﺬﻟﺍ ﺏﺎﺘﻛ ،ﻯﺭﺎﺨﺒﻟﺍ ﺢﻴﺤﺻ)
ﻪﻠﻟﺍ ﻝﻮﻗ ﺏﺎﺑ ،ﺪﻴﺼﻟﺍﻭ ﺢﺋﺎﺑﺬﻟﺍ
/ { ﺮﺤﺒﻟﺍ ﺪﻴﺻ ﻢﻜﻟ ﻞﺣﺃ } ﻰﻟﺎﻌﺗ
ﺓﺪﺋﺎﻤﻟﺍ) ৯৬ /)
অর্থাৎ হযরত আবু দারদা রাঃ বলেছেন যে, মদের মাঝে যদি মাছ দেয়া হয়, তারপর তা সূর্যের তাপে রাখা হয়, তখন সেটা আর মদ থাকে না, অর্থাৎ তখন সেটা সির্কা হয়ে হালাল হয়ে যায়। বুখারীতো হেদায়ার আগে লেখা হয়েছে। তাহলে প্রথমে প্রশ্ন বুখারীর উপর করা উচিত। তাই নয়কি?’
➽এবার কথিত আহলে হাদীস লোকটি বলতে লাগল-“হ্যাঁ, ঠিক আছে। মদ সির্কা হয়ে গেলেতো হালাল হয়ে যায়। এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু আপনাদের এটা জানা উচিত যে, আবু ইউসুফ কিভাবে কাজী হয়েছে?
✬➽➽তিনি বাদশাহ হারুন রশীদকে ফাতওয়া দিয়েছিলেন যে, তার পিতার বাদির সাথে তার সহবাস করা জায়েজ। এ কারণেই তাকে বাদশাহ খুশী হয়ে কাজী বানিয়ে দিয়েছে”। কাজী আবু ইউসুফ রহঃ আমি বললাম- “আপনি কি জানেন! যে শব্দ আপনার মুখ থেকে নির্গত হচ্ছে এর প্রতিটি শব্দের হিসাব আল্লাহর কাছে দিতে হবে?
মুহাদ্দিস আলী বিন সালেহ [মৃত্যু-১৫১ হিজরী] যখনই হাদীস বর্ণনা করতেন তখন বলতেন-
ﻰﺿﺎﻗﻭ ﺀﺎﻬﻘﻔﻟﺍ ﻪﻘﻓﺍ ﻰﻨﺛﺪﺣ
ﻒﺳﻮﻳ ﻮﺑﺍ ﺀﺎﻤﻠﻌﻟﺍ ﺪﻴﺳﻭ ﺓﺎﻀﻘﻟﺍ
অর্থাৎ ’আমাকে আমাদের সময়ের সকল ফুক্বাহাদের মাঝে সবচে’ বড় ফক্বীহ চিফ জাষ্টিজ, আলেমদের শিরোমনী হযরত আবু ইউসুফ রহঃ হাদীস শুনিয়েছেন’।
ﻰﺿﺎﻗﻭ ﺀﺎﻬﻘﻔﻟﺍ ﻪﻘﻓﺍ ﻰﻨﺛﺪﺣ
ﻒﺳﻮﻳ ﻮﺑﺍ ﺀﺎﻤﻠﻌﻟﺍ ﺪﻴﺳﻭ ﺓﺎﻀﻘﻟﺍ
অর্থাৎ ’আমাকে আমাদের সময়ের সকল ফুক্বাহাদের মাঝে সবচে’ বড় ফক্বীহ চিফ জাষ্টিজ, আলেমদের শিরোমনী হযরত আবু ইউসুফ রহঃ হাদীস শুনিয়েছেন’।
আর মুহাদ্দিস আলী বিন জাদ [মৃত্যু-২৩০ হিজরী] যিনি ইমাম বুখারীর উস্তাদ, তিনি বলতেন- যখন তুমি আবু ইউসুফ রহঃ এর নাম নিতে চাও, তখন প্রথমে স্বীয় মুখ সাবান ও গরম পানি দিয়ে খুব ভাল করে পাক-সাফ করে নাও। তারপর বলেন- আল্লাহর কসম! আমি আবু ইউসুফ রহঃ এর মত মুহাদ্দিস জীবনে দেখিনি। তিনি সর্বদা রোজা রাখতেন, আর কাজী হওয়ার পরও প্রতিদিন ২০০ রাকাত নফল নামায পড়তেন’।
কোন মুসলমানের উপর অপবাদ করার জন্যতো প্রমাণ প্রয়োজন। আপনি যে ঘটনার নিসবত কাজী আবু ইউসুফ রহঃ এর দিকে করেছেন এর কোন সনদ আপনার কাছে আছে?
আপনাদের নবাব সিদ্দীক হাসান খান সাহেবই লিখেছেন যে, এ ঘটনাটির [পিতার বাদির সাথে সহবাস করা হালাল হওয়া মর্মে আবু ইউসুফ রহঃ এর উপর মিথ্যাচার] ভিত্তি নেই। {কাশফুল ইলতিবাছ-২৬৯}
তারপরও আপনি এর উপর ভিত্তি করে যে ফলাফল বের করেছেন যে, এ কারণেই বাদশাহ হারুন রশীদ হযরত আবু ইউসুফ রহঃ কে কাজী বানিয়েছেন, এটা আপনার চূড়ান্ত অজ্ঞতার এক কারিশমা মাত্র। কারণ কাজী আবু ইউসুফ রহঃ কে খলীফা মাহদী কাজীর দায়িত্বে সমাসিন করেছিলেন।
তারপর বাদশাহ হারুন রশীদের আমলেও তিনি সে আসনে অধিষ্ঠিত থাকেন। {মুকাদ্দামায়ে কিতাবুল খারাজ}
হযরত কাজী আবু ইউসুফ রহঃ এরতো খোদাভীতির এ অবস্থা ছিল যে, মৃত্যুর আগে অসুস্থ্য অবস্থায় অনেক পেরেশানীতে ছিলেন। আর বলতেন-‘আল্লাহর কসম! আমি কখনো কোন খারাপ কাজ করিনি, জীবনে এক পয়সাও হারাম খাইনি। সারা জীবনে কোন ফায়সালায় বেইনসাফী করিনি। হ্যাঁ, একবার বে-ইনসাফী হয়েছিল, সেটা হল- আমি আমি বাদশাহ হারুন রশীদকে কিছু ফায়সালা শুনাচ্ছিলাম, তখন এক খৃষ্টান এল। সে দাবি করল যে, অমুক বাগান খলীফা তার কাছ থেকে ছিনতাই করে নিয়ে নিয়েছে। আমি তখন খলীফাকে জিজ্ঞেস করলাম, সে বলল-এটা সে খলীফা মনসুরের উত্তারাধিকার হিসেবে পেয়েছে। তখন আমি খৃষ্টান লোকটিকে বললাম-তোমার কাছে এ ব্যাপারে কোন সাক্ষ্য আছে? সে বলল- নেই। সাক্ষ্যতো নেই, তবে আপনি খলীফা থেকে কসম তলব করুন। তখন খলীফা কসম খেল। তারপর খৃষ্টান লোকটি চলে গেল। এখন আমার ভয় লাগছে যে, আমি কেন তখন লোকটিকে খলীফার সাথে বসিয়ে মুকাদ্দিমাটি শুনিনি?] একথা বলে আবু ইউসুফ রহঃ কাঁদতে শুরু দেন। {মানাকেবে জাহাবী-৪৩} হযরত কাজী সাহেব অসুস্থ্য ছিলেন। তখন ওলীয়ে কামেল হযরত খাজা মারুফ কারখী রহঃ হযরত আব্দুর রহমান বিন কাউয়াস রহঃ এর কাছে বললেন-‘কাজী সাহেব মৃত্যুবরণ করলে আমাকে খবর দিও’।
আব্দুর রহমান সাহেব বলেন-‘আমি একদা বাহিরে বের হলাম। কাজী সাহেবের ঘরের দিকে গেলাম। গিয়ে দেখি কাজী সাহেবের জানাযা বিলকুল তৈরী। আমি ভাবলাম-এখন যদি খাজা মারুফ কারখী সাহেবকে খবর দিতে যাই, তাহলে আমি নিজেই জানাযা পাবো না। এ কারণে আমি জানাযা পড়লাম। তারপর এসে হযারত মারুফ কারখী রহঃ কে বিষয়টি জানাই। একথা শুনে কারখী রহঃ খুব আফসোস করলেন। সাথে সাথে হযরত মারুফ কারখী রহঃ বলতে লাগলেন যে, ‘আমি আজ রাতে আমি একটি স্বপ্ন দেখলাম। দেখি আমি জান্নাতে প্রবেশ করেছি। সেখানে এক শানদার ভবন। আমি তখন একজনকে জিজ্ঞেস করলাম- ভাই! এ ভবন কার? বলা হল যে, এটা ইমাম আবু ইউসুফ রহঃ এর ভবন। আমি বললাম-এ মর্যাদা তার কিভাবে অর্জিত হল? জবাব দেয়া হল- তিনি মানুষদের অনেক ইলম শিখিয়েছেন, আর লোকেরা তার উপর অনেক ভিত্তিহীন মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে’। {মানাকেবে জাহাবী-৪৪}
ইমাম মুহাম্মদ রহঃ এর মৃত্যুর পর সে সময়ে মুহাদ্দেসে আজম ওলীয়ে কামেল স্বপ্নে মুহাম্মদ রঃ কে দেখে জিজ্ঞেস করেন-‘মুহাম্মদ! তোমার কি অবস্থা?’। জবাবে তিনি বলেন-‘আল্লাহ তাআলা আমাকে বলেছেন যে, আমি তোমাকে ইলমের ভান্ডার দিয়েছিলাম, তাই তোমাকে কোন শাস্তি দিব না। তুমি জান্নাতে যাও। আমি এখন জান্নাতে এক শানদার ভবনে আছি’।
✬➽➽আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম-‘কাজী আবু ইউসুফ রহঃ কোথায়?’ তিনি বললেন-‘তিনি আমার থেকেও উঁচু ভবনে অবস্থান করছেন’।
আমি বললাম-‘ইমাম আবু হানীফা রহঃ কোথায়?’ তিনি বললেন-‘তিনিতো আরো অনেক স্তর উঁচুতে অবস্থান করছেন’।” {বাগদাদী-২/১৮২} আমি [মুহাম্মদ আমীন সফদর রহঃ]
আমি বললাম-‘ইমাম আবু হানীফা রহঃ কোথায়?’ তিনি বললেন-‘তিনিতো আরো অনেক স্তর উঁচুতে অবস্থান করছেন’।” {বাগদাদী-২/১৮২} আমি [মুহাম্মদ আমীন সফদর রহঃ]
➽লোকটিকে [কথিত আহলে হাদীস] বললাম-“যেসব লোকেরা কয়েক শতাব্দী থেকে জান্নাতে অবস্থান করছেন, তাদের আপনারা এখনো মাফ করতে পারছেন না?”
লোকটি বলতে লাগল-“কাজী সাহেব একটি হিলা বাতলিয়েছেন। সেটা হল-বাদির অর্ধেক বিক্রয়
করে দাও, আর অর্ধেক দান করে দাও। এ ঘটনাতো খতীব বাগদাদী সনদসহ লিখেছেন”।
লোকটি বলতে লাগল-“কাজী সাহেব একটি হিলা বাতলিয়েছেন। সেটা হল-বাদির অর্ধেক বিক্রয়
করে দাও, আর অর্ধেক দান করে দাও। এ ঘটনাতো খতীব বাগদাদী সনদসহ লিখেছেন”।
✬➽➽আমি বললাম-“খতীব বাগদাদী ১৪ নং খন্ডে এটা লিখেছেন, অথচ ৩ নং খন্ডে এ সনদের বর্ণনাকারী মুহাম্মদ বিন আবী আযহারের ব্যাপারে নিজেই বলেন-‘ ﺏﺬﻜﻟﺍ ﺢﻴﺒﻗ ﺎﺑﺍﺬﻛ ﻥﺎﻛ ﻩﺮﻫﺎﻇ অর্থাৎ ‘সে ছিল মিথ্যুক, সে সরাসরি ডাহা মিথ্যা কথা বলতো’। শুধু তাই নয়, এ সনদে হাম্মাদ বিন ইসহাক মুসিলীও আছে। এ দুই বাপ বেটা সে সময়ের প্রসিদ্ধ গায়ক ছিল। এসব মিথ্যুক ও গায়কদের সাক্ষ্য দিয়ে এমন পৃথিবী বিখ্যাত মহান ইমামদের উপর অপবাদ লাগানো যায়?”
➽লোকটি বলতে লাগল-“সম্ভবত এ ঘটনাটি কিছু শাফেয়ীরা এজন্য নকল করেছে, যেহেতু ইমাম শাফেয়ী রহঃ একবার ইরাকে গিয়ে বাদশাহ হারুন রশীদের দরবারে উপস্থিত হলেন। আবু ইউসুফ বাদশাহের সামনে ইমাম শাফেয়ীকে অপমান করতে চাইলেন। তখন হারুন রশীদ ইমাম শাফেয়ী এবং ইমাম আবু ইউসুফ এর মাঝে একটি বিতর্ক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। বিতর্কে ইমাম আবু ইউসুফ সুচনীয়ভাবে পরাজয় বরণ করে। এটা কত বড় নীচতা যে, ইমাম আবু ইউসুফ শুধুমাত্র হিংসা করে ইমাম শাফেয়ী রহঃ কে অপমান করতে চাইলেন। অথচ ইমাম শাফেয়ীও তো একজন আলেম। তাই তাকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করাই ছিল যথার্থ। এ ঘটনাতো সনদসহ বর্ণিত আছে”।
✬➽➽আমি তাকে বললাম-“এ ঘটনার সনদে একজন বর্ণনাকারীর নাম হল-‘আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল বালয়ী’। যার ব্যাপাওে ইমাম দারা কুতনী রহঃ বলেন-‘লোকটি মিথ্যা হাদীস বানাতো’। {মিযানুল ই’তিদাল-২/৪৯১} যে ব্যক্তি রাসূল সাঃ এর উপর মিথ্যারোপ করে সে কাজী সাহেবের উপর মিথ্যারোপ করতে কেন কার্পণ্য করবে? তাছাড়াও এ সনদে আরেকজন রাবীর নাম হল-‘আহমাদ বিন মুসা আন নাজ্জার’ যার ব্যাপারে মিযানুল ই’তিদালে আল্লামা যাহাবী রহঃ মন্তব্য করছেন যে,‘লোকটি বন্য পশুর মত’। মিযানুল ই’তিদাল-১/১৫৯} এরকম মিথ্যুকদের বর্ণনা দিয়ে আপনি এত বড় ফক্বীহদের বিরুদ্ধে অপবাদ আরোপ করছেন? এছাড়া এ ঘটনাটি মিথ্যা হওয়ার সবচে’ বড় ঐতিহাসিক দলিল হল এই যে, হযরত ইমাম শাফেয়ী রহঃ ১৮৪ হিজরীতে ইরাক গিয়েছিলেন। এরও দু’ বছর আগেই কাজী আবু ইউসুফ রহঃ মৃত্যুবরণ করেছিলেন। কি মৃত্যুর দু’ বছর পর কবর থেকে উঠে এসে ইমাম শাফেয়ী রহঃ এর সাথে বিতর্ক করেছিলেন?
আপনাদের দেখে বড় আশ্চর্য লাগে যে, অস্বিকার করতে চাইলে বুখারীর হাদীস “কুরবে নাওয়াফেল” এবং মুসলিমের হাদীস ﺃﺮﻗ ﺍﺫﺍ ﺍﻮﺘﺼﻧﺎﻓ ও অস্বিকার করে দেন। আর যখন মানতে ইচ্ছে হয়, তখন এরকম মিথ্যা গাল-গল্পকে আসমানী অহীর চেয়েও মর্যাদা দিয়ে দেন। বড়ই সেলুকাস আপনাদের মানসিকতা!”
➽এবার লোকটি বলতে লাগল-“ইসলামী রাষ্ট্রের উপর আপনাদেও খুব গর্ব! তাইনা? জানেন কি তাদের শাসনামলে সাড়ে ৫ শত বৎসর যাবত হারামে মক্কায় ৪ জায়নামায থাকতো। আল্লাহর রহমত! এখন জায়নামায একটি”।
✬➽➽আমি বললাম-“যখন ৪ জায়নামায ছিল, তখনো হারামে মক্কা তোমাদের কিছু ছিল না, এখন একটি, তবুও তোমাদের কোন অংশ নেই। তবে এর দ্বারা একটি বিষয় জানা যায়, সেটি হল- আহলে সুন্নাতের মাযহাব হল ৪টি। আপনারা আহলে সুন্নাতের মাঝে কখনোই অন্তর্ভূক্ত ছিলেন না”।
#কল্পিত_বাহাস
➽সে [কথিত আহলে হাদীস] বলতে লাগল-“বাদশাহ হারুন রশীদ মক্কায় মুকাররমায় ইমাম শাফেয়ী রহঃ ও ইমাম আবু ইউসুফ রহঃ এর মাঝে একটি বাহাস করিয়েছিলেন। সেখানে বিচারক ছিলেন ইমাম মালিক রহঃ। বাহাসে আজান, সা’ এবং ওয়াক্বফ ছিল আলোচ্য বিষয়। যাতে ইমাম আবু ইউসুফ রহঃ চরমভাবে পরাজয় বরণ করে, যার ফলে বাদশাহ হারুন রশীদ তখন থেকে ইমাম আবু হানীফার এ তিন মাসআলা ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এ ঘোষণা শুনতেই সাধারণ মানুষের মাঝে শোরগোল শুরু হয়ে যায়। একি বলছে বাদশাহ? তাক্বলীদ ছেড়ে দিচ্ছে? ইমাম আবু হানীফার মাযহাব থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে? {তরীকে মুহাম্মদী-১১৮}
➽সে [কথিত আহলে হাদীস] বলতে লাগল-“বাদশাহ হারুন রশীদ মক্কায় মুকাররমায় ইমাম শাফেয়ী রহঃ ও ইমাম আবু ইউসুফ রহঃ এর মাঝে একটি বাহাস করিয়েছিলেন। সেখানে বিচারক ছিলেন ইমাম মালিক রহঃ। বাহাসে আজান, সা’ এবং ওয়াক্বফ ছিল আলোচ্য বিষয়। যাতে ইমাম আবু ইউসুফ রহঃ চরমভাবে পরাজয় বরণ করে, যার ফলে বাদশাহ হারুন রশীদ তখন থেকে ইমাম আবু হানীফার এ তিন মাসআলা ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন। এ ঘোষণা শুনতেই সাধারণ মানুষের মাঝে শোরগোল শুরু হয়ে যায়। একি বলছে বাদশাহ? তাক্বলীদ ছেড়ে দিচ্ছে? ইমাম আবু হানীফার মাযহাব থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে? {তরীকে মুহাম্মদী-১১৮}
✬➽➽আমি তাকে বললাম- “এ ঘটনাটি ইমাম ইবনুল জুআইনী সনদহীন উল্লেখ করেছেন। সাথে সাথে লিখেছেন যে, এ ঘটনাটি ঘটেছে ১৮৪ হিজরীতে। যদি তাই হয়ে থাকে। তাহলে বাহাসের চার জন ব্যক্তিত্বের দিকে একটু নজর দিন।
হারুন রশীদ ১৭০ হিজরীতে খলীফা হন। আর ১৯৩ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। আর ইমাম মালিক রহঃ যাকে এ বিতর্কের বিচারক বলা হয়েছে, তিনি এ বিতর্ক অনুষ্ঠানের ৫ বছর আগে ১৭৯ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। আর ইমাম আবু ইউসুফ রহঃ বিতর্ক অনুষ্ঠানের দু’ বছর আগে ১৮২ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। আর ইমাম শাফেয়ী রহঃ ১৮৪ হিজরীতে ইমাম মুহাম্মদ রহঃ এর কাছে ইরাকে পড়তে গিয়েছিলেন। সে সময় তিনি ছিলেন ছাত্র। তখনো তার ইলমী প্রসিদ্ধী শুরু হয়নি। তিনি ১৯৫ হিজরীতে সর্ব প্রথম ইজতিহাদ শুরু করেন। প্রায় ৬ বছর পর্যন্ত পুরাতন মাযহাবের উপরই ফাতওয়া দিতেন। তারপর মিশর গেলেন। সেখানে গিয়ে তিনি নতুন মাযহাবের সংকলন শুরু করেন। তারপর ২০৪ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। এ বাহাসটি যে, বাতিল ও মিথ্যাচার এর আরো প্রমাণ হল- এ বাহাসের বর্ণনায় এসেছে যে, হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাঃ রাসূল সাঃ এর মুয়াজ্জিন ছিলেন। যার কোন প্রমাণ হাদীসের কিতাবে নেই।
এ বাহাসের বর্ণনায় আরো আছে যে, হযরত বেলাল রাঃ এর নাতি নাকি বলেছেন যে, হযরত বেলাল রাঃ এ আজানে তারজী ছিল। ইতিহাসে হযরত বেলাল রাঃ এর কোন নাতির কথা উল্লেখ নেই। নেই তার মদীনায় অবস্থানের কোন বর্ণনাও। সেই সাথে এ বক্তব্যটি মুতাওয়াতির হাদীসের বিপরীতও। কারণ মুতাওয়াতির সূত্রে হাদীসে এসেছে যে, হযরত বেলাল রাঃ আজানে তারজী করতেন না। {শরহু মায়ানিল আসার} এ উপরোল্লিখত বক্তব্য এ কল্পিত বাহাসের মিথ্যা হওয়ার উপর সুষ্পষ্ট প্রমাণ। হ্যাঁ, যে ফলাফল শেষে বলা হল এর দ্বারা একথাতো বুঝা যায় যে, দ্বিতীয় শতাব্দীতেই হারামাইন শরীফাইনে ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর তাক্বলীদ এত পরিমাণ মজবুত হয়ে গিয়েছিল যে, সাধারণ মানুষ কি বাদশাহকেও তাক্বলীদ থেকে বের হওয়া কেউ পছন্দ করতো না। এ কারণে শোরগোল পর্যন্ত শুরু হয়ে গিয়েছিল। যেটাকে বাদশাহ হারুন রশীদও কোন প্রতিবাদ করেননি। করেনি ইমাম মালিক রহঃ, ইমাম শাফেয়ী রহ এবং ইমাম আবু ইউসুফ রহঃও। যার দ্বারা একথাই প্রমাণিত হয় যে, সে সময় তাক্বলীদে শখসী ওয়াজিব
হওয়ার উপর ইজমা হয়ে গিয়েছিল।
এ বাহাসের বর্ণনায় আরো আছে যে, হযরত বেলাল রাঃ এর নাতি নাকি বলেছেন যে, হযরত বেলাল রাঃ এ আজানে তারজী ছিল। ইতিহাসে হযরত বেলাল রাঃ এর কোন নাতির কথা উল্লেখ নেই। নেই তার মদীনায় অবস্থানের কোন বর্ণনাও। সেই সাথে এ বক্তব্যটি মুতাওয়াতির হাদীসের বিপরীতও। কারণ মুতাওয়াতির সূত্রে হাদীসে এসেছে যে, হযরত বেলাল রাঃ আজানে তারজী করতেন না। {শরহু মায়ানিল আসার} এ উপরোল্লিখত বক্তব্য এ কল্পিত বাহাসের মিথ্যা হওয়ার উপর সুষ্পষ্ট প্রমাণ। হ্যাঁ, যে ফলাফল শেষে বলা হল এর দ্বারা একথাতো বুঝা যায় যে, দ্বিতীয় শতাব্দীতেই হারামাইন শরীফাইনে ইমাম আবু হানীফা রহঃ এর তাক্বলীদ এত পরিমাণ মজবুত হয়ে গিয়েছিল যে, সাধারণ মানুষ কি বাদশাহকেও তাক্বলীদ থেকে বের হওয়া কেউ পছন্দ করতো না। এ কারণে শোরগোল পর্যন্ত শুরু হয়ে গিয়েছিল। যেটাকে বাদশাহ হারুন রশীদও কোন প্রতিবাদ করেননি। করেনি ইমাম মালিক রহঃ, ইমাম শাফেয়ী রহ এবং ইমাম আবু ইউসুফ রহঃও। যার দ্বারা একথাই প্রমাণিত হয় যে, সে সময় তাক্বলীদে শখসী ওয়াজিব
হওয়ার উপর ইজমা হয়ে গিয়েছিল।
যে লোকেরা এ মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালায় যে, “চতুর্থ শতাব্দীতে তাক্বলীদে শখসীর ইজমাতো দূরে থাক এর বিদ্যমানতাই ছিল না”। তাদের এ মিথ্যাচারের জন্য তওবা করা উচিত”।
➽এবার সে লোকটি [কথিত আহলে হাদীস] বলতে লাগল-“আল হামদলিল্লাহ! আমার অনেক ভুলের সঠিক জবাব পেয়ে গেছি। আমি আবার সময় পেলে আপনার কাছে আসব।
তথা কথিত আহলে হাদিসের সাথে তাদের আকিদাহ নিয়ে বাহাস/ তর্ক / মুনাজারা---
তাযাল্লিয়াতে সফদর [কথিত আহলে হাদীসদের কতিপয় ভ্রান্ত আক্বিদার স্বরূপ]
https://www.facebook.com/photo.php…
তাযাল্লিয়াতে সফদর [কথিত আহলে হাদীসদের কতিপয় ভ্রান্ত আক্বিদার স্বরূপ]
https://www.facebook.com/photo.php…
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন