সাহাবাগনের মর্যাদা ও ন্যয়পরায়নতার ব্যপারটি খুবই গুরুত্বপুর্ণ বিষয়। যা প্রত্যেক মুসলিমের অবগত হওয়া আবশ্যক। কিন্তু তাঁদের মর্যাদার শিখর এতো সুউচ্চ যে, এ ব্যপারে কলম ধরা আমার ন্যয় অধমের জন্য শোভা পায়না এবং সাধ্যের অনেক বাইরে। তবুও অপারগ হয়ে চেষ্টা করতে তখনই বাধ্য হই, যখন কুপ্রবৃত্তির অধিকারী জ্ঞানী নামক কিছু মুর্খ হতে সাহাবাগণের সমলোচনা শুনতে পাই এবং এ জাতীয় নরাধমদের কিছু লিখনীতে সাহাবাগণের সমালোচনায় মুখরিত হতে দেখি। যেগুলো মাকড়শার জাল অপেক্ষা অতি দুর্বল এবং মিথ্যা বর্ণনায় ভরপুর। যেসব বর্ণনা তারা কুড়িয়ে পেয়েছে কতক সহিত্যেরে বই, ইতিহাসের বই, নৈশ গল্পের বই এবং মনগড়া ও দুর্বল বর্ণনার ও চটি বই সমুহের মাঝে। সেগুলোর অন্যতম হলো আগানী, আল বায়ান ওয়াত তাবয়ীন, আল ইমামাহ ওয়াস সিয়াসাহ, নাহজুল বালাগাহ ইত্যাদি। যেগুলোকে শয়তানের গিরিপথের মাধ্যমে বিশ্বময় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেগুলোর মাঝে কতক সাহাবীকে কাফের বলা হয়েছে। উসমান ও আলী (রাযি.) এর শাসন ব্যবস্থা নিয়ে মিথ্যা রটানো হয়েছে। আবার কতককে গালি দেওয়া হয়েছে, যেমন: হযরত মুয়াবীয়া, আয়েশা, ত্বলহা, যুবায়ের, আবু মুসা আশআরী, আমর ইবনে আছ (রাযি.) সহ আরো অনেক সাহাবা।
তাইতো ইমাম মালেক (রহ.) বলেন,
يقول الإمام مالك في الذين يقدحون في الصحابة : إنما هؤلاء أقوام أرادوا القدح في النبي صلى الله عليه وسلم فلم يمكنهم ذلك ، فقدحوا في أصحابه حتى يقال رجل سوء و لو كان رجلاً صالحاً لكان أصحابه صالحين . الصارم المسلول (ص 553)
অর্থ: যারা সাহাবাদের ব্যপারে কুৎসা রটনা করে এবং তাদেরকে গালি দেয় এরা রসূল (স.) এর বিরুদ্ধেও কুৎসা রটাতে চেয়েছিল, কিন্তু তাদের দ্বারা তা সম্ভব হয়নি তাই তারা অপারগ হয়ে সাহাবাগণের ব্যাপারে মিথ্যা রটিয়েছে এবং বলেছে, অমুক সাহাবী নিকৃষ্ট লোক ছিল, অমুকে এমন ছিল তেমন ছিল ইত্যাদি। যদিও তাঁরা সৎ ছিলেন। আর রসূলের সকল সাহাবীই ন্যয়পরায়ন ছিলেন। (আচ্ছারিমূল আসলূল ৫৫৩)
ইবনে তাইমিয়া (রহ.) বলেন,
و بهذا المنظار انطلق ابن تيمية رحمه الله بقوله : الطعن فيهم – أي في الصحابة – طعن في الدين . منهاج السنة (1/18)
অর্থ: সাহাবাগণের বিরুদ্ধে মিথ্যা রটনা করা দীনের মধ্যে মিথ্যা রটনার নামান্তর।(মনহাজুস সুন্নাহ ১/১৮)
এরুপ বহু মতামত রয়েছে।
আমরা বলছিনা যে, সাহাবায়ে কেরামের মাঝে একক ভাবে কেহ নিষ্পাপ ছিলেন। তবে একথা অবশ্যই বলি যে, সমষ্টিগত ভাবে সাহাবগণ নিষ্পাপ ছিলেন। কেননা রসূল (স.) বলেছেন,
( إن الله تعالى قد أجار أمتي من أن تجتمع على ضلالة ) انظر : كتاب السنة لابن أبي عاصم بتخريج الألباني رحمه الله (1/41)
আল্লাহ তায়ালা আমার উম্মাতদেরকে কোন ভ্রষ্টতার উপর ঐক্যমত হওয়া থেকে রক্ষা করছেন। (কিতাবুস সুন্নাহ, ইবনে আস- ১/৪১)
এবার আসি মুল আলোচনায়।
সাহাবীর সংজ্ঞা:من لقي النبي صلى الله عليه وسلم يقظة مؤمناً به ، بعد بعثته ، حال حياته ، على سبيل التبع له ، والأخذ عنه ، وإن لم يرو عنه شيئاً ، و مات على الإيمان (الشوكاني في إرشاد الفحول( ص 70) ، وابن الهمام في التحرير (3/66) و الآلوسي في أجوبته العراقية (ص 9) صاحب التيسير (3/66.
অর্থ: যে ব্যক্তি রসূল (স.) এর নবুওয়াত লাভের পরে তার জীবদ্দশায় তাকে অনুসরন করতঃ তার প্রতি ইমান আনায়ন করে তার সাথে সাক্ষাত করেছে এবং এবং ইমান অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেছে। (ইরশাদুল ফুহুল ৭০ (ইবনুল হুমাম ফীত তাহরীর ৩/৬৬ ( আলূসী ফী আজবীবাতিল ইরাকীয়্যাহ ৯ (সহিবুত তাইসীর ৩/৬৬)
কুরআনে সাহাবা শব্দের প্রয়োগ:
مثل قوله تعالى{ إلا تنصروه فقد نصره الله إذ أخرجه الذين كفروا ثاني اثنين إذ هما في الغار إذ يقول لصاحبه لا تحزن إن الله معنا}التوبة/40 অর্থ: যদি তোমরা তাকে (রসূলকে) সাহায্য না কর, তবে মনে রেখো, আল্লাহ্ তার সাহায্য করেছিলেন, যখন তাকে কাফেররা বহিষ্কার করেছিল, তিনি ছিলেন দু’জনের একজন, যখন তারা গুহার মধ্যে ছিলেন। তখন তিনি আপন সঙ্গীকে বললেন বিষন্ন হয়ো না, আল্লাহ্ আমাদের সাথে আছেন। অত:পর আল্লাহ্ তার প্রতি স্বীয় সান্তনা নাযিল করলেন এবং তাঁর সাহায্যে এমন বাহিনী পাঠালেন, যা তোমরা দেখনি। বস্তূত: আল্লাহ্ কাফেরদের মাথা নীচু করে দিলেন আর আল্লাহর কথাই সদা সমুন্নত এবং আল্লাহ্ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (তাওবা ৪০)আলেমগন এ ব্যাপারে একমত যে, উক্ত আয়াতে ‘সহিব’ (সঙ্গী) শব্দ দ্বারা হযরত আবু বকর (রাযি.)কে বুঝানো হয়েছে। (তাফসীরে রাযী- ৬৫/১৬)এছাড়াও বুখারী মুসলিম সহ সকল হাদিসগন্থে সাহাবী শব্দের প্রয়োগ রয়েছে।
ন্যয়পরায়নতা:ন্যয়পরায়ন শব্দটি আত্যাচারের বিপরীত। (আস সিহাহ জাওহারী ৪১৫-৬)
পারিবাষিক অর্থ: পারিবাষিক অর্থের পাহাড় রয়েছে। আমি শুধু একটি উল্লেখ করছি।
و عرفها الحافظ ابن حجر في نزهة النظر (ص 29) : المراد بالعدل من له ملكة تحمله على ملازمة التقوى والمروءة ، والمراد بالتقوى : اجتناب الأعمال السيئة من شرك أو فسق أو بدعة .ইবনে হাজার (রহ.) বলেন, ন্যয়পরায়নতা এমন যোগ্যতা যা দ্বারা তাকওয়ার উপর অটল থাকা যায়। তাকওয়া বলতে এখানে অন্যয় তথা শিরক, ফিসক ও বিদআত থেকে বিরত থাকাকে বুঝানো হয়েছে।
তবে আদালত বা ন্যয়পরায়নতার যত সংজ্ঞাই দেওয়া হোক তা সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদাকে বেষ্টন করতে পারবেনা। তাই আল্লাহ ও তার রসূল (স.) সাহাবাগণের ন্যয়পরায়নাত সম্পর্কে কি বলেছেন সেদিকে দৃষ্টিপাত করতে হবে।
এ বিষয়েও বহু আয়াতে কারীমা রয়েছে। আমি এখানে দু একটি উল্লেখ করছি।
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
– قوله تعالى {وكذلك جعلناكم أمة وسطاً لتكونوا شهداء على الناس و يكون الرسول عليكم شهيداً }البقرة/143 .ووجه الاستدلال بهذه الآية : أن معنى كلمة ( وسطاً ) عدولاً خياراً ، ولأنهم المخاطبون بهذه الآية مباشرة . تفسير الطبري (2/7) و والجامع لأحكام القرآن (2/153) و تفسير ابن كثير (1/335) .
অর্থ: এমনিভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী সম্প্রদায় করেছি যাতে করে তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমন্ডলীর জন্যে এবং যাতে রসূল সাক্ষ্যদাতা হন তোমাদের জন্য। আপনি যে কেবলার উপর ছিলেন, তাকে আমি এজন্যই কেবলা করেছিলাম, যাতে একথা প্রতীয়মান হয় যে, কে রসূলের অনুসারী থাকে আর কে পিঠটান দেয়। নিশ্চিতই এটা কঠোরতর বিষয়, কিন্তূ তাদের জন্যে নয়, যাদেরকে আল্লাহ্ পথপ্রদর্শন করেছেন। আল্লাহ্ এমন নন যে, তোমাদের ঈমান নষ্ট করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ্, মানুষের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল, করুনাময়।(বাকারা ১৪৩) মুফাচ্ছিরগন বলেন,উক্ত আয়াতের وسطاً (মধ্যপন্থী) শব্দ দ্বারা আদল তথা ন্যয়পরায়ন উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে। (ত্ববারী- ২/৭ (আল জামিউ লি আহকামিল কুরআন- ২/১৩৫ (ইবনে কাসীর ১/৩৩৫)
قوله تعالى { محمد رسول الله والذين معه أشداء على الكفار رحماء بينهم تراهم ركعاً سجداً يبتغون فضلاً من الله و رضواناً ، سيماهم في وجوههم من أثر السجود ذلك مثلهم في التوراة و مثلهم في الإنجيل .. الآية }الفتح/29 .فهذا الوصف الذي وصفهم الله به في كتبه و هذا الثناء الذي أثنى به عليهم لا يتطرق إلى النفس معه شك في عدالتهم . راجع تفسير القرطبي (16/299)অর্থ: মুহাম্মাদ রসূল এবং তাঁর সহচরগণ কাফেরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে পর¯পর সহানুভূতিশীল। আল্লাহ্র অনুগ্রহ ও সন্তূষ্টি কামনায় আপনি তাদেরকে রুকু ও সেজদারত দেখবেন। তাদের মুখমন্ডলে রয়েছে সেজদার চিহ্ন। তওরাতে তাদের অবস্থা এরূপ এবং ইঞ্জিলে তাদের অবস্থা যেমন একটি চারা গাছ যা থেকে নির্গত হয় কিশলয়, অত:পর তা শক্ত ও মজবুত হয় এবং কান্ডের উপর দাঁড়ায় দৃঢ়ভাবে-চাষীকে আনন্তেদ অভিভুত করে-যাতে আল্লাহ্ তাদের দ্বারা কাফেরদের অন্তর্জলা সৃষ্টি করেন। তাদের মধ্যে যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ্ তাদেরকে ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের ওয়াদা দিয়েছেন। (ফাত্হ্ ২৯) এখানে যে সকল গুনাবলী উল্লেখ করা হয়েছে তা শুধু ন্যয়পরায়নতার করণেই। (তাবারী ১৬/২৯৯)হাদিস:এ ব্যপারে অসংখ্য হাদিস থেকে আমি একটি হাদিস পেশ করছি।
روى الشيخان في صحيحيهما البخاري (2/287-288) و مسلم (4/1964) من حديث عمران بن حصين رضي الله عنه قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : ( خير أمتي قرني ثم الذين يلونهم ثم الذين يلونهم ) الحديث . وجه الدلالة : أن الصحابة عدول على الإطلاق حيث شهد لهم النبي صلى الله عليه وسلم بالخيرية المطلقة .রসূল (স.) বলেন, আমার উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম তারা যারা আমার যুগে রয়েছে। অতঃপর তাদরে পরবর্তী যুগের উম্মাত (তথা তাবেয়ীগনের যুগ) অতঃপর তাদের পরবর্তী যুগের উম্মাত। (অর্থাৎ, তাবয়ে তাবেয়ীনের যুগ) (বুখারী ৪/২৮৭- ২৮৮ – মুসলিম ৪/১৯৬৪)এখান থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, সাহাবাগণ ন্যয়পরায়ণ ছিলেন বিধায় রসূল (স.) ব্যপক ভাবে তাদের সততার সাক্ষ্য দিয়েছেন। এখানে কাহাকেও বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা হয়নি বরং সকল সাহাবাকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে।এছাড়াও বহু হাদিস বিদ্যমান রয়েছে যা সাহাবায়ে কেরামের ন্যয়পরায়নতার প্রমান বহন করে। সুতরাং আমাদের ন্যয় চুনোপুটিরা তাদের ন্যয়পরায়নতা প্রমানের পিছনে কোশেশ করার দরকার নেই।
ইজমা
قال الحافظ ابن حجر في الإصابة (1/17) : اتفق أهل السنة على أن الجميع عدول و لم يخالف ذلك إلا شذوذ من المبتدعة . و غيرهم الكثير : انظر : فتح المغيث شرح ألفية الحديث (3/112) و تدريب الراوي للسيوطي (2/214) والمستصفى للغزالي (1/164) و مقدمة ابن الصلاح (ص 146-147) ، و النووي في شرح مسلم (15/147) و التقريب (2/214) و ابن كثير في الباعث الحثيث (ص 181-182) و شرح الألفية للعراقي (3/13-14) والسخاوي في فتح المغيث (3/108) . إلى غيرها من الكتب .ইবনে হাজার (রহ.) বলেন, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের সকলেই এই ব্যপারে একমত যে, সকল সাহাবী ন্যপরায়ন। এই ব্যাপরে সামান্য কিছু বেদআতী ছাড়া কেহ দ্বিমত পোষণ করেনা। এ দলের তুলনায় যারা সাহাবাগণকে ন্যয়পরায়ন বলে তাদের সংখ্যা ভারি। (ফাতহুল মুগীছ শরহুল ফিআতিল হাদিস ৩/১১২- তাদরীবুর রাবী সয়ূতী ২/২১৪ – আল মুসতাসফা ইমাম গাজালী ১/১৬৪ – মুকাদ্দামাতু ইবনুস সালাহ ১৪৬-১৪৭ – ইমাম নাবাবী শারহুল মুসলীম ১৫/১৪৭ – আত তাকরীব ২/২১৪ – আল বাঈস ইবনে কাসীর ১৮১- ১৮২ – ইত্যাদি।)
যে সকল ভ্রান্ত দল সাহাবাগণকে ন্যয়পরায়ন মানেনা।
শিয়া রাফেজীরা –
1 – مذهب الشيعة الرافضة :-الشيعة الرافضة يعتقدون أن الصحابة الكرام رضي الله عنهم ليسوا بعدول بل يعتقدون ضلال كل من لم يعتقد أن النبي صلى الله عليه وسلم نص على أن الخليفة من بعده بلا فصل هو علي رضي الله عنه ، و يعتقدون أن جميع الناس هلكوا وارتدوا بعد أن اقبض النبي صلى الله عليه وسلم إلا نفراً يسيراً منهم يعدون بالأصابع ، و سبب تكفيرهم لهم أنهم يزعمون أنهم بايعوا بالخلافة غير علي رضي الله عنه ولم يعملوا بالنص عليه ، ومعتقدهم هذا طافحة به كتبهم . راجع كتبهم : الاختصاص للمفيد (ص 6) و كتاب الروضة من الكافي للكليني حديث رقم (356) . وغيرها من الكتب
তারা বলে, সাহাবাগণ ন্যয়পরায়ন নন। তারা আরো বলে যে, “রসূল (স.) এ বিষয় নির্ধারণ করে গেছেন যে তাঁর ওফাতের পরে সরাসরি যিনি খলীফা হবেন তিনি হচ্ছেন আলী (রাযি.)” যারা এ কথা স্বীকার করেনা তারা সবাই গোমরাহ। এবং তারা এও বলে, রসূলের ওফাতের পরে গুটি কয়েকজন ব্যাতিত সব মানুষ মুরতাদ হয়ে গেছে। এর কারণ হিসাবে তারা উল্লেখ করে থাকে মানুষেরা হযরত আলী (রাযি.) হাতে বাইআত গ্রহন না করাকে।এবং তারা বলে যে, মানুষ খেলাফতের বিধান বুঝেনি। বিস্তারিত জানতে দেখুন- তাদের কিতাব। (আল ইখতিসাসু লিল মুফীদ ৬) (আর রওযতু মিনার কাফী, কালীনী হাদিস নং ৩৫৬) ইত্যাদি কিতাব সমুহ।
মুতাঝেলা সম্প্রদায় –
2 – مذهب المعتزلة :-أما المعتزلة فقد اضطربت آراؤهم في عدالة الصحابة إلى ثلاث أقوال وإليك مختصرها :-القول الأول : أن الصحابة جميعهم عدول إلا من قاتل علياً ، حيث أ، الجمهور منهم صوبوا علياً في حروبه و خطئوا من قاتله فنسبوا طلحة والزبير و عائشة ومعاوية إلى الخطأ . راجع مقالات الإسلاميين (2/145) والفرق بين الفرق (ص 120-121) .القول الثاني : قول واصل بن عطاء ، فقد ذهب إلى أن أحد الفريقين من الصحابة في موقعتي الجمل و صفين كان مخطئاً لا بعينه كالمتلاعنين ، فإن أحدهما فاسق لا محالة ، و أقل درجات الفريقين أنه غير مقبول الشهادة كما لا تقيل شهادة المتلاعنين . فقد قال : لو شهدت عندي عائشة و علي و طلحة على باقة بقل ، لم أحكم بشهادتهم . الملل والنحل للشهرستاني (1/49) ، و ميزانالاعتدال للذهبي (4/329) و الفرق بين الفرق (ص 120 ) .القول الثالث : قول عمرو بن عبيد ، فإنه يعتقد أن الطرفين المتحاربين في موقعتي الجمل و صفين قد فسقوا جميعاً ، و قال : لا أقبل شهادة الجماعة منهم سواء كانوا من أحد الفريقين أو كان بعضهم من حزب علي و بعضهم من حزب الجمل . الفرق بين الفرق (ص 121) والملل والنحل (1/49) .
মুতাঝেলা সম্প্রদায় সাহাবাগণের ব্যাপারে তিন রকম আকীদা পোষণ করে।
ক/ যারা আলী (রাযি.) এর সাথে যুদ্ধ করেছে তারা ব্যতিত সবাই ন্যয় পরায়ন। ফলে তার হযরত আলী (রাযি.) কে ন্যয়পরায়ন সাব্যস্ত করে এবং ত্বলহা, যুবায়ের, আয়েশা, মুয়াবিয়া (রাযি.) কে গালি দেয় এবং তাদের ভুল সাব্যস্ত করে। (মাকালাতুল ইসালামীয়্যীন ২/১৪৫) আল ফারকু আইনাল ফারক্ব ১২০-১২১)
খ/ তাদের ওয়াসেল বিন আতা বলে, জামাল যদ্ধে এবং সিফ্ফীনে যারা শরীক হয়েছে তারা সবাই অভিশপ্ত তাদের সাক্ষ গ্রহনযোগ্য নয়। (প্রগুক্ত)
গ/ তাদের উমার ইবনে উবাইদ বলে জামাল যদ্ধে এবং সিফ্ফীনে যারা শরীক হয়েছে তারা সবাই ফাসেক। রেফারেন্স মুল ইবারতে দেওয়া আছে।
মওদূদীবাদ
সাহাবায়ে কিরাম সম্পর্কে মওদূদী আকীদাঃ সাহাবায়ে কিরামকে সত্যের মাপকাঠি বলে জানবে না এবং তাদের অনুসরন করবে না। (দস্তুরে জামাতে ইসলামীঃ ৭)
সাহাবাগণকে গালীদাতাদের শাস্তি ও তাদের বিধানএখানে দুটি মত রয়েছে।
1 – ذهب جمع من أهل العلم إلى القول بتكفير من سب الصحابة رضي الله عنهم أو انتقصهم و طعن في عدالتهم و صرح ببغضهم وأن من كان هذه صفته فقد أباح دم نفسه و حل قتله ، إلا أن يتوب من ذلك ويترحم عليهم .و ممن ذهب إلى هذا القول من السلف :-1 – الصحابي عبد الرحمن بن أبزى ، كما في كتاب النهي عن سب الأصحاب (ص 23) . 2 – عبدالرحمن بن عمرو الأوزاعي ، في شرح الإبانة لابن بطة (ص 162) .3 – أبو بكر بن عياش ، كما في شرح الإبانة ( ص 160) .4 – سفيان بن عيينة ، كما في كتاب النهي عن سب الأصحاب (ص 24-25) .5 – محمد بن يوسف الفريابي ، كما في شرح الإبانة (ص 160) .6 – بشر بن الحارث المروزي ، كما في شرح الإبانة ( ص 162) .7 – محمد بن بشار العبدي ، كما في شرح الإبانة ( ص 160) .و غيرهم كثير ، فهؤلاء الأئمة صرحوا بكفر من سب الصحابة و بعضهم صرح مع ذلك أنه يعاقب بالقتل ، وإلى هذا القول ذهب بعض العلماء من الحنفية والمالكية والشافعية و الحنابلة والظاهرية .
১/ যারা সাহাবাগনকে গালি দেয় এবং তাদেরকে ন্যয়পরায়ন মানবেনা তাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটায় তাদের দোষ বলে বেড়ায় এমন ব্যাক্তিকে কাফের সাব্যস্ত করা হবে এবং তাকে হত্যা করাও বৈধ। রেফারেন্স দেওয়া আছে।
2 و ذهب فريق آخر من أهل العلم إلى أن ساب الصحابة لا يكفر بسبهم بل يفسق و يضلل و لا يعاقب القتل ن بل يكفي بتأديبه وتعزيره تعزيراً شديداً يردعه و يزجره حتى يرجع عن ارتكاب هذا الجرم الذي يعتبر من كبائر الذنوب و فواحش المحرمات ، وإن لم يرجع تكرر عليه العقوبة حتى يظهر التوبة ، و ممن يرى بذلك من الأئمة :-1 – عمر بن عبد العزيز ، كما في الصارم المسلول (ص 569) .2 – عاصم الأحول ، كما ذكره ابن تيمية في الصارم المسلول (ص 569) .3 – الإمام مالك ، كما في الشفاء (2/267) .4 – إسحاق بن راهوية ، كما في الصارم المسلول (ص 568) و جمع غفير من الأئمة ، فهذه النقول توضح أن طائفة من أهل العلم ذهبوا إلى أن ساب الصحابة فاسق و مبتدع ليس كافراً ، يجب على السلطان تأديبه تأديباً شديداً لا يبلغ به القتل .و الذي يترجح أن ساب الصحابة لا يكفر ، لكن هذا ليس على إطلاقه ، وإنما هو مشروط بعدم مصادمة النصوص الصريحة من الكتاب والسنة الصحيحة ، و عدم إنكار ما هو معلوم من الدين بالضرورة ، وعلى هذا يحمل كلام من أطلق القول بعدم التكفير . ২/
তাদেরকে কাফের বলা যাবেনা তবে তারা ফাসেক এবং তাদেরকে হত্যাও করা বৈধ নয়। বরং কঠোর শাস্তি দিবে। রেফারেন্সমুল ইবারতে দেওয়া আছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন