——কুরআনে পরিবর্তন——
এক. কুরআনের সহীহ বা সঠিক আয়াত হলো- إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَىٰ آدَمَ وَنُوحًا وَآلَ إِبْرَاهِيمَ وَآلَ عِمْرَانَ عَلَى الْعَالَمِينَ ( آل عمران: 33 ) নিঃসন্দেহে আল্লাহ আদম (আঃ), নূহ(আঃ), ও ইব্রাহীম (আঃ), এর বংশধর এবং এমরানের খান্দানকে নির্বাচিত করেছেন।
কিন্তু শী’আরা বলে, মক্কা-মদিনাসহ আমাদের মুসলিমদেশ গুলোতে, কুরআনে বিদ্ধমান উল্লেখিত আয়াতটি ভুল বরং সঠিক আয়াত হলো- وَآلَ عِمْرَانَ এর পরে آل محمد শব্দ ছিল৷ যা কুরআন থেকে উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ (ترجمہ حیات القلوب: جلد 3 صفحہ 123 ) نعوذ بالله من ذالك
দুই. কুরআনের সহীহ বা সঠিক আয়াত হলো- إِنَّ عَلَيْنَا لَلْهُدَىٰ ( اليل: 12 ) আমার দায়িত্ব পথ প্রদর্শন করা।
আর শী’আরা বলে,কুরআনে বিদ্ধমান উল্লেখিত আয়াতটি ভুল বরং সঠিক আয়াত হলো- إْنَا علي لَلْهُدَىٰ অর্থঃ আলী এবং তার বংশধরগণ হেদায়াতের উপর আছে। অর্থাত্ শব্দটা عَلَيْنَا নয় বরং علي! (ترجمہ حیات القلوب: جلد 3 صفحہ 275 ) نعوذ بالله من ذالك
তিন. কুরআনের সহীহ বা সঠিক আয়াত হলো- انْظُرْ كَيْفَ ضَرَبُوا لَكَ الْأَمْثَالَ فَضَلُّوا فَلَا يَسْتَطِيعُونَ سَبِيلًا (فرقان:9) দেখুন, তারা আপনার কেমন দৃষ্টান্ত বর্ণনা করে! অতএব তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে, এখন তারা পথ পেতে পারে না।
আর শী’আরা বলে,কুরআনে বিদ্ধমান উল্লেখিত আয়াতটি ভুল বরং সঠিক আয়াতে ولاية علي سبيلا আছে। যা কুরআন থেকে উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। (ترجمہ حیات القلوب: جلد 3 صفحہ 255) نعوذ بالله من ذالك
চার. কুরআনের সহীহ বা সঠিক আয়াত হলো- وَقَالَ الظَّالِمُونَ إِنْ تَتَّبِعُونَ إِلَّا رَجُلًا مَسْحُورًا ( فرقان: 8 ) জালেমরা বলে, তোমরা তো একজন জাদুগ্রস্ত ব্যক্তিরই অনুসরণ করছ।
আর শী’আরা বলে,কুরআনে বিদ্ধমান উল্লেখিত আয়াতটি ভুল বরং সঠিক আয়াতে وَقَالَ الظَّالِمُونَ آل محمد حقهم ছিল। যা উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। (ترجمہ حیات القلوب: جلد 3 صفحہ 255) نعوذ بالله من ذالك
পাঁচ. কুরআনের সহীহ বা সঠিক আয়াত হলো- يَا وَيْلَتَىٰ لَيْتَنِي لَمْ أَتَّخِذْ فُلَانًا خَلِيلًا ( فرقان: 8 ) হায় আমার দূর্ভাগ্য, আমি যদি অমুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম।
আর শী’আরা বলে,কুরআনে বিদ্ধমান উল্লেখিত আয়াতটি ভুল বরং সঠিক আয়াতে- لَمْ أَتَّخِذْ الثاني فُلَانًا خَلِيلًا ছিল। যা উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। (ترجمہ حیات القلوب: جلد 3 صفحہ254 ) نعوذ بالله من ذالك
ছয়- কুরআনের সঠিহ আয়াত হলো- فَأَبَىٰ أَكْثَرُ النَّاسِ إِلَّا كُفُورًا কিন্তু অধিকাংশ লোক অকৃতজ্ঞতা ছাড়া কিছুই করে না। (সূরায়ে ফুরকান ৫০নং আয়াত)
* শী’আদের আকীদা হলো, উল্লেখিত আয়াতে- فَأَبَىٰ أَكْثَرُ النَّاسِ এর পরে بولاية علي ছিলো। কিন্তু সুন্নিরা তা কুরআন থেকে মুছে ফেলেছে। (নাউযুবিল্লাহ) (হায়াতুল ক্বুলুব ৩য় খণ্ড ২৩৪ নং পৃষ্ঠা)
সাত- কুরআনের সঠিহ আয়াত হলো- وَقُلِ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكُمْ ۖ فَمَنْ شَاءَ فَلْيُؤْمِنْ وَمَنْ شَاءَ فَلْيَكْفُرْ ۚ বলুনঃ সত্য তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত। অতএব, যার ইচ্ছা, বিশ্বাস স্থাপন করুক এবং যার ইচ্ছা অমান্য করুক। (সূরায়ে কাহ্ফ ২৯নং আয়াত)
* শী’আদের ইমাম বাকের লেখেন যে, উল্লেখিত আয়াতে- وَقُلِ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكُمْ এর পরে فى ولاية علي ছিলো। কিন্তু সুন্নিরা তা কুরআন থেকে উঠিয়ে দিয়েছে। (নাউযুবিল্লাহ) (হায়াতুল ক্বুলুব ৩য় খণ্ড ২৩৪ নং পৃষ্ঠা)
আট- কুরআনের সঠিহ আয়াত হলো- هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَىٰ وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ অর্থঃ তিনিই প্রেরণ করেছেন আপন রসূলকে হেদায়েত ও সত্য দ্বীন সহকারে, যেন এ দ্বীনকে অপরাপর দ্বীনের উপর জয়যুক্ত করেন, যদিও মুশরিকরা তা অপ্রীতিকর মনে করে। (সূরায়ে তাওবাহ ৩৩নং আয়াত)
* শী’আদের আকীদা হলো, উল্লেখিত আয়াতে- وَلَوْ كَرِهَ এর এর পরে بولاية علي ছিলো। যা কুরআন থেকে উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। (নাউযুবিল্লাহ) (হায়াতুল ক্বুলুব ৩য় খণ্ড ১৯৩ নং পৃষ্ঠা)
নয়- কুরআনের সঠিহ আয়াত হলো- وَكَذَٰلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ এমনিভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী সম্প্রদায় করেছি যাতে করে তোমরা সাক্ষ্য দাতা হও (সূরায়ে বাক্বারা ১৪৩নং আয়াত)
* শী’আদের আকীদা হলো, উল্লেখিত আয়াতে-
وَكَذَٰلِكَ جَعَلْنَاكُمْ এর পরের শব্দ أُمَّةً নয় বরং পরের শব্দটা হলো أئمة ! (হায়াতুল ক্বুলুব ৩য় খণ্ড ২০৭ নং পৃষ্ঠা)
দশ- কুরআনের সঠিহ আয়াত হলো- إِنَّا أَعْتَدْنَا لِلظَّالِمِينَ نَارًا أَحَاطَ بِهِمْ سُرَادِقُهَا অর্থঃ আমি জালেমদের জন্যে অগ্নি প্রস্তুত করে রেখেছি, যার বেষ্টনী তাদের কে পরিবেষ্টন করে থাকবে। (সূরায়ে কাহ্ফ ২৯নং আয়াত)
* শী’আদের আকীদা হলো, উল্লেখিত আয়াতে- إِنَّا أَعْتَدْنَا لِلظَّالِمِينَ এর পরে آل محمد نارا ছিলো। (নাউযুবিল্লাহ) (হায়াতুল ক্বুলুব ৩য় খণ্ড ২৩৪ নং পৃষ্ঠা)
এগার – কুরআনের সঠিহ আয়াত হলো- والعصر- কসম যুগের (সময়ের), إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত; إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ কিন্তু তারা নয়, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে এবং পরস্পরকে তাকীদ করে সত্যের এবং তাকীদ করে সবরের। (সূরায়ে আছর)
* শী’আরা এই সূরাটাকে পরিবর্তন করে বানিয়েছ- إِنَّ الْإِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ এর পরের আয়াতগুলো হলো- انه فيه من لدهر الا الذين امنوا وعملوالصالحت وأتمروا بالتقوى وأتمروا بالصبر- (নাউযুবিল্লাহ) (হায়াতুল ক্বুলুব ৩য় খণ্ড ৩৭৮ নং পৃষ্ঠা)
বার- কুরআনের সঠিহ আয়াত হলো- وَقُلِ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكُمْ ۖ فَمَنْ شَاءَ فَلْيُؤْمِنْ وَمَنْ شَاءَ فَلْيَكْفُرْ ۚ إِنَّا أَعْتَدْنَا لِلظَّالِمِينَ نَارًا أَحَاطَ بِهِمْ سُرَادِقُهَا ۚ وَإِنْ يَسْتَغِيثُوا يُغَاثُوا بِمَاءٍ كَالْمُهْلِ يَشْوِي الْوُجُوهَ ۚ بِئْسَ الشَّرَابُ وَسَاءَتْ مُرْتَفَقًا বলুনঃ সত্য তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত। অতএব, যার ইচ্ছা, বিশ্বাস স্থাপন করুক এবং যার ইচ্ছা অমান্য করুক। আমি জালেমদের জন্যে অগ্নি প্রস্তুত করে রেখেছি, যার বেষ্টনী তাদের কে পরিবেষ্টন করে থাকবে। যদি তারা পানীয় প্রার্থনা করে, তবে পুঁজের ন্যায় পানীয় দেয়া হবে যা তাদের মুখমন্ডল দগ্ধ করবে। কত নিকৃষ্ট পানীয় এবং খুবই মন্দ আশ্রয়। (সূরায়ে কাহ্ফ ২৯নং আয়াত)
* শী’আরা এই সূরায় পরিবর্তন করে বানিয়েছে- وَقُلِ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكُمْ এর পরে في ولاية علي وانا اعتدنا لظالمين آل محمد حقهم نارا ছিলো৷ (নাউযুবিল্লাহ) (হায়াতুল ক্বুলুব ৩য় খণ্ড ৩৮৫ নং পৃষ্ঠা)
তের- কুরআনের সঠিহ আয়াত হলো- ﻓَﺒَﺪَّﻝَ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻇَﻠَﻤُﻮﺍ ﻗَﻮْﻟًﺎ ﻏَﻴْﺮَ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻗِﻴﻞَ ﻟَﻬُﻢْ ﻓَﺄَﻧْﺰَﻟْﻨَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻇَﻠَﻤُﻮﺍ ﺭِﺟْﺰًﺍ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺴَّﻤَﺎﺀِ ﺑِﻤَﺎ ﻛَﺎﻧُﻮﺍ ﻳَﻔْﺴُﻘُﻮﻥَ অর্থঃ অতঃপর যালেমরা কথা পাল্টে দিয়েছে, যা কিছু তাদেরকে বলে দেয়া হয়েছিল তা থেকে। তারপর আমি অবতীর্ণ করেছি যালেমদের উপর আযাব, আসমান থেকে, নির্দেশ লংঘন করার কারণে। (সূরায়ে বাক্বারা ৫৯নং আয়াত)
* শী’আরা এই আয়াতে পরিবর্তন করে- ﻓَﺒَﺪَّﻝَ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻇَﻠَﻤُﻮﺍ এর পরে آل محمد حقهم قولا غير الذي قيل لهم فانزل علي الذين ظلموا آل محمد حقهم رجزا من السماء এই অংশটুকু বাড়িয়ে নিয়েছে। (নাউযুবিল্লাহ) (হায়াতুল ক্বুলুব ৩য় খণ্ড ৩৮৭ নং পৃষ্ঠা)
চৌদ্দ- কুরআনের সঠিহ আয়াত হলো- يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَكُمُ الرَّسُولُ بِالْحَقِّ مِنْ رَبِّكُمْ فَآمِنُوا خَيْرًا لَكُمْ ۚ وَإِنْ تَكْفُرُوا فَإِنَّ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا হে মানবজাতি! তোমাদের পালনকর্তার যথার্থ বাণী নিয়ে তোমাদের নিকট রসূল এসেছেন, তোমরা তা মেনে নাও যাতে তোমাদের কল্যাণ হতে পারে। আর যদি তোমরা তা না মান, জেনে রাখ আসমানসমূহে ও যমীনে যা কিছু রয়েছে সে সবকিছুই আল্লাহর। আর আল্লাহ হচ্ছে সর্বজ্ঞ, প্রাজ্ঞ৷ (সূরায়ে নিসা ১৬৮নং আয়াত)
* শী’আরা উল্লেখিত আয়াতটিতে- يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَكُمُ الرَّسُولُ بِالْحَقِّ مِنْ رَبِّكُمْ এর পরে في ولاية علي فامنوا خيرا لكم وان تكفروا بولاية على এই অংশটি নিজেদের পক্ষ্য থেকে বাড়িয়ে নিয়েছে। এবং তারা বলে এটিই সঠিক আয়াত। (নাউযুবিল্লাহ) (হায়াতুল ক্বুলুব ৩য় খণ্ড ৩৮৯ নং পৃষ্ঠা)
পনের- কুরআনের সঠিহ আয়াত হলো- إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَظَلَمُوا لَمْ يَكُنِ اللَّهُ لِيَغْفِرَ لَهُمْ وَلَا لِيَهْدِيَهُمْ طَرِيقًا যারা কুফরী অবলম্বন করেছে এবং সত্য চাপা দিয়ে রেখেছে, আল্লাহ কখনও তাদের ক্ষমা করবেন না এবং সরল পথ দেখাবেন না। (সূরায়ে নিসা ১৭০নং আয়াত)
* শী’আরা উল্লেখিত আয়াতটি পরিবর্তন করে বানিয়েছে-
إِنَّ الَّذِينَ وَظَلَمُوا آل محمد حقهم । (নাউযুবিল্লাহ) (হায়াতুল ক্বুলুব ৩য় খণ্ড ৩৮৯ নং পৃষ্ঠা)
উল্লেখিত পনেরটি পবিত্র আয়াত দ্বারা এটাই বুঝে আসে যে, শী’আদের আকীদা হলো, বৃদ্ধমান কুরআন শরীফ পরিপূর্ণ না এবং সহীহও না। কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী এবং কুরআনী আইন অনুযায়ী কুরআনে পরিবর্তনকারী মুরতাদ এবং ক্বতল করা ওয়াজিব। উপরে উল্লেখিত আয়াতগুলোতে শী’আরা যে পরিবর্তন করেছে এর প্রমাণও আমাদের কাছে আছে।
রেসালতের ক্ষেত্রে শী’আদের কুফূরী আকীদা—
এক. উভয় জাহানের সরদার ও সর্বশেষ নবী রাসূল (সাঃ) এর ব্যাপারে তাদের আকীদাতেও বেয়াদবি করেছে। এক জাহেল, মূর্খ লেখক তিরমিজী শরীফের বাবুল হজ্জ এর রেফারেন্স দিয়ে লেখেছে যে- রাসূল (সাঃ) এবং সাহাবায়ে কেরামগণ নেকাহে মুত’আ করেছেন। (নাউযুবিল্লাহ) অথচ সহীহ হাদীস হলো- আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) এবং আবু বকর (রাঃ), উমর (রাঃ), ও উসমান (রাঃ) হজ্জে তামাত্তু করেছেন। অর্থাত্ হজ্জ এবং উমরা উভয়টাকে এক সাথে আদায় করেছেন। কিন্তু শী’আ লেখক গোলাম হুসাইন নযফী এই হাদীসের অনুবাদ করেছে, রাসূল (সাঃ) আবু বকর, উমর ও উসমান (রাঃ) মুত’আ করেছেন। (নাউযুবিল্লাহ) এই শী’আ আরবী ইবারত “তামাত্তু” কে “মুত’আ” শব্দ দ্বারা পরিবর্তন করে অনুবাদ করেছে এবং তার নিজের কিতাব “খাসায়েল মুআবিয়া” এর ৪৩১ নং পৃষ্ঠায় স্পষ্ট ভাবে লেখেছে যে, রাসূল (সাঃ) মুত’আ করেছেন। (নাউযুবিল্লাহ) এটা কি শানে রেসালতের সাথে গোস্তাখী নয় ? (নেকাহে মুত’আ বলা হয়, টাকার বিনিময়ে নিদৃষ্ট সময়ের জন্য কোন মেয়েকে বিবাহ করা। অতঃপর ঐ মেয়ের সাথে নিদৃষ্ট সময়ের ভিতরেই সহবাস করার পরে আবার তালাক দিয়ে দেওয়া। যা আমাদের ইসলাম ধর্মে সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম।)
দুই- রেসালতে শরীক করা। শী’আদের আরেকটি আকীদা হলো, আলী (রাঃ) সকল নবীদের থেকে উত্তম। আর যেহেতু নবী (সাঃ) সকল নবীদের থেকে উত্তম, তাই আলী (রাঃ) নবী (সাঃ) থেকে উত্তম। দলীল হিসেবে লিখেছে যে, কূফার প্রসিদ্ধ খতিব আলী (রাঃ) কে প্রশ্ন করেন, আপনি উত্তম নাকি আদম (আঃ) উত্তম? আলী (রাঃ) উত্তরে বলেন- ১. আমি আদম (আঃ) থেকে উত্তম। ২. আমি ইব্রাহীম (আঃ) থেকে উত্তম। ৩. আমি মূসা (আঃ) থেকে উত্তম। ৪. আমি ঈসা (আঃ) থেকে উত্তম। (খুরশিদে খাওয়ার ২৯৪, ২৯৫নং পৃষ্ঠা, “বাকের মাজলিসি” কর্তৃক অনুবাদকৃত, শাহ নজফ কুতুব খানা লাহুর) অথচ সঠিক আকীদা হলো, উম্মতগণ চায় যে নবীরই হোক না কেন, তারা কখনোই নবীদের মর্যাদায় পৌছতে পারে না। সাহাবাদের এবং নবীদের মর্যাদা ভিন্ন ভিন্ন। উভয়টি এক নয়। হযরত আলী (রাঃ) যত বড়ই সাহাবী হোক না কেন, তিনি কখনোই মূসা (আঃ) ইব্রাহীম (আঃ)এর মর্যাদায় পৌছতে পারবেন না। কিন্তু শী’আরা সাহাবীকে নবুওয়াতীর মর্যাদা দিয়ে রেসালতের মধ্যে শিরিকি করেছে। যা শী’আদের কুফূরীর স্পষ্ট একটি দলীল। আলী (রাঃ) কে এ ব্যাপারে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া এবং তিনার দিকে এই বিষয়টাকে নিসবত করা কুফূরী থেকেও মারত্মক। এ কিতাবেরই অন্য জাগায় লিখেছে যে, “আমিরুল মু’মিনিন হযরত আলী (রাঃ) ফজিলত, কামালত এবং অন্যান্য গুণাবলির ক্ষেত্রে রাসূল (সাঃ) এর সাথে শরিক ছিলেন। অর্থাত্ রাসূলের যে সকল গুণাবলি ছিল তা আলীরও ছিলো। (নাউযুবিল্লাহ) (খুরশিদ খাওয়ার ২৮৫) একটু চিন্তা করে দেখুন তো? আলী (রাঃ)কে রাসূল (সাঃ)এর গুণের সাথে মিলানোটা কি রেসালতে শরিক করা নয় ? এটা কি কুরআন-সুন্নাহের স্পষ্ট বিরুধিতা করা নয়? আর যারা রাসূলের মানহানি করে এবং রাসূলের নামে মিথ্যা অপবাদ দেয় তারা কখনোই মুসলমান হতে পারে না। তাই শী’আরা বাতিল একটি ফেরক্বাহ এবং তাদেরকে কাফের, মুশরিক বলা, এবং তাদেরকে অমুসলিম আক্ষায়িত করা রাষ্ট্রের উপর আবশ্যক। এই ধরণের জাহান্নামীদেরকে শাস্তি দেওয়া মুসলমানদের জন্য আবশ্যক। অন্য এক স্থানে লিখেছে যে, রাসূল (সাঃ) একদিন যায়েদ ইবনে হারেসার ঘরে আগমণ করেন, আর তখন যায়েদের স্ত্রী যয়নাব গোসল করতে ছিলেন। পরিশেষে রাসূল (সাঃ) যয়নাবের গোসল করা পর্যবেক্ষণ করলেন। (নাউযুবিল্লাহ) (হায়াতুল ক্বুলুব ২য় খন্ড ৮৯১নং পৃষ্ঠা) এখানে রাসূল (সাঃ)এর উপর মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে।
তিন- শী’আদের ইমাম জাফর সাদেক থেকে বর্ণিত, এক দিন আবু বকর ও উমর (রাঃ) উম্মে সালামার নিকট আসলেন। এবং উম্মে সালামাকে বললেন, আপনি রাসূল (সাঃ)এর পূর্বে অন্যজনের স্ত্রী ছিলেন। বলুন তো ? রাসূল (সাঃ) ঐ ব্যক্তির (আপনার পূর্বের স্বামীর) তুলনায় সহবাসের ক্ষেত্রে কেমন শক্তিশালী ছিলেন? তখন উম্মুল মু’মিন উম্মে সালামা জবাব দিলেন যে, তিনিও (রাসূল) সহবাসের ক্ষেত্রে অন্যান্য লোকদের মতই। এর শেষেই শী’আদের ইমাম জাফর সাদেক লেখেন যে, জিব্রাঈল বেহেস্ত থেকে একটি হারিয়া (কোন এক প্রকার খাবার বস্তু) আনেন। অতঃপর জনাবে রাসূলে খোদা এবং হযরত আলী, ফাতেমা, হাসান ও হুসাইনগণ তা বক্ষণ করেন। ফলে রাসূল (সাঃ) এর ৪০জনের যৌন বা সহবাসের শক্তি অর্জন হয়। এর পর অবস্থা এমন হয় যে, রাসূল ইচ্ছা করলে এক রাত্রেই সকল বিবিদের সঙ্গ দিতে পারতেন। (হায়াতুল ক্বুলুব ২য় খণ্ড ৮৯৬নং পৃষ্ঠা) এমনি ভাবে এই মালউন লেখক “উসূলে কাফী”-এর তরজমা “আশ শাফী” তে লেখেছে যে, “মানুষে বলে থাকে আগুনে সর্ব প্রথম প্রবেশকারী রাসূলে খোদা”। (নাউযুবিল্লাহ) (হায়াতুল ক্বুলুব ২য় খণ্ড ১৭নং পৃষ্ঠা) এ ধরণের আকীদা পোষণকারীদের হত্যা করা নিঃসন্দেহে ওয়াজিব এবং এরা জাহান্নামি। এরা ফেরাউন থেকেও নিকৃষ্ট এবং আবু লাহাবের চেয়েও বেশী বদকার। রাসূল (সাঃ)-এর সন্তানগণের ব্যাপারে অপবাদ—
চার. “হুজুর (সাঃ) এর মেয়ে সাইয়িদা রুক্বাইয়া, সাইয়িদা উম্মে কুলসুম যারা একের পর এক উসমানের বিবাহনাধিন ছিলো তারা রাসূলের মেয়েই ছিলো না” “যেমনি ভাবে আবু হুরাইরার পিতা এবং আব্দুল কাদের জিলানীর পিতার ফায়সালা আজ পর্যন্ত হয়নি, ঠিক তেমনি ভাবে উসমান গণীর স্ত্রীদের ফায়সালাও আজ পর্যন্ত হয়নি। তাদের পিতা নিশ্চিত ভাবে রাসূল (সাঃ) না”। (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক) (ক্বওলে মাকবুল ৪৭৯নং পৃষ্ঠা)
পাঁচ. রাসূল (সাঃ)এর স্ত্রীর ব্যাপার শী’আ ইসনা আশারিয়াদের আকীদা হলো- “ইমাম মুহাম্মাদ বাকের থেকে বর্ণিত, যখন আলে মুহাম্মাদ প্রতিষ্ঠিত হবে, তখন (নাউযুবিল্লাহ) আয়েশা সিদ্দীকাকে জীবিত করা হবে এবং তার উপর হদ জারী করা হবে। (হায়াতুল ক্বুলুব ২য় খণ্ড ৯০১নং পৃষ্ঠা)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন