বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

মৃত্যুর পদযাত্রা… চিন্তার পুনর্গঠন







উদ্বাস্তু৷ দেশত্যাগী মানুষ৷ পুরুষ৷ নারী৷ শিশু৷ পরিবার৷ আপন ঘর বাড়ি ছেড়ে অজানা গন্তব্য পথ চলা৷ দেশহীন মানুষের পথ চলা৷ সিরায়াসহ দেশে দেশে৷
নবীজীর মক্কী জীবনে হিজরত করতে হয়েছে হাবাশার দিকে৷ ইথিউপিয়ার দিকে৷ পরে মদীনার পথে৷ কাফেরদের নির্যাতণ থেকে বাঁচার জন্য৷ ঈমান আমল হেফাজতের জন্য৷ আকীদা বিশ্বাস ঠিক রাখার জন্য৷
হিজরত ছিলো যুগে যুগে৷
উপমহাদেশে ১৯৪৭ সালে ভারতীয় মুসলমানদের হিজরত করতে হয়েছে পাকিস্থানের দিকে৷ পৃথক ভূমি৷ ট্রেন টু পাকিস্থান৷ মৃত্যুর ঝুকি মাথায় নিয়ে হিজরত৷ আটশ বছর যারা দেশ শাসন করেছে তারা আপন আবাসন ছেড়ে অন্য জায়গায়৷ তাজমহল, কুতুব মিনার ও লাল কিল্লা ছেড়ে নতুন দেশে৷ কী দুর্বিসহ সেই সব দিন রাত৷ বিরহ৷ বিচ্ছেদ৷ স্মৃতি৷ মায়া৷ সব ছেড়ে পাকিস্থানের পথে৷ হত্যার হাতছানী পথে পথে ছিলো৷ তবুও স্বপ্নের পাকিস্থানে পাড়ি জমানো৷ স্বপ্ন মরিচিকা হলেও পৃথক আবাস ভূমি৷ বৃটিশের জুলুম কূটচাল কুটনামী থেকে রেহায় পাওয়ার প্রত্যাশায়৷ পৌত্তলিক শক্তির কবল থেকে বাঁচার আশায় ভারত থেকে পাকিস্থানে হিজরত৷ মিড নাইট অব ফ্রিডম৷
ভরত যখন স্বাধীন হলো৷ আসলে মুহাজিররা পাকিস্থান কা মতলব কিয়া হ্যায়? লা ইলাহা ইল্লাহ এর বাস্তবায়ণ কি পেয়ে ছিলো?
আইয়ুব শাহীরা কি সেই কালেমার বাস্তবায়ণ করতে দিয়েছে?
সেই মুহাজিরদের পাকিস্থানে মুহাজির কওমী মুভমেন্ট করতে হয়৷ সেই পাকিস্থান ফেরকাবাজির দেশ৷ মসজিদেও লাশের সাড়ি৷ লাশের বহর৷ মৃত্যুপুরী৷ সাচ্চা মুসলমান হলে ডলারের বিনিময় বিক্রি করা হয়৷ সেই পাকিস্থানে জালেম পারভেজ লাল মসজিদ নাটক করে৷ সেই স্বপ্নের ইসলামী রাষ্ট্রের আমীরুল পাকিস্থান হয় বেনজির ভুট্টু৷ সন্ত্রাস সেখানে মোটর সাইকেলে ঘোরে৷
সেই পাকিস্থানের মাশেরেকী অংশে হিজরত করে বিহারীরা৷ মাশরেকী পাকিস্থানে তাঁরা জালেম ও মজলুম হয়৷ ৭১ সালে সেই বিহারীরা হত্যার শিকার হয়৷ তাঁদের কোনো যাওয়ার জায়গাও থাকে না৷ কোথায় যাবে তাঁরা? জীবন তাদের বিহারী ক্যাম্পে৷ জেনেভা ক্যাম্পে৷ আসলেই মানবেতর জীবন৷ মুহাম্মদপুর বিহারী ক্যাম্পে বা ময়মনসিংহ ব্রীজের কাছে বিহারী ক্যাম্পে গেলেও দেখা যায় তাদের মানবেতর জীবনের চিত্র৷ কেউ খোঁজ রাখে না সেই বিহারীদের৷ দেশহীন জাতি তাঁরা৷
মৃত্যুর এই পদযাত্রা হয়ে ছিলো প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধেও৷ বলশেভিক বিপ্লবের পরও শুরু হয়ে ছিলো মৃত্যুর এই কাফেলার৷ সাইবেরিয়ার গল্প শত শত৷
১৯৪৮ সাল থেকে ফিলিস্থিনের মুসলিমরা সেই মৃত্যুর পথযাত্রায় হাঁটছে৷ সেই মিছিলে নারী শিশু৷ বৃদ্ধা বনিতা৷
আরাকানেও সেই মুসলমানদের মৃত্যু কাফেলা৷ তাঁরা ভাসে নদী থেকে নদীতে৷ সাগরে সাগরে৷ পেশাব খেয়ে চিৎকার করতে হয় বাঁচার আশায়৷
বসনিয়াতেও ভাসে রক্তস্রোতে৷
মধ্য এশিয়াতেও সেই মৃত্যু কাফেলা৷
ঝিলাম নদীতেও ভাসে সেই সব মৃত্যুর পথযাত্রীর লাশ৷
সেই কাফেলা সুদানে, ইন্দোনিশায়৷ দক্ষিন সুদান ও পূর্ব তিমুর স্বাধীন হয় মুসলমানদের মেরেই৷
এইসব বললে কেউ কেউ সমাধান খোঁজে জেহাদ থিউরিতে৷ আসলেই কি জেহাদ এই সবের সমাধান?
১৪ বছর আগে নাইন এলিভেন ৯/১১ হলো৷ এই সেপ্টেম্বরেই ছিলো টুইন টাওয়ারের কাহিনী৷
পৃথিবীর সব ছক বদলে গেলো৷
সেই বিন লাদেন মরলো এগারো বার৷ নাটল চলল এবোটাবাদে৷ সেই মতলব কিয়া হ্যায়ের পাকিস্থানে৷ যারা না কি এটমের মালিক৷
সেই বিন লাদেনকে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হলো৷
শুনি আবার তিনি সাগর থেকে জীবীত হয়েছে৷
কত বার মরে কত বার জাবীত হয় সেই বিন লাদেন?
জেহাদ থিউরী কি কাজে লাগলো এইখানে?
জাওয়াহিরীর হুংকার কোথায়? মোল্লা থাকতে আবার আলবাগদাদীর আমীরুল মুমিনীন!
কী হচ্ছে এ সবে৷ সেই মৃত্যুর কাফেলা লম্বা হচ্ছে৷
মৃত্যুর পদযাত্রা চলছে অস্ত্রব্যবসায়ীরা হাঁটছে৷ হাসছে৷
জেহাদ ফরজ৷ কিন্তু কখন? কীভাবে? কার সাথে? কোন প্রেক্ষাপটে? আধুনিক যুগে কীভাবে হবে?
এটম ও ড্রোনের মোকাবেলা কীভাবে?
আরও শত বিষয় মিমাংসা না করে জেহাদের নাম যা হচ্ছে তাতে উম্মাহর কী লাভ হচ্ছে?
সিরায়ার উদ্বাস্তু সিরিয়ার অভিবাসী সিরিয়ার রিফুজিদের সমাধান কী?
সেই আইলানদের তো ভাসতেই হচ্ছে সাগরে সাগরে৷ সেই আফগানে বিগত ৩৫ বছরে কী হলো? সেই উদ্বাস্তুদের সমাধান কি শুধুই অস্ত্র?
যুদ্ধই কি সমাধান সব কিছুর? জেহাদই কি সমাধান সব সমস্যার?
গোপন সংগঠন করে মুরতাদ কয়েকটি খতম করলেই কি সব সমস্যার সমাধান?
আধুনিক যুগে ইসলামের উপস্থাপনার পদ্ধতি কি মারিয়া কাটিয়া এবং দেশে দেশে নিজেরা আবার উদ্বাস্তু হইয়া করিতে হবে!
দাওয়াহ মিশনের কি কোনো প্রয়োজন নেই?
হুদায়বিয়ার সন্ধি, মদীনা সনদের শিক্ষার কোনো প্রয়োজন নেই?
সিরিয়ার উদ্বাস্তুদের খৃস্টান বানানো হচ্ছে এর সমাধান কি জেহাদ থিউরিতে জার্মান আক্রমন?
তালীম, দাওয়াহ, আখলাক থিউরি কি মনসুখ? রহিত সব আমল?
সিহাহ সিত্তার সব কিতাব বাদ দিয়ে কিতাবুল জেহাদ কি শুধু বাস্তবায়ণ করতে হবে গ্লোবালাইজেশনের যুগে?
চিন্তার পুনর্গঠন প্রয়োজন৷ তবে মনে রাখতে হবে জেহাদ ফরজ৷ অস্বীকারকারী কাফের৷ তবে মক্কী জীবনের ধাপের কাজগুলোও করতে হবে৷
দাওয়াহর কার্যক্রম করতে হবে৷
সিরিয়ার উদ্বাস্তুদের পাশে দাঁড়াতে হবে সকলকে৷
মানবতা কাঁদছে আজ৷ বিপন্ন মানবতার পাশে দাঁড়াতে হবে সেবার অস্ত্র নিয়ে৷

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন