(১) হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নামে পশু কুরবানীর গোশত খাওয়ার হুকুমঃ
..................................................................................................................
..................................................................................................................
বর্তমান সময়ে কোন ব্যক্তি যদি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নামে ছাগল, বকরী, ভেড়া, দুম্বা ইত্যাদি কুরবানী দেয়া অথবা গরু, মহিষ, উটের সাত নামের মধ্যে যদি এক নাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাম মুবারকে দেয়, তবে উক্ত কুরবানীকৃত গোশত সকলে খেতে পারবে | আর এটা অছিয়তকৃত গোশতের হুকুমের অন্তুর্ভূক্ত হবে না | কেননা হাদীছ শরীফে আছে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আলী আলাইহিস সালামকে বিশেষভাবে কুরবানী করার জন্যে যে নির্দেশ দিয়েছেন এটা উনার জন্যই খাছ |
বর্তমান সময়ে কোন ব্যক্তি যদি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর তরফ থেকে কুরবানী দেয়, তবে এটা তার ফযীলত, তথা বারাকাত, ফুয়ুজাত, নিয়ামত, রহমত, মাগফিরাত, নাজাত সর্বোপরি আল্লাহ্ পাক ও উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সন্তুষ্টি লাভ করা ও তার কুরবানী কবুল হওয়ার একটি উসীলা |
কাজেই আল্লাহ্ পাক-এর রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর তরফ থেকে যদি কেউ কুরবানী দেয়, তবে উক্ত কুরবানীকৃত গোশত সকলেই খেতে পারবে |
{দলীলসমূহ: আবূ দাউদ, তিরমীযী, বজলুল মাজহুদ, শরহে তিরমীযী, মিশকাত, মিরকাত, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত, ত্বীবী, তালিক ও মুজাহের ইত্যাদী}
(২) সন্তানের নামে আক্বীকার জন্য পশুর গোশত পিতা-মাতার জন্য খাওয়া জাযিয আছে কিনা?
.......................................................................................................................
.......................................................................................................................
যারা বলে, সন্তানের নামে যে পশু আক্বীকা দেয়া হয় তার গোশত পিতা-মাতা খেতে পারবে না তাদের সে কথা শরীয়ত সম্মত নয় | শরীয়তের মাসয়ালা হলো, আক্বীকার পশুর গোশতের হুকুম কুরবানীর পশুর গোশতের হুকুমের মত । কাজেই, সন্তানের নামে যে পশু আক্বীকা দেয়া হবে তার গোশত পিতা-মাতাসহ সকলেই খেতে পারবে | এটাই শরীয়তসম্মত মাসয়ালা বা ফতওয়া |
{দলীল: সমূহ ফিক্বাহর কিতাব}
(৩) হালাল পশুর কোন কোন অংশ খাওয়া নিষিদ্ধ?
.......................................................................
.......................................................................
কুরবানী বা হালাল পশুর ৮টি জিনিস খাওয়া যাবেনা | (১) দমে মাছফুহা বা প্রবাহিত রক্ত হারাম, (২) অ-কোষ, (৩) মূত্রনালী, (৪) পিত্ত, (৫) লিঙ্গ, (৬) গুহ্যদ্বার, (৭) গদুদ বা গুটলী মাকরূহ তাহরীমী, (৮) শিরদাড়ার ভিতরের মগজ, এটা কেউ মাকরূহ তাহরীমী, আবার কেউ মাকরূহ তানযিহী বলেছেন |
{দলীলসমূহঃ শামী, মাতালেবুল মু’মিনীন, উমদাতুল কালাম, কিতাব- শাইখুল ইসলাম ইত্যাদি |
(৪) কুরবানীর পশু যবেহ করার পূর্বে চামড়া বিক্রি করা জায়িয আছে কি?
......................................................................................................
......................................................................................................
কুরবানীর পশু অথবা অন্য যে কোন হালাল পশুই হোক, তা যবেহ করার পূর্বে চামড়া বিক্রি করা জায়িয নেই | এমনিভাবে বাঁটে দুধ থাকতে, ঝিনুকে মুক্তা থাকতে, মেষের পিঠে লোম থাকতে, সে দুধ, মুক্তা, লোম বিক্রি করা নাজায়িয |
(ফতওয়ায়ে শামী)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন