হরমোনের প্রভাবে বয়োসন্ধিকাল থেকে খুব স্বাভাবিকভাবেই পুরুষের কোমলমুখ জুড়ে দাড়ি নামক পশম গজিয়ে ওঠে। মানুষের মধ্যে নারী এবং পুরুষের শারীরিক বৈচিত্র্যের এ ক্ষেত্রে একটি দারুন পার্থক্য সূচিত হয়। হাল ফ্যাশনে ক্লিন শেভ করা কিংবা বিভিন্ন নকশায় দাড়ি রেখে দেওয়ার চল আছে। রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে লিও তলস্তয়, ফিওদর দস্তয়েভস্কি, উইলিয়াম শেক্সপিয়ার, ওয়াল্ট উইটম্যান, কার্ল মার্কক্স, ফ্রেডরিখ অ্যাঙ্গেলস্, চে গুয়েভারা, ফিদেল কাস্ত্রো এদের সবার মুখেই ফ্রি স্টাইল লম্বা দাঁড়ি ছিল বা আছে। তাছাড়া নায়কদের খোঁচা খোঁচা দাড়ি রাখারও একটা ফ্যাশন বের হয়েছে। তার থেকেও লক্ষণীয় যে, ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে দেখলে মুসলমান পুরুষের জন্য দাড়ি রাখাকে অবশ্য কর্তব্য বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে, খ্রিস্টানদের জিসাস ক্রাইস্টের ছবি কিংবা মূর্তিতে তারা যে রূপ চিত্রিত করে থাকেন তাতেও বোঝা যায় জিসাস ক্রাইস্টের দাড়ি ছিল, ইহুদী রাব্বিদের মুখেও দাড়ি দেখা যায়, হিন্দু প্রাচীন ঋষিদের মুখেও যে লম্বা লম্বা দাড়ি ছিল তা তাদের ছবিতে দেখা যায়, শিখ ধর্মাবলম্বীরাও তাদের জন্য লম্বা চুল-দাড়িকে একটি ট্রেডমার্ক করে নিয়েছে!
ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন কুইন্সল্যান্ডের এক দল গবেষকের দাবী, দাঁড়ি-গোঁফ রাখলে পুরুষেরা অনেক স্বাস্থ্য সুবিধা পেয়ে থাকেন! এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘রেডিয়েশন প্রটেকশন ডোজিমেট্রি’ নামক জার্নালে। এ গবেষণাটি পরিচালনা করার জন্য অস্ট্রেলিয় এ গবেষক দলটি দাড়িওয়ালা এবং শেভ করা বিভিন্ন গ্রুপের পুরুষকে পর্যবেক্ষণ করেন। তারা এই বিভিন্ন গ্রুপের পুরুষদেরকে দিনের তপ্ত সূর্যের নিচে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দাঁড় করিয়ে রাখেন। এরপর গবেষকেরা পরীক্ষা করে দেখেন কে কতোটুকু রেডিয়েশন শোষণ করেছেন। গবেষণায় দেখা যায়, দাড়ি সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি ঠেকায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত। এটা দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়া থেকে পুরুষকে রক্ষা করে এবং ত্বকে ক্যান্সারের ঝুকিও কমায়।
তবে মনে রাখা দরকার, যারা দাঁড়ি রেখেছেন কিংবা রাখবেন বলে ভাবছেন, অবশ্যই দাঁড়ি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কেননা, অপরিষ্কার অপরিচ্ছন্ন দাড়ি বিভিন্ন রোগের সংক্রমণও ঘটাতে পারে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন