বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

মক্কাতুল মুকাররমা৷

বালাদুল আমীন৷ বাদশাহ হলেন খাদেমুল হারামাইন৷ হাজীগন দয়ূফুর রহমান৷ আল্লাহর মেহমান৷ সৌদী সরকারের হাজার সমস্যা ও সমালোচনা আছে কিন্তু সব কিছুর পরও তাঁরা হাজীদের সেবক৷ বাদশাহ হয়েও হারামাইনের ঝাড়ু দিয় সৌভাগ্যবান মনে করে৷ শিয়ারা হারামাইনের বিরুদ্ধে কাজ করে৷ কাজ করে ইসলামবিরোধী অন্যান্য চক্রও৷
সাইমুম একটি শব্দ শুনেছিলাম৷ আরবীতে সামুম৷ আওয়াসিফ৷ ঝড়বায়ূ৷ জুমার দিন বাদ আসর৷ দুআ কবুলের সময়৷ হঠাৎ মেঘ৷ গর্জন৷ প্রবল বর্ষণ৷ ঝড়ের আঘাত৷ মক্কাতুল মুকাররমায় প্রতি বছর এভাবে বৃষ্টি বাদল হয় না৷ ইতিহাস ঘাটলে চার পাঁচ বার হয়তো মক্কা এলজাতীয় দূর্ঘটণার কবলে পড়েছে৷ ঘর আল্লাহর৷ মানুষগুলো যারা ইহরামের হালাতে আল্লাহর রহমতের ঘরে ছিলেন৷ তারাও আল্লাহর৷ হাজীগন আল্লাহর খাস মেহমান৷ আল্লাহই পাঠিয়েছেন সেই ঝড়৷ কিছু মানুষকে আল্লাহ শহীদী মৃত্যু দিয়েছেন৷ কেউ আহত যারা আজীবন শরীরে আল্লাহ দেওয়া ক্ষত বহন করবেন প্রেমের স্মৃতি হিসেবে৷ প্রেমের আলামত৷সতরাং এখানে কথা বলা হবে কার বিরুদ্ধে?
দুর্ঘটনার পর হারামাইন কর্তপক্ষ আরও সতর্ক হবেন৷ তাঁরা আগে থেকেই সতর্ক৷ এখানে বিন লাদেন কোম্পানীকে দোষ দিয়ে লাভ নেই৷ এই বিন লাদেন কোং এর অসামান্য অবদান হারামাইনের খেদমতে৷ শায়খ ডক্টর আসসোদাইস আছেন মসজিদে হারামের কর্তপক্ষের প্রধান দায়িত্বে৷ ঘটনার পর তিনি শহীদদের জন্য দুআ করেছেন হাত তোলে৷ আবেগময় তিলাওয়াত হয়েছে সালাতে সালাতে৷ শায়খ মুহাম্মদ মামুনুল হক তাঁর এক লেখায় বিবরণ দিয়েছেন ঘটনার৷ তিনি সস্ত্রীক আছেন মক্কাতুল মুকাররমায়৷
প্রায় ৫০০০০০ (পঞ্চাশ লাখ) মেহমানের ব্যবস্থাপনা সহজ কোনো কাজ নয়৷
নয়ন চ্যাটার্জিরা সাবুটাজ দেখলেও আমার মনে হয় এটি একটি দুর্ঘটনা শুধু৷
মক্কা কাবা মদীনা নিয়ে হাজার ষড়যন্ত্র হয়তো আছে কিন্তু জুমা বারের বিষটিতে কারোর হাত নেই৷ ক্রেন তো কাজের জন্য লাগবেই৷ সেটি ঝড় হাওয়ায় পড়ে গেলেও টুইন টাওয়ারের লাদেন আসে এটি বিটলামী কথা৷ প্রলাপ৷ তাহলে বলা যায় এটি কোনো চক্র দূর থেকে ঘটিয়েছে৷ ঝড় সৃষ্টি করেছে কোনো ইহুদীচক্র! আরও অনেক কিছু অমূলক ধারণা করা সম্ভব৷
যাক যারা রহমতের ঘর থেকে রহমতের ছায়ায় চলে গেলেন তাঁরা তো লাব্বাইক বলে জান্নাতে যাবেন৷ হাদীস তো তাই বলে৷
সেই শহীদী পরিবারের জন্য সবরের দুআ৷
আগের যুগে বাড়ী থেকে বিদায় নিতো মক্কা মদীনায় মরার জন্য৷ কত আকুতি পবিত্র সেই ভূমিতে কবরের মাটি পাওয়ার!
জুমাবারে যারা মারা গেলেন তাঁরা সত্যিই ভাগ্যবান৷ না চাইতেই রহমতের বৃষ্টি৷ শহিদী মউত৷
বাদশাহ সালমানের পক্ষে বলার ইচ্ছে নাই তাঁরা সিরিয়ার উদ্বাস্তু নিয়ে যা করেছেন তা মুসলিম উম্মাহর চেতনা নয়; তবে তিনি আহতদের নিজে খোঁজ নিয়েছেন দেখে ভালো লাগলো৷
আমি সৌদী শাসকের বিলাসিতার বিপক্ষে তবে তাঁরা যে হারামাইনের খেদমত করে তাঁর পক্ষে৷
তবে মক্কা মদীনায় রাজকীয় প্রসাধ না হয়ে সেই আগের যুগের মক্কা মদীনা হলে ভালো হতো৷ মানুষ অতীতে কেমন ছিলেন সাহাবায়ে কেরাম তা জানতে পারতেন৷
সৌদী সরকারের কুরআনের খেদমত ও হারামাইনের খেদমত অতুলনীয়৷
মক্কা ট্রাজেডির কোনো লাশ বা দূর্ঘটনার চিত্র বা ছবি কেউ কমেন্টে দেবেন না আশা করি৷
বালাদুল আমীন সেটি নিরাপদ শহরই৷ সব লাশ ও ঘটনার ছবি ঘটা করে দিতে নাই৷ চৌদ্দশত বছরের নিরাপদের ছবি কাম্য…

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন