হজরত মুসা আ. মিসরে অবস্থানকালে এক ইসরাইলি এবং এক মিসরির ঝগড়া থামাতে গিয়ে মিসরিকে থাপ্পড় মারলে সে তৎক্ষণাত মৃত্যুবরণ করে এবং ফেরাউনের লোকজন মুসা [আ.]-কে গ্রেফতার করার জন্য সৈন্য প্রেরণ করে। তাদের হাত থেকে বাঁচতে মুসা [আ.] পার্শ্ববর্তী মাদয়ান দেশের দিকে হিজরত করেন। মাদয়ানে এসে তিনি একটি কূপে দুটি বালিকার পশুগুলোকে পানি পান করানোর জন্য এগিয়ে যান। তবে এই কূপের বর্ণনা বিভিন্ন রেওয়েতে বিভিন্নভাবে এসেছে।
কোনো কোনো মুফাসসির মনে করেন, হজরত মুসা [আ.] দেখলেন কূপের মুখে একটি বিরাটকায় পাথর ঢাকা দিয়ে রয়েছে। একদল লোক একসঙ্গে শক্তি প্রয়োগ করলে পাথরটিকে তার জায়গা থেকে সরানো যেতে পারে। কিন্তু তিনিই অগ্রসর হলেন এবং একাকীই পাথরটিকে সরিয়ে বালিকা দুটির পশুগুলোর জন্য পানি পূর্ণ করে দিলেন। আবদুল ওয়াহ্হাব নাজ্জার বলেন, এই উক্তিটি কুরআনুল কারিমের বর্ণনার বিরোধী। কারণ, কুরআন মাজিদ বলে—
وَلَمَّا وَرَدَ مَاءَ مَدْيَنَ وَجَدَ عَلَيْهِ أُمَّةً مِنَ النَّاسِ يَسْقُونَ
‘যখন সে (মুসা) মাদয়ানের কূপের কাছে পৌঁছলো, দেখলো, একদল লোক তাদের পশুগুলোকে পানি পান করাচ্ছে।’ [সুরা কাসাস : আয়াত ২৩]
তবে এ-কথা কেমন করে শুদ্ধ হতে পারে যে, কূপের মুখ পাথর দিয়ে ঢাকা ছিলো? এই উক্তি যেমন শুদ্ধ ও সঠিক নয় তেমনি এ-ব্যাখ্যাও ঠিক নয় যে, ওখানে দুটি কূপ ছিলো। একটি থেকে মাদয়ানের লোকেরা তাদের পশুগুলোকে পানি পান করাচ্ছিলো আর অপর কূপটির মুখ পাথর দিয়ে ঢাকা ছিলো। আর এই বর্তমান যুগে ওখানে দুটি কূপের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
ওখানে দুটি কূপ থাকার ব্যাখ্যাটি শুদ্ধ ও সঠিক না হওয়ার কারণ এই যে, প্রথমত, কুরআনুল কারিম আর-একটি কূপের কথা আদৌ উল্লেখ করে নি এবং যা-কিছু বর্ণনা করেছে এই কূপের সম্পর্কেই বর্ণনা করেছে। দ্বিতীয়ত, পরবর্তীকালে ওই জায়গায় দুটি কূপ বিদ্যমান থাকার দ্বারা এটা অবধারিত হয় না যে, তৎকালেও ওখানে এমনই দুটিই কূপ ছিলো। সম্ভবত দীর্ঘকাল পরে বা ইসলামি যুগে প্রয়োজনের কারণে ওখানে দ্বিতীয় কূপটি খনন করে নেয়া হয়েছে। সুতরাং কুরআনুল কারিমের পরিষ্কার ও সাদাসিধে বর্ণনাকে শুধু একটি নির্ভর-অযোগ্য রেয়ায়েতের খাতিরে জটিল বানিয়ে নেয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অসঙ্গত।
সূত্র : কাসাসুল কুরআন, তাফসিরে ইবনে কাসির, নবীদের কাহিনিী
হাফেজ মাওলানা সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন