বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০১৫

ভেনিসে গীর্জা থেকে নির্মাণ হচ্ছে ইতিহাসের প্রথম মসজিদ


ইতালির ঐতিহ্যের শহর ভেনিসে স্থাপিত হচ্ছে নগরীর প্রথম মসজিদ। একটি খৃস্টান গির্জাকে ভেঙে স্থাপিত হচ্ছে এই মসজিদ। শনিবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সাত মাস চলবে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম।
৪০ বছর ধরে বন্ধ থাকার পর ‘শান্ত মারিয়া দেলা মিজেরিকডিয়া’ গীর্জাটি সম্প্রতি কাতার সরকারের অর্থায়নে নির্মাণ করা হচ্ছে। মসজিদে থাকছে আধুনিক শিল্পকলা। মসজিদকে নির্মাণ করা হবে বিশ্বের সবচেয়ে নামকরা প্রদর্শনী ‘ভেনিস বিনালে’র অংশ হিসেবে।
সুইডেনের শিল্পী ক্রিস্টোফার বুশেলের ডিজাইন অনুযায়ী প্রদর্শনীর প্রবেশে পথে মসজিদটি স্থাপন করে মূলত ইসলামের প্রতি কিছু মানুষের মনোভাবকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। তারা দেখতে চান এই উদ্যোগের বিপক্ষে কেমন প্রতিক্রিয়া হয়। গীর্জাকে মসজিদে রূপান্তরিত করা ভেনিসের ইতিহাসে এই প্রথম।
স্থানীয় পুলিশ অবশ্য এটি নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন। তারা সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-৪ এর কাছে আশংকা প্রকাশ করে বলেছেন, বিষয়টি (গীর্জাকে মসজিদ বানানো) স্পর্শকাতর হওয়ার কারণে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতেও পারে।
এ বিষয়ে ভেনিস ইসলামিক কমিউনিটির সভাপতি মুহাম্মদ আমীন আল আহদাব নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, প্রতি বছর এখানে লাখো মুসলিম পর্যটক আসেন। তারা বিস্ময়ের সাথে জিজ্ঞেস করেন যে শহরে এসে ইসলামের ইতিহাসের বহু নিদর্শন দেখা যায় সেখানে কোনো মসজিদ নেই কেন? শত শত বছর ধরে ভেনিসের বিভিন্ন স্থাপনায় ইসলামের স্থাপত্যশৈলীর প্রভাব বিদ্যমান রয়েছে।
সেখানে বহু মুসলিম থাকেন। কিন্তু সেখানে কোনো মসজিদ না থাকায় তাদেরকে স্টোর রুম বা দোকানে নামাজ আদায় করতে হয়। ভেনিস প্রায় এক হাজার বছর ধরে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ছিল। তখন পার্শ্ববর্তী উসমানীয় সাম্রাজ্যের সাথে এটির ব্যবসায়িক সম্পর্ক থাকলেও ভূমধ্যসাগরের পূর্ব দিক নিয়ন্ত্রণের জন্য অনেক সময় বিবাদেও জড়িত হয়েছিল। এক পর্যায়ে ১৫৭১ সালে তুর্কি বাহিনীর সাথে গ্রিসের লেপান্ত নামক স্থানে ভয়াবহ যুদ্ধ হয় এবং এতে ভেনিস শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। এর প্রায় সাড়ে ৫০০ বছর পর চলতি বছরের শুরুর দিকে কাতার ভেনিসের রিয়ালটো ব্রিজের কাছে ইসলামী সংস্কৃতির ওপর একটি জাদুঘর তৈরির প্রস্তাব দেয়। বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরোধিতার মুখেই অবশেষে কাতারের প্রচেষ্টা সফল হলো। সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন