বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

ইবনে তাইমিয়া,হানাফি ও দেওবন্দি ঘরানা : কিছু বইয়ের খোঁজ

এই অঞ্চলে তাইমিয়া পাঠ নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। বিশেষত সালাফি-প্রভাবিত এবং ইসলামপন্থীদের ঘরে ও ঘরানায়। একই সাথে, অতএব, এ অঞ্চলের তাইমিয়া পাঠ নিয়াও প্রশ্ন উঠছে।তবে এ অঞ্চলের বয়ান জানার জন্য অনুমান নয়, উলামায়ে কেরামের কাছ থেকে ইবনে তাইমিয়ার বিষয়ে মন্তব্য শুনতে হবে।
ধরেন, আমি মাদরাসায় পড়ি। দাওরা। আমাদের প্রায় আলোচনায় ইবনে তাইমিয়ার কথা আসে। সম্মানের সাথেই। তবে ইবনে তাইমিয়ার কিছু নিজস্ব মন্তব্য ছিল_ ইজতেহাদ, সেখানে অনেকের দ্বিমত থাকতেই পারে।এই বিষয়ে সবচেয়ে ভালো আলোচনা করেছেন, ইমাম আবু জুহরা এবং তার মতামত সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য।
সে যাই হোক, ইবনে তাইমিয়ার লেখাজোখা নিয়া আলাপ হওয়া দরকার। সচেতনভাবেই। তাইমিয়াকে সরাসরি তার বই থেকে পড়লে হানাফি ও তাইমিয়ার তর্ক থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। অনেকে তাইমিয়ার কিছুই পড়েনি, শুধু শুনে এসেছে, তাইমিয়া এই , তাইমিয়া সেই। এবং সে সূত্রেই নানা মন্তব্য করছে_ হাস্যকর।
মুশকিল হল, আমাদের সামনে যে তাইমিয়া হাজির আছে, সে সঠিক ভাবে হাজির নাই। ফলে তাইমিয়া ও ইলমে কালাম, তাসাউফ, ফিকাহ ও আকিদা, এইগুলা নিয়া আলাদা আলাপ হইতে পারে। কিছু উদাহারণ দেই।
১/ রাজনৈতিক ভাবে তাইমিয়ার বক্তব্য সবচেয়ে বেশি মিল হানাফিদের সাথে। দেখুন, ইবনে তাইমিয়ার রাজনৈতিক চিন্তা, হাসান কুনাকাতার পিএইচডি থিসিস ।
২/ তাইমিয়ার আকিদা চিন্তাকে সমর্থন করে, সর্বপ্রথম যিনি বই লিখেন, তিনি একজন হানাফি,নাম ইবনে আবিল ইজ শারহে আকিদায়ে তাহাবি। বাংলাদেশে কিছু কওমি মাদরাসায় তাইমিয়ার আকিদা গ্রন্থ পাঠ্যভুক্ত, যেমন দারুল মাআরিফ ও দারুল আরকাম। তবে তার সাথে কিছু দ্বিমত আছে, আবু জুহরার বইটার সাথে আশরাফ আলি থানবির তুহফাতুল উলামা বইটার ইলমে কালাম অংশ দেখলে পরিষ্কার হবে।
৩/ দেওবন্দিদের মধ্যে তাইমিয়ার ইতিহাস ব্যাখ্যা, সালাফ ও মুশাজারাতে সাহাবার বিষয়ে সম্পূর্ণ সমর্থন আছে। দেখুন, আমিরে মুয়াবিয়া ও তারিখি হাকায়েক, তাকি উছমানি।
৪/ ইবনে তাইমিয়ার তাসাউফ বিরোধিতা নিয়া নানা কিছু চালু আছে। এই বিষয়ে উয়াইস নাদাবির লেখা একটা প্রবন্ধ আছে, তাসাউফ কিয়া হ্যাঁয় বইয়ে। এর সমর্থন পাবেন, থানবি রহঃ এর শরিয়াত ও তরিকাত বইয়ে। তবে ভাষা বিষয়ে ইবনে তাইমিয়ার যে কঠোরতা আছে, সেখানে দেওবন্দিরা মনে করে, শুধু ভাষার ভিত্তিতে কাউকে তাকফির বা তাবদি করা যাবেনা, দেখুন, সিরাতে মনসুর হাল্লাজ, জুফার আহমদ উছমানি।
৫/ তাইমিয়ার গ্রীক লজিক ও দর্শন সমালোচনার বিষয়ে দেওবন্দিদের ইতিবাচক মনোভাব থাকলেও, এই ক্ষেত্রে খালদুনের তরিকা অবলম্বন করতে তারা আগ্রহী। দেখুন, থানবির তুহফাতুল উলামার মান্তেক ও ফালসাফা অংশ।
আরবে ইবনে তাইমিয়ার যে সমালোচনা আছে, ছুফি, মাজহাবি ও কালামি ধরানার মধ্যে, সে তুলনায় উপমহাদেশের উলামারা তাইমিয়াকে অনেক সম্মান করেন। সাধারণত কোন সমালোচনা করেননা। কারণ তারা সরাসরি তাইমিয়া পড়েন, তাইমিয়ার হাজির বয়ান পড়েননা। এর একটা উজ্জ্বল চিত্র পাবেন, আলি নাদাবির লেখা থানবি রহঃ এর স্মারকে। থানবি ও তাইমিয়ার বোঝাপড়ার সম্পূর্ণ একটা চিত্র এখানে পাবেন।
এখন সালাফিদের কট্টর-উপমহাদেশি ট্র্যাডিশনের সমালোচনার কারণে কেউ কেউ বাধ্য হয়ে কিছু উত্তর দিচ্ছেন। তবে এটা নিছকই প্রতিরোধী সংস্কৃতির অংশ। একাডেমিক আলোচনার অংশ নয়।
তাইমিয়ার পাঠ যেমন জরুরী,অতএব, তেমনি জরুরী সচেতন তাইমিয়া পাঠ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন