মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

কিছু মানুষ পাগড়ীর ফজিলত শুনে পরনের লুঙ্গি খুলে মাথায় বাঁধে।

জামালপুরে তাবলিগে এসেছি। আগেই শুনেছি এখানে 'লা মাজহাবী'দের উৎপাত অনেক বেশি।
আসলেই তাই। এসব এলাকায় সরলমনা সাধারণ মানুষগুলোকে এক দিকে খৃষ্টানরা খৃষ্টান বানাচ্ছে, অন্যদিকে 'লা মাজহাবী'রা সরলমনা মুসল্লীদেরকে বিভ্রান্ত করে চলছে।
বাজারের এক তাবলিগের সাথীকে জিজ্ঞাসা করলাম, এসব এলাকায় 'লা মাজহাবী' ভরে গেছে, কেউ কিছু বলেন না? " উত্তরে তিনি বলেন, তাদেরকে বুঝাতে গেলে বুঝার চেষ্টা না করে গালিগালাজ করে, এমন কী মারামারি করতেও কুন্ঠাবোধ করে না। এরা খুব গোঁয়ার টাইপের লোক।
তবে কয়েক এলাকার পরেই হানাফী পাবেন।
এপর্যন্ত সব গুলো 'লা মাজহাবী' মসজিদেই রুখ পড়েছে। নামাজে 'রফয়ে ইয়াদাইন'(রকুর আগে ও পরে হাত তোলা) নিয়ে ঝগড়া সৃষ্টি হওয়া এক মসজিদে এসে ইমামের পেছনে মাগরিবের নামাজ পড়লাম। ক্বেরাতের যে অবস্থা তাতে নামাজ পুনরায় পড়তে বাধ্য হলাম। নামাজে ক্বেরাত পড়া ফরজ। নামাজ ভঙ্গের প্রথম কারণটিই হচ্ছে ক্বেরাত অশুদ্ধ পড়া। ক্বেরাত শুদ্ধ না করে নামাজে হাত উঠানো, আমিন জোরে বলা ইত্যাদি উত্তম-অনুত্তম বিষয়ে লাফালাফি করতে ব্যস্ত, মনে হয় যেন ইসলাম এ কয়টি বিষয়েই সীমাবদ্ধ ।
একই একদিন পাশের মসজিদে গেলাম নামাজ পড়তে, কাতার সোজা করে দাঁড়ালাম। দু'পাশে দু'জন দাড়ি পাকা দাদার বয়সী মুরব্বি আমাকে বেয়াদব বানাতে তারা উঠেপড়ে লেগেছে। পা যতই সংকুচিত করি তারা তাদের পা এনে আমার পায়ের সাথে লাগাচ্ছে। আল্লাহ বলেছেন নামাজে বিনয়ী হয়ে দাঁড়াও! আর তারা দু'পা ছড়িয়ে বুকে হাত বেঁধে কুস্তি লড়াইয়ের পজিশন নিয়ে দাঁড়ায়।
যে মসজিদে আছি তার ইমাম নামাজে 'বিসমিল্লাহ' জোরে পড়ে। পাশে আরেক মসজিদে গেলাম সেখানে 'বিসমিল্লাহ' আস্তে পড়ে।কোনো মসজিদে জুমার পুরা খুতবা বাংলায় পড়ে কোনো মসজিদে আংশিক আরবী, আংশিক বাংলা, কোনো মসজিদে পুরোটাই আরবী।

আল্লাহ দিয়েছেন বিচ্ছেদ না হয়ে সর্বদা ঐক্যের আদেশ,
واعتصموا بحبل الله جميعا ولا تفرقوا
তোমরা আল্লাহর রুজুকে আঁকড়ে ধরো। কখনো বিচ্ছিন্ন হবে না।
আর তারা আল্লাহর আদেশকে উপেক্ষা করে শয়তানের আদেশ মান্য করনার্থে মানুষের ঐক্যের মাঝে ফাটল ধরাতে উঠে পড়ে লেগেছে।
ঐক্য রক্ষার জন্য হযরত উসমান রাঃ নিজে শহীদ হয়েছেন। নির্যাতিত হয়েছেন অসংখ্য সাহাবী, তাবীয়ী।
ইসলামের শত্রুরা আমাদেরকে এসব বিবাদে লাগিয়ে দিয়ে তারা মুসলিম রাষ্ট্রগুলো নিজেদের মাঝে বন্টন করে নিচ্ছে। আর আমরা এসব বিভাদ করতে পেরে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছি।
কাদেরকে খুশি করার জন্য আজ মুসলিম উম্মাহের ঐক্যের মাঝে ফাটল ধরাচ্ছি। একটু ভেবে দেখুন!
রুকুর আগে পরে নয়, শুধু প্রথম তাকবিরে তাহরিমার সময় হাত উঠানো।
সহীহ হাদীস......
عن علقمة قال : قال عبد الله بن مسعود رض. ألا أصلي بكم صلاة رسول الله -صلى الله عليه وسلم- قال :فصلى فلم يرفع يديه إلا في أول مرة. رواه أبو داود في سننه(٧٤٨) والترمذي في سننه (٢٥٧) وقال الترمذي : هذا حديث حسن وصححه ابن حزم في المحلى ٤/٨٨ .
নাভির নিচে হাত বাধা।
সহীহ হাদীস........
عن وائل بن حجر رأيت النبي صلعم وضع يمينه على شماله في الصلاة تحت اسرة .أخرجه ابن ابي شيبة قال حدثنا وكيع عن موسى بن عمير عن علقمة بن وائل عن أبيه وإسناده صحيح
عن علي السنة وضع الكف على الكف في الصلاة تحت السرة . أخرجه أبو داود (٧٥٦) وأحمد ١/١١٠ وابن ابي شيبة ٣٩٦٦،
নামাজে আস্তে আমিন বলা।
সহীহ হাদীস ......
عن وائل بن حجر رض. قال صلى بنا رسول الله صلعم.فلما قرأ غير المغضوب عليهم ولا الضالين قال امين وأخفى بها صوته.
رواه الترمذي في جامعه (٢٤٨)وأحمد في مسنده (١٨٨٥٤) وقال الحاكم في المستدرك (٢٩١٣) هذل حديث صحيح على شرط الشيخين ولم يخرجاه.
وقال الذهبي في التلخيص :على شرط البخاري ومسلم ....
বিঃদ্রঃ
পরিত্যক্ত, মারজূহ, দুর্বল ও আমলের অযোগ্য হাদীসগুলো কমেন্ট বক্সে না আনলেই খুশি হবো।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন