তিরমিযীর একটি হাদিসে রাসুল (সা) বলেন ইয়াজুজ-মাজুজ একটি প্রাচীর খনন করার কাজে নিয়োজিত আছে । এবার আমরা কুরাআনে ফিরে যাই যেখানে এই প্রাচীর সম্পর্কে বলা হয়েছে ।
কুরআন আল্লাহ সুবহানাহুওয়াতায়ালা আমাদের যুলকারনাইন সম্পর্কে বলেছেন । হাজার বছর পুর্বে তিনি বাদশাহ হিসাবে পৃথিবী শাসন করেছেন। এইটি এতই আগের ঘটনা যে এই ঘটনা ইতিহাসের বইতে ও খুঁজে পাওয়া যায় না । যুলকারনাইন শব্দের অর্থ হল "দুই শিংধারী "। কিছু মুফাসসির বলেছেন এটার মানে হল তিনি পুর্ব-পশ্চিম শাসন করেছিলেন । আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা কুরআনে যুলকারনাইন সম্পর্কে বলেন যে যুলকারনাইন পুর্ব ,পশ্চিম এবং এবং দু’পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থান ভ্রমণ করেছিলেন। তিনি যখন দু’পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে পৌছালেন তিনি তথায় এমন এক জাতির সন্ধান পেলেন যারা তাঁর কথা ভালভাবে বুঝতে পারছিলেন না ।
তারা বলল " হে যুলকারনাইন, ইয়াজুজ ও মাজুজ দেশে অশান্তি সৃষ্টি করেছে। আপনি বললে আমরা আপনার জন্যে কিছু কর ধার্য করব এই শর্তে যে, আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যে একটি প্রাচীর নির্মাণ করে দেবেন। " (কাহাফঃ ৯৪) তারা যুলকারনাইনের কাছে ইয়াজুজ মাজুজের অনিষ্টতার ব্যাপারে নালিশ জানাল এবং তা হতে রক্ষার জন্য আমরা প্রাচীর নির্মাণ করতে চাই এবং এর জন্য আপনাকে আমরা পারিশ্রমিক দিব । যুলকারনাইন বলল " আমাকে আমার প্রতিপালক যা দিয়েছেন তাই যথেষ্ট । অতএব, তোমরা আমাকে শ্রম দিয়ে সাহায্য কর। আমি তোমাদের ও তাদের মধ্যে একটি সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মাণ করে দেব । আমার কাছে লোহার পাত এনে দাও। "(কাহাফঃ৯৫)
তারা বলল " হে যুলকারনাইন, ইয়াজুজ ও মাজুজ দেশে অশান্তি সৃষ্টি করেছে। আপনি বললে আমরা আপনার জন্যে কিছু কর ধার্য করব এই শর্তে যে, আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যে একটি প্রাচীর নির্মাণ করে দেবেন। " (কাহাফঃ ৯৪) তারা যুলকারনাইনের কাছে ইয়াজুজ মাজুজের অনিষ্টতার ব্যাপারে নালিশ জানাল এবং তা হতে রক্ষার জন্য আমরা প্রাচীর নির্মাণ করতে চাই এবং এর জন্য আপনাকে আমরা পারিশ্রমিক দিব । যুলকারনাইন বলল " আমাকে আমার প্রতিপালক যা দিয়েছেন তাই যথেষ্ট । অতএব, তোমরা আমাকে শ্রম দিয়ে সাহায্য কর। আমি তোমাদের ও তাদের মধ্যে একটি সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মাণ করে দেব । আমার কাছে লোহার পাত এনে দাও। "(কাহাফঃ৯৫)
তিনি দু’’পাহাড়ের মাঝামাঝি ফাঁকা জায়গা লোহা দিয়ে পুরোপুরি ভরাট করে দিলেন এবং তিনি তাদের লোহা উত্তপ্ত করতে বললেন । অতঃপর তিনি তাতে গলিত তামা ঢেলে দিলেন । এখানে ‘কিতরা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে যার অর্থ লেড বা কপার দুই হতে পারে । যখন আপনি স্টিল এর সাথে লেড বা কপার মিশাবেন তখন ব্রাস বা ব্রোঞ্জ পাবেন । এবং উভয়ই স্টিল এর চাইতে বেশী মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী । তাই তিনি লোহা তথা স্টিলের সাথে লেড বা কপার মিশিয়েছিলেন যদিও কিতরা এর সুনির্দিষ্ট অর্থের ব্যাপারে মুফাসসিরদের মাঝে মতানৈক্য রয়েছে । আল্লাহ সুবহানা তায়ালা এখানে বলেন তিনি শুধু " সাদ্দ " নির্মান করেন নি , সাদ্দ অর্থ হল প্রাচীর । কিন্তু তিনি 'রাদম" নির্মান করে দিয়েছিলেন । রাদম শব্দের অর্থ এমন অন্তরায় বা প্রচীর যা পরিপূর্ণভাবে অবরুদ্ধ করে দেয় । সাদ্দ হল শুধু আনুভুমিক দেয়াল তাই উপরিভাগ ফাকা থাকে অর্থাৎ ছাদ বলতে কিছু থকে না , তাই তারা দেয়াল বেয়ে ওপরে ওঠে টপকে যেতে পারত । যদিও ঐ সকল লোকজন শুধু এরকমই একটি প্রতিবন্ধক (সাদ্দ )এর জন্য অনুরোধ করেছিল তথাপি যুলকারনাইন পৃথিবী বুক থেকে ইয়াজুজ মাজুজকে সম্পূর্ণ ভাবে মোহরাঙ্কিত বা অবরুদ্ধ করে দেন অর্থাৎ ‘রাদম’ তৈরি করে দেন ।
এইটাই হল "ইহসান" , যে কোন কাজে সর্বোচ্চ শ্রম দেওয়া ।
এইটাই হল "ইহসান" , যে কোন কাজে সর্বোচ্চ শ্রম দেওয়া ।
তাই আজকে আমরা ইয়াজুজ-মাজুজকে দেখতে পাই না । তারা ঠিক কোথায় রয়েছে তাও আমরা জানিনা । তবে রাসুল(সা)একটি হাদিস থেকে জানা যায় তারা মদিনার পুর্ব দিক হতে আসবে । আল্লাহ সুবহানাহুওয়াতায়ালাই ভাল জানেন । অবশেষে যুলকারনাইন তার সাধ্যমতো সর্বোত্তম প্রাচীর তৈরি করে দেয়ার পরে তাদের বলেছিলেন যা কুরআনে এভাবে এসেছে , "এটা আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ। যখন আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুত সময় আসবে, তখন তিনি একে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবেন এবং আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুতি সত্য। (কাহাফঃ ৯৮)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন