বুধবার, ৮ জুলাই, ২০১৫

হে অবিচার! তোমার কি বিচার নেই?

হে অবিচার! তোমার কি বিচার নেই?
.
অবিচারের যেনো জয়জয়কার চলছে। অবিচার যদি কোনো পণ্যের সাথে তুলনীয় হতো তাহলে যে কোনো আন্তর্জাতিক পণ্যমেলায় বিক্রিতে শীর্ষস্থান দখল করতো এই অভিশপ্ত অবিচার। অবিচারের এই সাজ-সাজ রবে কুণ্ঠিত সুকুমার মানবতা। ফ্যালফ্যাল তাকিয়ে আছে চোখে শত বেদনার তপ্তাশ্রু নিয়ে। সাগর-ভাসা রোহিঙ্গারা কিংবা খাদ্য-খোঁজা বাঙ্গালিরা ভুলে গেছে লাজ-শরমের সংজ্ঞা। অভুক্তির নির্মম দহনে-দহনে হাড্ডিগুলো যেনো দেহমুক্ত হয়ে বেরিয়ে আসতে চাইছে, বেসামাল ক্ষুধার ধাক্কায়। মানবতার পক্ষে স্লোগানে-স্লোগানে যারা জাতিসংঘের মহামঞ্চ থেকে শুরু করে সবখানে ঝড় তোলেন, অসহায় মানবতা তাদের নীরবতায় অবাক হচ্ছে। শুধু লোক-দেখানো বিবৃতি।
আচ্ছা ওরা কি না খেয়ে মরেই যাবে!

আজই মিসরের আদালত শতাধিক মানুষের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ মুরসিসহ আরো অনেকেই বলি হয়েছে এই মিথ্যা ও ভণ্ড এবং আজ্ঞাবহ ও পদলেহি আদালতের। আজ এই আদালতে যেনো সত্যি অবিচারের হাট বসেছিলো। একটু পরপর কী দাপুটে ঘোষণা বেরিয়ে আসছিলো। মুরসি’র বেঁচে থাকার অধিকার নেই। ড. ইউসুফ কারজাভীরও বেঁচে থাকার অধিকার নেই। হাসানুল বান্না এবং সায়্যিদ কুতবের পরিণতি বরণ করতে হবে। এদেরকে যারা ভালোবাসে, তাদেরও বেঁচে থাকার অধিকার নেই। এমনকি সীনাই উপত্যকার ‘তীরে’ বসে ষড়যন্ত্র করছে যে হামাস, তাদেরও বেঁচে থাকার অধিকার নেই! বেঁচে থাকলে থাকবে শুধু সিসিময় মিসর!
কিন্তু কী আশ্চর্য! মৃত্যুদণ্ডাদেশ শোনে ইখওয়ান-কেন্দ্রিয় নেতারা বেশ নাকি হাস্যোজ্জ্বল ছিলো। জীবনের চেয়ে আর কোনো দীপ্ত মৃত্যুর দ্বার কি খুলে গেছে তাদের চোখের সামনে?

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন