রক্তের ঘ্রাণ
এক.
জেরুজালেমে তখন প্রায় দুপুর। আশ্-পাশ থেকে গুলির শব্দ ভেসে আসছিলো। পাশাপাশি শোনা যাচ্ছিলো আরেকটা শব্দ, পাথর ছুঁড়ার শব্দ এবং দখলদারদের দেহে গিয়ে তা আছড়ে পড়ার শব্দ। দ্বিতীয় শব্দটিই ফিলিস্তিনীদের কাছে অতি পরিচিত এবং প্রিয়। তখন এক বিধমা মা ঘরে বসে কাজ করছিলেন। হাতে পুরোনোকালের একটা যন্ত্র। অনেক অনেক দিন ধরে এটা সংরক্ষণ-করা। কাজ করছিলেন তিনি হাতে হাতে আর স্মৃতি রোমন্থন করছিলেন মনে মনে। কোনো সুখ-স্মৃতি নয়— দুঃখ-ছাওয়া ও বেদনা-ঘেরা স্মৃতি! নিষ্ঠুরতাভরা ও রক্তঝরা স্মৃতি! একটা টেবিলের সামনে বসে যেনো একে একে উল্টে যাচ্ছিলেন তিনি রক্ত-রক্ত কালি দিয়ে লেখা দুঃখ-দুঃখ কথার বড় একটা বইয়ের পাতা।
একটু পর উঠে গিয়ে একমাত্র বেঁচে-থাকা ছোট্ট ছেলের খাটের নিচ থেকে ছোট্ট একটা থলে বের করে আনলেন। এটা তার প্রায় প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ও ঘুমোতে গেলেই এ সময়ে এসে তিনি থলেটি বের করেন। তারপর একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ পাথর এখান থেকে সংগোপনে সরিয়ে রাখেন। ছেলের অগোচরে এই লুকোচুরি চলছে অনেক দিন থেকেই। কতোদিন আর চলবে কী জানি! ছেলে পাথর কুড়িয়ে এনে রাখবে আর তিনি তার একটা অংশ সংগোপনে সরিয়ে ফেলবেন!
জেরুজালেমে তখন প্রায় দুপুর। আশ্-পাশ থেকে গুলির শব্দ ভেসে আসছিলো। পাশাপাশি শোনা যাচ্ছিলো আরেকটা শব্দ, পাথর ছুঁড়ার শব্দ এবং দখলদারদের দেহে গিয়ে তা আছড়ে পড়ার শব্দ। দ্বিতীয় শব্দটিই ফিলিস্তিনীদের কাছে অতি পরিচিত এবং প্রিয়। তখন এক বিধমা মা ঘরে বসে কাজ করছিলেন। হাতে পুরোনোকালের একটা যন্ত্র। অনেক অনেক দিন ধরে এটা সংরক্ষণ-করা। কাজ করছিলেন তিনি হাতে হাতে আর স্মৃতি রোমন্থন করছিলেন মনে মনে। কোনো সুখ-স্মৃতি নয়— দুঃখ-ছাওয়া ও বেদনা-ঘেরা স্মৃতি! নিষ্ঠুরতাভরা ও রক্তঝরা স্মৃতি! একটা টেবিলের সামনে বসে যেনো একে একে উল্টে যাচ্ছিলেন তিনি রক্ত-রক্ত কালি দিয়ে লেখা দুঃখ-দুঃখ কথার বড় একটা বইয়ের পাতা।
একটু পর উঠে গিয়ে একমাত্র বেঁচে-থাকা ছোট্ট ছেলের খাটের নিচ থেকে ছোট্ট একটা থলে বের করে আনলেন। এটা তার প্রায় প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ও ঘুমোতে গেলেই এ সময়ে এসে তিনি থলেটি বের করেন। তারপর একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ পাথর এখান থেকে সংগোপনে সরিয়ে রাখেন। ছেলের অগোচরে এই লুকোচুরি চলছে অনেক দিন থেকেই। কতোদিন আর চলবে কী জানি! ছেলে পাথর কুড়িয়ে এনে রাখবে আর তিনি তার একটা অংশ সংগোপনে সরিয়ে ফেলবেন!
দুই.
মাঝে মধ্যে তার মনে কষ্ট ও বেদনার ঝড় ওঠে। ছেলেকে আর কতোদিন এভাবে তিনি ফিরিয়ে রাখবেন? ছেলেটা প্রতিদিনই বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়ে যেতে চায় পাথর হাতে— ইসরাইলী সৈন্যদের সাথে লড়তে। ক্ষোভ, হতাশা আর দুঃখ নিয়ে এখন ও একাই বেঁচে আছে পরিবারে। বয়সে শিশু হলেও নিজেকে ও শিশু ভাবতে একদম নারাজ। ওর কথায় আচরণে মনে হয়— ও-ই যেনো এখন পরিবারের একমাত্র সক্ষম ব্যক্তি। বাবা ও ভাইয়াদের প্রতিশোধ নেয়ার দায়িত্বও যেনো এখন ওর একার কাঁধেই অর্পিত হয়েছে। আসলে এখন ফিলিস্তিনের সব পরিবারই এমন। সব শিশুই ওর মতো। দু'একটি ব্যতিক্রম হয়তো আছে। সে না থাকার মতোই।
ওর বয়স এখন সাত। ছোট ছোট পাথরকণা নিয়ে ও লড়াইয়ের ময়দানে নেমে যেতে চায় এক্ষুনি। কোনো তর সইছে না আর। মা ওকে বোঝান— আব্বু! তুমি তো এখনো অনেক ছোট! আর ক’টা দিন সবুর করো! এখন তুমি ওদের সাথে পেরে ওঠবে না।' কিন্তু না, কোনো কাজ হচ্ছে না। ছেলেকে ফেরানো যাচ্ছে না। প্রতিদিনই পাথর কুড়িয়ে নিয়ে এসে জমা করছে আর তিনি তা লুকিয়ে লুকিয়ে কমিয়ে দিচ্ছেন। এ কৌশলের কাহিনী আরেকটু পরে আসছে।
মাঝে মধ্যে তার মনে কষ্ট ও বেদনার ঝড় ওঠে। ছেলেকে আর কতোদিন এভাবে তিনি ফিরিয়ে রাখবেন? ছেলেটা প্রতিদিনই বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়ে যেতে চায় পাথর হাতে— ইসরাইলী সৈন্যদের সাথে লড়তে। ক্ষোভ, হতাশা আর দুঃখ নিয়ে এখন ও একাই বেঁচে আছে পরিবারে। বয়সে শিশু হলেও নিজেকে ও শিশু ভাবতে একদম নারাজ। ওর কথায় আচরণে মনে হয়— ও-ই যেনো এখন পরিবারের একমাত্র সক্ষম ব্যক্তি। বাবা ও ভাইয়াদের প্রতিশোধ নেয়ার দায়িত্বও যেনো এখন ওর একার কাঁধেই অর্পিত হয়েছে। আসলে এখন ফিলিস্তিনের সব পরিবারই এমন। সব শিশুই ওর মতো। দু'একটি ব্যতিক্রম হয়তো আছে। সে না থাকার মতোই।
ওর বয়স এখন সাত। ছোট ছোট পাথরকণা নিয়ে ও লড়াইয়ের ময়দানে নেমে যেতে চায় এক্ষুনি। কোনো তর সইছে না আর। মা ওকে বোঝান— আব্বু! তুমি তো এখনো অনেক ছোট! আর ক’টা দিন সবুর করো! এখন তুমি ওদের সাথে পেরে ওঠবে না।' কিন্তু না, কোনো কাজ হচ্ছে না। ছেলেকে ফেরানো যাচ্ছে না। প্রতিদিনই পাথর কুড়িয়ে নিয়ে এসে জমা করছে আর তিনি তা লুকিয়ে লুকিয়ে কমিয়ে দিচ্ছেন। এ কৌশলের কাহিনী আরেকটু পরে আসছে।
মা ভালো করেই জানেন, তার শান্তি ও স্বস্তির দিন শেষ। একমাত্র মানিককে নিয়েই এখন শুধু স্বপ্ন দেখা। স্বামী ও অন্যান্য ছেলেদের মতো একেও অদূর ভবিষ্যতে শহিদী কাফেলায় শরীক হওয়ার উপযোগী ও যোগ্য করে তোলা। যে কোনোদিন তার ঘরে হাজির হতে পারে ইসরাইলী সৈন্যরা। অপরাধ একটাই্ত এ ঘরে পুরুষ আছে। ফিলিস্তিনে সাত বছরের শিশুও ওদের চোখে 'পুরুষ'। ওরা যে পাথর ছুঁড়তে পারে! রাইফেল মেশিনগান ও পিস্তলের মুকাবিলায় পাথর ছুঁড়াও ওদের চোখে মহা অন্যায়। ফিলিস্তিনীরা গুলি খাওয়ার জন্যে যেনো বুক পেতে দিলেই ওরা খুশি।
তিন.
ছেলেটা এখন আর কোনো বাঁধ মানতে চায় না। পাথর নিয়ে বেরিয়ে যেতে চায়। মা ওকে বারণ করেন, সামলে রাখার চেষ্টা করেন। বলেন :
—বাবা! আরেকটু বড় হও! এখন তোমাকে হারালে কাকে নিয়ে বাঁচবো আমি? তুমি যে আমার মানিক! তুমি যে আমার স্বপ্ন!
মায়ের চোখের পানির কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করে শিশুটি। বলে :
—ঠিক আছে আম্মি! আমি এখন ময়দানে যাবো না! কয়েকদিন পরে কিন্তু আমাকে যেতে দিতে হবে! তখন কিন্তু আমি আর 'না' শুনবো না। যেতে দিতেই হবে!
মা ছেলেকে জড়িয়ে ধরেন। আদর করে চুমু খান। চোখের পানিতে সব একাকার হয়ে যায়! মা চোখের পানি মোছেন। আদর-সিক্ত শিশুটি কান্না-কান্না চোখে তাকিয়ে থাকে মায়ের দিকে। মায়ের অশ্রু মোছা দেখতে দেখতে জ্বলজ্বল করে ওঠে ওর চোখের তারা। শিশুর চোখের দৃষ্টি ছাপিয়ে সেখানে এসে স্থান করে নেয় এক মুজাহিদের দৃঢ় ও প্রত্যয়ভরা শাণিত দৃষ্টি। মা যেমন সন্তানের চোখের পানি সইতে পারেন না সন্তানও মা’র চোখের পানি সইতে পারে না। একজনের চোখে পানি দেখলে আরেকজনের চোখ ছলছল করে ওঠে।
ছেলেটা এখন আর কোনো বাঁধ মানতে চায় না। পাথর নিয়ে বেরিয়ে যেতে চায়। মা ওকে বারণ করেন, সামলে রাখার চেষ্টা করেন। বলেন :
—বাবা! আরেকটু বড় হও! এখন তোমাকে হারালে কাকে নিয়ে বাঁচবো আমি? তুমি যে আমার মানিক! তুমি যে আমার স্বপ্ন!
মায়ের চোখের পানির কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করে শিশুটি। বলে :
—ঠিক আছে আম্মি! আমি এখন ময়দানে যাবো না! কয়েকদিন পরে কিন্তু আমাকে যেতে দিতে হবে! তখন কিন্তু আমি আর 'না' শুনবো না। যেতে দিতেই হবে!
মা ছেলেকে জড়িয়ে ধরেন। আদর করে চুমু খান। চোখের পানিতে সব একাকার হয়ে যায়! মা চোখের পানি মোছেন। আদর-সিক্ত শিশুটি কান্না-কান্না চোখে তাকিয়ে থাকে মায়ের দিকে। মায়ের অশ্রু মোছা দেখতে দেখতে জ্বলজ্বল করে ওঠে ওর চোখের তারা। শিশুর চোখের দৃষ্টি ছাপিয়ে সেখানে এসে স্থান করে নেয় এক মুজাহিদের দৃঢ় ও প্রত্যয়ভরা শাণিত দৃষ্টি। মা যেমন সন্তানের চোখের পানি সইতে পারেন না সন্তানও মা’র চোখের পানি সইতে পারে না। একজনের চোখে পানি দেখলে আরেকজনের চোখ ছলছল করে ওঠে।
চার.
ওর বড় ভাই শহীদ হয়েছে দুই মাস আগে। ওকে গুলি করে শহীদ করেছে বর্বর ইহুদী সৈন্যরা। তার আগে শহীদ হয়েছে এক অভিযানে ওর আরেক বড় ভাই। ওর একমাত্র বোনটাও শহীদ হযেছে! আর বাবা? সে এক কষ্টের গল্প। তার এ ছোট্ট ছেলেটি যখন পৃথিবীতে আসি-আসি করছিলো, তখন তিনি সেই-যে সবাইকে 'আবার দেখা হবে' বলে বের হয়ে গেলেন, আর ফিরে আসেন নি! কেউ জানে না, তিনি বেঁছে আছেন না চলে গেছেন। কিন্তু শাহাদতের যে বীজ তিনি লাগিয়ে গিয়েছিলেন এখন তা পত্র-পল্লবিত। শাহাদত যেনো ছিলো বাবার রক্তে মেশানো উত্তরাধিকার। বাবা শহীদ হয়েছেন। তাই ছেলেরাও হেঁটেছে তাঁর পথে! মেয়েটিও! আর এখন বাবার পথে, ভাইয়াদের পথে, প্রিয় বোনটির পথে নিজেকে 'নিঃশেষ' করে দেয়ার স্বপ্নে বিভোর তাঁর এই ছোট্ট ছেলেটিও!!
এ পরিবারের মতো শাহাদতের উত্তাধিকার বহন করছে ফিলিস্তিনের অসংখ্য পরিবার।দূর আজমে বসে আমরা এ-সবের একটু খবর রাখারও প্রয়োজন মনে করি না। ফিলিস্তিন যেনো শুধু ফিলিস্তিনীদের। আল আকসা বে-দখল হয়ে থাকলে যেনো আমাদের কিছুই আসে যায় না! হে আজম! তুমি বড্ড উদাসীন।
ওর বড় ভাই শহীদ হয়েছে দুই মাস আগে। ওকে গুলি করে শহীদ করেছে বর্বর ইহুদী সৈন্যরা। তার আগে শহীদ হয়েছে এক অভিযানে ওর আরেক বড় ভাই। ওর একমাত্র বোনটাও শহীদ হযেছে! আর বাবা? সে এক কষ্টের গল্প। তার এ ছোট্ট ছেলেটি যখন পৃথিবীতে আসি-আসি করছিলো, তখন তিনি সেই-যে সবাইকে 'আবার দেখা হবে' বলে বের হয়ে গেলেন, আর ফিরে আসেন নি! কেউ জানে না, তিনি বেঁছে আছেন না চলে গেছেন। কিন্তু শাহাদতের যে বীজ তিনি লাগিয়ে গিয়েছিলেন এখন তা পত্র-পল্লবিত। শাহাদত যেনো ছিলো বাবার রক্তে মেশানো উত্তরাধিকার। বাবা শহীদ হয়েছেন। তাই ছেলেরাও হেঁটেছে তাঁর পথে! মেয়েটিও! আর এখন বাবার পথে, ভাইয়াদের পথে, প্রিয় বোনটির পথে নিজেকে 'নিঃশেষ' করে দেয়ার স্বপ্নে বিভোর তাঁর এই ছোট্ট ছেলেটিও!!
এ পরিবারের মতো শাহাদতের উত্তাধিকার বহন করছে ফিলিস্তিনের অসংখ্য পরিবার।দূর আজমে বসে আমরা এ-সবের একটু খবর রাখারও প্রয়োজন মনে করি না। ফিলিস্তিন যেনো শুধু ফিলিস্তিনীদের। আল আকসা বে-দখল হয়ে থাকলে যেনো আমাদের কিছুই আসে যায় না! হে আজম! তুমি বড্ড উদাসীন।
পাঁচ.
সবার শাহাদতের দৃশ্য মা'র চোখের সামনে ভাসছে। সবার তাজা তাজা রক্ত তার চোখের সামনে 'লালিমা' ছড়াচ্ছে। শাহাদতের দৃশ্য দেখতে দেখতে এবং তার রক্তময় স্মৃতি কল্পনা করতে করতে এখন তিনি কাঁদতে ভুলে গেছেন। তার চোখের পানি শুকিয়ে গেছে শোকের খরাময় উত্তাপে। কথা বলতেও তিনি এখন ভুলে যাচ্ছেন। আশ্চর্য এক নীরবতায় সারাক্ষণ তিনি ডুবে থাকেন। সেই নীরবতায় জ্বলে যেতে চায় তার ভিতর। এভাবে জ্বলে জ্বলেই তা শক্তি সঞ্চয় করেছে। ধীরে ধীরে, স্তরে স্তরে। স্বামী হারিয়ে, ছেলে হারিয়ে, মেয়ে হারিয়ে!! সে পবিত্র কাফেলায় যোগদানের জন্যে ছেলের পীড়াপীড়িতে তাই এখন আর তিনি নীরব থাকতে পারলেন না। হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারলেন না। তাকে থামানোর চেষ্টা শুরু করলেন। কথায় আচরণে ও কৌশলের ছায়ায়। এর প্রতি তার দরদ ও হৃদয়-টানটা একটু বেশিই। কারণ বাবার অনুপস্থিতিতে ওকে একাই তিনি লালন পালন করেছেন। তিলে তিলে বড় করে তুলেছেন। ছায়া হয়ে ওর সাথে সাথে লেগে থেকেছেন। ওর মুখের দিকে তাকিয়েই তিনি সব শোক ভুলে থাকার চেষ্টা করেন।
সবার শাহাদতের দৃশ্য মা'র চোখের সামনে ভাসছে। সবার তাজা তাজা রক্ত তার চোখের সামনে 'লালিমা' ছড়াচ্ছে। শাহাদতের দৃশ্য দেখতে দেখতে এবং তার রক্তময় স্মৃতি কল্পনা করতে করতে এখন তিনি কাঁদতে ভুলে গেছেন। তার চোখের পানি শুকিয়ে গেছে শোকের খরাময় উত্তাপে। কথা বলতেও তিনি এখন ভুলে যাচ্ছেন। আশ্চর্য এক নীরবতায় সারাক্ষণ তিনি ডুবে থাকেন। সেই নীরবতায় জ্বলে যেতে চায় তার ভিতর। এভাবে জ্বলে জ্বলেই তা শক্তি সঞ্চয় করেছে। ধীরে ধীরে, স্তরে স্তরে। স্বামী হারিয়ে, ছেলে হারিয়ে, মেয়ে হারিয়ে!! সে পবিত্র কাফেলায় যোগদানের জন্যে ছেলের পীড়াপীড়িতে তাই এখন আর তিনি নীরব থাকতে পারলেন না। হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারলেন না। তাকে থামানোর চেষ্টা শুরু করলেন। কথায় আচরণে ও কৌশলের ছায়ায়। এর প্রতি তার দরদ ও হৃদয়-টানটা একটু বেশিই। কারণ বাবার অনুপস্থিতিতে ওকে একাই তিনি লালন পালন করেছেন। তিলে তিলে বড় করে তুলেছেন। ছায়া হয়ে ওর সাথে সাথে লেগে থেকেছেন। ওর মুখের দিকে তাকিয়েই তিনি সব শোক ভুলে থাকার চেষ্টা করেন।
দেখতে দেখতেই তার মানিক কতো বড় হয়ে গেছে। কীভাবে যে এক এক করে ও সা'তে পা রেখেছে, তিনি বুঝতেই পারেন নি। এখন ও শুধু কে বন্ধু আর কে শত্রু— তা-ই বুঝতে পারে না, বরং শত্রুর মাথা ফুটু করে দেওয়ার জন্যে পাথরকণা জমায়। প্রতিরোধ লড়াইয়ে শামিল হওয়ার জন্যে প্রতিদিনই তার কাছে বায়না ধরে। হায়, কী জঘন্য শত্রু। আকারে-আকৃতিতে মানুষ, কিন্তু আচার-আচরণে জন্তু। হৃদয়ে মায়া নেই, পাষাণে ঘেরা। বর্বর নিষ্ঠুরতায় ওরা হত্যা করে নিষ্পাপ কচি কচি শিশু-কিশোরকে। অস্ত্র-সজ্জিত শত্রুর মতো এই পাথর-বহন করা শিশু-কিশোররাও ওদের গুলির নিশানা হয়। কখনো কখনো কোনো অজুহাত ছাড়া এমনিতেই ওদের গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় শিশু-কিশোর বুক! পৃথিবীর আর কোথাও কি ঘটে এমন নির্মম শিশু-হত্যা? হে জাতিসংঘের ইউনিসেফ! তোমার ভিতরে বিবেক থাকলে জানতে চাই! উত্তর দেবে? পৃথিবীর কোন প্রতিপক্ষ শিশুদেরকে অমন নির্মম জিঘংসায় হত্যা করে? জানা আছে?
ছয়.
এভাবেই দিন চলছিলো। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়। মা সোনামণিকে বিরত রেখে চলেছেন সর্বশেষ অস্ত্রটি ব্যবহার করে। ছেলের ব্যাকুল পীড়াপীড়িতেই এই অস্ত্রটার ধারণা এসেছে তার মাথায়। তিনি ছেলেকে বলে দিয়েছেন—
— শোনো মানিক! আমিও চাই শহিদী ঈদগাহে শামিল হবে তুমি! কিন্তু তোমার তো পর্যাপ্ত অস্ত্র নেই!
— কে বলেছে আমার অস্ত্র নেই? এই দেখো, আমার থলেতে কত্তো পাথর জমিয়েছি!
— পাথর জমিয়ে জমিয়ে থলেটা যখন একেবারে ভরে ফেলবে, তখন আমি তোমাকে অনুমতি দেবো! তখন তুমিও যাবে বন্ধুদের মতো পাথর-সজ্জিত হয়ে ইহুদী সৈন্যদের সাথে লড়তে! কিন্তু একটা শর্ত আছে!
— কী শর্ত আম্মি?
— একদিনে এক মুঠোর বেশি পাথর জমাতে পারবে না!
এভাবেই দিন চলছিলো। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায়। মা সোনামণিকে বিরত রেখে চলেছেন সর্বশেষ অস্ত্রটি ব্যবহার করে। ছেলের ব্যাকুল পীড়াপীড়িতেই এই অস্ত্রটার ধারণা এসেছে তার মাথায়। তিনি ছেলেকে বলে দিয়েছেন—
— শোনো মানিক! আমিও চাই শহিদী ঈদগাহে শামিল হবে তুমি! কিন্তু তোমার তো পর্যাপ্ত অস্ত্র নেই!
— কে বলেছে আমার অস্ত্র নেই? এই দেখো, আমার থলেতে কত্তো পাথর জমিয়েছি!
— পাথর জমিয়ে জমিয়ে থলেটা যখন একেবারে ভরে ফেলবে, তখন আমি তোমাকে অনুমতি দেবো! তখন তুমিও যাবে বন্ধুদের মতো পাথর-সজ্জিত হয়ে ইহুদী সৈন্যদের সাথে লড়তে! কিন্তু একটা শর্ত আছে!
— কী শর্ত আম্মি?
— একদিনে এক মুঠোর বেশি পাথর জমাতে পারবে না!
ছেলে সরল মনে 'হ্যাঁ' বলে মাথা দোলায়। আর মা হাসেন দুঃখ-মেশানো বিজয়ের হাসি! ছেলে প্রতিদিনই এক মুঠো করে পাথর কুড়িয়ে এনে থলেতে ভরে রাখে আর মা সুযোগ মতো তা সরিয়ে ফেলেন। এভাবে থলেও আর ভরে না, মা'ও আর ছেলেকে নিরস্ত রাখার দুশ্চিন্তায় ভোগেন না।
সাত.
একদিন মা স্মৃতির বেদনা-সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছিলেন। হঠাৎ ছেলেটা ছুটে এসে তার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ে চীৎকার করে বলতে লাগলো— 'মা! 'কুকুরের বাচ্চারা' (ইহুদী সৈন্যরা) আমাদের ঘরের দিকে আসছে!'
মা ছেলেকে জড়িয়ে ধরলেন! তার চোখে-মুখে ফুটে উঠলো উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার ছায়া! ছেলেকে আরো গভীর করে তিনি জড়িয়ে ধরলেন! যেনো ছেলেকে তিনি আর কোনো দিন কাছে পাবেন না, আর কোনোদিন জড়িয়ে ধরতে পারবেন না!
মা'র বুকের ভিতরে শত শত হাহাকার চীৎকার করে উঠলো! দরোজায় ওরা এসে পড়েছে! সজোরে ধাক্কা দিচ্ছে!
যে ধাক্কায় নিষ্ঠুরতার কায়া!
যে ধাক্কায় অমানুষের ছায়া!
যে ধাক্কায় কেঁপে কেঁপে ওঠে ফিলিস্তিনের সব মায়ের অন্তরাত্মা!
যে ধাক্কায় অবুঝ শিশুও আশ্রয় নেয় মায়ের কোলে তারপর চীৎকার করতে করতে কাঁদতে থাকে— 'মা!' 'মা!' 'মা!'!!
একদিন মা স্মৃতির বেদনা-সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছিলেন। হঠাৎ ছেলেটা ছুটে এসে তার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ে চীৎকার করে বলতে লাগলো— 'মা! 'কুকুরের বাচ্চারা' (ইহুদী সৈন্যরা) আমাদের ঘরের দিকে আসছে!'
মা ছেলেকে জড়িয়ে ধরলেন! তার চোখে-মুখে ফুটে উঠলো উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার ছায়া! ছেলেকে আরো গভীর করে তিনি জড়িয়ে ধরলেন! যেনো ছেলেকে তিনি আর কোনো দিন কাছে পাবেন না, আর কোনোদিন জড়িয়ে ধরতে পারবেন না!
মা'র বুকের ভিতরে শত শত হাহাকার চীৎকার করে উঠলো! দরোজায় ওরা এসে পড়েছে! সজোরে ধাক্কা দিচ্ছে!
যে ধাক্কায় নিষ্ঠুরতার কায়া!
যে ধাক্কায় অমানুষের ছায়া!
যে ধাক্কায় কেঁপে কেঁপে ওঠে ফিলিস্তিনের সব মায়ের অন্তরাত্মা!
যে ধাক্কায় অবুঝ শিশুও আশ্রয় নেয় মায়ের কোলে তারপর চীৎকার করতে করতে কাঁদতে থাকে— 'মা!' 'মা!' 'মা!'!!
আট.
দরোজা না খুলে উপায় নেই। খুলতেই দানবের মতো ছয় সাতটা অস্ত্র-সজ্জিত ইহুদী সৈন্য ভিতরে ঢুকে পড়লো। ওদের গতি-প্রকৃতি দেখে মনে হচ্ছিলো, ওরা যেনো রণাঙ্গনে আছে! ওরা ঘরময় ছড়িয়ে পড়লো এবং বিভিন্ন আসবাবপত্র ঘাটাঘাটি করে তা ছুঁড়ে ফেলে দিতে লাগলো। মা ও ছেলে ভীত-বিহ্বল দৃষ্টিতে সব দেখছিলেন। আর ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে কেঁপে উঠছিলেন। একটুপর ছেলেটা মা'র কোল থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে এক দৌড়ে গিয়ে উপস্থিত হলো নিজের কামরায়— প্রিয় থলেটার মায়ায়। থলেটা আছে তো! না শয়তানরা তার খোঁজ পেয়ে গেছে? অনেক দিন ধরে ও পাথর জমা করছে। আর কয়েকটা দিন গেলেই তো থলেটা ভরে যেতো! তখন একটা একটা করে এই দুশমনদের দিকে ছুঁড়ে মারার কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তটা চলে আসতো!
দরোজা না খুলে উপায় নেই। খুলতেই দানবের মতো ছয় সাতটা অস্ত্র-সজ্জিত ইহুদী সৈন্য ভিতরে ঢুকে পড়লো। ওদের গতি-প্রকৃতি দেখে মনে হচ্ছিলো, ওরা যেনো রণাঙ্গনে আছে! ওরা ঘরময় ছড়িয়ে পড়লো এবং বিভিন্ন আসবাবপত্র ঘাটাঘাটি করে তা ছুঁড়ে ফেলে দিতে লাগলো। মা ও ছেলে ভীত-বিহ্বল দৃষ্টিতে সব দেখছিলেন। আর ক্ষণে ক্ষণে কেঁপে কেঁপে উঠছিলেন। একটুপর ছেলেটা মা'র কোল থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে এক দৌড়ে গিয়ে উপস্থিত হলো নিজের কামরায়— প্রিয় থলেটার মায়ায়। থলেটা আছে তো! না শয়তানরা তার খোঁজ পেয়ে গেছে? অনেক দিন ধরে ও পাথর জমা করছে। আর কয়েকটা দিন গেলেই তো থলেটা ভরে যেতো! তখন একটা একটা করে এই দুশমনদের দিকে ছুঁড়ে মারার কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তটা চলে আসতো!
কিন্তু না, ওর স্বপ্নটা ভেঙে চুরমার হয়ে গেলো বুঝি! একটা ইহুদী সৈন্য তা খাটের নীচ থেকে বের করে ফেলেছে! এবং চামড়ার একটা সাধারণ থলেতে ব্যাপক বিধ্বংসী কোনো অস্ত্র পেয়ে গেছে— এমন একটা ভাব নিয়ে শয়তানটা তা উল্টেপাল্টে দেখছে আর শক্ত হাতে ধরে আছে। ও গিয়েই ওর হাত থেকে তা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলো। কিন্তু পাষাণ সৈন্যটা বন্দুকের বাট দিয়ে ওর মুখে সজোরে ধাক্কা দিয়ে ওকে ফেলে দিলো! খাটের কাছে গিয়ে ও ছিটকে পড়লো! নাক দিয়ে .. মুখ দিয়ে গলগল করে রক্ত বেরুতে লাগলো! আঘাতের প্রচণ্ডতায় ওর বেশ কয়েকটা দাঁতও ভেঙে গেলো! ঠোঁটও অনেকটা কেটে গেছে! চোখের অশ্রু আর মুখের রক্তে একাকার সাত বছরের নিষ্পাপ নিরপরাধ এই শিশু! এখন ওর মুখ থেকে শুধু রক্ত ঝরছে না! চোখ থেকে শুধু অশ্রুও ঝরছে না, সাথে সাথে ঝরছে রাশি রাশি ঘৃণা, ক্ষোভ! বেরুচ্ছে 'আগুনের ফুলকি'!! হঠাৎ ওর চোখ পড়লো মা'র হাত থেকে ফসকে-যাওয়া একটা পাথরের টুকরোর উপর! তা পড়েছিলো খাটের কাছেই। ও পাথরটা হাতের মুঠোয় ভরলো! তারপর? তারপর গায়ের পূর্ণ শক্তি দিয়ে সৈন্যটাকে লক্ষ্য করে পাথরটা হঠাৎ ছুঁড়ে মারলো! পরিণতির চিন্তা না করে!! তারপর ও বুক টান করে রক্তাক্ত মুখের জলন্ত দৃষ্টি তুলে দাঁড়িয়ে রইলো! উপভোগ করলো নিজের পাথর ছুঁড়াটা। উপভোগ করলো নিজের স্বপ্ন পূরণের প্রথম লগ্নটা! কিন্তু সময় বেশি ছিলো না ওর হাতে। গুলি-খাওয়া আহত ইহুদী সৈন্যরা প্রতিশোধ নিতে একটু সময় নিলেও পাথর-খাওয়া ইহুদীরা প্রতিশোধ নিতে মোটেই দেরী করে না! ওরা গুলিকে-না যতোটা ভয় পায়, পাথরকে তারচে' হাজার গুণ বেশি ভয় পায়। মুহূর্তেই গর্জে উঠলো বন্দুকটা! অনেক গুলো ঘাতক-বুলেট বেরিয়ে এলো! ঝাঁঝরা হয়ে গেলো সাত বছরের শিশুর কচি বুকটা!! লুটিয়ে পড়লো এ-বাড়ির সর্ব কনিষ্ঠ শহীদের দেহটা!
নয়.
শিশু হত্যাকারী কাপুরুষ অমানুষ সৈন্যটা সঙ্গীদের নিয়ে ওকে 'খাক ও খুনে' ফেলে রেখে চলে যাচ্ছিলো!
মা এবার আর সইতে পারলেন না!
মা এবার আর শুধু অশ্রু ফেলে শহীদকে বিদায় জানাতে পারলেন না!
মা এবার উঠে দাঁড়ালেন! মা এবার রুখে দাঁড়ালেন! ধারণ করলেন অগ্নিমূর্তি! কাতিল সৈন্যটার পিছু ধাওয়া করলেন তিনি! এবার তো হারানোর কিছু নেই! তার চোখের সামনে একে একে সবাই চলে গেলো! এখন চলে গেলো সর্বশেষ মানিকটি! এখন বেঁচে থাকবেন তিনি কার জন্যে? কী নিয়ে? ছেলের প্রতিশোধ নিতে তিনি এখন 'হযরত খাওলা'র ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন! কিন্তু নাপাক সৈন্যটা এক অবলা নারীর বুকে গুলি চালাতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা বা বিলম্ব করলো না! ঝাঁঝরা হয়ে গেলো তারও বুকটা! কাঁপতে কাঁপতে তার নিথর দেহটাও লুটিয়ে পড়লো এ বাড়ির শহিদী ঈদগাহে!
এ বাঢ়িতে এখন আর কেউ নেই শহীদ হওয়ার মতো!
হে গর্বিত বাড়ি! এবার তোমার পালা! হয়তো যে কোনোদিন ঘাতক বিমান এসে তোমাকে গুড়িয়ে দেবে!
শিশু হত্যাকারী কাপুরুষ অমানুষ সৈন্যটা সঙ্গীদের নিয়ে ওকে 'খাক ও খুনে' ফেলে রেখে চলে যাচ্ছিলো!
মা এবার আর সইতে পারলেন না!
মা এবার আর শুধু অশ্রু ফেলে শহীদকে বিদায় জানাতে পারলেন না!
মা এবার উঠে দাঁড়ালেন! মা এবার রুখে দাঁড়ালেন! ধারণ করলেন অগ্নিমূর্তি! কাতিল সৈন্যটার পিছু ধাওয়া করলেন তিনি! এবার তো হারানোর কিছু নেই! তার চোখের সামনে একে একে সবাই চলে গেলো! এখন চলে গেলো সর্বশেষ মানিকটি! এখন বেঁচে থাকবেন তিনি কার জন্যে? কী নিয়ে? ছেলের প্রতিশোধ নিতে তিনি এখন 'হযরত খাওলা'র ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন! কিন্তু নাপাক সৈন্যটা এক অবলা নারীর বুকে গুলি চালাতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা বা বিলম্ব করলো না! ঝাঁঝরা হয়ে গেলো তারও বুকটা! কাঁপতে কাঁপতে তার নিথর দেহটাও লুটিয়ে পড়লো এ বাড়ির শহিদী ঈদগাহে!
এ বাঢ়িতে এখন আর কেউ নেই শহীদ হওয়ার মতো!
হে গর্বিত বাড়ি! এবার তোমার পালা! হয়তো যে কোনোদিন ঘাতক বিমান এসে তোমাকে গুড়িয়ে দেবে!
দশ.
শয়তানরা যেভাবে এসেছিলো সেভাবেই বেরিয়ে গেলো। সাথে নিয়ে গেলো পাথরের থলেটা! ফেলে গেলো মা-ছেলের রক্তরাঙা তাজা লাশ! তাদের রক্তের ঘ্রাণের সাথে মিশে গেলো একটু আগে পাক করা মা'র তরকারীর ঘ্রাণ! আর সামান্য আগের বারুদের ঘ্রাণ!
শয়তানরা যেভাবে এসেছিলো সেভাবেই বেরিয়ে গেলো। সাথে নিয়ে গেলো পাথরের থলেটা! ফেলে গেলো মা-ছেলের রক্তরাঙা তাজা লাশ! তাদের রক্তের ঘ্রাণের সাথে মিশে গেলো একটু আগে পাক করা মা'র তরকারীর ঘ্রাণ! আর সামান্য আগের বারুদের ঘ্রাণ!
বন্ধু! দেখলে ইহুদীদের কাপুরুষতা?
শিশুর বুকে গুলি চালাতে ওরা দ্বিধা করে না!
অসহায় নারীর বুকেও ওরা গুলি চালায় অমানবিক নিষ্ঠুরতায়!
তবুও এদের পক্ষেই কথা বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়!
এখন বলো, হাজার হাজার না হোক অন্তত একজন সালাহুদ্দীন আইয়ূবী না-হলে .. না-এলে এবং নিপীড়ত নির্যাতিত অসহায় নারী-শিশুকে উদ্ধার করতে না-পারলে কে রক্ষা করবে মানবতার লাজ?
শিশুর বুকে গুলি চালাতে ওরা দ্বিধা করে না!
অসহায় নারীর বুকেও ওরা গুলি চালায় অমানবিক নিষ্ঠুরতায়!
তবুও এদের পক্ষেই কথা বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়!
এখন বলো, হাজার হাজার না হোক অন্তত একজন সালাহুদ্দীন আইয়ূবী না-হলে .. না-এলে এবং নিপীড়ত নির্যাতিত অসহায় নারী-শিশুকে উদ্ধার করতে না-পারলে কে রক্ষা করবে মানবতার লাজ?
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন