শাইখুল ইসলাম মাওলানা তাকী ওসমানী দা. বা. বলেন, রাসূল সা. ইরশাদ করেন, উত্তম জিকির لا اله الا الله এবং সমস্ত দোআর মধ্যে উত্তম দোআ হলো الحمد لله
সমস্ত পৃথিবীর অস্তিত্ব উল্লেখিত কালিমার উপর ভিত্তি করেই
যেহেতু এই কালিমা দীনের ভিত্তি, ঈমানের মূল, সুতরাং যে যত বেশি এই কালিমা পড়বে ততবেশি তার ঈমানের মজবুতী আসবে। ঈমান মূলত এই কালিমার উপরই প্রতিষ্ঠিত; বরং দুনিয়ার অস্থিত্বই এই কালিমার উপর। হযরত আনাস সা. হতে বর্ণিত রাসূল সা. বলেন- لا تقوم الساعة حتي لا يقال في الارض لا اله الا الله ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংগঠিত হবে না যতক্ষণ না দুনিয়াতে একজনও لا اله الا الله বলনেওয়ালা বাকি থাকবে। [মাজমাউয যাওয়ায়েদ মান্বাউল ফাওয়ায়েদ : হা.১২৫৯৯, আহমদ] অন্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত একজন ব্যক্তিও الله الله বলনেওয়ালা পাওয়া যাবে কিয়ামত হবে না। [মুস্তাদরাক আলাস সাহীহাইন পৃ. ৬৯৪/হা.৮৫৫৮] অন্য এক হাদীসে আছে, কিয়ামত সংগঠিত হবে কেবল নিকৃষ্টতম মানুষের উপর। [সহীহ মুসলিম, মুসনাদে আহমদ, মুসতাদরাক আলাস সাহীহাইন]
কালিমা তায়্যিবার চেয়ে উত্তম কোন অজিফা নাই
দীর্ঘ এক হাদীসে রাসূল সা. ইরশাদ করেন, একবার হযরত মুসা আ. আল্লাহর কাছে দরখাস্ত করলেন, হে আল্লাহ! আমাকে এমন কিছু জিনিসের শিক্ষা দিন যা দিয়ে আপনাকে আমি স্মরণ করব, যা দিয়ে আপনাকে ডাকব। আল্লাহ তাআলা বলেন, কালিমায়ে তায়্যিবা তথা لا اله الا الله বলতে থাক। তিনি বলেন, হে আল্লাহ এই কালিমা তো পৃথিবীর সবাই পড়ে। আল্লাহ তাআলা বলেন, এই কালিমা পড়তে থাক। তিনি বলেন হে পরওয়ারদেগার! আমি তো বিশেষ কোন জিনিস চেয়েছিলাম যা শুধু আমাকেই দান করা হবে। তখন আল্লাহ তাআলা বলেন যদি সাত আসমান আর সাত জমিন এক পাল্লায় রাখা হয় আর অপর পাল্লায় لا اله الا الله রাখা হয় তাহলে কালিমাওয়ালা পাল্লাহ ভারি হয়ে যাবে।
কালিমায়ে এখলাসের বরকত ও আলামত
হযরত যায়েদ বিন আরকাম রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি এখলাসের সাথে বলবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। রাসূল সা. বলেন, এখলাস হলো যে সমস্ত জিনিস আল্লাহ বান্দার উপর হারাম করেছেন তা পরিত্যাগ করা। [মুজামুল আওসাত : ২/৬৫, হা.১২৩৫, মুজামুল কাবীর ৫/১৯৭, হা.৫০৭৪]
আলোকপাত : যখন হারাম কাম পরিত্যাগ করবে আর لا اله الا الله বলবে, তখন সরাসরি জান্নাতে প্রবেশে কোন বাধা নাই। কেননা বদ আমলের কারণে সাজা ভোগ করে কোনো না কোন একদিন সে জাহান্নাম হতে মুক্তি পাবে। তবে যদি বদ আমলের কারনে ঈমানের দৌলতই হারিয়ে ফেলে, তখন তো চিরস্থায়ী জাহান্নাম ছাড়া কোন বিকল্পই নাই।
ফকীহ আবুল লাইস সমরকন্দী রহ. লেখেন প্রত্যেকের উচিত সর্বদায় لا اله الا الله বলা আর দোআ করতে থাকা এবং নিজেকে সর্বপ্রকার গোনাহ থেকে বাঁিচয়ে রাখা। কেননা অনেক লোক এমন আছে যারা গোনাহর কারণে ঈমান হারা হয়ে যায় এবং দুনিয়ার যিন্দেগী কুফরী অবস্থায় কাটে। এরচেয়ে মসিবত আর কি হতে পারে যে, একজনের নাম সারা জীবন মুসলমানের লিস্টে ছিল, কিন্তু কিয়ামতের ময়দানে তার নাম কাফেরের লিস্টে চলে গেল, তখন এটাই হবে তার প্রকৃত ও চুড়ান্ত আফসোস। এমন আফসোস ঐ ব্যক্তির জন্য হবে না যার সারাটা জীবন কেটেছে গির্জা আর মূর্তির ঘরে উপাসনা করে, আর শেষে কাফেরের লিস্টে তার নাম ওঠে গেল। আফসোস আর দুর্ভাগ্য তো তার জন্য যে সারা জীবন মসজিদে সময় কাটিয়েছে পরিশেষে কাফেরের লিস্টে তার নাম ওঠে গেছে। আর এমনটা হলো অধিক পরিমানে গোনাহ করার কারণে এবং নির্জনে আল্লাহর অবাধ্য হওয়া ও হারাম কাজ থেকে বিরত না থাকার কারনে। এমন অনেক লোক আছে যাদের কাছে অন্যরা টাকা, পয়সা, ধন-সম্পদ পাবে, আর সে নিজেও জানে যে এই মাল তো আসলে অন্যের; তারপরও নিজেকে বুঝায় যে এগুলো আমি একদিন মালিককে ফেরত দিয়ে দিব অথবা মালিকের কাছ থেকে মাফ চেয়ে নিব কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার আর সেই সুযোগ হয় না, তার আগেই সে মৃত্যুর দুয়ারে এসে হাজি হয়ে যায়। অনেক লোক এমন আছে যারা আপন আপন স্ত্রীদের তালাক দিয়ে দিয়েছে এবং এটা তারা জানেও, তারপরও স্ত্রীর সাথে ঘর সংসার করছে এমতাবস্থায় মৃত্যুর ডাক এসে যায়; তওবারও কোন সুযোগ হয় না। এসমস্ত কারণে শেষ পযন্ত তার ঈমানই চলে যায়।
সমস্ত পৃথিবীর অস্তিত্ব উল্লেখিত কালিমার উপর ভিত্তি করেই
যেহেতু এই কালিমা দীনের ভিত্তি, ঈমানের মূল, সুতরাং যে যত বেশি এই কালিমা পড়বে ততবেশি তার ঈমানের মজবুতী আসবে। ঈমান মূলত এই কালিমার উপরই প্রতিষ্ঠিত; বরং দুনিয়ার অস্থিত্বই এই কালিমার উপর। হযরত আনাস সা. হতে বর্ণিত রাসূল সা. বলেন- لا تقوم الساعة حتي لا يقال في الارض لا اله الا الله ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংগঠিত হবে না যতক্ষণ না দুনিয়াতে একজনও لا اله الا الله বলনেওয়ালা বাকি থাকবে। [মাজমাউয যাওয়ায়েদ মান্বাউল ফাওয়ায়েদ : হা.১২৫৯৯, আহমদ] অন্য হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত একজন ব্যক্তিও الله الله বলনেওয়ালা পাওয়া যাবে কিয়ামত হবে না। [মুস্তাদরাক আলাস সাহীহাইন পৃ. ৬৯৪/হা.৮৫৫৮] অন্য এক হাদীসে আছে, কিয়ামত সংগঠিত হবে কেবল নিকৃষ্টতম মানুষের উপর। [সহীহ মুসলিম, মুসনাদে আহমদ, মুসতাদরাক আলাস সাহীহাইন]
কালিমা তায়্যিবার চেয়ে উত্তম কোন অজিফা নাই
দীর্ঘ এক হাদীসে রাসূল সা. ইরশাদ করেন, একবার হযরত মুসা আ. আল্লাহর কাছে দরখাস্ত করলেন, হে আল্লাহ! আমাকে এমন কিছু জিনিসের শিক্ষা দিন যা দিয়ে আপনাকে আমি স্মরণ করব, যা দিয়ে আপনাকে ডাকব। আল্লাহ তাআলা বলেন, কালিমায়ে তায়্যিবা তথা لا اله الا الله বলতে থাক। তিনি বলেন, হে আল্লাহ এই কালিমা তো পৃথিবীর সবাই পড়ে। আল্লাহ তাআলা বলেন, এই কালিমা পড়তে থাক। তিনি বলেন হে পরওয়ারদেগার! আমি তো বিশেষ কোন জিনিস চেয়েছিলাম যা শুধু আমাকেই দান করা হবে। তখন আল্লাহ তাআলা বলেন যদি সাত আসমান আর সাত জমিন এক পাল্লায় রাখা হয় আর অপর পাল্লায় لا اله الا الله রাখা হয় তাহলে কালিমাওয়ালা পাল্লাহ ভারি হয়ে যাবে।
কালিমায়ে এখলাসের বরকত ও আলামত
হযরত যায়েদ বিন আরকাম রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সা. ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি এখলাসের সাথে বলবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। রাসূল সা. বলেন, এখলাস হলো যে সমস্ত জিনিস আল্লাহ বান্দার উপর হারাম করেছেন তা পরিত্যাগ করা। [মুজামুল আওসাত : ২/৬৫, হা.১২৩৫, মুজামুল কাবীর ৫/১৯৭, হা.৫০৭৪]
আলোকপাত : যখন হারাম কাম পরিত্যাগ করবে আর لا اله الا الله বলবে, তখন সরাসরি জান্নাতে প্রবেশে কোন বাধা নাই। কেননা বদ আমলের কারণে সাজা ভোগ করে কোনো না কোন একদিন সে জাহান্নাম হতে মুক্তি পাবে। তবে যদি বদ আমলের কারনে ঈমানের দৌলতই হারিয়ে ফেলে, তখন তো চিরস্থায়ী জাহান্নাম ছাড়া কোন বিকল্পই নাই।
ফকীহ আবুল লাইস সমরকন্দী রহ. লেখেন প্রত্যেকের উচিত সর্বদায় لا اله الا الله বলা আর দোআ করতে থাকা এবং নিজেকে সর্বপ্রকার গোনাহ থেকে বাঁিচয়ে রাখা। কেননা অনেক লোক এমন আছে যারা গোনাহর কারণে ঈমান হারা হয়ে যায় এবং দুনিয়ার যিন্দেগী কুফরী অবস্থায় কাটে। এরচেয়ে মসিবত আর কি হতে পারে যে, একজনের নাম সারা জীবন মুসলমানের লিস্টে ছিল, কিন্তু কিয়ামতের ময়দানে তার নাম কাফেরের লিস্টে চলে গেল, তখন এটাই হবে তার প্রকৃত ও চুড়ান্ত আফসোস। এমন আফসোস ঐ ব্যক্তির জন্য হবে না যার সারাটা জীবন কেটেছে গির্জা আর মূর্তির ঘরে উপাসনা করে, আর শেষে কাফেরের লিস্টে তার নাম ওঠে গেল। আফসোস আর দুর্ভাগ্য তো তার জন্য যে সারা জীবন মসজিদে সময় কাটিয়েছে পরিশেষে কাফেরের লিস্টে তার নাম ওঠে গেছে। আর এমনটা হলো অধিক পরিমানে গোনাহ করার কারণে এবং নির্জনে আল্লাহর অবাধ্য হওয়া ও হারাম কাজ থেকে বিরত না থাকার কারনে। এমন অনেক লোক আছে যাদের কাছে অন্যরা টাকা, পয়সা, ধন-সম্পদ পাবে, আর সে নিজেও জানে যে এই মাল তো আসলে অন্যের; তারপরও নিজেকে বুঝায় যে এগুলো আমি একদিন মালিককে ফেরত দিয়ে দিব অথবা মালিকের কাছ থেকে মাফ চেয়ে নিব কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার আর সেই সুযোগ হয় না, তার আগেই সে মৃত্যুর দুয়ারে এসে হাজি হয়ে যায়। অনেক লোক এমন আছে যারা আপন আপন স্ত্রীদের তালাক দিয়ে দিয়েছে এবং এটা তারা জানেও, তারপরও স্ত্রীর সাথে ঘর সংসার করছে এমতাবস্থায় মৃত্যুর ডাক এসে যায়; তওবারও কোন সুযোগ হয় না। এসমস্ত কারণে শেষ পযন্ত তার ঈমানই চলে যায়।
এক যুবকের ঘটনা
হাদীসের কিতাবে উল্লেখ আছে, রাসূল সা. এর যুগে এক যুবক মৃত্যু যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছিল। তাকে কালিমার তালকিন দেওয়া হলে সে কালিমা পড়তে পারে না। রাসূল সা. এর দরবারে সংবাদ পাঠানো হলো, আলকামা মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছে, কিন্তু কালিমা পড়তে পারছে না। রাসূল সা. তাশরীফ আনলেন এবং অবস্থা জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলেন তার মা তার উপর অসন্তুষ্ট। এই অপরাধে তার যবান থেকে কালিমা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাসূল সা. তার মাকে ডাকলেন আর বললেন, যদি এখানে প্রচ- এক আগুনের কু-লি জ্বালানো হয় আর তোমার পুত্রকে সেখানে ফেলে দেওয়া হয় তাহলে তুমি কি ছেলের ব্যাপারে সুপারিশ করবে? মহিলা উত্তরে বলল, অবশ্যই করব। তখন রাসূল সা. বললেন তুমি তাকে ক্ষমা করে দাও। মহিলাটি তাকে মাফ করে দিল, তারপর আলকামা রা. কে কালিমার তালকিন দেওয়া হলো। সাথে সাথে তার যবান থেকে বেরিয়ে আসল রাসূল সা. আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন যে, তার একজন সাধারণ উম্মত জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি পেয়ে গেল। এমন হাজারও ঘটনা হাদীসের কিতাবে উল্লেখ আছে যে, আমরা এমন গুনাহের মধ্যে লিপ্ত থাকি যার ফলে আমাদের দ্বীন ও দুনিয়া উভয়ই নষ্ট হয়ে যায়।
হাদীসের কিতাবে উল্লেখ আছে, রাসূল সা. এর যুগে এক যুবক মৃত্যু যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছিল। তাকে কালিমার তালকিন দেওয়া হলে সে কালিমা পড়তে পারে না। রাসূল সা. এর দরবারে সংবাদ পাঠানো হলো, আলকামা মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছে, কিন্তু কালিমা পড়তে পারছে না। রাসূল সা. তাশরীফ আনলেন এবং অবস্থা জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলেন তার মা তার উপর অসন্তুষ্ট। এই অপরাধে তার যবান থেকে কালিমা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাসূল সা. তার মাকে ডাকলেন আর বললেন, যদি এখানে প্রচ- এক আগুনের কু-লি জ্বালানো হয় আর তোমার পুত্রকে সেখানে ফেলে দেওয়া হয় তাহলে তুমি কি ছেলের ব্যাপারে সুপারিশ করবে? মহিলা উত্তরে বলল, অবশ্যই করব। তখন রাসূল সা. বললেন তুমি তাকে ক্ষমা করে দাও। মহিলাটি তাকে মাফ করে দিল, তারপর আলকামা রা. কে কালিমার তালকিন দেওয়া হলো। সাথে সাথে তার যবান থেকে বেরিয়ে আসল রাসূল সা. আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন যে, তার একজন সাধারণ উম্মত জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি পেয়ে গেল। এমন হাজারও ঘটনা হাদীসের কিতাবে উল্লেখ আছে যে, আমরা এমন গুনাহের মধ্যে লিপ্ত থাকি যার ফলে আমাদের দ্বীন ও দুনিয়া উভয়ই নষ্ট হয়ে যায়।
لا اله الا الله সরাসরি আরশে আজীম পর্যন্ত পৌঁছে যায়
রাসূল সা. ইরশাদ করেন কোন বান্দা এমন নাই যে সে لا اله الا الله পড়ল আর তার জন্য আসমানের দরজা খুলা হয় নাই, শেষপর্যন্ত তা আরশে আযীম পর্যন্ত পৌঁছে, কিন্তু শর্ত হলো কবীরা গুনাহ থেকে মুক্ত থাকতে হবে।
আলোকপাত : এটা কত বড় ফজিলত এবং কবুলিয়াতের আলামত যে এই কালিমা সোজা আরশে আযীম পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
রাসূল সা. ইরশাদ করেন কোন বান্দা এমন নাই যে সে لا اله الا الله পড়ল আর তার জন্য আসমানের দরজা খুলা হয় নাই, শেষপর্যন্ত তা আরশে আযীম পর্যন্ত পৌঁছে, কিন্তু শর্ত হলো কবীরা গুনাহ থেকে মুক্ত থাকতে হবে।
আলোকপাত : এটা কত বড় ফজিলত এবং কবুলিয়াতের আলামত যে এই কালিমা সোজা আরশে আযীম পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
لا اله الا الله বলার উপর জান্নাত এবং গুনাহ মাফের সুসংবাদ
হযরত শাদ্দাদ রা. হযরত উবাদা রা. হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমরা একবার রাসূল সা. এর দরবারে বসা ছিলাম, এমন সময় রাসূল সা. হঠাৎ জিজ্ঞাসা করলেন, মজলিসে কোনো অমুসলিম আছে? আমরা আরজ করলাম কেউ নেই ইয়া রাসূলাল্লাহ সা.! রাসূল সা. বললেন, দরজা বন্ধ করে দাও। এরপর বললেন, হাত ওঠিয়ে বল আমরা অল্প সময় হাত ওঠিয়ে কালিমায়ে তায়্যিবা পড়লাম। তারপর রাসূল সা. পড়লেন ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ হে আল্লাহ তুমি আমাকে এই কালিমা দিয়ে পাঠিয়েছ, আর এই কালিমার উপর জান্নাতের ওয়াদা করেছ এবং তুমিতো ওয়াদা ভঙ্গ করনা। তুমিই তো উত্তম ওয়াদা পূরণকারী। এরপর রাসূল সা. আমাদেরকে বললেন, সুসংবাদ গ্রহণ কর! আল্লাহ তোমাদের মাফ করে দিয়েছেন।
হযরত শাদ্দাদ রা. হযরত উবাদা রা. হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমরা একবার রাসূল সা. এর দরবারে বসা ছিলাম, এমন সময় রাসূল সা. হঠাৎ জিজ্ঞাসা করলেন, মজলিসে কোনো অমুসলিম আছে? আমরা আরজ করলাম কেউ নেই ইয়া রাসূলাল্লাহ সা.! রাসূল সা. বললেন, দরজা বন্ধ করে দাও। এরপর বললেন, হাত ওঠিয়ে বল আমরা অল্প সময় হাত ওঠিয়ে কালিমায়ে তায়্যিবা পড়লাম। তারপর রাসূল সা. পড়লেন ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ হে আল্লাহ তুমি আমাকে এই কালিমা দিয়ে পাঠিয়েছ, আর এই কালিমার উপর জান্নাতের ওয়াদা করেছ এবং তুমিতো ওয়াদা ভঙ্গ করনা। তুমিই তো উত্তম ওয়াদা পূরণকারী। এরপর রাসূল সা. আমাদেরকে বললেন, সুসংবাদ গ্রহণ কর! আল্লাহ তোমাদের মাফ করে দিয়েছেন।
ঈমান নবায়ন কর
হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেন, তোমাদের রব আল্লাহ তাআলা বলেন, যদি আমার বান্দা আমার অনুগত্য করে আমি তাদেরকে রাতের বেলায় বৃষ্টি দান করব, দিনের বেলায় সুর্য উদয় করব। আমি তাদেরকে বিদ্যুতের গর্জন শোনাব না। তারপর রাসূল সা. বলেন, আল্লাহর উপর ভালো ধারণা রাখা উত্তম ইবাদতের অংশ। সর্বশেষ রাসূল সা. বলেন, তোমরা তোমাদের ঈমান নবায়ন কর। বলা হল কিভাবে আমাদের ঈমান নবায়ন করব ইয়া রাসূলাল্লাহ? তিনি বলেন, বেশি বেশি لا اله الا اللهবল। [মুসনাদে আহমদ: হা. ৮৪৯৩, তিরমিযি, মুসতাদরাক আলাস সাহীহাইন: ৫/৩৬৪, হা.৩১৮৫,৭৭৩১]
হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেন, তোমাদের রব আল্লাহ তাআলা বলেন, যদি আমার বান্দা আমার অনুগত্য করে আমি তাদেরকে রাতের বেলায় বৃষ্টি দান করব, দিনের বেলায় সুর্য উদয় করব। আমি তাদেরকে বিদ্যুতের গর্জন শোনাব না। তারপর রাসূল সা. বলেন, আল্লাহর উপর ভালো ধারণা রাখা উত্তম ইবাদতের অংশ। সর্বশেষ রাসূল সা. বলেন, তোমরা তোমাদের ঈমান নবায়ন কর। বলা হল কিভাবে আমাদের ঈমান নবায়ন করব ইয়া রাসূলাল্লাহ? তিনি বলেন, বেশি বেশি لا اله الا اللهবল। [মুসনাদে আহমদ: হা. ৮৪৯৩, তিরমিযি, মুসতাদরাক আলাস সাহীহাইন: ৫/৩৬৪, হা.৩১৮৫,৭৭৩১]
গরীবের জন্য ধনীর সমান সওয়াব অর্জনের সুসংবাদ
একবার রাসূল সা. এর দরবারে গরীব মুহাজিরদের একটি দল উপস্থিত হয়ে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ধনী সাহাবীরা তো বড় বড় সওয়াবের কাজ করে ফেলে যা আমরা করতে পারি না। রাসূল সা. জিজ্ঞেস করল কিভাবে? গরীব সাহাবারা রা. বললেন, নামায রোযা পালনের ক্ষেত্রে তো তারা আমরা সবাই সমান। তারাও নামায আদায় করে রোযা রাখে আমরাও রাখি; কিন্তু তাদের কাছে ধন-সম্পদ থাকার কারণে তারা যাকাত দেয়, গোলাম আজাদ করে, সদকা করে যা আমরা পারি না। ফলে আমরা সেই সওয়াব হতে বঞ্চিত থাকি। নবী করীম সা. বললেন, আমি কি তোমাদের এমন আমলের কথা বলব, যা করলে তোমরা পূর্বেকার লোকদের এবং পরের লোকদের থেকেও এগিয়ে যাবে? ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ তোমাদের সমান সওয়াব অর্জন করতে পারবে না যতক্ষণ না সেও এই আমল করে। সাহাবায়ে কেরাম রা. বললেন, অবশ্যই বলুন। রাসূল সা. বললেন, প্রত্যেক নামাযের পর- الله اكبر ৩৩ বার করে পড়বে। سبحان الله ৩৩ বার করে পড়বে। الحمد لله ৩৩ বার করে পড়বে। গরীব সাহাবায়ে কেরাম আমল করা শুরু করে দিল। (কিন্তু তখনকার ধনী সাহাবীরাও এই কথা শুনে তারাও এই আমল শুরু করে দিল) গরীব সাহাবায়ে কেরাম রা. আবার জিজ্ঞাস করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ধনী সাহাবারাও তো ঐ আমল করা শুরু করছে। এরপর রাসূল সা. বললেনذالك فضل الله يؤتيه من يشاء এটা আল্লাহর দয়া, তিনি যাকে চান দান করেন। কে আছে যে তা ফিরাতে পারবে?
অন্য এক হাদীসে রাসূল সা. ঘটনাটি এভাবে বর্ণনা করেছেন, ঐ সমস্ত গরীব সাহাবীদের উত্তরে রাসূল সা. বলেন, তোমাদের জন্যও আল্লাহ সদকার স্থলাভিসিক্ত করেছেন। سبحان الله একবার বলা সদকার সমান। الحمد لله বলা সদকার সমান। স্ত্রীর সাথে রাত্রিযাপন করা সদকার সমান। সাহাবায়ে কেরাম আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করল, স্ত্রীর সাথে রাত্রিযাপন করা দ্বারা তো নিজের যৌন চাহিদা পূরণ হয়, এতে সদকার সওয়াব কিভাবে পাওয়া যাবে! রাসূল সা. স্বভাবসূলভ উত্তরে বললেন, যদি অবৈধভাবে যৌন চাহিদা মিটাতে তাহলে গোনাহ হত কি না? সাহাবারা উত্তরে বলল, অবশ্যই হত, তখন উম্মতের রাহবার রাসূল সা. বললেন, এভাবে বৈধপন্থায় যৌন চাহিদা মিটালে সদকার সাওয়াব পাওয়া যায়।
একবার রাসূল সা. এর দরবারে গরীব মুহাজিরদের একটি দল উপস্থিত হয়ে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ধনী সাহাবীরা তো বড় বড় সওয়াবের কাজ করে ফেলে যা আমরা করতে পারি না। রাসূল সা. জিজ্ঞেস করল কিভাবে? গরীব সাহাবারা রা. বললেন, নামায রোযা পালনের ক্ষেত্রে তো তারা আমরা সবাই সমান। তারাও নামায আদায় করে রোযা রাখে আমরাও রাখি; কিন্তু তাদের কাছে ধন-সম্পদ থাকার কারণে তারা যাকাত দেয়, গোলাম আজাদ করে, সদকা করে যা আমরা পারি না। ফলে আমরা সেই সওয়াব হতে বঞ্চিত থাকি। নবী করীম সা. বললেন, আমি কি তোমাদের এমন আমলের কথা বলব, যা করলে তোমরা পূর্বেকার লোকদের এবং পরের লোকদের থেকেও এগিয়ে যাবে? ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ তোমাদের সমান সওয়াব অর্জন করতে পারবে না যতক্ষণ না সেও এই আমল করে। সাহাবায়ে কেরাম রা. বললেন, অবশ্যই বলুন। রাসূল সা. বললেন, প্রত্যেক নামাযের পর- الله اكبر ৩৩ বার করে পড়বে। سبحان الله ৩৩ বার করে পড়বে। الحمد لله ৩৩ বার করে পড়বে। গরীব সাহাবায়ে কেরাম আমল করা শুরু করে দিল। (কিন্তু তখনকার ধনী সাহাবীরাও এই কথা শুনে তারাও এই আমল শুরু করে দিল) গরীব সাহাবায়ে কেরাম রা. আবার জিজ্ঞাস করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ধনী সাহাবারাও তো ঐ আমল করা শুরু করছে। এরপর রাসূল সা. বললেনذالك فضل الله يؤتيه من يشاء এটা আল্লাহর দয়া, তিনি যাকে চান দান করেন। কে আছে যে তা ফিরাতে পারবে?
অন্য এক হাদীসে রাসূল সা. ঘটনাটি এভাবে বর্ণনা করেছেন, ঐ সমস্ত গরীব সাহাবীদের উত্তরে রাসূল সা. বলেন, তোমাদের জন্যও আল্লাহ সদকার স্থলাভিসিক্ত করেছেন। سبحان الله একবার বলা সদকার সমান। الحمد لله বলা সদকার সমান। স্ত্রীর সাথে রাত্রিযাপন করা সদকার সমান। সাহাবায়ে কেরাম আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করল, স্ত্রীর সাথে রাত্রিযাপন করা দ্বারা তো নিজের যৌন চাহিদা পূরণ হয়, এতে সদকার সওয়াব কিভাবে পাওয়া যাবে! রাসূল সা. স্বভাবসূলভ উত্তরে বললেন, যদি অবৈধভাবে যৌন চাহিদা মিটাতে তাহলে গোনাহ হত কি না? সাহাবারা উত্তরে বলল, অবশ্যই হত, তখন উম্মতের রাহবার রাসূল সা. বললেন, এভাবে বৈধপন্থায় যৌন চাহিদা মিটালে সদকার সাওয়াব পাওয়া যায়।
কালিমায়ে তায়্যিবার দাবী
fلا اله الا الله শুধু শাব্দিক কোন বাক্য নয় যে, মুখে উচ্চারণ করা হলো আর এখানেই শেষ; বরং যে দিন বা যখন এই বাক্যটি বলা হয়েছে সেদিন থেকেই নিজেকে আল্লাহ ও তার রাসূল সা. এর সামনে মাথা নত করে এ কথার স্বীকৃতি বা অঙ্গিকার করা হয়েছে যে, আজ থেকে আমি নিজ চাহিদামত চলব না। নিজের ইচ্ছাধীন কোন কিছুই করব না। যা হবে আল্লাহ তাআলা ও তার রাসূলের হুকুমেই হবে। আল্লাহ তাআলা রাসূল সা. এর মাধ্যমে যে দ্বীন বা আহকাম দিয়েছেন তাই হবে আমার চলার মাধ্যম। আমি রাসূল সা. এর হুকুমের তাবেদার। তার সুন্নাত অনুযায়ী জীবন যাপন করতে আমি বাধ্য। সুতরাং কালিমায়ে তায়্যিবা এর দাবী হলো, জীবন পরিচালনা করবে তো কিভাবে পরিচালনা করবে? ইবাদত কিভাবে করবে? মানুষের সাথে আচার-আচরণ, ব্যবহার, উঠাবসা, চলাফেরা কিভাবে করবে? চরিত্র কেমন হওয়া চাই? প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজনের সাথে উঠাবসা কেমন হওয়া চাই? মনে রাখতে হবে জীবনের প্রতিটি স্তরেই আল্লাহ ও তার রাসূল সা. এর দিক নির্দেশনা রয়েছে হেদায়াত রয়েছে যা উল্লেখিত কালিমার মধ্যে নিহিত। আর সেই হেদায়াত আমাদেরকে রাসূল সা. এর পবিত্র মুখনিসৃত বাণী দ্বারা দিয়েছেন, কাজে কর্মে বাস্তবতার আঙ্গিকেও দেখিয়ে দিয়েছেন। রাসূল সা. জীবনের প্রতিটি পর্বে এক এক নকল হরকত দ্বারা, কাজে কর্মে বস্তবায়ন করে উম্মতকে শিখিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। এখন সমস্ত মুসলমানের দায়িত্ব হলো আল্লাহ ও তার রাসূলের বাতলানো পথের ইলম অর্জন করে সেই মোতাবেক নিজের যিন্দেগীকে সাজানো এবং অন্য লোকদেরকে সেই নূরানী যিন্দেগীর প্রতি আহ্বান করা। নিজের যিন্দেগী রাসূলের তরীকা মত পরিচালনা করার নামই হলো, তাকওয়া। তাকওয়া বলা হয়, আমি ঈমান আনার মাধ্যমে যে ওয়াদা আল্লাহ ও তার রাসূলের সাথে করেছি তা পুরা করা এবং আখেরাতে আল্লাহর সামনে যখন উপস্থিত হব তখন দুনিয়াতে ওয়াদামত চলতে না পারার কারণে লাজ্জায় পড়তে হবে ও জাহান্নামে জ্বলতে হবে এই ভয় অন্তরে রাখা
যেমন ব্যক্তি তেমন সাথী
বর্তমানে মানুষের অবস্থা হলো নিজে যে পরিস্থিতিতেই অবস্থান করুক না কেন; চায় অন্যায় অবিচারে লিপ্ত থাকুক বা সুদ ঘুষ, প্রতারণাসহ যত হীন কাজ হোক না কেন এগুলোতে লিপ্ত থেকেও নিজের সাথী তালাশ করতে গিয়ে মানদ- তৈরী করে। যেমন কেউ কেউ মনে মনে ভাবে আমার সাথী হতে হবে জুনাইদ বুগদাদী, আব্দুল কাদের জিলানী, বায়েজিদ বুস্তামীরমত রহ. এর মত বড় বড় বুজুর্গ ব্যক্তির ন্যায় মনীষীগণ। যাদের বুজুর্গী, তাকওয়া, আমল, ঈমান এবং কর্মদক্ষ ও ইলমের প্রশিদ্ধ সারা বিশ্বে তারকার ন্যায় ঝলমল। অথচ নিয়ম ছিল যেমন আত্মা তেমন ফেরেশতা। অর্থাৎ যেমন তুমি তোমার সাথীও তোমারমত হবে। তুমি যে মানের হবে তোমার সাথীও সে মাপের হবে।
সুতরাং বর্তমান যুগে দ্বীন অর্জন করা, বুঝা এবং সেই অনুযায়ী আমল করার জন্য আল্লাহওয়ালাদের সাহচর্য ব্যতীত কোন পথ নেই। সঠিক দীন বুঝতে হলে এবং সেই অনুযায়ী আমল করতে হলে কোন হক্কানী আলেম বুজুর্গের সুহবতে থাকতে হবে। যদি আল্লাহ তাআলা কোন বান্দাকে দীন বুঝার ও শিখার জন্য কোন আলেম বুজুর্গের সাহচর্যে যাওয়ার তাওফিক দান করেন তাহলে এর ফলাফল অতিউত্তম হবে, বুঝা যায় তাকে সঠিক ইলম দান করা হবে।
পরিশেষে কামনা করি আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের সবাইকে দীনের সঠিক বুঝ দান করেন এবং সাদেকীন তথা আল্লাহওয়ালা বুজুর্গানদের সুহবত হাসিল করার তাওফিক দান করেন। তাদের মহব্বত আর ভালোবাসার কারণে আমাদের অন্তরে দীনের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে দিক। আমিন।
fلا اله الا الله শুধু শাব্দিক কোন বাক্য নয় যে, মুখে উচ্চারণ করা হলো আর এখানেই শেষ; বরং যে দিন বা যখন এই বাক্যটি বলা হয়েছে সেদিন থেকেই নিজেকে আল্লাহ ও তার রাসূল সা. এর সামনে মাথা নত করে এ কথার স্বীকৃতি বা অঙ্গিকার করা হয়েছে যে, আজ থেকে আমি নিজ চাহিদামত চলব না। নিজের ইচ্ছাধীন কোন কিছুই করব না। যা হবে আল্লাহ তাআলা ও তার রাসূলের হুকুমেই হবে। আল্লাহ তাআলা রাসূল সা. এর মাধ্যমে যে দ্বীন বা আহকাম দিয়েছেন তাই হবে আমার চলার মাধ্যম। আমি রাসূল সা. এর হুকুমের তাবেদার। তার সুন্নাত অনুযায়ী জীবন যাপন করতে আমি বাধ্য। সুতরাং কালিমায়ে তায়্যিবা এর দাবী হলো, জীবন পরিচালনা করবে তো কিভাবে পরিচালনা করবে? ইবাদত কিভাবে করবে? মানুষের সাথে আচার-আচরণ, ব্যবহার, উঠাবসা, চলাফেরা কিভাবে করবে? চরিত্র কেমন হওয়া চাই? প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজনের সাথে উঠাবসা কেমন হওয়া চাই? মনে রাখতে হবে জীবনের প্রতিটি স্তরেই আল্লাহ ও তার রাসূল সা. এর দিক নির্দেশনা রয়েছে হেদায়াত রয়েছে যা উল্লেখিত কালিমার মধ্যে নিহিত। আর সেই হেদায়াত আমাদেরকে রাসূল সা. এর পবিত্র মুখনিসৃত বাণী দ্বারা দিয়েছেন, কাজে কর্মে বাস্তবতার আঙ্গিকেও দেখিয়ে দিয়েছেন। রাসূল সা. জীবনের প্রতিটি পর্বে এক এক নকল হরকত দ্বারা, কাজে কর্মে বস্তবায়ন করে উম্মতকে শিখিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। এখন সমস্ত মুসলমানের দায়িত্ব হলো আল্লাহ ও তার রাসূলের বাতলানো পথের ইলম অর্জন করে সেই মোতাবেক নিজের যিন্দেগীকে সাজানো এবং অন্য লোকদেরকে সেই নূরানী যিন্দেগীর প্রতি আহ্বান করা। নিজের যিন্দেগী রাসূলের তরীকা মত পরিচালনা করার নামই হলো, তাকওয়া। তাকওয়া বলা হয়, আমি ঈমান আনার মাধ্যমে যে ওয়াদা আল্লাহ ও তার রাসূলের সাথে করেছি তা পুরা করা এবং আখেরাতে আল্লাহর সামনে যখন উপস্থিত হব তখন দুনিয়াতে ওয়াদামত চলতে না পারার কারণে লাজ্জায় পড়তে হবে ও জাহান্নামে জ্বলতে হবে এই ভয় অন্তরে রাখা
যেমন ব্যক্তি তেমন সাথী
বর্তমানে মানুষের অবস্থা হলো নিজে যে পরিস্থিতিতেই অবস্থান করুক না কেন; চায় অন্যায় অবিচারে লিপ্ত থাকুক বা সুদ ঘুষ, প্রতারণাসহ যত হীন কাজ হোক না কেন এগুলোতে লিপ্ত থেকেও নিজের সাথী তালাশ করতে গিয়ে মানদ- তৈরী করে। যেমন কেউ কেউ মনে মনে ভাবে আমার সাথী হতে হবে জুনাইদ বুগদাদী, আব্দুল কাদের জিলানী, বায়েজিদ বুস্তামীরমত রহ. এর মত বড় বড় বুজুর্গ ব্যক্তির ন্যায় মনীষীগণ। যাদের বুজুর্গী, তাকওয়া, আমল, ঈমান এবং কর্মদক্ষ ও ইলমের প্রশিদ্ধ সারা বিশ্বে তারকার ন্যায় ঝলমল। অথচ নিয়ম ছিল যেমন আত্মা তেমন ফেরেশতা। অর্থাৎ যেমন তুমি তোমার সাথীও তোমারমত হবে। তুমি যে মানের হবে তোমার সাথীও সে মাপের হবে।
সুতরাং বর্তমান যুগে দ্বীন অর্জন করা, বুঝা এবং সেই অনুযায়ী আমল করার জন্য আল্লাহওয়ালাদের সাহচর্য ব্যতীত কোন পথ নেই। সঠিক দীন বুঝতে হলে এবং সেই অনুযায়ী আমল করতে হলে কোন হক্কানী আলেম বুজুর্গের সুহবতে থাকতে হবে। যদি আল্লাহ তাআলা কোন বান্দাকে দীন বুঝার ও শিখার জন্য কোন আলেম বুজুর্গের সাহচর্যে যাওয়ার তাওফিক দান করেন তাহলে এর ফলাফল অতিউত্তম হবে, বুঝা যায় তাকে সঠিক ইলম দান করা হবে।
পরিশেষে কামনা করি আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের সবাইকে দীনের সঠিক বুঝ দান করেন এবং সাদেকীন তথা আল্লাহওয়ালা বুজুর্গানদের সুহবত হাসিল করার তাওফিক দান করেন। তাদের মহব্বত আর ভালোবাসার কারণে আমাদের অন্তরে দীনের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে দিক। আমিন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন