❑ এখানে আমরা মহাকাশের কিছু ছবি উপস্থাপন করেছি এবং তার সাথে কিছু তথ্য যুক্ত করেছি। আশা করি এই ছবিগুলো আপনাকে এই বিশাল বিষ্ময়কর মহাবিশ্ব সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা দেবে…
এটাই আমাদের পৃখিবী, যেখানে আমরা বসবাস করছি…
❑ আমাদের পৃথিবী ও তার প্রতিবেশী গ্রহসমূহ…
সৌরজগৎ
❑ নিচে পৃথিবী ও চাঁদের মাঝে দূরত্ব দেখানো হয়েছে। খুব একটা বেশি বলে মনে হচ্ছে না তাই না?
পৃথিবী ও চাঁদের মাঝে দূরত্ব
❑ আরেকবার ভেবে দেখুন। পৃথিবী ও চাঁদের মাঝে যে দূরত্ব তাতে সৌরজতের আর সব গ্রহগুলোকে পাশাপাশি সুন্দরভাবে বসিয়ে দেওয়া যাবে…
পৃথিবী ও চাঁদের মাঝে গড় দূরত্ব ৩৮৪,৪০০ কি.মি. বা ২৩৮,৫৫৫ মাইল।
❑ এখন চলুন সৌরজগতের গ্রহগুলো সম্পর্কে একটু আলাপ করি। নিচের ছবিতে বৃহস্পতি গ্রহের অংশবিশেষ দেখতে পাচ্ছেন। এর উপর যে ছোট সবুজ ছোপ দেখতে পাচ্ছেন তা সমগ্র উত্তর আমেরিকা…
বৃহস্পতি’র অংশবিশেষ
❑ এখানে ছয়টা পৃথিবীকে শনি’র সাথে তুলনা করা হচ্ছে। ছয়টা পৃথিবীও যেন শনির কাছে কিছুই না!
শনি গ্রহ
❑ একটা সহজ পরিমাপ করা যাক। শনি’র চারপাশে যে রিং (বলয়) দেখা যায়, তা যদি পৃথিবীর চারপাশে থাকতো তাহলে পৃথিবী থেকে কেমন দেখাতো? ছবিতে দেখুন-
পৃথিবীতে কল্পিত শনির অনুরুপ রিং (বলয়)। বামে ইকুয়েডর, ডানে উপর থেকে যথাক্রমে: পলিনেশিয়া, আলাস্কা এবং ওয়াশিংটন ডি.সি.
❑ নিচে একটি ধূমকেতু’র ছবি। ধারণার সুবিধার্থে ধূমকেতুটকে আমরা লস এঞ্জেলস শহরের উপর ফেলেছি। ভেবে দেখুন তো ধূমকেতুর আকার-আকৃতি কেমন…
লস এঞ্জেলস শহরের উপর একটি ধূমকেতু (কল্পিত)
❑ কিন্তু উপরের আকার-আকৃতি গুলো সূর্যের কাছে কিছুেই না!
সূর্যের সাথে পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহগুলোর তুলনা
❑ চাঁদ থেকে পৃথিবী দেখতে কেমন?
পৃথিবী। চাদ থেকে দৃশ্যমান।
❑ মঙ্গল গ্রহ থেকে পৃথিবী দেখতে কেমন? দেখাই যাচ্ছে না যে! একটু জুম করে দেখুন…
মঙ্গল গ্রহ থেকে দৃশ্যমান পৃথিবী
❑ শনি’র রিং এর নিচ থেকে পৃথিবী দেখতে কেমন?
শনি’র রিং এর নিচ থেকে দৃশ্যমান পৃথিবী
❑ নেপচুন গ্রহ থেকে পৃথিবীকে দেখা যায়?
নেপচুন গ্রহের কিছুটা সামনে থেকে (চার বিলিয়ন মাইল দূরত্ব) দৃশ্যমান পৃথিবী
❑ চলুন আবার একটু পিছনে ফিরে যাই। সূর্যের সাথে পৃথিবীর আরেকটু তুলনা করা যাক। কি দেখছেন ছবিতে? আঁতকে উঠলেন নাকি!
সূর্যের আকারের সাথে পৃথিবীর আকারের তুলনা
❑ আমাদের সূর্য। মঙ্গল গ্রহ থেকে দেখুন কেমন দেখায়…
মঙ্গল গ্রহ থেকে দৃশ্যমান সূর্য
❑ কিন্তু এগুলো যেন কিছুই না! পৃথিবীর সমস্ত সমুদ্র সৈকতে যে পরিমাণ বালির দানা আছে, তার চেয়ে অনেক বেশি (সূর্যের মত বা তার চেয়েও অনেক বড়) নক্ষত্র রয়েছে মহাশূণ্যে… অবস্থা এমন যে, ‘অনেক বেশি’ না বলে ‘অসংখ্য’ বললেও তেমন কোন সমস্যা নেই মনে হয়…
নক্ষত্রের সংখ্যা ও বালির দানা
❑ এবার দেখুন আরেক দৃশ্য। এই নক্ষত্র নাকি সূর্যের চেয়েও ১,০০০,০০০,০০০ গুণ বড়!!!
VY Canis Majoris: সূর্যের চেয়েও ১,০০০,০০০,০০০ গুণ বড় নক্ষত্র
❑ VY Canis Majoris এর তুলনায় সূর্যকে অনেকটা ক্ষুদ্র অর্থহীন বস্তু বলেই মনে হচ্ছে। তাই না?
VY Canis Majoris এর সাথে সূর্যের তুলনা
❑ কিন্তু… গ্যালাক্সি’র (ছায়াপথ) আকারের সাথে উপরের আকারগুলোর তুলনা করাই কষ্ট। এমনকি সূর্যকে যদি একটি রক্ত কণিকার মত ক্ষুদ্র ধরা হয় এবং মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি’কেও যদি একই স্কেলে ছোট করে দেখেন, তাহলে মিল্কিওয়ে’র আকার হবে United States এর সমান!
তুলনা: সূর্য বনাম মিল্কিওয়ে
❑ এক কথায় মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি বৃহদাকার… Huge… যার অভ্যন্তরেই আপনার বসবাস।
মিল্কিওয়ে, এর অভ্যন্তরেই আমাদের বসবাস
❑ আচ্ছা, রাতে বেলা আকাশে কতগুলো তারা (নক্ষত্র) দেখা যায়? গুণে দেখা সম্ভব? আপনি রাতের আকাশে যে পরিমাণ তারা দেখেন, তা নিচের ছবিতে দেখানো ছোট্ট হলুদ বৃত্তের এতটুকু…
মিল্কিওয়ের যতটুকু আমরা দেখি
❑ কিন্তু একি! আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি’র চেয়ে IC 1011 গ্যালাক্সি কত বড়!
IC 1011 গ্যালাক্সি, যা পৃথিবী থেকে ৩৫০ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত
❑ চলুন আরও একটু বড় করে চিন্তা করা যাক। নিচের ছবিটি হাবল টেলিস্কোপের সাহায্যে তোলা। যেখানে রয়েছে হাজার হাজার গ্যালাক্সি, প্রেত্যেকটি গ্যালাক্সিতে রয়েছে মিলিয়ন মিলিয়ন নক্ষত্র ও তাদের নিজস্ব গ্রহসমূহ…
অসংখ্য গ্যালাক্সি
❑ এটি আরেকটি গ্যালাক্সি। UDF 423। ১০ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত…
UDF 423 গ্যালাক্সি, ১০ বিলিয়নি আলোকবর্ষ দূরে
❑ মনে রাখবেন, ছবিতে যা দেখছেন তা এই বিশাল মহাবিশ্বের অতি সামান্য একটা অংশই মাত্র…
রাতের আকাশের ক্ষুদ্রতম অংশ
❑ এছাড়াও রয়েছে ব্ল্যাক হোল (কালো গহ্বর) সমূহ। নিচে একটি ব্ল্যাক হোলের ছবি দেখতে পাচ্ছেন যেখানে ব্ল্যাক হোলটিকে পৃথিবী ও নেপচুনের কক্ষপথের সাথে তুলনা করা হয়েছে। ব্ল্যাক হোলের তুলনায় পৃথিবীর সম্পূর্ণ কক্ষপথ যেন একটি বিন্দু –
ব্ল্যাক হোল
❑ আমাদের পৃথিবী…
পৃথিবী
মূল: ব্লগার শাহ আজিজ
অনুবাদ ও সম্পানায়: এম.এ.ইমরান
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন