মুহাম্মা সানাউল্লাহ, সোনারগঁাঁও, নারায়ণগঞ্জ
প্রশ্ন : জনৈক ব্যক্তি বললো, আমার কাছে লাউ পছন্দনীয় নয়। এ কথা শুনে অন্য একজন বলে উঠলো, কী বললেন ! নবী কারীম সা. যেখানে লাউ খুব পছন্দ করতেন, সেখানে লাউ আপনার নিকট পছন্দনীয় নয় বলছেন! এতে আপনার ঈমান চলে গেছে। তাড়াতাড়ি তাওবা করে ঈমান নবায়ন করেন। বাস্তবেই উক্ত ব্যক্তির ঈমান চলে গেছে কি না?
উত্তর: নিশ্চিত না হয়ে কারো ব্যাপারে ঈমান চলে যাওয়ার মতো মন্তব্য করা মারাত্মক অন্যায়। কোনো বাহ্যিক কুফরী কথা বা কাজে যদি কর্তা বা বক্তার কাফির হওয়ার অনেকগুলো কারণ বিদ্যমান থাকে, আর একটি মাত্র দিক বা সম্ভাবনা থাকে কাফির না হওয়ার, তথাপি তাকে কাফির বলা যাবে না। সুতরাং উল্লিখিত ব্যক্তির উপরোক্ত কথার দরুণ ঈমানে ক্ষতি হয়নি। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের কথা বলার ব্যাপারে সদা সতর্ক থাকা চাই।- ইমদাদুল মুফতীন: ১/১২৫, ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ২/২৮৩, খুলাসাতুল ফাতাওয়া: ৪/৩৮২, জাওয়াহিরুল ফিকহ: ১/২৫।
প্রশ্ন : জনৈক ব্যক্তি বললো, আমার কাছে লাউ পছন্দনীয় নয়। এ কথা শুনে অন্য একজন বলে উঠলো, কী বললেন ! নবী কারীম সা. যেখানে লাউ খুব পছন্দ করতেন, সেখানে লাউ আপনার নিকট পছন্দনীয় নয় বলছেন! এতে আপনার ঈমান চলে গেছে। তাড়াতাড়ি তাওবা করে ঈমান নবায়ন করেন। বাস্তবেই উক্ত ব্যক্তির ঈমান চলে গেছে কি না?
উত্তর: নিশ্চিত না হয়ে কারো ব্যাপারে ঈমান চলে যাওয়ার মতো মন্তব্য করা মারাত্মক অন্যায়। কোনো বাহ্যিক কুফরী কথা বা কাজে যদি কর্তা বা বক্তার কাফির হওয়ার অনেকগুলো কারণ বিদ্যমান থাকে, আর একটি মাত্র দিক বা সম্ভাবনা থাকে কাফির না হওয়ার, তথাপি তাকে কাফির বলা যাবে না। সুতরাং উল্লিখিত ব্যক্তির উপরোক্ত কথার দরুণ ঈমানে ক্ষতি হয়নি। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের কথা বলার ব্যাপারে সদা সতর্ক থাকা চাই।- ইমদাদুল মুফতীন: ১/১২৫, ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ২/২৮৩, খুলাসাতুল ফাতাওয়া: ৪/৩৮২, জাওয়াহিরুল ফিকহ: ১/২৫।
মুহাম্মাদ উসমান গণী, কবিরহাট, নোয়াখালী
প্রশ্ন: জনৈক ব্যক্তিকে শরী‘আত পরিপন্থী কোনো কাজ করতে দেখে আরেক ব্যক্তি বললেন, আপনি এ কি করছেন? এটা তো শরী‘আত পরিপন্থী কাজ? সেই ব্যক্তি জবাবে বললো, রাখেন আপনার শরী‘আত! এতে তার ঈমানে কোনো ঘাটতি দেখা দিয়েছে কিনা?
উত্তর: কোনো মসুলামানের জন্য এভাবে শরী‘আতের প্রতি তুচ্ছ ভাব পোষণ বা প্রদর্শন করা কুফরী কাজ। এতে ঈমান চলে যাওয়ার সমূহ আশংকা রয়েছে। সুতরাং এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ঈমান নবায়ন এবং বিবাহিত হলে বিয়ে দোহরানো চাই।- ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ২/৩৭২, ফাতাওয়া সিরাজিয়া: ৬৮, খুলাসাতুল ফাতাওয়া: ৪/৩৮৮, আল-মুহীতুল বুরহানী: ৫/৫৭০, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া: ৫/৫০৯, ইমদাদুল আহকাম: ১/১৩৩।
উত্তর: কোনো মসুলামানের জন্য এভাবে শরী‘আতের প্রতি তুচ্ছ ভাব পোষণ বা প্রদর্শন করা কুফরী কাজ। এতে ঈমান চলে যাওয়ার সমূহ আশংকা রয়েছে। সুতরাং এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ঈমান নবায়ন এবং বিবাহিত হলে বিয়ে দোহরানো চাই।- ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ২/৩৭২, ফাতাওয়া সিরাজিয়া: ৬৮, খুলাসাতুল ফাতাওয়া: ৪/৩৮৮, আল-মুহীতুল বুরহানী: ৫/৫৭০, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া: ৫/৫০৯, ইমদাদুল আহকাম: ১/১৩৩।
মুহাম্মাদ আবুল কালাম, পূর্ব ধলা, নেত্রকোনা
প্রশ্ন: আমরা জেনে ও শুনে আসছি যে, নবীদের নাম পড়লে ও শুনলে ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ হযরত মুহাম্মাদ সা.- এর নাম শুনলে ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ আর সাহাবাগণের নাম শুনলে ‘রাজিয়াল্লাহু আনহু’ বলতে হয়। কিন্তু ইদানিং দেখছি আমাদের এলাকার কয়েকটি মসজিদে জুম‘আর ছানী খুতবায় ঐ নামগুলো পড়লে তারা তা পড়েন না। এর কারণ কি? আশা করি শরী‘আহ মুতাবিক বিস্তারিত জানাবেন।
উত্তর: খুতবা চলাকালীন সময়ে খুতবা শোনা ওয়াজিব। কোনো প্রকার কথা-বার্তা বলা, দু‘আ, দরূদ-তাসবীহ ইত্যাদি কোনো কিছুই পড়া যাবে না। সুতরাং প্রশ্নে বর্ণিত মুসল্লীদের এগুলো না বলা শরী‘আত সম্মত। তবে মুখে উচ্চারণ না করে এসময় মনে মনে পড়া যাবে। অবশ্য খতীব সাহেব মুখে উচ্চারণ করেই পড়বেন।- আদ্-র্দুরুল মুখতার: ৩/৩৫, ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/১৪৭, আল-বাহরুর রায়িক: ২/১৪৮, আল-ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু: ২/২৯৫, ফাতাওয়া রহীমিয়া: ৫/২৮, আহসানুল ফাতাওয়া: ২/১৫৯।
প্রশ্ন: আমরা জেনে ও শুনে আসছি যে, নবীদের নাম পড়লে ও শুনলে ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ হযরত মুহাম্মাদ সা.- এর নাম শুনলে ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ আর সাহাবাগণের নাম শুনলে ‘রাজিয়াল্লাহু আনহু’ বলতে হয়। কিন্তু ইদানিং দেখছি আমাদের এলাকার কয়েকটি মসজিদে জুম‘আর ছানী খুতবায় ঐ নামগুলো পড়লে তারা তা পড়েন না। এর কারণ কি? আশা করি শরী‘আহ মুতাবিক বিস্তারিত জানাবেন।
উত্তর: খুতবা চলাকালীন সময়ে খুতবা শোনা ওয়াজিব। কোনো প্রকার কথা-বার্তা বলা, দু‘আ, দরূদ-তাসবীহ ইত্যাদি কোনো কিছুই পড়া যাবে না। সুতরাং প্রশ্নে বর্ণিত মুসল্লীদের এগুলো না বলা শরী‘আত সম্মত। তবে মুখে উচ্চারণ না করে এসময় মনে মনে পড়া যাবে। অবশ্য খতীব সাহেব মুখে উচ্চারণ করেই পড়বেন।- আদ্-র্দুরুল মুখতার: ৩/৩৫, ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১/১৪৭, আল-বাহরুর রায়িক: ২/১৪৮, আল-ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু: ২/২৯৫, ফাতাওয়া রহীমিয়া: ৫/২৮, আহসানুল ফাতাওয়া: ২/১৫৯।
প্রশ্ন : মুহাররাম মাসকে অশুভ মনে করা এবং শোক ও মাতমের মাস আখ্যায়িত করার ব্যাপারে শরয়ী দৃষ্টিভঙ্গি কি ?
উত্তর : মুহাররাম মাস একটি ফযীলতপূর্ণ ও বরকতময় মাস। এ মাসকে অশুভ মনে করা এবং শোক ও মাতমের মাস বলে আখ্যায়িত করা জায়িয নেই। এহেন জঘণ্য কাজ থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য। তবে হ্যাঁ, হযরত হুসাইন রা. এর ত্যাগ থেকে মুসলমানদের অবশ্যই শিক্ষা নেয়া চাই।- আহসানুল ফাতাওয়া: ১/৩৮৯, ফাতাওয়া রহীমিয়া: ২/২৭৩, আযীযুল ফাতাওয়া: ১/১৪৫, ইমদাদুল ফাতাওয়া: ৫/২৮৯।
উত্তর : মুহাররাম মাস একটি ফযীলতপূর্ণ ও বরকতময় মাস। এ মাসকে অশুভ মনে করা এবং শোক ও মাতমের মাস বলে আখ্যায়িত করা জায়িয নেই। এহেন জঘণ্য কাজ থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য। তবে হ্যাঁ, হযরত হুসাইন রা. এর ত্যাগ থেকে মুসলমানদের অবশ্যই শিক্ষা নেয়া চাই।- আহসানুল ফাতাওয়া: ১/৩৮৯, ফাতাওয়া রহীমিয়া: ২/২৭৩, আযীযুল ফাতাওয়া: ১/১৪৫, ইমদাদুল ফাতাওয়া: ৫/২৮৯।
মুহাম্মান মুনীরুল ইসলাম, পোরশা, নওগাঁ
প্রশ্ন : বাচ্চাদের খাতনা করানোর পর সপ্তম দিনে অনেকে বিশেষ খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করে থাকে। এটা জায়িয আছে কি না?
উত্তর : খাতনার সপ্তম দিনে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করা বিদ‘আত। ইসলামে এর কোনো ভিত্তি নেই। তাই তা বর্জনীয়।- ইমদাদুল মুফতীন: ১৮৬।
প্রশ্ন : বাচ্চাদের খাতনা করানোর পর সপ্তম দিনে অনেকে বিশেষ খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করে থাকে। এটা জায়িয আছে কি না?
উত্তর : খাতনার সপ্তম দিনে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করা বিদ‘আত। ইসলামে এর কোনো ভিত্তি নেই। তাই তা বর্জনীয়।- ইমদাদুল মুফতীন: ১৮৬।
মুহাম্মাদ শামছুল ইসলাম, বাঞ্ছারামপুর, বি-বাড়িয়া
প্রশ্ন: আমরা মীলাদ মাহফিলে সবাই একসঙ্গে যে দরূদ পড়ি যথা “আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা সায়্যিদিনা মাওলানা মুহাম্মাদ, ওয়ালা আলি সায়্যিদিনা হাবীবিনা মুহাম্মাদ”। এভাবে দরূদ পড়লে সাওয়াব পাওয়া যাবে কিনা? এভাবে দরূদ পড়া জায়িয আছে কিনা?
উত্তর: বর্ণিত দরূদটি পড়লে সাওয়াব হবে। তবে এতে যেন শাব্দিক ভুল না হয়, সে জন্য কোনো আলিম থেকে সহীহ করে তা শিখে নেয়া চাই। অবশ্য এ দরূদই পড়তে হবে, অন্য দরূদ পড়া যাবে না এবং সম্মিলিতভাবে পড়াই জরুরী, এমন মনে করা ভিত্তিহীন। এর কোনো শরয়ী ভিত্তি নেই। এমনিভাবে প্রচলিত মীলাদ মাহফিলেরও শরয়ী ভিত্তি নেই।- আহসানুল ফাতাওয়া: ১/৩৮২, নাসায়ী শরীফ: ১/১৮৯, মিশকাত শরীফ: ১/২৭, ফাতাওয়া রহীমিয়া: ১/২৪৮, আদ্-র্দুরুল মুখতার: ২/১২০, কিফায়াতুল মুফতী: ১/১৫৯।
প্রশ্ন: আমরা মীলাদ মাহফিলে সবাই একসঙ্গে যে দরূদ পড়ি যথা “আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা সায়্যিদিনা মাওলানা মুহাম্মাদ, ওয়ালা আলি সায়্যিদিনা হাবীবিনা মুহাম্মাদ”। এভাবে দরূদ পড়লে সাওয়াব পাওয়া যাবে কিনা? এভাবে দরূদ পড়া জায়িয আছে কিনা?
উত্তর: বর্ণিত দরূদটি পড়লে সাওয়াব হবে। তবে এতে যেন শাব্দিক ভুল না হয়, সে জন্য কোনো আলিম থেকে সহীহ করে তা শিখে নেয়া চাই। অবশ্য এ দরূদই পড়তে হবে, অন্য দরূদ পড়া যাবে না এবং সম্মিলিতভাবে পড়াই জরুরী, এমন মনে করা ভিত্তিহীন। এর কোনো শরয়ী ভিত্তি নেই। এমনিভাবে প্রচলিত মীলাদ মাহফিলেরও শরয়ী ভিত্তি নেই।- আহসানুল ফাতাওয়া: ১/৩৮২, নাসায়ী শরীফ: ১/১৮৯, মিশকাত শরীফ: ১/২৭, ফাতাওয়া রহীমিয়া: ১/২৪৮, আদ্-র্দুরুল মুখতার: ২/১২০, কিফায়াতুল মুফতী: ১/১৫৯।
মুহাম্মাদ মুফাজ্জল হুসাইন, ধুনট, বগুড়া
প্রশ্ন : ইয়া রাসূলাল্লাহ বলা জায়িয আছে কি না ?
উত্তর : বিষয়টি বিশ্লেষণ সাপেক্ষ। কেননা এটা বলা কখনও নাজায়িয। আবার কখনও শর্ত সাপেক্ষে জায়িয।
যে সকল ক্ষেত্রে শর্ত সাপেক্ষে জায়িয, তা নি¤েœ প্রদত্ত হলো।
১. ইয়া রাসূলাল্লাহ বলে সম্বোধনকারী যদি এমন বিশ্বাস পোষণ করে যে, আমার এই শব্দগুলো ফিরিশতাগণ রাসূলে আকরাম সা. এর নিকট পৌঁছে দেন, তাহলে তা জায়িয।
২. সম্বোধনকারী রাসূলে আকদাস সা. এর প্রতি অধিক ভালোবাসা বশতঃ এবং নবী কারীম সা. কে হাজির নাজির আকীদা পোষণ না করে এমনিতেই বলে, তাহলে তা জায়িয।
৩. কবিতায় এমনটি বলা জায়িয আছে।
৪. রাসূলে আকদাস সা. এর রাওযা মুবারকের সামনে উপস্থিত হয়ে এরূপ বলা জায়িয আছে।
আর যেসব ক্ষেত্রে বলা জায়িয নেই, নি¤েœ তা প্রদত্ত হলো,
১. রাসূলে কারীম সা. এই আওয়াজ সব সময়, সব স্থান থেকে শুনতে পান, সম্বোধনকারী যদি এরূপ আকীদা পোষণ করে তাহলে এটি বলা নাজায়িয ও র্শিক।
২. সম্বোধনকারী যদি এমন বিশ্বাস পোষণ করে, ইয়া রাসূলাল্লাহ বলছে যে, হুযূরে আকরাম সা. উক্ত মজলিসে উপস্থিত হন, তাহলে তা নাজায়িয ও র্শিক।
৩. হুযুরে আকরাম সা. কে হাজির নাজির জেনে তাঁর নিকট সাহায্যার্থে উঠতে বসতে ইয়া রাসূলাল্লাহ বলা নাজায়িয ও র্শিক।
৪. ইবাদাত মনে করে যিকির হিসেবে এটা বলা নাজায়িয।
সাধারণ মানুষ এ সকল সুক্ষ্ম বিষয়ের কোনো তারতম্য করতে সক্ষম নয়, বিধায় হুযূর সা. এর রাওযায় উপস্থিত হওয়া ছাড়া অন্য কোনো অবস্থাতেই ইয়া রাসূলাল্লাহ বলবে না বা লিখবে না।- আল-বাহরুর রায়িক ৩/৮৮, ফাতাওয়া বায্যাযিয়া আলা হামিশি হিন্দিয়া: ৬/৩১৮, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া: ৯/৪০৮।
প্রশ্ন : ইয়া রাসূলাল্লাহ বলা জায়িয আছে কি না ?
উত্তর : বিষয়টি বিশ্লেষণ সাপেক্ষ। কেননা এটা বলা কখনও নাজায়িয। আবার কখনও শর্ত সাপেক্ষে জায়িয।
যে সকল ক্ষেত্রে শর্ত সাপেক্ষে জায়িয, তা নি¤েœ প্রদত্ত হলো।
১. ইয়া রাসূলাল্লাহ বলে সম্বোধনকারী যদি এমন বিশ্বাস পোষণ করে যে, আমার এই শব্দগুলো ফিরিশতাগণ রাসূলে আকরাম সা. এর নিকট পৌঁছে দেন, তাহলে তা জায়িয।
২. সম্বোধনকারী রাসূলে আকদাস সা. এর প্রতি অধিক ভালোবাসা বশতঃ এবং নবী কারীম সা. কে হাজির নাজির আকীদা পোষণ না করে এমনিতেই বলে, তাহলে তা জায়িয।
৩. কবিতায় এমনটি বলা জায়িয আছে।
৪. রাসূলে আকদাস সা. এর রাওযা মুবারকের সামনে উপস্থিত হয়ে এরূপ বলা জায়িয আছে।
আর যেসব ক্ষেত্রে বলা জায়িয নেই, নি¤েœ তা প্রদত্ত হলো,
১. রাসূলে কারীম সা. এই আওয়াজ সব সময়, সব স্থান থেকে শুনতে পান, সম্বোধনকারী যদি এরূপ আকীদা পোষণ করে তাহলে এটি বলা নাজায়িয ও র্শিক।
২. সম্বোধনকারী যদি এমন বিশ্বাস পোষণ করে, ইয়া রাসূলাল্লাহ বলছে যে, হুযূরে আকরাম সা. উক্ত মজলিসে উপস্থিত হন, তাহলে তা নাজায়িয ও র্শিক।
৩. হুযুরে আকরাম সা. কে হাজির নাজির জেনে তাঁর নিকট সাহায্যার্থে উঠতে বসতে ইয়া রাসূলাল্লাহ বলা নাজায়িয ও র্শিক।
৪. ইবাদাত মনে করে যিকির হিসেবে এটা বলা নাজায়িয।
সাধারণ মানুষ এ সকল সুক্ষ্ম বিষয়ের কোনো তারতম্য করতে সক্ষম নয়, বিধায় হুযূর সা. এর রাওযায় উপস্থিত হওয়া ছাড়া অন্য কোনো অবস্থাতেই ইয়া রাসূলাল্লাহ বলবে না বা লিখবে না।- আল-বাহরুর রায়িক ৩/৮৮, ফাতাওয়া বায্যাযিয়া আলা হামিশি হিন্দিয়া: ৬/৩১৮, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া: ৯/৪০৮।
মুহাম্মাদ আবূ হুরাইরা, নাসিরনগর, বি-বাড়িয়া
প্রশ্ন: অনেকে সালাম দেয়া-নেয়ার সময় কপাল পর্যন্ত হাত উঠিয়ে থাকে। এমনটি করা শরী‘আত সম্মত কিনা?
উত্তর: সালাম দেয়া এবং নেয়া উভয় অবস্থায় কপাল পর্যন্ত হাত উঠানো বিধর্মীদের সংস্কৃতি। তাই এরূপ করা শরী‘আত সম্মত নয়। বরং শরী‘আতে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। তবে যাকে সালাম দেয়া হয় তিনি যদি দূরে থাকেন, তাহলে তাকে সালাম দেয়ার বিষয়টি বুঝানোর জন্য এমনিভাবে জবাবদাতা জবাব দেয়ার বিষয়টি সালামদাতাকে বুঝানোর জন্য হাতের তালু নিজের দিকে করে উপরে উঠিয়ে ইশারা করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে সালাম বা জবাব মুখে না বলে শুধু হাত দ্বারা এমনটি করা যাবে না; বরং মুখে সালাম বা জবাব বলার সাথে সাথে তা করা যাবে।- উমদাতুল কারী শরহে বুখারী: ২২/২৩০, তিরমিযী শরীফ: ২/৯৯, আহসানুল ফাতাওয়া: ৮/১৪৩।
মুহাম্মাদ নূরুল আমীন, সদর, শেরপুর
প্রশ্ন: কোনো কোনো মহিলার দাড়ি গোফ হয়। এ ক্ষেত্রে তাদের করণীয় কি? পুরুষের জন্য তো দাড়ি মুন্ডানো নিষেধ। মহিলাদের বেলায় শরয়ী হুকুম কি?
উত্তর: মহিলাদের দাড়ি-গোফ মুন্ডানো নিষেধ নয়; বরং মুস্তাহাব।- ফাতাওয়া শামী: ৬/৩৭৩, ফাতাওয়া রহীমিয়া: ২/২৪৭, আহসানুল ফাতাওয়া: ৮/৭৫, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া: ৫/১৯৫, আপ কে মাসায়িল আওর উনকা হল: ৭/১২৮।
প্রশ্ন: অনেকে সালাম দেয়া-নেয়ার সময় কপাল পর্যন্ত হাত উঠিয়ে থাকে। এমনটি করা শরী‘আত সম্মত কিনা?
উত্তর: সালাম দেয়া এবং নেয়া উভয় অবস্থায় কপাল পর্যন্ত হাত উঠানো বিধর্মীদের সংস্কৃতি। তাই এরূপ করা শরী‘আত সম্মত নয়। বরং শরী‘আতে এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। তবে যাকে সালাম দেয়া হয় তিনি যদি দূরে থাকেন, তাহলে তাকে সালাম দেয়ার বিষয়টি বুঝানোর জন্য এমনিভাবে জবাবদাতা জবাব দেয়ার বিষয়টি সালামদাতাকে বুঝানোর জন্য হাতের তালু নিজের দিকে করে উপরে উঠিয়ে ইশারা করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে সালাম বা জবাব মুখে না বলে শুধু হাত দ্বারা এমনটি করা যাবে না; বরং মুখে সালাম বা জবাব বলার সাথে সাথে তা করা যাবে।- উমদাতুল কারী শরহে বুখারী: ২২/২৩০, তিরমিযী শরীফ: ২/৯৯, আহসানুল ফাতাওয়া: ৮/১৪৩।
মুহাম্মাদ নূরুল আমীন, সদর, শেরপুর
প্রশ্ন: কোনো কোনো মহিলার দাড়ি গোফ হয়। এ ক্ষেত্রে তাদের করণীয় কি? পুরুষের জন্য তো দাড়ি মুন্ডানো নিষেধ। মহিলাদের বেলায় শরয়ী হুকুম কি?
উত্তর: মহিলাদের দাড়ি-গোফ মুন্ডানো নিষেধ নয়; বরং মুস্তাহাব।- ফাতাওয়া শামী: ৬/৩৭৩, ফাতাওয়া রহীমিয়া: ২/২৪৭, আহসানুল ফাতাওয়া: ৮/৭৫, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া: ৫/১৯৫, আপ কে মাসায়িল আওর উনকা হল: ৭/১২৮।
মুহাম্মাদ মুনাওয়ার হুসাইন, কয়রা, খুলনা
প্রশ্ন: পুরুষ ও মহিলাদের মেহেদী ব্যবহার সম্পর্কে শরয়ী বিধান কি? নারী-পুরুষ উভয়ে উভয় হাত এবং উভয় পায়ে মেহেদী ব্যবহার করা জায়িয আছে কিনা? অনেকে বলে থাকেন, নবী কারীম সা. দাড়িতে মেহেদী ব্যবহার করেছেন, তাই বাম হাতে ও পায়ে মেহেদী ব্যবহার করা যাবে না। তাদের কথা সঠিক কিনা?
উত্তর: পুরুষের জন্য কেবল দাড়ি এবং মাথার চুলে মেহেদী ব্যবহার করা জায়িয আছে। এ ছাড়া হাত-পাসহ অন্য কোনো অঙ্গে জায়িয নেই। তবে চিকিৎসার প্রয়োজনে ওষুধ হিসেবে যে কোনো অঙ্গে ব্যবহার করতে পারবে। পক্ষান্তরে মহিলাদের উভয় হাতে-পায়ে মেহেদী ব্যবহার করা জায়িয আছে। বরং মহিলাদের জন্য মেহেদী ব্যবহার করা মুস্তাহাব। যারা বলেন, ‘নবী কারীম সা. দাড়িতে মেহেদী ব্যবহার করেছেন, তাই বাম হাতে ও পায়ে মেহেদী ব্যবহার করা যাবে না,’ শরী‘আতের দৃষ্টিতে তাদের এ কথার কোনো ভিত্তি নেই। কারণ রাসূলে আকদাস সা. যে মেহেদী ব্যবহার করেছেন, হুবহু সেই মেহেদীগুলোই তো আর এখন ব্যবহার করা হচ্ছে না। কাজেই এখন যে মেহেদী বাম হাতে বা পায়ে ব্যবহার করা হচ্ছে, এর দ্বারা নবী কারীম সা. – এর সম্মানহানি হবে না।- আদ্-র্দুরুল মুখতার: ৬/৪২২, ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৩/৩৫৯, আল-বাহরুর রায়িক: ৮/১৯১, খুলাসাতুল ফাতাওয়া: ৪/৩৭৩, ফাতাওয়া খানিয়া: ৪/৩৭০, আহসানুল ফাতাওয়া: ৮/৩৭৪।
প্রশ্ন: পুরুষ ও মহিলাদের মেহেদী ব্যবহার সম্পর্কে শরয়ী বিধান কি? নারী-পুরুষ উভয়ে উভয় হাত এবং উভয় পায়ে মেহেদী ব্যবহার করা জায়িয আছে কিনা? অনেকে বলে থাকেন, নবী কারীম সা. দাড়িতে মেহেদী ব্যবহার করেছেন, তাই বাম হাতে ও পায়ে মেহেদী ব্যবহার করা যাবে না। তাদের কথা সঠিক কিনা?
উত্তর: পুরুষের জন্য কেবল দাড়ি এবং মাথার চুলে মেহেদী ব্যবহার করা জায়িয আছে। এ ছাড়া হাত-পাসহ অন্য কোনো অঙ্গে জায়িয নেই। তবে চিকিৎসার প্রয়োজনে ওষুধ হিসেবে যে কোনো অঙ্গে ব্যবহার করতে পারবে। পক্ষান্তরে মহিলাদের উভয় হাতে-পায়ে মেহেদী ব্যবহার করা জায়িয আছে। বরং মহিলাদের জন্য মেহেদী ব্যবহার করা মুস্তাহাব। যারা বলেন, ‘নবী কারীম সা. দাড়িতে মেহেদী ব্যবহার করেছেন, তাই বাম হাতে ও পায়ে মেহেদী ব্যবহার করা যাবে না,’ শরী‘আতের দৃষ্টিতে তাদের এ কথার কোনো ভিত্তি নেই। কারণ রাসূলে আকদাস সা. যে মেহেদী ব্যবহার করেছেন, হুবহু সেই মেহেদীগুলোই তো আর এখন ব্যবহার করা হচ্ছে না। কাজেই এখন যে মেহেদী বাম হাতে বা পায়ে ব্যবহার করা হচ্ছে, এর দ্বারা নবী কারীম সা. – এর সম্মানহানি হবে না।- আদ্-র্দুরুল মুখতার: ৬/৪২২, ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৩/৩৫৯, আল-বাহরুর রায়িক: ৮/১৯১, খুলাসাতুল ফাতাওয়া: ৪/৩৭৩, ফাতাওয়া খানিয়া: ৪/৩৭০, আহসানুল ফাতাওয়া: ৮/৩৭৪।
মুহাম্মাদ মুজাহিদুল ইসলাম, লক্ষীপুর, সদর
প্রশ্ন: মহিলাদের মাথা মুন্ডানো জায়িয আছে কিনা? অনেক সময় চিকিৎসার জন্য তাদের মাথা মুন্ডানোর প্রয়োজন দেখা দিলে, তারা মাথা মুন্ডিয়ে থাকে। আবার কোনো কোনো দেশে মহিলাদের মাথা মুন্ডিয়ে রাখার ফ্যাশন শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে শরয়ী বিধান কি?
উত্তর: মহিলাদের জন্য ফ্যাশন হিসেবে বা কোনো সমস্যা ছাড়া মাথা মুন্ডানো মাকরূহে তাহরীমী। তবে অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার প্রয়োজনে জায়িয আছে।- ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৫/৩৫৮, খুলাসাতুল ফাতাওয়া: ৪/৩৭৭, কিতাবুল ফিকহি আলাল মাযাহিবিল আরবা‘আ: ২/৪৪, ফাতাওয়া রহীমিয়া: ২/২৪১, জাদীদ ফিকহী মাসায়িল: ১/৩০৮।
প্রশ্ন: মহিলাদের মাথা মুন্ডানো জায়িয আছে কিনা? অনেক সময় চিকিৎসার জন্য তাদের মাথা মুন্ডানোর প্রয়োজন দেখা দিলে, তারা মাথা মুন্ডিয়ে থাকে। আবার কোনো কোনো দেশে মহিলাদের মাথা মুন্ডিয়ে রাখার ফ্যাশন শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে শরয়ী বিধান কি?
উত্তর: মহিলাদের জন্য ফ্যাশন হিসেবে বা কোনো সমস্যা ছাড়া মাথা মুন্ডানো মাকরূহে তাহরীমী। তবে অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার প্রয়োজনে জায়িয আছে।- ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৫/৩৫৮, খুলাসাতুল ফাতাওয়া: ৪/৩৭৭, কিতাবুল ফিকহি আলাল মাযাহিবিল আরবা‘আ: ২/৪৪, ফাতাওয়া রহীমিয়া: ২/২৪১, জাদীদ ফিকহী মাসায়িল: ১/৩০৮।
মুহাম্মাদ আব্দুল কাইয়ূম, হালুয়াঘাট, মোমেনশাহী
প্রশ্ন: কোনো ব্যক্তিকে সম্মান প্রদর্শনার্থে বসা থেকে উঠে দাঁড়ানো জায়িয আাছে কিনা? অনেক মাদরাসা ও স্কুলগুলোতে শিক্ষকের আগমনে ছাত্ররা এবং অফিস আদালতে বসের আগমনে অধীনস্থরা দাঁড়িয়ে থাকে। এ ব্যাপারে শরয়ী দৃষ্টিভঙ্গী কী?
উত্তর: কোনো আলেম, বুযুর্গ বা সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির আগমনে দাঁড়ানো জায়িয আছে। এতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে যথাসাধ্য কোনো ফাসিক, বদদীন, কাফির ব্যক্তির অযথা সম্মান না করা চাই। শরী‘আত বড়দের শ্রদ্ধা এবং আলেমদের মান মর্যাদা রক্ষা করে চলতে নির্দেশ দিয়েছে। তবে আগন্তুক আলিম, বুযুর্গ, উস্তাদ বা সম্ভ্রান্ত যেই হোক না কেন, তার সম্মানার্থে দাঁড়ালে যদি তাঁর মধ্যে কোনো প্রকার অহংকারবোধ আসার সম্ভাবনা না থাকে এবং না দাঁড়ালেও তিনি রাগান্বিত বা মনোক্ষুণœ না হন, তাহলে কেবল দাঁড়ানো জায়িয আছে। অন্যথায় তা মাকরূহ হবে। তাই মাদরাসাসহ সকল দীনী প্রতিষ্ঠানে এমনটি না করাই বরং ভালো।- আদ্-র্দুরুল মুখতার মা‘আ ফাতাওয়া শামী: ৯/৫৫১-৬১৪, ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৫/৩৬৯, আল-বাহরুর রায়িক: ৮/১৯৯, মিরকাতুল মাসাবীহ শরহু মিশকাত: ৯/১৮৩।
প্রশ্ন: কোনো ব্যক্তিকে সম্মান প্রদর্শনার্থে বসা থেকে উঠে দাঁড়ানো জায়িয আাছে কিনা? অনেক মাদরাসা ও স্কুলগুলোতে শিক্ষকের আগমনে ছাত্ররা এবং অফিস আদালতে বসের আগমনে অধীনস্থরা দাঁড়িয়ে থাকে। এ ব্যাপারে শরয়ী দৃষ্টিভঙ্গী কী?
উত্তর: কোনো আলেম, বুযুর্গ বা সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির আগমনে দাঁড়ানো জায়িয আছে। এতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে যথাসাধ্য কোনো ফাসিক, বদদীন, কাফির ব্যক্তির অযথা সম্মান না করা চাই। শরী‘আত বড়দের শ্রদ্ধা এবং আলেমদের মান মর্যাদা রক্ষা করে চলতে নির্দেশ দিয়েছে। তবে আগন্তুক আলিম, বুযুর্গ, উস্তাদ বা সম্ভ্রান্ত যেই হোক না কেন, তার সম্মানার্থে দাঁড়ালে যদি তাঁর মধ্যে কোনো প্রকার অহংকারবোধ আসার সম্ভাবনা না থাকে এবং না দাঁড়ালেও তিনি রাগান্বিত বা মনোক্ষুণœ না হন, তাহলে কেবল দাঁড়ানো জায়িয আছে। অন্যথায় তা মাকরূহ হবে। তাই মাদরাসাসহ সকল দীনী প্রতিষ্ঠানে এমনটি না করাই বরং ভালো।- আদ্-র্দুরুল মুখতার মা‘আ ফাতাওয়া শামী: ৯/৫৫১-৬১৪, ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৫/৩৬৯, আল-বাহরুর রায়িক: ৮/১৯৯, মিরকাতুল মাসাবীহ শরহু মিশকাত: ৯/১৮৩।
মুহাম্মাদ আশরাফুজ্জামান, মতলব, চাঁদপুর
প্রশ্ন: টাইট-ফিট তথা চিপা-চাপা পোশাক পরিধান করার ব্যাপারে শরয়ী বিধান কি? পোশাক কি ধরণের হওয়া চাই? বিস্তারিত জানাবেন।
উত্তর: এমন টাইট-ফিট পোশাক পরিধান করা হারাম, যা পরিধানের পর যেসব অঙ্গ ঢেকে রাখা আবশ্যক সেগুলোর গঠন ও আকৃতি-প্রকৃতি ফুটে উঠে। এমনিভাবে যেসব পাতলা কাপড়ের পোশাক পরিধান করলে ঢেকে রাখা আবশ্যক এমন অঙ্গসমূহের আকৃতি বুঝে আসে, সেসব কাপড় বা পোশাক চিপাচাপা হলেও তা পরিধান করা নাজায়িয। শরী’আত সম্মত পোশাক হচ্ছে, মধ্যম পর্যায়ের ঢিলে-ঢালা এবং মোটা কাপড়ের পোশাক, যদ্বারা পরিপূর্ণরূপে সতর আবৃত হয় এবং বিজাতীয়দের অন্ধ অনুকরণ হয় না।- ফাতাওয়া শামী: ২/৮৪ ও ৯/৫২৬, আল-ফিকহুল ইসলামী ও আদিল্লাতুহু: ১/৫৭৯, মাজমূ‘আ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া: ২২/১৪৬, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া: ১৪/৩৬৮, আহসানুল ফাতাওয়া: ৩/৪০৩ ও ৮/২৮, ৭১।
প্রশ্ন: টাইট-ফিট তথা চিপা-চাপা পোশাক পরিধান করার ব্যাপারে শরয়ী বিধান কি? পোশাক কি ধরণের হওয়া চাই? বিস্তারিত জানাবেন।
উত্তর: এমন টাইট-ফিট পোশাক পরিধান করা হারাম, যা পরিধানের পর যেসব অঙ্গ ঢেকে রাখা আবশ্যক সেগুলোর গঠন ও আকৃতি-প্রকৃতি ফুটে উঠে। এমনিভাবে যেসব পাতলা কাপড়ের পোশাক পরিধান করলে ঢেকে রাখা আবশ্যক এমন অঙ্গসমূহের আকৃতি বুঝে আসে, সেসব কাপড় বা পোশাক চিপাচাপা হলেও তা পরিধান করা নাজায়িয। শরী’আত সম্মত পোশাক হচ্ছে, মধ্যম পর্যায়ের ঢিলে-ঢালা এবং মোটা কাপড়ের পোশাক, যদ্বারা পরিপূর্ণরূপে সতর আবৃত হয় এবং বিজাতীয়দের অন্ধ অনুকরণ হয় না।- ফাতাওয়া শামী: ২/৮৪ ও ৯/৫২৬, আল-ফিকহুল ইসলামী ও আদিল্লাতুহু: ১/৫৭৯, মাজমূ‘আ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া: ২২/১৪৬, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া: ১৪/৩৬৮, আহসানুল ফাতাওয়া: ৩/৪০৩ ও ৮/২৮, ৭১।
কাওসার আহমাদ, তাড়াইল, কিশোরগঞ্জ
প্রশ্ন: ০৮-০৩-০৩ ইং দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় এসেছে, দুর্লভ নামের এক হিন্দু ছেলে কুরআন শরীফ পড়ে। এমনকি সে কিরাআত প্রতিযোগিতা দিয়ে পুরস্কারও লাভ করেছে। এখন প্রশ্ন হলো, কোনো কাফিরকে কুরআন মাজীদ কিংবা ফিক্হের কিতাব শিক্ষা দেয়া জায়িয আছে কিনা? কোনো কাফির কুরআন মাজীদ স্পর্শ করতে পারবে কিনা?
উত্তর: যে কোনো কাফির অমুসলিমকে তার হিদায়াতের আশায় কুরআন মাজীদ কিংবা হাদীস ও ফিকহের কিতাব শিক্ষাদান করা জায়ি আছে। তবে শিক্ষাদান শুরু এবং কুরআন মাজীদ স্পর্শ করার পূর্বে তাকে গোসল বা উযূ করিয়ে নিবে এবং নিজে একাকী পড়ার সময়ও আগে উযূ-গোসল করে নিতে বলবে। সাথে সাথে কুরআনে কারীমের পবিত্রতা ও মর্যাদা সম্পর্কেও শিক্ষা দিবে। আল্লাহ চান তো সে হিদায়াত প্রাপ্ত হতে পারে।- আদ্-র্দুরুল মুখতার মা’আ ফাতাওয়া শামী: ১/১৭৭, ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৫/৩২৩, আল-বাহরুর রায়িক: ৮/২০৩-২০৪, ফাতাওয়া খানিয়া: ৪/৩৭৯, কিফায়াতুল মুফতী: ২/৩৯, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া: ১৪/২১, ফাতাওয়া রহীমিয়া: ৬/২৮৩।
প্রশ্ন: ০৮-০৩-০৩ ইং দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় এসেছে, দুর্লভ নামের এক হিন্দু ছেলে কুরআন শরীফ পড়ে। এমনকি সে কিরাআত প্রতিযোগিতা দিয়ে পুরস্কারও লাভ করেছে। এখন প্রশ্ন হলো, কোনো কাফিরকে কুরআন মাজীদ কিংবা ফিক্হের কিতাব শিক্ষা দেয়া জায়িয আছে কিনা? কোনো কাফির কুরআন মাজীদ স্পর্শ করতে পারবে কিনা?
উত্তর: যে কোনো কাফির অমুসলিমকে তার হিদায়াতের আশায় কুরআন মাজীদ কিংবা হাদীস ও ফিকহের কিতাব শিক্ষাদান করা জায়ি আছে। তবে শিক্ষাদান শুরু এবং কুরআন মাজীদ স্পর্শ করার পূর্বে তাকে গোসল বা উযূ করিয়ে নিবে এবং নিজে একাকী পড়ার সময়ও আগে উযূ-গোসল করে নিতে বলবে। সাথে সাথে কুরআনে কারীমের পবিত্রতা ও মর্যাদা সম্পর্কেও শিক্ষা দিবে। আল্লাহ চান তো সে হিদায়াত প্রাপ্ত হতে পারে।- আদ্-র্দুরুল মুখতার মা’আ ফাতাওয়া শামী: ১/১৭৭, ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৫/৩২৩, আল-বাহরুর রায়িক: ৮/২০৩-২০৪, ফাতাওয়া খানিয়া: ৪/৩৭৯, কিফায়াতুল মুফতী: ২/৩৯, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া: ১৪/২১, ফাতাওয়া রহীমিয়া: ৬/২৮৩।
মুহাম্মাদ আবূ ইউসূফ, কাশিয়ানী, গোপালগঞ্জ
প্রশ্ন: শুকরের লোম দিয়ে তৈরী এক ধরনের উন্নত ও দামী ব্রাশ পাওয়া যায়। এসব ব্রাশ ক্রয়-বিক্রয় এবং ব্যবহার করা বৈধ কিনা?
উত্তর: না, শুকরের পশম দ্বারা তৈরী কোনো ব্রাশ ক্রয়-বিক্রয় এবং ব্যবহার কোনোটিই বৈধ নয়।- ফাতাওয়া শামী: ১/২০৬, ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৫/৩৫৪, বাদায়িউস সানায়ি’: ৫/১৪২, কিফায়াতুল মুফতী: ৯/৬৩, ফাতাওয়া রহীমিয়া: ১/১২৬, নিযামুল ফাতাওয়া: ১/৩৯।
প্রশ্ন: শুকরের লোম দিয়ে তৈরী এক ধরনের উন্নত ও দামী ব্রাশ পাওয়া যায়। এসব ব্রাশ ক্রয়-বিক্রয় এবং ব্যবহার করা বৈধ কিনা?
উত্তর: না, শুকরের পশম দ্বারা তৈরী কোনো ব্রাশ ক্রয়-বিক্রয় এবং ব্যবহার কোনোটিই বৈধ নয়।- ফাতাওয়া শামী: ১/২০৬, ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৫/৩৫৪, বাদায়িউস সানায়ি’: ৫/১৪২, কিফায়াতুল মুফতী: ৯/৬৩, ফাতাওয়া রহীমিয়া: ১/১২৬, নিযামুল ফাতাওয়া: ১/৩৯।
মুহাম্মাদ শিহাবুদ্দীন, গাজীপুর, ঢাকা
প্রশ্ন: কোনো কোনো কোম্পানী মানুষের চুল দিয়ে টুপি বানিয়ে বাজারজাত করছে। তাদের এ কাজ জায়িয হচ্ছে কিনা? এসব টুপি ক্রয় করে ব্যবহার করা যাবে কিনা?
উত্তর: মানবদেহের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তথা সমস্ত অংশ শ্রদ্ধার পাত্র। ফলে মানুষের কোনো অঙ্গ ক্রয়-বিক্রয় করা, তদ্বারা কোনো কিছু প্রস্তুত করা এবং প্রস্তুতকৃত বস্তু ক্রয়-বিক্রয় করা ও ব্যবহার করা সবই হারাম। সুতরাং যেসব কোম্পানী মানুষের চুল দিয়ে টুপি তৈরী করছে, তারা নাজায়িয কাজ করছে। এসব টুপি ক্রয়-বিক্রয়ও করা যাবে না, ব্যবহারও করা যাবেনা।- আদ্-র্দুরুল মুখতার মা’আ ফাতাওয়া শামী: ১/৩৫৭, ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৫/৩৫৪, ফাতহুল কাদীর: ১/৮৩, হিদায়া: ১/২০, মাজমাউল আনহুর: ১/৩৩, নিযামুল ফাতাওয়া: ১/৩৮।
প্রশ্ন: কোনো কোনো কোম্পানী মানুষের চুল দিয়ে টুপি বানিয়ে বাজারজাত করছে। তাদের এ কাজ জায়িয হচ্ছে কিনা? এসব টুপি ক্রয় করে ব্যবহার করা যাবে কিনা?
উত্তর: মানবদেহের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তথা সমস্ত অংশ শ্রদ্ধার পাত্র। ফলে মানুষের কোনো অঙ্গ ক্রয়-বিক্রয় করা, তদ্বারা কোনো কিছু প্রস্তুত করা এবং প্রস্তুতকৃত বস্তু ক্রয়-বিক্রয় করা ও ব্যবহার করা সবই হারাম। সুতরাং যেসব কোম্পানী মানুষের চুল দিয়ে টুপি তৈরী করছে, তারা নাজায়িয কাজ করছে। এসব টুপি ক্রয়-বিক্রয়ও করা যাবে না, ব্যবহারও করা যাবেনা।- আদ্-র্দুরুল মুখতার মা’আ ফাতাওয়া শামী: ১/৩৫৭, ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৫/৩৫৪, ফাতহুল কাদীর: ১/৮৩, হিদায়া: ১/২০, মাজমাউল আনহুর: ১/৩৩, নিযামুল ফাতাওয়া: ১/৩৮।
মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, গলাচিপা, পটোয়াখালী
প্রশ্ন: বয়স্ক কোনো অমুসলিম মুসলমান হলে তাকে খাতনা করতে হবে কিনা? তার সতর ঢাকা তো ফরয। আর খাতনা করা সুন্নাত। এমতাবস্থায় খাতনা করার ব্যাপারে তার করণীয় কি?
উত্তর: বয়স্ক নওমুসলিম যাদের খাৎনা করাতে শারীরিকভাবে কোনো সমস্যা নেই, তাদের জন্যও খাতনা করানো শরী‘আতের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নাত। সম্ভব হলে নিজেই নিজের খাতনা করবে। নতুবা প্রয়োজন পরিমাণ সতর খোলে কোনো পুরুষ ডাক্তার দ্বারা করাবে। খাতনার জন্য ডাক্তারের সামনে প্রয়োজন পরিমাণ সতর খোলার অবকাশ শরী‘আতে আছে।- ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৫/৩৫৭, আদ্-র্দুরুল মুখতার: ৯/৫৪৯, ফাতাওয়া খানিয়া: ৪/৩৬৮, আল-বাহরুর রায়িক: ৮/১৯২, খুলাসাতুল ফাতাওয়া: ৪/৩৪০।
প্রশ্ন: বয়স্ক কোনো অমুসলিম মুসলমান হলে তাকে খাতনা করতে হবে কিনা? তার সতর ঢাকা তো ফরয। আর খাতনা করা সুন্নাত। এমতাবস্থায় খাতনা করার ব্যাপারে তার করণীয় কি?
উত্তর: বয়স্ক নওমুসলিম যাদের খাৎনা করাতে শারীরিকভাবে কোনো সমস্যা নেই, তাদের জন্যও খাতনা করানো শরী‘আতের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নাত। সম্ভব হলে নিজেই নিজের খাতনা করবে। নতুবা প্রয়োজন পরিমাণ সতর খোলে কোনো পুরুষ ডাক্তার দ্বারা করাবে। খাতনার জন্য ডাক্তারের সামনে প্রয়োজন পরিমাণ সতর খোলার অবকাশ শরী‘আতে আছে।- ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৫/৩৫৭, আদ্-র্দুরুল মুখতার: ৯/৫৪৯, ফাতাওয়া খানিয়া: ৪/৩৬৮, আল-বাহরুর রায়িক: ৮/১৯২, খুলাসাতুল ফাতাওয়া: ৪/৩৪০।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন