বুধবার, ৮ জুলাই, ২০১৫

মাসবুক ইমামের সঙ্গে

১৮৮. প্রশ্ন : মাসবুক ইমামের সঙ্গে একদিকে বা উভয় দিকে ভুলে সালাম ফিরিয়ে নিলে সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে কি না?
উত্তর : মাসবুক যদি ভুলে এক দিকে বা উভয় দিকে ইমামের আগে অথবা ইমামের সাথে সালাম ফিরায় তাহলে সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে না। আর যদি ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর ভুলে সালাম ফিরায় তাহলে সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে। রদ্দুল মুহতার- ২/৮২; বাদায়েউস সানায়ে- ১/৪২২; ইমদাদুল ফাতাওয়া- ১/৫১২
১৮৯. প্রশ্ন : জুমার খুতবা শ্রবণ করা ফরজ নাকি ওয়াজিব? অনেক মসজিদে দেখা যায় জুমার দিন খুতবার সময় দান বাক্স চালিয়ে দেওয়া হয়। কখনও খাদেম নিজেই খুতবা চলাকালে রুমাল বা থলি হাতে হেঁটে হেঁটে টাকা উঠান। এভাবে টাকা উঠানো কি জায়েয?
উত্তর : খুতবা চলাকালীন সকল কাজ থেকে বিরত থেকে খুতবা শ্রবণ করা ওয়াজিব। নামাযের সময় যেসব বিষয় নাজায়েয খুতবার সময়ও ঐ সব বিষয় নাজায়েয। এ কারণে খুতবা চলাকালীন যে কোনো উপায়ে টাকা উঠানো এবং টাকা দেওয়া নাজায়েয। হাদীস শরীফে এসেছে, (খুতবা চলা অবস্থায়) যে কংকর স্পর্শ করল সেও অনর্থক কাজ করল।
উল্লেখ্য, দান বাক্স চালানো বা টাকা উঠানোর কাজটি বয়ানের পর সুন্নতের পূর্বে কিংবা সুন্নাত আদায়ের পর খুৎবার আযান শুরু হওয়ার আগে সেরে নেয়া যেতে পারে। সহীহ মুসলিম- ১/২৮৩; আদ্দুররুল মুখতার- ৩/৩৫; বাদায়েউস সানায়ে- ১/৫৯২-৫৯৩
১৯০. প্রশ্ন : উপজেলা ভিত্তিক সরকারী মাদ্রাসার বয়স্ক ছাত্রী এবং বয়স্ক ছাত্রদের কোন আলেম পড়ালে সেই আলেম কোন মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব নিয়ে নিয়মিত ইমামতি করতে পারবেন কি না?
উত্তর : শরীয়তের দৃষ্টিতে পুরুষের জন্য বেগানা নারীর সাথে পর্দা করা ফরজ। তাদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করা ও বেপর্দাভাবে কথাবার্তা বলা হারাম। কোন ইমাম যদি বেগানা নারীর সাথে উঠা-বসা করেন, তাদের সাথে পর্দা রক্ষা না করে খোলা-মেলা দেখা-সাক্ষাৎ করেন, বেপর্দাভাবে কথাবার্তা বলেন তাহলে তিনি ফাসিক বলে গণ্য হবেন। আর ফাসিকের জন্য খালিস দিলে তওবা না করা পর্যন্ত ইমামতি করা এবং মুসল্লিদের জন্য তার পেছনে নামায পড়া মাকরূহে তাহরিমী হবে।
সুতরাং সহশিক্ষামূলক সরকারী মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করলে যেহেতু অনেক সময় উল্লিখিত নাজায়িয কাজে শামিল হতে হয় তাই উক্ত ইমামের ক্ষেত্রেও উপরে বর্ণিত হুকুম প্রযোজ্য হবে। তানভীরুল আবসার (শামী সংযোজিত)- ২/২৯৮; হাশিয়াতুত তাহতাভী- ৩০২, ৩০৩; আহসানুল ফাতাওয়া- ৩/৩২০
মো. আরিফুল ইসলাম
সি-৪ মায়া কাঁটারা সদরঘাট, ঢাকা।
১৯১. প্রশ্ন : ফজর ও যোহরের শেষ রাকাতে জামাতে শরীক হয়েছি, এ অবস্থায় আমাকে সুন্নত পড়তে হবে কি না?
উত্তর : যদি কারো ফজর নামাযের শুধু সুন্নত ছুটে যায় তাহলে সূর্য উঠার পর থেকে নিয়ে সূর্য ঢলে যাওয়া পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তা পড়ে নিতে পারবে। সময় থাকলেও সূর্য উঠার পূর্বে কিংবা ঐ দিনের সূর্য ঢলে যাওয়ার পর আদায় করতে পারবে না। আর যদি যোহরের পূর্বের সুন্নত ছুটে যায়, তাহলে ফরজ নামাযের জামাতের পর প্রথমে দু’রাকাত সুন্নত আদায় করবে, তারপর নামাযের পূর্বের ছুটে যাওয়া চার রাকাত সুন্নত আদায় করে নিবে। তিরমিযী- ৯৬, রদ্দুল মুহতার- ২/৫১২; ইবনে মাজাহ- ৮০; ফাতহুল ক্বদীর- ১/৪১৫
তারাবীহ
আব্দুল মান্নান
১৩/৪ এ, স্বামীবাগ লেন, ঢাকা-১১০০
১৯২. প্রশ্ন : আমাদের মসজিদে রমযানে খতম তারাবীহ পড়ানোর জন্য একজন হাফেজ সাহেব নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে ছেলেটির বয়স পুরোপুরি ১৪ বছর। মুসল্লীদের অনেকেই এ অল্প বয়সের ছেলের পিছনে তারাবীহ পড়তে আপত্তি করছেন। জানার বিষয় হল, এ ১৪ বছরের ছেলেটির পিছনে আমরা তারাবীহ নামায পড়লে তা শুদ্ধ হবে কি না?
উত্তর : উল্লিখিত ১৪ বছরের হাফেজ সাহেব বালেগ হয়ে থাকলে তার পিছনে তারাবীহ পড়া জায়েয হবে। অন্যথায় তার পিছনে তারাবীহ নামায পড়া জায়েয হবে না।
উল্লেখ্য, ছেলেরা বালেগ হয় স্বপ্নদোষ বা বীর্য স্খলনের মাধ্যমে। যদি তাঁর মধ্যে উল্লিখিত নিদর্শন পাওয়া না যায় তাহলে চাঁদের হিসেবে পনের বৎসর পূর্ণ হলে সে বালেগ বলে গণ্য হবে। উল্লিখিত নিদর্শন অনুযায়ী সে বালেগ কি না এ ব্যাপারে তার নিজের বক্তব্যই গ্রহণযোগ্য হবে। হেদায়া- ১/১২৩; আদ্দুররুল মুখতার- ৬/১৫৩
মুস্তফা, আব্দুল্লাহপুর
১৯৩. প্রশ্ন : নাবালেগ ইমামের পিছনে মহিলারা তারাবীহ নামায আদায় করতে পারবে কি না?
উত্তর : বালেগ পুরুষ বা মহিলার জন্য নাবালেগ ইমামের একতেদা করা সহীহ নয়। এ মাসআলা ফরজ সুন্নত নফল- সকল নামাযের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অতএব প্রশ্নে উল্লিখিত তারাবীহ নামাযও মহিলাদের জন্য নাবালেগের ইমামের পিছনে আদায় করা সহীহ হবে না। আদ্দুররুল মুখতার- ১/৫৭৮; আলবাহরুর রায়েক- ১/৬২৮
আব্দুল্লাহ
১৯৪. প্রশ্ন : রমযান মাসে মহিলারা মহিলাদের ইমাম হয়ে তারাবীহ নামায পড়াতে পারবে কি না?
উত্তর : মহিলাদের জন্য মহিলাদের ইমামতি করা মাকরূহে তাহরীমি।
হযরত আলী রাযি. বলেছেন, মহিলা ইমামতি করবে না। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীসনং- ৪৯৯৪
হযরত আয়েশা রাযি. বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মহিলাদের জামাতে কল্যাণ নেই, তবে মসজিদে অথবা শহীদের জানাযায়। মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং-২৪২৫৭
পরবর্তীতে হযরত আয়েশা রাযি.সহ অন্যান্য সাহাবীগণ মহিলাদেরকে মসজিদে জামাতে যেতে নিষেধ করেছেন। (দ্রষ্টব্য: সহীত বুখারী- ১/১২০; উমদাতুল কারী- ৪/৬৪৭-৬৫২; ই’লাউস সুনান- ৪/২৩০-২৩১ প্রভৃতি) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একাধিক হাদীসে মহিলাদেরকে মসজিদের তুলনায় বাড়িতে; বরং নির্জন কক্ষে নামায পড়তে উৎসাহিত করেছেন। (ই’লাউস সুনান- ৪/২৩০-২৩১) তাই মহিলাদের উচিৎ, ঘরে একা একা নামায পড়া।
সাহাবা ও তাবেয়ীগণের যুগেও মহিলাদের জামাত করার রীতি ও প্রচলন ছিল না। আর এটি পছন্দনীয় ও সওয়াবের বিষয় হলে তারা প্রত্যেক এলাকাতেই এ ধরনের জামাত কায়েম করতেন। তবে কোন কোন বর্ণনায় পাওয়া যায়, হযরত আয়েশা রাযি. ও উম্মে সালামা রাযি. কখনও মহিলাদের নিয়ে জামাত করেছেন। তারা এমনটি করেছেন হয়তো মহিলাদের নামায শিক্ষা দেওয়ার জন্য, এ ধরনের জামাতের প্রতি উৎসাহিত করার জন্য নয়। কেননা, হযরত আয়েশা রাযি. তো নিজেই বর্ণনা করেছেন, মহিলাদের জামাতে কল্যাণ নেই। আর এটি সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী। তাছাড়া হযরত আয়েশা রাযি. এর অনেক শিষ্য ছিল। তিনি যদি এর প্রতি উৎসাহিত করতেন তাহলে এর ব্যাপক প্রচলন ঘটত।
আরেক মহিলা সাহাবীর ব্যাপারে পাওয়া যায়, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছ থেকে তার ঘরে জামাত করার অনুমতি নিয়েছিলেন। কিন্তু ‘মহিলাদের জামাতে কল্যাণ নেই’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এই এরশাদের পর এই ঘটনা আর প্রমাণ হিসেবে থাকে না। এসব কিছু বিবেচনা করে আমাদের ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, মহিলাদের জামাত করা মাকরূহে তাহরীমি- যা গুনাহের কাজ তাই তা বর্জনীয়। আত্তাজরীদ- ২/৮৬১; আদ্দুররুল মুখতার- ১/৫৬৫; কিফায়াতুল মুফতী- ৩/১৪৩
যাকাত ও সদকাতুল ফিতর
মাও. মো. হারুনুর রশিদ
সাবেক শিক্ষক, ফরিদাবাদ মাদরাসা
১৯৫. প্রশ্ন : আমরা পঁচিশ-ত্রিশ জন মিলে একটি সমিতি করি। প্রতি মাসে প্রত্যেকে পাঁচ হাজার টাকা করে জমা করি। এই টাকাগুলো সমিতির পরিচালনা কমিটি ব্যবসায় খাটায়। এ পর্যন্ত আমার সর্বমোট মূল টাকা ৪৫ হাজার টাকা হয়েছে। কিন্তু লাভের হিসাব এখনো আসেনি। এ সমিতি পাঁচ বছর মেয়াদে করা হয়েছে। পাঁচ বছর পর মূল টাকা এবং লাভ হিসাব করে সবার মাঝে বণ্টন করা হবে। বর্তমানে আমার যে ৪৫ হাজার টাকা জমা হয়েছে তার উপর যাকাত আসবে কি না?
উত্তর : ব্যবসায় বিনিয়োগকৃত টাকা লভ্যাংশসহ যাকাতযোগ্য সম্পদ। চাই নিজে বিনিয়োগ করুক বা অন্যের মাধ্যমে বিনিয়োগ করানো হোক। সমিতিতে আপনার জমাকৃত মূল ধন ও লভ্যাংশ এবং অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদ মিলে যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্যের সমপরিমাণ হয়, তাহলে বছরান্তে এসব সম্পদের যাকাত আদায় করা ফরজ হবে। সুতরাং আপনার কর্তব্য হল সমিতির পরিচালনা কমিটি থেকে লভ্যাংশ জেনে নেয়া এবং সে হিসাবে আপনি আপনার পুরো সম্পদের যাকাত আদায় করবেন। তাবয়ীনুল হাকায়েক- ২/৬২; হেদায়া- ১/১৯৩; কিফায়াতুল মুফতী- ৪/২৫৯
১৯৬. প্রশ্ন : এক ব্যক্তির মালিকানায় ১০ হাজার টাকা আছে। ওয়ারিশ সূত্রে সে তার পিতা থেকে চার শতাংশ জমিও পেয়েছে- যার মূল্য ৮০ হাজার টাকা। তার উপর কী যাকাত দেয়া ফরজ? না হলে সে যাকাত গ্রহণ করতে পারবে কি না?
উত্তর : যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য শর্ত হল, নেসাব পরিমাণ (مال نامی) বর্ধনশীল সম্পদ থাকা। অর্থাৎ সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা অথবা তার মূল্যের সমপরিমাণ সম্পদ থাকা এবং তা এক বছরকাল থাকা। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু তার এ সম্পদ (مال نامی) বর্ধনশীল নয় তাই তার উপর যাকাত ফরজ হবে না।
আর উক্ত জমি থেকে অর্জিত আয় যদি তার খরচে লেগে যায় এবং তার নেসাব পরিমাণ অন্য কোন সম্পদ না থাকে তবে সে যাকাত গ্রহণ করতে পারবে। কিন্তু যদি জমি থেকে অর্জিত আয় খরচের পরও এ পরিমাণ অবশিষ্ট থাকে যে, তা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্যের পরিমাণ হয়ে যায় তবে সে যাকাত গ্রহণ করতে পারবে না। আলবাহরুর রায়েক- ২/৩৫৩, ৩৬১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া- ১/২৩৩;
মাওলানা ফয়জুল্লাহ সাহেব
উস্তাদ, ফরিদাবাদ মাদরাসা
১৯৭. প্রশ্ন : ড. জাকির নায়েক সদকাতুল ফিতর প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে একপর্যায়ে বলেন, সদকাতুল ফিতর ঈদুল ফিতরের দিন আদায় করতে হবে। ঈদুল ফিতরের পর আদায় করলে তা দান হিসেবে গণ্য হবে, সদকাতুল ফিতর হিসেবে নয়।
জানার বিষয় হল, সদকাতুল ফিতর আদায় ওয়াজিব হওয়াটা কি ঈদুল ফিতরের সঙ্গে সম্পৃক্ত নাকি পরবর্তীতেও তা আদায় করতে হবে? পরবর্তীতে আদায়ের দ্বারা সে দায়িত্বমুক্ত হবে কি না? কোন কারণে ঈদুল ফিতরের দিন আদায় করতে না পারলে পরে আদায় করলে কি গুনাহ হবে? ঈদুল ফিতরের পরে তা দান হিসেবে গণ্য হবেÑ কথাটি কি ঠিক? আর যদি তা রমযানে বা তার আগে আদায় করা হয় তবে এর হুকুম কী?
উত্তর : সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। এই ওয়াজিব আদায় করার সময় সারা জীবন। তবে সদকায়ে ফিতরআদায় করার সবচেয়ে উত্তম ও মুস্তাহাব সময় হল, ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার আগে। কেউ যদি রমযানে বা তার আগে আদায় করে তবেও আদায় হয়ে যাবে। আর ঈদের দিন বা তার আগে আদায় করতে না পারলে বকেয়া হয়ে যাবে। পরবর্তীতে অবশ্যই তা আদায় করতে হবে। এই আদায় করার দ্বারা দায়িত্বমুক্ত হয়ে যাবে। তবে বিলম্ব করার কারণে মাকরূহে তানযীহির গুনাহ হবে। তবে তা সদকায়ে ফিতর হিসেবেই গণ্য হবে।
যারা পরে আদায় করলে শুধু দান হিসেবে গণ্য হওয়ার কথা বলেন তারা সম্ভবত এ হাদীসের আলোকে তা বলে থাকেন-
من اداها قبل الصلاة فهي زكاة مقبولة ومن اداها بعد الصلاة فهي صدقة من الصدقات
উল্লিখিত হাদীসের সঠিক ব্যাখ্যা- যা মুহাদ্দিসীন ও ফুকাহায়ে কেরাম থেকে বর্ণিত তা এইÑ
ক. বিলম্ব করে আদায় করার কারণে আগে আদায় করার তুলনায় সওয়াব কম হবে। এই কম সওয়াব হওয়ার দিক থেকে তা অন্যান্য সদকার (দান) মতো।
খ. তাছাড়া হাদীসে এ দিকেও ইঙ্গিত রয়েছে যে, বিলম্ব করার কারণে সে দায়িত্বমুক্ত হয় না; বরং তা বহালই থেকে যায়। কেননা যদি তা এমনই হতো তাহলে হাদীনের বর্ণনাকারী হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. এভাবে বলতেন-
من اداها بعد الصلاة لا تكون صدقة الفطر
অর্থাৎ যে ব্যক্তি ঈদের নামাযের পরে সদকায়ে ফিতর আদায় করে তা সদকায়ে ফিতর হিসেবে গণ্য হবে না। অথচ তিনি তা বলেননি।
অতএব উল্লিখিত আলোচনা দ্বারা এ কথা প্রতিয়মাণ হয় যে, ড. জাকির নায়েকের ফিতরা দান হওয়ার অভিমতটি সঠিক নয়। বাদায়েউস সানায়ে- ২/২০৭; উমদাতুল কারী- ৬/৫৭৮; ই’লাউস সুনান- ৯/৯৭; আলবাহরুর রায়েক- ২/৪৪৫
ওয়াকফ
মো. মুজ্জাম্মেল হোসেন
৩০ হরিচরণ রায়রোড, ফরিদাবাদ, ঢাকা
১৯৮. প্রশ্ন : জোরপূর্বক কোন ব্যক্তির জায়গায় মসজিদ অথবা কবরস্থান নির্মাণ করা কি জায়েয হবে?
উত্তর : জোরপূর্বক কোন ব্যক্তির জায়গায় মসজিদ অথবা কবরস্থান নির্মাণ করা জায়েয নেই। মসজিদ বা কবরস্থান বানানোর জন্য স্বেচ্ছায় জায়গা ওয়াকফ করতে হবে। রদ্দুল মুহতার- ৬/৫২৩; আযীযুল ফাতাওয়া- ৫৬০
ফজলুল করিম
খাদেম, গোলাপ মসজিদ, ঢালকানগর
১৯৯. প্রশ্ন : আমাদের মসজিদের মেহরাবের পাশে মেহরাবের ন্যায় ছোট একটি মেহরাব রয়েছে যেখান থেকে আযান দেওয়া হয়। এক ব্যক্তি বলল, এখান থেকে আযান দেওয়া মাকরূহ, আযান দিতে হবে বড় মেহরাব থেকে। এক্ষেত্রে সঠিক সমাধান কি?
উত্তর : মসজিদের বাইরে উঁচু স্থান থেকে আযান দেওয়া সুন্নত। ‘বনু নাজ্জার’ গোত্রের এক মহিলা সাহাবী রাযি. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, মসজিদের পাশে অন্যান্য ঘরের তুলনায় আমার ঘর বেশ উঁচু ছিল। তাই বেলাল রাযি. আমার ঘরের উপর থেকে ফজরের আযান দিতেন …।
মসজিদের ভিতরে আযান দেওয়া অনুত্তম, চাই তা মেহরাব থেকে হোক বা অন্য যে কোন স্থান থেকে হোক। তবে জুমআর খুতবার পূর্বে যে আযান দেওয়া হয় তা মসজিদের ভিতরে খতিব সাহেবের সামনে থেকেই দেওয়া সুন্নত। আবু দাউদ হাদিস নং ৫১৭; ই’লাউস সুনান- ৮/৬৯; হাশিয়াতুত তাহতাভী আলাল মারাকী- ১৯৭
২০০. প্রশ্ন : আমরা অনেককে দেখি মসজিদের নির্মাণ কাজ চলার কারণে মসজিদে জুতা পরিহিত অবস্থায় নামায আদায়ের জন্য আসা যাওয়া করে। এখন আমার জানার বিষয় হল মসজিদের নির্মাণ কাজ চলাকালে মসজিদে জুতা পরিহিত অবস্থায় নামাযের জন্য আসার হুকুম কী?
উত্তর : মসজিদে জুতা-স্যান্ডেল পরিধান করে প্রবেশ করা বেআদবী। ফাতাওয়ায়ে শামীতে আছেÑ
ان دخول المسجد متنعلا من سوء الادب
অর্থাৎ জুতা পরিধান করে মসজিদে প্রবেশ করা বেআদবী। হ্যাঁ, যদি মসজিদ নির্মাণের কারণে নির্মাণ সমাগ্রী মসজিদে পড়ে থাকে এবং খালি পায়ে চলার কারণে মসজিদের মেঝে বা কার্পেট ময়লা হয়ে যাবার আশঙ্কা থাকে তবে পাক জুতা পরিধান করে চলাচল করার অবকাশ আছে। ফাতাওয়া সিরাজিয়া- ৭১; ফাতাওয়া মাহমূদিয়া- ২২/৩২৫

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন