বুধবার, ৮ জুলাই, ২০১৫

আযান

আযান
মো. ইমরান হোসাইন
শ্যামলী, ঢাকা
৩৪৬. প্রশ্ন : আমরা টেলিভিশন ও রেডিওতে আযানের দুআয় وَالْفَضِيْلَة শব্দের পরে وَالدَّرَجَةَ الرَّفِيْعَة এবং وَعَدْتَه এর পরে وَارْزُقْنَا شَفَاعَتَه অতিরিক্ত বলতে শুনি। আমার জানার বিষয় হল, এ দু’টি শব্দ ও বাক্য অতিরিক্ত করার কোন ভিত্তি আছে কি?।
উত্তর : আযানের মাসনূন দুআ হল,
اَللّٰهُمَّ رَبَّ هٰذِهٖ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ ، وَالصَّلاَةِ الْقَائِمَةِ ، آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيْلَةَ وَالْفَضِيْلَةَ، وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَّحْمُوْدًا الَّذِيْ وَعَدْتَه
তবে এক বর্ণনায় এর শেষে إنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيْعَاد রয়েছে। প্রশ্নে উল্লিখিত যে দুটি কালিমার কথা বলা হয়েছে। তা যদিও কোন হাদীসে সুস্পষ্ট পাওয়া যায় না, তবে এই দুই বাক্যের অর্থ বহন করে এমন অন্য দুটি বাক্য পাওয়া যায়। যেমন, তহাভী শরীফের এক রেওয়ায়েতে হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে একটি বর্ণনা পাওয়া যায়। যাতে রয়েছে-
اَللّٰهُمَّ أعْطِ مُحَمَّدًا الْوَسِيْلَةَ وَاجْعَلْ فِيْ الْأعْلَيْنِ دَرَجَتَه
এবং কানযুল উম্মাল নামক কিতাবে হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. এর একটি বর্ণনায় রয়েছে-
اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلَيْهِ وَبَلِّغْهُ دَرَجَةَ الْوَسِيْلَةِ عِنْدَكَ وَاجْعَلْنَا فِيْ شَفَاعَتَه يَوْمَ الْقِيَامَةِ
আর এ দুটি বাক্য প্রশ্নে বর্ণিত বাক্যদ্বয় তথা وَالدَّرَجَةَ الرَّفِيْعَة ও وَارْزُقْنَا شَفَاعَتَه এর অর্থ বহন করে। তাই এ দু’টি বাক্যও আযানের দুআয় বলার অবকাশ রয়েছে। সহীহ বুখারী : ১/৮৬; সুনানে কুবরা, বায়হাকী : ১/৭৭৯; তহাভী শরীফ : ১/১১; কানযুল উম্মাল : ৭/৭০৪
নামায
মুহা. ইমরান বিন আ. কাইয়ুম
৩৪৭. প্রশ্ন : জুমআর দিন মসজিদের মিম্বরে বসে খুতবা ব্যতীত অন্য কোন দ্বীনি আলোচনা করা জায়েয আছে কি না? যদি জায়েয হয় তাহলে প্রমাণসহ জানালে কৃতজ্ঞ হবো।
উত্তর : জুমআর দিন মসজিদের মিম্বরে বসে খুতবা ব্যতীত অন্য দ্বীনি আলোচনা করা জায়েয, তবে জুমআর খুতবার পূর্বের বয়ান মিম্বরের পাশে চেয়ারে বসে করাই উত্তম। সহীহ মুসলিম : ১/২৮৬; শরহে নববী আলা সহীহ মুসলিম; আলমুসান্নাফ, আব্দুর রাজ্জাক : ৩/২১৬; কিফায়াতুল মুফতী : ৩/২৬৪
৩৪৮. প্রশ্ন : কোন ইমাম যদি ইসালে ছাওয়াব বা দুনিয়াবী কোন মাকছুদ যেমন, বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি, রোগ-ব্যাধির চিকিৎসার জন্য কোন বাড়িতে খতমে কোরআন পড়ে হাদিয়া নেয় তাহলে জায়েয হবে কি না? জায়েয না হলে তাঁর পিছনে ইক্তেদা করা দুরস্ত হবে কি না?
উত্তর : ইসালে ছাওয়াবের উদ্দেশ্যে খতমে কোরআন পড়ে বিনিময় নেয়া জায়েয নেই। কেননা ঈসালে ছাওয়াব একটি ইবাদত, ইবাদতের বিনিময় নেয়া নাজায়েয। দুনিয়াবী কোন উদ্দেশ্য যেমন, বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি, রোগ-ব্যাধির চিকিৎসার জন্য খতমে কুরআন পড়ে বিনিময় নেয়া জায়েয।
সুতরাং ইমাম সাহেব ঈসালে ছাওয়াবের জন্য খতমে কুরআন পড়ে যদি বিনিময় নেয়া থেকে বিরত না থাকেন, তাহলে তিনি ইমামতির উপযুক্ত থাকবেন না। যদি দুনিয়াবী কোন উদ্দেশ্যে খতমে কোরআন পড়ে বিনিময় নেন তাহলে তা জায়েয বিধায় তাঁর পিছনে নামাজ সহীহ হবে। রদ্দুল মুহতার : ৬/৫৬, ৫৭; কিফায়াতুল মুফতী : ৭/৩১৪; ইমদাদুল আহকাম : ১/৩৩৭
জানাযা-কাফন-দাফন
৩৪৯. প্রশ্ন : কবর খননের সুন্নত তরীকা কী?
উত্তর : সুন্নত তরীকার কবর হল, কবরের গভীরতা একজন মাঝারি গড়নের ব্যক্তির অর্ধেক পরিমাণ হলে যথেষ্ট। তবে পূর্ণ একজন পুরুষের উচ্চতা পরিমাণ গভীর করা উত্তম। এর চেয়ে বেশী গভীর করা উচিৎ নয়। কবরের দৈর্ঘ্য মৃত ব্যক্তির উচ্চতা অনুপাতে এবং প্রস্থ তার অর্ধেক পরিমাণ হতে হবে। কবর বগলী হওয়া সুন্নত।
বগলী কবর খনন করার নিয়ম, প্রথমে যথারীতি পূর্ণ একটি কবর খনন করবে। তারপর সমতল থেকে কিবলার দিকে মৃত ব্যক্তির দেহ অনুপাতে একটি গর্ত খনন করবে, যার অভ্যন্তরে মাইয়্যিতকে সুন্দরভাবে ডান কাতে রাখা যায়। বালি বা মাটি নরম হওয়ার কারণে যদি বগলী কবর খনন করা সম্ভব না হয় তাহলে সিন্দুকী কবর খনন করবে।
সিন্দুকী কবর খনন করার নিয়ম, যথারীতি পূর্ণ কবর খননের পর কবরের মধ্যভাগে মৃত ব্যক্তির দেহ অনুপাতে খালের মত একটি গর্ত খনন করবে, যার মধ্যে মৃত ব্যক্তির দেহ ডান কাত করে ভালভাবে রাখা যায়। রদ্দুল মুহতার : ২/২৩৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/২২৬-২২৭; হাশিয়াতুত তাহতাভী আলাল মারাকী : ৬০৭
আবুল হাসান
৩৫০. প্রশ্ন : কবরে লাশ রাখার সুন্নত তরীকা কী?
উত্তর : কবরে লাশ রাখার তরীকা হল, মায়্যিতের মাথা উত্তর দিক করে এবং পা দক্ষিণ দিক করে কেবলার দিক থেকে মায়্যিতকে কবরে প্রবেশ করাবে। ম্যায়্যিতকে কবরে ডান পাশ করে শোয়াবে, সিনা ও চেহারা কেবলা মুখী করে দিবে, লাশ কবরে রাখার সময় এই দুআ পড়বে, بسم الله وعلى ملة رسول الله। আদ্দুররুল মুখতার : ২/২৩৫; আলবাহরুর রায়েক : ২/৩৩৯; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া : ১৩/২৪৮
মুহাম্মদউল্লাহ
৩৫১. প্রশ্ন : মহিলাদেরকে দাফন করার সময় পর্দা দেওয়া জরুরী কি না?
উত্তর : দাফন করার সময় যেহেতু অনেক গায়রে মাহরাম লোকও থাকে সে জন্য পর্দা দেওয়া উচিৎ। যেন দেহের কাঠামো গায়রে মাহরামদের নজরে না পড়ে। আদ্দুররুল মুখতার : ২/১৪২; মাজমাউল আনহুর : ১/২৭৫; আলমুসান্নাফ, ইবনে আবী শায়বা : ৭/৩২৪
মো. ইউসুফ
৩৫২. প্রশ্ন : কবর যিয়ারতের সুন্নত তরীকা কী? জানালে উপকৃত হব।
উত্তর : কবর যিয়ারতের সুন্নত তরীকা হল, কবরের কাছে গিয়ে সম্ভব হলে মাইয়্যিতের পায়ের দিক থেকে তার চেহারা বরাবর এসে কিবলার দিকে পিঠ করে মাইয়েতের চেহারা বরাবর দাড়িয়ে এভাবে সালাম বলবে,
السلام عليكم يا أهل الديار من المؤمنين والمسلمين وإنا إن شاء الله بكم لاحقون أنتم لنا فرط ونحن لكم تبع ونسأل الله لنا ولكم العافية
তারপর কোরআনুল কারীমের আয়াত বিশেষ করে সূরা ফাতেহা, সূরা বাকারার প্রথম পাঁচ আয়াত, আয়াতুল কুরসী, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত, সূরা ইয়াসীন, সূরা মুল্ক, সূরা তাকাসুর এবং সূরা ইখলাছ বারো বার, এগারো বার, সাতবার, অথবা তিনবার পড়বে। তারপর বলবে, হে আল্লাহ! আমরা যা তেলাওয়াত করলাম তার সওয়াব অমুকের নিকট পৌঁছিয়ে দিন।’ সুনানে কুবরা, বাইহাকী : ৪/২৯০; রদ্দুল মুহতার : ২/২৩৪; আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/২১২
মিরাস
৩৫৩. প্রশ্ন : আমার এক নিকট আত্মীয় তার জীবদ্দশায় নিজ সম্পত্তি এক ছেলে এক মেয়ে এবং স্বামীর মাঝে বণ্টন করে দিতে চায়। জানার বিষয় হল, জীবদ্দশায় উক্ত ওয়ারিশদের মাঝে সম্পদ বণ্টন করা শরীয়ত সম্মত কি না? যদি শরীয়ত সম্মত হয় তাহলে কে কত অংশ পাবে। উল্লেখ্য, মোট জমির পরিমাণ ২ কাঠা।
উত্তর : জীবদ্দশায় সম্পত্তি বণ্টনের ব্যাপারে শরীয়ত কর্তৃক কোন প্রকার উৎসাহ প্রদান করা হয়নি। তবে কারো যদি একান্ত প্রয়োজন দেখা দেয় এবং কোন ওয়ারিশকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্য না থাকে তাহলে নিজ সম্পত্তি ওয়ারিশদেরকে ‘হেবা’ তথা দান করে দিতে পারে। এটা মিরাস হবে না। আর যদি কোন ওয়ারিশকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্য থাকে তাহলে সে গোনাহগার হবে।
তবে এক্ষেত্রে ছেলে-মেয়ে উভয়ের জন্য সমহারে বণ্টন করা উচিত। প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী স্বামীকে সম্পদের এক চতুর্থাংশ বা তার প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পদ দান করার পর অবশিষ্ট সম্পত্তি ছেলে এবং মেয়ের মাঝে সমান হারে বণ্টন করে দিবে। মেশকাত শরীফ : ২৬০-২৬১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ৪/৪১৬; ফাতাওয়া রহীমিয়া : ৯/৩১২
বিবাহ-তালাক
মাও. আব্দুল্লাহ
৩৫৪. প্রশ্ন : আমাদের কেরানীগঞ্জে এক লোক বিবাহ করেছে। এক ছেলে হওয়ার পর তার স্ত্রী মারা যায়। তারপর সে এক বিধবাকে দ্বিতীয় বিবাহ করে। ঐ বিধবার প্রথম স্বামীর ঘরের এক মেয়ে ছিল। সেই মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক হলে বর্তমান স্বামীর প্রথম স্ত্রীর ছেলের সাথে বিবাহ হয়। এ ঘটনা ঘটেছে অনেক দিন হয়েছে। তাদের কয়েকজন সন্তানও আছে।
প্রশ্ন হল, তাদের বিবাহ কি শুদ্ধ হয়েছে নাকি তারা পরস্পরে ভাই বোন? জানিয়ে বাধিত করবেন।
উত্তর : তাদের পরস্পরের বিবাহ শুদ্ধ হয়েছে। কারণ, কোন মহিলার প্রথম স্বামীর মেয়ে আর তার দ্বিতীয় স্বামীর অন্য স্ত্রীর ছেলে শরীয়তের দৃষ্টিতে পরস্পরে ভাই-বোন নয়। তাই তাদের একজন অন্যজনকে বিবাহ করা বৈধ। সূরা নিসা : ২৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/৩৪২; রদ্দুল মুহতার : ৪/১০৫
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
৩৫৫. প্রশ্ন : আমার স্বামী আমাকে প্রায়ই মুখে এক দুই তালাক পর্যন্ত বলত। গত ২১ জানুয়ারী সে তিন তালাক দিলাম লিখে ম্যাসেজ পাঠায়। অসম্মানের ভয়ে আমি ম্যাসেজ ডিলেট করে ফেলি। এখন সে পুরোটাই অস্বীকার করছে। এখন আমার করণীয় কী?
উত্তর : প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী উক্ত স্বামীর সঙ্গে আপনার বিবাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তাই স্বামী থেকে পৃথক হয়ে যেতে হবে। এজন্যে সম্ভব হলে সাক্ষ্য-প্রমাণ যোগাড় করে পারিবারিক সালিশ-মিমাংসার আশ্রয় নিতে পারেন। অন্যথায় অর্থের বিনিময়ে স্বামীর সঙ্গে খোলা করে কিংবা অন্য কোন কৌশলে পৃথক হয়ে যাবেন। স্বামী থেকে পৃথক হয়ে তালাকের ইদ্দত পালন করে আপনি অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন। আলবাহরুর রায়েক : ৮/৩৬৮; রদ্দুল মুহতার : ২৫১, ৪২১; ফাতাওয়া মাহমূদিয়া : ১৯/২৩৭
মুয়ামালা-লেনদেন
৩৫৬. প্রশ্ন : আমি শেয়ার ব্যবসার সাথে জড়িত। এই ব্যবসা মূলত একটি কোম্পানীর অংশীদারত্ব লাভ করাকে বুঝায়। প্রাথমিকভাবে কোম্পানীর অংশীদারত্ব পাওয়ার জন্য বাজার থেকে আবেদন ফরম ক্রয় করে শেয়ারমূল্য বাবদ নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ব্যাংক/ব্রোকারেজ হাউজের মাধ্যমে জমা দিতে হয়। তখন অনেক মানুষ অংশীদারত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন করে থাকে। সবাইকে দেওয়া সম্ভব না বিধায় লটারীর মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিতদের অংশীদারত্বের ডকুমেন্ট বাবদ দলিল দেওয়া হয়। দলিল প্রাপ্তির দুই মাসের মধ্যে উক্ত কোম্পানীর শেয়ার বাজারে আসে এবং ক্রয়কৃত মূল্যের চেয়ে বৃদ্ধি হয়ে আসে। এটাকে অনেকে প্রাইমারী মার্কেট বলে থাকে।
আমার জানার বিষয়,
১. এই পন্থায় লটারী জায়েয কি না?
২. শেয়ার ক্রয়কৃত টাকার চেয়ে বাজারে বৃদ্ধিপূর্বক আসার অর্থ হালাল কি না?
উত্তর : ১. শরীয়তের দৃষ্টিতে যে সমস্ত কাজ নিষিদ্ধ বা অপছন্দনীয় নয় সে সমস্ত কাজে কোন একটা বিষয় নির্দিষ্ট করার জন্য লটারী দেয়া জায়েয আছে। প্রশ্নে যে পন্থায় কথা আলোচনা হয়েছে তা জায়েয বা নাজায়েয হওয়ার হুকুম দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরে উল্লেখ করা হবে।
২. শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় হালাল হওয়ার জন্য চারটি শর্ত প্রযোজ্য,
ক. কোম্পানীর মূল কারবার হালাল হওয়া। যদি কোন কোম্পানীর মূল কারবার হারাম হয় তাহলে ঐ কোম্পানীর শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় করা কখনো বৈধ হবে না। যেমন, যদি কোন কোম্পানীর মূল কারবার সুদ ভিত্তিক হয় অথবা মূল কারবার হচ্ছে হারাম পণ্য তৈরি করা তাহলে এ জাতীয় কোম্পানীর শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় জায়েয হবে না।
খ. শেয়ারের লিখিত মূল্য (Face Value) থেকে কম অথবা বেশী দামে বিক্রি করতে হলে কোম্পানীর সম্পদ শুধু তরল তথা নগদ না হওয়া। বরং আসবাবপত্র যেমন, বিল্ডিং, মেশিনারী ইত্যাদি কোম্পানীর মালিকানায় থাকা জরুরী।
গ. কোম্পানী যদি কোন সুদী ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের সাথে সুদী লেনদেন করে থাকে তাহলে বাৎসরিক সাধারণ সভায় (A.G.M.) সুদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে হবে।
ঘ. কোম্পানী income statement এ যদি সুদ অর্ন্তভুক্ত হয় তাহলে যে পরিমাণ সুদ অর্ন্তভুক্ত হয় লভ্যাংশ থেকে সে পরিমাণ সদকা করতে হবে।
যদি উক্ত চার শর্তের কোন একটা শর্ত না পাওয়া যায় তাহলে কোম্পানীর শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় হালাল হবে না। এ চার শর্ত পাওয়া গেলে শেয়ার ক্রয়কৃত মূল্যের চেয়ে বেশী মূল্যে বিক্রি করা বৈধ ও হালাল হবে, লটারী করে ক্রেতা নির্বাচন করাও বৈধ হবে। সহীহ বুখারী : ২/৭৮৪; ফিকহী মাকালাত : ১/১৪৪, ১৫১; ইমাদাদুল ফাতাওয়া : ৩/১৩০
মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান
৩৫৭. প্রশ্ন : ক. যে কোম্পানী ক্রয়-বিক্রয়ের সময় নিম্নোক্ত শর্তাবলী আরোপ করে সে কোম্পানীতে চাকুরী করা যাবে কি না,
১. সন্তোষজনক কারণ ব্যতীত নির্ধারিত সময়ে দুই কিস্তি বা সমপরিমাণ টাকা অপরিশোধিত থাকলে মালিকপক্ষ (বিক্রেতা) উক্ত গাড়ীর বিপরীতে প্রদত্ত সকল/আংশিক অর্থ বাজেয়াপ্তসহ উক্ত গাড়ীটি বাজেয়াপ্ত করতে পারবে।
২. ক্রেতাপক্ষ কোন চেকের অর্থ সঠিক সময়ে প্রদান না করলে অথবা বিলম্বে প্রদান করলে উক্ত চেকের অর্থের উপর বার্ষিক ২০% চক্রবৃদ্ধি হারে বিলম্বজনিত জরিমানা দিতে বাধ্য থাকবে।
খ. চাকুরীলব্ধ বেতনের টাকা দিয়ে বাবার ইহরামের কাপড় কেনা জায়েয কিনা?
উত্তর : ক. উপরোক্ত চুক্তিদ্বয় শরীয়তবিরোধী। তাই উক্ত কোম্পানীতে যদি শরীয়তসম্মত লেন-দেনের চেয়ে শরীয়তবিরোধী লেন-দেন বেশী হয় তাহলে সেখানে চাকুরী করা বৈধ হবে না। তবে জীবিকা নির্বাহের অন্য কোন ব্যবস্থা না থাকলে তাৎক্ষনিক চাকুরী ছাড়বে না। অন্য কোন উপার্জন-ব্যবস্থার সন্ধান করবে ও ইস্তেগফার করবে এবং আল্লাহর নিকট হালাল উপার্জনের দুআ করতে থাকবে। যখন বিকল্প ব্যবস্থা হবে তখন সে চাকুরী ছেড়ে দিবে।
খ. আপনার উপার্জনে যদি হালাল অংশ বেশি হয় তাহলে ইহরামের কাপড় কেনা যাবে। অন্যথায় নিজের প্রয়োজন পূরণে সীমাবদ্ধ রাখা চাই। সূরা মায়েদা : ২; সহীহ মুসলিম :২/২৭; আলআশবাহ ওয়াননাজায়ের : ১৪৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ৫/৩৯৬
জায়েয-নাজায়েয
মুহা. হারুনুর রশীদ
৩৫৮. প্রশ্ন : টিভি দেখা কি জায়েয?
উত্তর : টেলিভিশন দেখা নাজায়েয। কারণ তাতে অনেক গোনাহের কার্যকলাপ প্রদর্শন করা হয়। যেমন : প্রাণীর ফিল্ম, ছবি, গান, বাজনা, খেল-তামাশা, নাচ, গান, বেগানা বেপর্দা মেয়েলোককে দেখা প্রভৃতি। সূরা লুকমান : ৬; সহীহ বুখারী : ৮৮০; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম : ৪/১৬৪; আদ্দুররুল মুখতার : ২/৩৪৮-৩৪৯
আব্দুল কাদের
৩৫৯. প্রশ্ন : ক্যামেরায় তোলা ছবি আর হাতে আর্ট করা ছবির গোনাহ কি এক? অনেকে বলেন ক্যামেরায় ছবি বাস্তব বিধায় হাতে আর্ট করা ছবির মত নয়, এর গোনাহ আলাদা। কথাটি কতটুকু বাস্তবসম্মত?
উত্তর : হাতে আর্ট করা বা ক্যামেরায় প্রাণীয় ছবি তোলা উভয়টি হারাম। যিনি বলেন উভয়টির গোনাহ ভিন্ন ভিন্ন তার কথা সঠিক নয়। সহীহ মুসলিম : ২/২০০; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম : ৪/১৬৩; কিফায়াতুল মুফতী : ৯/২৩৩
আবু সাঈদ মোল্লা
৩৬০. প্রশ্ন : ক. ভোটের সময় ভোটের জন্য টাকা লেনদেন করা কি জায়েয ?
খ. ভোটের সময় ভোটারকে প্রার্থী টাকা দিয়ে বলে, আমার জন্য দুআ করবেন। এমতাবস্থায় টাকা গ্রহণ করে অন্যকে ভোট দেয়া যাবে কিনা?
গ. কেউ যদি নির্বাচনে প্রার্থী কর্তৃক ভোটের বিনিময় টাকা গ্রহন করে তাহালে উক্ত টাকা কী করবে?
উত্তর : ক. ভোটের সময় প্রার্থী কর্তৃক ভোটারের সাথে টাকার যে লেনদেন করা হয় তা হারাম। কেননা এটা ঘুষের পর্যায়ে পড়ে আর ঘুষের লেনদেন হারাম।
খ. ভোট দাতার কর্তব্য হল, তিনি এমন প্রার্থিকে ভোট দিবেন যে দীনদার, যার দ্বারা দেশ ও জাতির কল্যাণ হবে বলে প্রবল ধারণা হয়।
অনুপযুক্ত প্রার্থী থেকে টাকা নিয়ে তাকে ভোট দেওয়া খেয়ানত। উপযুক্ত প্রার্থী থেকে টাকা নিয়ে তাকে ভোট দেওয়া ঘুষ। সুতরাং ভোটের জন্য টাকা নেওয়া কোন অবস্থাতেই জায়েয নেই। ভোট উপযুক্ত প্রার্থীকেই দিতে হবে। অনুপযুক্ত প্রার্থীকে ভোট দেওয়া জায়েয নেই।
গ. নির্বাচনে প্রার্থী কর্তৃক ভোটের বিনিময় গ্রহণ করা যেহেতু হারাম, তাই উক্ত টাকা যে দিয়েছে তার নিকট পৌঁছিয়ে দিবে। যদি পৌঁছানো সম্ভব না হয় তাহলে সদকা করে দিবে। আবূ দাউদ শরীফ : ৫০৪; রদ্দুল মুহতার : ৫/৩৬২; কিফায়াতুল মুফতী : ৯/৩৫২; ফাতাওয়া মুফতী মাহমূদ : ১১/৩৮০
আব্দুল্লাহ
৩৬১. প্রশ্ন : এমন অপারেশন করার হুকুম কি যেখানে সতরের খেলাফ হওয়া নিশ্চিত। এই অপারেশন না করলে হয়ত সে কিছুটা কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকবে অথবা এই অপারেশন ব্যতীত অন্য চিকিৎসা যেমন, ইউনানী, হোমিওপ্যাথী থাকা সত্ত্বেও অপারেশনের জন্য সতর খোলার ব্যাপারে শরিয়ত কী বলে?
উত্তর : চিকিৎসা করার প্রতি শরিয়তে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। ক্ষেত্র বিশেষে তা জরুরীও বটে। চিকিৎসার ক্ষেত্রে অপারেশনই যদি একমাত্র মাধ্যম হয়, অন্য কোন চিকিৎসা ফলদায়ক না হয় এবং অভিজ্ঞ ডাক্তারদের মতামতও এমন হয়, তাহলে অপারেশন করাও জায়েয আছে। আর অপারেশনের জন্য সতর খোলার প্রয়োজন হলে প্রয়োজন পরিমাণ সতর খোলারও অনুমতি রয়েছে। কেউ যদি অপারেশন না করে কিছু কষ্ট সহ্য করতে পারে তারও অবকাশ রয়েছে। রদ্দুল মুহতার : ৬/৩৭১; আহসানুল ফাতাওয়া : ৮/৪৩; ফাতাওয়া মাহমূদিয়া : ২৮/১১৩
মুহা. ইউনুছ
৩৬২. প্রশ্ন : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামের ওসীলায় বা কোন বড় পীর ওলীর নামের ওসীলা দিয়ে দুআ করা জায়েয হবে কি? না র্শিক হবে?
উত্তর : দুআ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। বিভিন্ন হাদীসে দুআর অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। এর প্রতি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। বান্দা যেমন সরাসরি আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ করতে পারে, তেমনি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বা তার কোন নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দার ওসীলা দিয়েও দুআ করতে পারে। এক্ষেত্রে জীবিত ও মৃত ব্যক্তির মাঝে কোন পার্থক্য নেই। উভয়ের ওসীলা দিয়ে দুআ করা জায়েয। বরং আল্লামা শামী রহ. এটাকে দুআর আদবের মধ্যে গণ্য করেছেন। তাফসীরে মাজহারী : ১/৯৪; রুহুল মাআনী : ৬/৪২১; সহীহ বুখারী : ১/১৩৭; তিরমিযী শরীফ : ২/১৯৮; তাকমিলা ফাতহুল মুলহিম : ৫/৬২১
মো. আবুল হাসান
৩৬৩. প্রশ্ন : টুপি মাথায় দিয়ে টয়লেটে যাওয়ার বিধান কি? এ ব্যাপারে কোন হাদীস আছে কি? জানালে উপকৃত হব।
উত্তর : মাথা ঢেকে টয়লেটে প্রবেশ করা মুস্তাহাব। শুধু টুপি দিয়ে যেহেতু পূর্ণ মাথা ঢাকা যায় না তাই টয়লেটে যাওয়ার সময় টুপির সঙ্গে অন্য কোন কাপড় দিয়ে পুরো মাথা ঢেকে নেওয়া ভাল। একটি মুরসাল বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাথরুমে প্রবেশের সময় জুতা পরিধান করতেন এবং মাথা ঢেকে নিতেন। হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি. এর আমল এমনই ছিল। সুনানে কুবরা, বায়হাকী : ১/২৩৪; ই’লাউস সুনান : ১/৩২৩; রদ্দুল মুহতার : ১/৩৪৫

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন