ঈমান-আকীদা
মোঃ আব্দুল্লাহ
সূত্রাপুর, ঢাকা
২৫৫. প্রশ্ন : কবরে সওয়াল-জওয়াব কোন ভাষায় হবে? কোরআন-হাদীসের আলোকে বিস্তারিত জানতে চাই।
উত্তর : কবরে সওয়াল-জওয়াব অকাট্য দলীল দ্বারা প্রমাণিত। অস্বীকার করা কুফুরী। সওয়াল-জওয়াব কোন্ ভাষায় হবে তা স্পষ্টভাবে কোন আয়াত বা হাদীসে উল্লেখ নেই। এটা বর্ণনার কোন প্রয়োজনও নেই, কোন ভাষায় হবে তা জানার উপর ঈমান ও আমলের কোন কিছু নির্ভরশীলও নয়। মৃত ব্যক্তিকে যেই ভাষায়ই সওয়াল করা হউক, তাকে তা বুঝার শক্তি দেওয়া হবে। তবে এ বিষয়ে কিতাবে যা পাওয়া যায় তা হল-
জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহ. রচিত ‘শরহুছ্ছুদূর’ কিতাবে রয়েছে, হাফেয ইবনে হজর আসক্বালানী রহ.কে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জবাবে বলেন- হাদিসের বাহ্যিক বর্ণনাভঙ্গিতে বুঝা যায়, সওয়াল-জওয়াব আরবী ভাষায় হবে, তবে এ সম্ভাবনাও রয়েছে, প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিজ ভাষায় সওয়াল করা হবে।
ফিক্বহের প্রসিদ্ধ কিতাব ‘ত্বহতাবী আলাল মারাক্বী’ কিতাবে রয়েছে, সঠিক মতামত হল, প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার নিজ নিজ ভাষায় সওয়াল করা হবে। তবে এ বিষয়ে মৌলিক কথা তাই যা প্রথমে উল্লেখ করা হয়েছে। শরহুছ্ছুদূর-১৮৯; ত্বহতাবী আলাল মারাক্বী- ৬১৬; আল-ফাতাওয়াল হাদীসিয়া- ২১
মোঃ আব্দুল্লাহ
সূত্রাপুর, ঢাকা
২৫৫. প্রশ্ন : কবরে সওয়াল-জওয়াব কোন ভাষায় হবে? কোরআন-হাদীসের আলোকে বিস্তারিত জানতে চাই।
উত্তর : কবরে সওয়াল-জওয়াব অকাট্য দলীল দ্বারা প্রমাণিত। অস্বীকার করা কুফুরী। সওয়াল-জওয়াব কোন্ ভাষায় হবে তা স্পষ্টভাবে কোন আয়াত বা হাদীসে উল্লেখ নেই। এটা বর্ণনার কোন প্রয়োজনও নেই, কোন ভাষায় হবে তা জানার উপর ঈমান ও আমলের কোন কিছু নির্ভরশীলও নয়। মৃত ব্যক্তিকে যেই ভাষায়ই সওয়াল করা হউক, তাকে তা বুঝার শক্তি দেওয়া হবে। তবে এ বিষয়ে কিতাবে যা পাওয়া যায় তা হল-
জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহ. রচিত ‘শরহুছ্ছুদূর’ কিতাবে রয়েছে, হাফেয ইবনে হজর আসক্বালানী রহ.কে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জবাবে বলেন- হাদিসের বাহ্যিক বর্ণনাভঙ্গিতে বুঝা যায়, সওয়াল-জওয়াব আরবী ভাষায় হবে, তবে এ সম্ভাবনাও রয়েছে, প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিজ ভাষায় সওয়াল করা হবে।
ফিক্বহের প্রসিদ্ধ কিতাব ‘ত্বহতাবী আলাল মারাক্বী’ কিতাবে রয়েছে, সঠিক মতামত হল, প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার নিজ নিজ ভাষায় সওয়াল করা হবে। তবে এ বিষয়ে মৌলিক কথা তাই যা প্রথমে উল্লেখ করা হয়েছে। শরহুছ্ছুদূর-১৮৯; ত্বহতাবী আলাল মারাক্বী- ৬১৬; আল-ফাতাওয়াল হাদীসিয়া- ২১
পবিত্রতা
মুহাম্মদ আমীর হামজা
ফরিদাবাদ, ঢাকা
২৫৬. প্রশ্ন : বেশ কয়েকদিন আগে আমার পায়ের কিছু অংশ কেটে গিয়েছিল। হসপিটালে যাওয়ার পর ডাক্তার বললেন, সেলাই করতে হবে। পায়ের পিঠের একটা অংশ এমনভাবে কেটেছিল যে, চামড়া দু’ভাগ হয়ে ভেতরের গোশত দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু শেষে কোন কারণে সেলাই না করে শুধু কাপড়ের বেন্ডেজ ডাক্তার লাগিয়ে দিলেন। বেন্ডেজ এভাবে বাঁধলেন যে পায়ের নিচের অংশও ঢেকে গেল। পরে আমি বাসায় ফিরে বেন্ডেজ খুলে ক্ষতস্থানের আশ-পাশের রক্ত পরিষ্কার করি। এরপর প্রতি রাতে শুধু বেন্ডেজ এর উপর মাসাহ করি। এখন আমার জানার বিষয় হল, আমার এভাবে মাসাহ করে নামাজ আদায় করা সহীহ হয়েছে কিনা?
উত্তর : সম্পূর্ণ ব্যান্ডেজ খুললে এবং ক্ষতস্থানের উপর মাসাহ করলে যদি কোন ক্ষতি না হয় তাহলে সম্পূর্ণ ব্যান্ডেজ খুলে ক্ষতস্থান মাসেহ করতে হবে এবং অবশিষ্ট স্থান ধৌত করতে হবে। যদি ক্ষতস্থানের ব্যান্ডেজ খুললে ক্ষতি হয়, বাকী অন্য স্থানের ব্যান্ডেজ খুললে ক্ষতি না হয় তাহলে ক্ষতস্থানের ব্যান্ডেজের উপর মাসাহ ও অন্য স্থানের ব্যান্ডেজ খুলে তা ধৌত করতে হবে। যদি ক্ষতস্থান ছাড়া বাকী অন্য স্থানের ব্যান্ডেজ খুললেও ক্ষতি হয় তাহলে ব্যান্ডেজ খুলতে হবে না, পূর্ণ ব্যান্ডেজের উপর মাসাহ করলেই চলবে। আদ্-দুররুল মুখতার- ১/২৮০; বাদয়েউস সানায়ে- ১/৯০; ফাতহুল কাদীর-১/১৬১
মুহাম্মদ আমীর হামজা
ফরিদাবাদ, ঢাকা
২৫৬. প্রশ্ন : বেশ কয়েকদিন আগে আমার পায়ের কিছু অংশ কেটে গিয়েছিল। হসপিটালে যাওয়ার পর ডাক্তার বললেন, সেলাই করতে হবে। পায়ের পিঠের একটা অংশ এমনভাবে কেটেছিল যে, চামড়া দু’ভাগ হয়ে ভেতরের গোশত দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু শেষে কোন কারণে সেলাই না করে শুধু কাপড়ের বেন্ডেজ ডাক্তার লাগিয়ে দিলেন। বেন্ডেজ এভাবে বাঁধলেন যে পায়ের নিচের অংশও ঢেকে গেল। পরে আমি বাসায় ফিরে বেন্ডেজ খুলে ক্ষতস্থানের আশ-পাশের রক্ত পরিষ্কার করি। এরপর প্রতি রাতে শুধু বেন্ডেজ এর উপর মাসাহ করি। এখন আমার জানার বিষয় হল, আমার এভাবে মাসাহ করে নামাজ আদায় করা সহীহ হয়েছে কিনা?
উত্তর : সম্পূর্ণ ব্যান্ডেজ খুললে এবং ক্ষতস্থানের উপর মাসাহ করলে যদি কোন ক্ষতি না হয় তাহলে সম্পূর্ণ ব্যান্ডেজ খুলে ক্ষতস্থান মাসেহ করতে হবে এবং অবশিষ্ট স্থান ধৌত করতে হবে। যদি ক্ষতস্থানের ব্যান্ডেজ খুললে ক্ষতি হয়, বাকী অন্য স্থানের ব্যান্ডেজ খুললে ক্ষতি না হয় তাহলে ক্ষতস্থানের ব্যান্ডেজের উপর মাসাহ ও অন্য স্থানের ব্যান্ডেজ খুলে তা ধৌত করতে হবে। যদি ক্ষতস্থান ছাড়া বাকী অন্য স্থানের ব্যান্ডেজ খুললেও ক্ষতি হয় তাহলে ব্যান্ডেজ খুলতে হবে না, পূর্ণ ব্যান্ডেজের উপর মাসাহ করলেই চলবে। আদ্-দুররুল মুখতার- ১/২৮০; বাদয়েউস সানায়ে- ১/৯০; ফাতহুল কাদীর-১/১৬১
নাম ঠিকানা বিহীন
২৫৭. প্রশ্ন : সিজারে বাচ্চা হলে নেফাসের হুকুম কি ?
উত্তর : সিজারের মাধ্যমে বাচ্চা হওয়ার পর সিজারের ক্ষতস্থান থেকে রক্ত বের হলে তা নেফাসের রক্ত বলে গণ্য হবে না। এক্ষেত্রে তার উপর নামাজ পড়া এবং রোজা রাখা ফরজ।
আল-ফাতাওয়াল হিন্দিয়া- ১/৯১; তাবয়িনুল হাকায়েক- ১/১৮৮
২৫৭. প্রশ্ন : সিজারে বাচ্চা হলে নেফাসের হুকুম কি ?
উত্তর : সিজারের মাধ্যমে বাচ্চা হওয়ার পর সিজারের ক্ষতস্থান থেকে রক্ত বের হলে তা নেফাসের রক্ত বলে গণ্য হবে না। এক্ষেত্রে তার উপর নামাজ পড়া এবং রোজা রাখা ফরজ।
আল-ফাতাওয়াল হিন্দিয়া- ১/৯১; তাবয়িনুল হাকায়েক- ১/১৮৮
নামায
২৫৮. প্রশ্ন : আমাদের দেশে বিশেষ করে ঢাকা শহরে একাধিক মসজিদ কাছাকাছি হওয়ার কারণে প্রায়ই একাধিক মসজিদ থেকে এক সাথে আযান শোনা যায়। এখন জানার বিষয় হল, এভাবে একসাথে একাধিক মসজিদের আযান একই মুহূর্তে শোনা গেলে কোনটির জবাব দিতে হবে? অনুরূপভাবে যদি একাধিক মসজিদের আযান একের পর এক শোনা যায় তাহলে সেক্ষেত্রে কোনটির জবাব দিব?
উত্তর : যদি একই সাথে একাধিক মসজিদের আযান শোনা যায় তাহলে নিজের মসজিদের আযানের জবাব দিবে। আর যদি একের পর এক আযান দিতে শোনা যায় তাহলে প্রথমটার জবাব দিবে। চাই সেটা নিজের মসজিদ এর আযান হোক কিংবা অন্য মসজিদের আযান হোক। রদ্দুল মুহতার- ১/৪০০; ত্বহতাবী আলাল মারাক্বী- ২০২
২৫৮. প্রশ্ন : আমাদের দেশে বিশেষ করে ঢাকা শহরে একাধিক মসজিদ কাছাকাছি হওয়ার কারণে প্রায়ই একাধিক মসজিদ থেকে এক সাথে আযান শোনা যায়। এখন জানার বিষয় হল, এভাবে একসাথে একাধিক মসজিদের আযান একই মুহূর্তে শোনা গেলে কোনটির জবাব দিতে হবে? অনুরূপভাবে যদি একাধিক মসজিদের আযান একের পর এক শোনা যায় তাহলে সেক্ষেত্রে কোনটির জবাব দিব?
উত্তর : যদি একই সাথে একাধিক মসজিদের আযান শোনা যায় তাহলে নিজের মসজিদের আযানের জবাব দিবে। আর যদি একের পর এক আযান দিতে শোনা যায় তাহলে প্রথমটার জবাব দিবে। চাই সেটা নিজের মসজিদ এর আযান হোক কিংবা অন্য মসজিদের আযান হোক। রদ্দুল মুহতার- ১/৪০০; ত্বহতাবী আলাল মারাক্বী- ২০২
তানভীর উবায়েদ
২৫৯. প্রশ্ন : বিভিন্ন মসজিদে জুমার দিন বাইরের বড় মাইকে বয়ান করার রেওয়াজ
আছে, অথচ ভেতরে সাউন্ড বক্সের ব্যবস্থা রয়েছে। এ কাজ কতটুকু শরিয়ত সম্মত?
উত্তর : জুমার বয়ান মসজিদে আগত মুসল্লিদেরকে কেন্দ্র করে হয়ে থাকে। আর মসজিদে সাউন্ড বক্স থাকা অবস্থায় বাইরের বড় মাইকে বয়ান করা নিষ্প্রয়োজন। তাছাড়া এর দ্বারা অনেক সমস্যাও হয়। যেমন মসজিদের আশে পাশে যাদের বাড়ি আওয়াজের কারণে তাদের কষ্ট হয়। ছোট বাচ্চা ও অসুস্থ ব্যক্তিদের কষ্ট হয়। কাজে বিঘ্ন ঘটে। বাড়িতে কাজ করতে থাকা মহিলাদের অমনোযোগি অবস্থায় বয়ান শুনে ফায়দাও হয়না। তাই একান্ত আগ্রহী হলে, কোন বাড়িতে মাইকের সংযোগ নিয়ে নিবে সেখানে মহিলারা সমবেত হয়ে মনোযোগ দিয়ে শুনবে।
অতএব জুমআর দিন মসজিদের মাইকে বয়ান করার দ্বারা যেহেতু মানুষের কষ্ট হয়, আর এভাবে মানুষকে কষ্ট দেওয়া শরিয়ত অনুমোদন করে না, তাই একাজ থেকে বেঁচে থাকা জরুরী।
আবূ দাউদ- ১/১৮৯, হাদীস নং : ১৩২৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া- ১/১০৩; আখবারুল মাদীনা- ১/১৫
২৫৯. প্রশ্ন : বিভিন্ন মসজিদে জুমার দিন বাইরের বড় মাইকে বয়ান করার রেওয়াজ
আছে, অথচ ভেতরে সাউন্ড বক্সের ব্যবস্থা রয়েছে। এ কাজ কতটুকু শরিয়ত সম্মত?
উত্তর : জুমার বয়ান মসজিদে আগত মুসল্লিদেরকে কেন্দ্র করে হয়ে থাকে। আর মসজিদে সাউন্ড বক্স থাকা অবস্থায় বাইরের বড় মাইকে বয়ান করা নিষ্প্রয়োজন। তাছাড়া এর দ্বারা অনেক সমস্যাও হয়। যেমন মসজিদের আশে পাশে যাদের বাড়ি আওয়াজের কারণে তাদের কষ্ট হয়। ছোট বাচ্চা ও অসুস্থ ব্যক্তিদের কষ্ট হয়। কাজে বিঘ্ন ঘটে। বাড়িতে কাজ করতে থাকা মহিলাদের অমনোযোগি অবস্থায় বয়ান শুনে ফায়দাও হয়না। তাই একান্ত আগ্রহী হলে, কোন বাড়িতে মাইকের সংযোগ নিয়ে নিবে সেখানে মহিলারা সমবেত হয়ে মনোযোগ দিয়ে শুনবে।
অতএব জুমআর দিন মসজিদের মাইকে বয়ান করার দ্বারা যেহেতু মানুষের কষ্ট হয়, আর এভাবে মানুষকে কষ্ট দেওয়া শরিয়ত অনুমোদন করে না, তাই একাজ থেকে বেঁচে থাকা জরুরী।
আবূ দাউদ- ১/১৮৯, হাদীস নং : ১৩২৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া- ১/১০৩; আখবারুল মাদীনা- ১/১৫
মুহাম্মাদ হাসান খান
ফরিদাবাদ, ঢাকা
২৬০. প্রশ্ন : কত বছর বয়সে একজন ব্যক্তির উপর নামাজ ফরজ হয়। বিশ বছর বয়সের এক ব্যক্তি, যে কোন দিন নামায পড়েনি সে যদি তার কাযা নামায আদায় করতে চায় তাহলে কত বছর বয়সের কাযা নামায আদায় করতে শুরু করবে ? আর বেতের নামাযের কাযা আদায় করতে হবে কী ?
উত্তর : প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক জ্ঞান সম্পন্ন নর-নারীর উপর নামায ফরজ। সুতরাং সে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর থেকে যে নামাযগুলো পড়েনি সেগুলোর কাযা করবে। প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আলামত হলো- স্বপ্নদোষ হওয়া বা প্রজনন ক্ষমতা হওয়া অথবা বীর্যপাত হওয়া।
যদি কারো উপরোক্ত কোন আলামত প্রকাশ না পায় তাহলে তার ষোলতম বয়সের শুরু থেকে নামায কাযা করবে। আর পনের বছরের আগে যদি তার প্রাপ্ত বয়স্কের কোন আলামত প্রকাশ পেয়েছিল বলে জানা থাকে, তাহলে তখন থেকেই নামায কাযা করতে হবে। যদি প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পরেও অলসতা বশত নামায না পড়ে থাকে এবং তার প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার সময় স্মরণ না থাকে তাহলে ছেলেদের ক্ষেত্রে ১২ বছর পূর্ণ হওয়ার পর থেকে সে নামায রোজা ইত্যাদি কাযা করবে।
বেতের নামাযেরও কাযা করতে হবে। আদ্-দুররুল মুখতার- ১/৩৫১, ২/৬৬; রদ্দুল মুহতার- ১/৩৫২, ৬/১৫৪; আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল-৩/১৮৩
ফরিদাবাদ, ঢাকা
২৬০. প্রশ্ন : কত বছর বয়সে একজন ব্যক্তির উপর নামাজ ফরজ হয়। বিশ বছর বয়সের এক ব্যক্তি, যে কোন দিন নামায পড়েনি সে যদি তার কাযা নামায আদায় করতে চায় তাহলে কত বছর বয়সের কাযা নামায আদায় করতে শুরু করবে ? আর বেতের নামাযের কাযা আদায় করতে হবে কী ?
উত্তর : প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক জ্ঞান সম্পন্ন নর-নারীর উপর নামায ফরজ। সুতরাং সে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পর থেকে যে নামাযগুলো পড়েনি সেগুলোর কাযা করবে। প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আলামত হলো- স্বপ্নদোষ হওয়া বা প্রজনন ক্ষমতা হওয়া অথবা বীর্যপাত হওয়া।
যদি কারো উপরোক্ত কোন আলামত প্রকাশ না পায় তাহলে তার ষোলতম বয়সের শুরু থেকে নামায কাযা করবে। আর পনের বছরের আগে যদি তার প্রাপ্ত বয়স্কের কোন আলামত প্রকাশ পেয়েছিল বলে জানা থাকে, তাহলে তখন থেকেই নামায কাযা করতে হবে। যদি প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার পরেও অলসতা বশত নামায না পড়ে থাকে এবং তার প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার সময় স্মরণ না থাকে তাহলে ছেলেদের ক্ষেত্রে ১২ বছর পূর্ণ হওয়ার পর থেকে সে নামায রোজা ইত্যাদি কাযা করবে।
বেতের নামাযেরও কাযা করতে হবে। আদ্-দুররুল মুখতার- ১/৩৫১, ২/৬৬; রদ্দুল মুহতার- ১/৩৫২, ৬/১৫৪; আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল-৩/১৮৩
মুহাম্মদ মানযূর আদনান
গোসাইর হাট, শরীয়তপুর
২৬১. প্রশ্ন : আওয়াবীন নামায বলতে কোন নামায আছে কিনা? কেউ কেউ বলেন আওয়াবীন নামায বলতে কোন নামায নাই। আবার অনেকে বলে আওয়াবীন নামায আছে। বিভিন্ন বই পুস্তকেও হাদীসের বরাত দিয়ে উল্লেখ আছে যে ব্যক্তি মাগরীবের পর বিশ রাকাত নামায পড়বে আল্লাহ তা’আলা তার জন্য জান্নাতে একটি গৃহ নির্মাণ করবেন। আরেক বর্ণনায় আছে ছয় রাকাতের কথা। জানার বিষয় হল আওয়াবীন নামায আছে কি? যদি থাকে তাহলে তা কত রাকাত?
উত্তর : أوابين (আওয়াবীন) শব্দটি أوابশব্দের বহুবচন যা تواب শব্দের সমার্থক অর্থ্যাৎ গোনাহ থেকে প্রত্যাবর্তনকারী। আর সাধারণত মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে নফল নামাজ আদায়কারীদেরকে أوابين বলা হয়, এ নামাযকে ‘সালাতুল আওয়াবীন’ বলে। ‘সালাতুল আওয়াবীন’ স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ্ সনদে প্রমাণিত রয়েছে। হযরত হুযাইফা রাযি. বলেন, আমি হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মাগরিবের নামায পড়লাম, তারপর তিনি এশা পর্যন্ত (নফল) নামায পড়েছেন। আল্লামা মুনযিরী রহ. ও আল্লমা দিম্য়াতী রহ. বলেন, উক্ত হাদীসটিকে ইমাম নাসাঈ রহ. জায়্যিদ ও সহীহ্ সনদে বর্ণনা করেছেন। এমনিভাবে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর, সালমান ফারসী, ইবনে উমর, আনাছ ইবনে মালেক প্রমুখ সাহাবী রাযি. এবং তাদের পরবর্তী তাবেঈন, তাবে তাবেঈন থেকেও উক্ত নামায পড়া প্রমাণিত রয়েছে।
তবে উক্ত নামাজের নির্দিষ্ট রাকাত এর সংখ্যাবিশিষ্ট হাদীসগুলো সহীহ্ নাকি দুর্বল এ ব্যাপারে মুহাদ্দিসীন থেকে দু’ধরনের মতামত পাওয়া যায়। তাছাড়া মুহাদ্দিসগণ এ ব্যাপারে এক মত যে, ফাজাইলের ক্ষেত্রে জয়ীফ হাদীসের উপরও আমল করা জায়েজ, বরং মুস্তাহাব। দেখুন, ইমাম নবভী রহ. এর কিতাবুল আজকার পৃষ্ঠা : ৩৬
হাদীস শরীফে উক্ত নামাযের বিভিন্ন সংখ্যা বর্ণিত হয়েছে। প্রশ্নে উল্লেখিত বিশ রাকাতের হাদীসটি হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত হয়েছে। হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি মাগরিবের নামাযের পর এমনভাবে ছয় রাকাত নামায পড়বে যে, নামাযের মধ্যে আল্লাহর যিকির ছাড়া অন্য কোন কথা বলে না তাহলে এ ছয় রাকাত নামাযে তার জন্য ১২ বছর নফল ইবাদত করার সমপরিমাণ ছাওয়াব হবে। সহীহ্ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং : ১১৯৫
আল্লামা যফর আহমদ উসমানী রহ. বলেন, উক্ত হাদীসটিকে ইবনে খুজাইমা রহ. তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে উল্লেখ করাটাই এ কথার প্রমাণ বহন করে, এ হাদীসটি তাঁর নিকট সহীহ। যদিও ইমাম তিরমিযী রহ. হাদীসটিকে ‘জয়ীফ’ বলেছেন। তবে তাদের এ মতানৈক্য হাদীসটির উপর আমল করার জন্য প্রতিবন্ধক নয়। কারণ, জয়ীফ হলেও তা ফাজাইলের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য।
উল্লেখিত বর্ণনা থেকে বুঝা যায়, ‘সালাতুল আওয়াবীন’ সর্বনিম্ন ছয় রাকাত আর সর্বোচ্চ বিশ রাকাত। আল্লাহ পাক আমাদেরকে পূর্বসূরীদের ন্যায় উক্ত নামাযের পাবন্দি করার তৌফিক দান করুন! আমীন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য : কোন কোন হাদীসে ‘সালাতুল আওয়াবীন’ নামটি صلاة الضحى তথা চাশতের নামাজের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়েছে। দেখুন, বুলূগুল মারাম-
১১২
অতএব صلاة الضحى কেও ‘সালাতুল আওয়াবীন’ বলা যাবে।
আল-মাতজারুর রাবেহ- ৮৪; সহীহ ইবনে খুযাইমা-২/২০৭, হাদীস নং : ১১৯৫; আল-মুসান্নাফ-৪/২৬৭, হাদীস নং : ৫৯৭১; মাআরিফুস্ সুনান- ৪/১১৪, ১১৩, ১১৪
গোসাইর হাট, শরীয়তপুর
২৬১. প্রশ্ন : আওয়াবীন নামায বলতে কোন নামায আছে কিনা? কেউ কেউ বলেন আওয়াবীন নামায বলতে কোন নামায নাই। আবার অনেকে বলে আওয়াবীন নামায আছে। বিভিন্ন বই পুস্তকেও হাদীসের বরাত দিয়ে উল্লেখ আছে যে ব্যক্তি মাগরীবের পর বিশ রাকাত নামায পড়বে আল্লাহ তা’আলা তার জন্য জান্নাতে একটি গৃহ নির্মাণ করবেন। আরেক বর্ণনায় আছে ছয় রাকাতের কথা। জানার বিষয় হল আওয়াবীন নামায আছে কি? যদি থাকে তাহলে তা কত রাকাত?
উত্তর : أوابين (আওয়াবীন) শব্দটি أوابশব্দের বহুবচন যা تواب শব্দের সমার্থক অর্থ্যাৎ গোনাহ থেকে প্রত্যাবর্তনকারী। আর সাধারণত মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে নফল নামাজ আদায়কারীদেরকে أوابين বলা হয়, এ নামাযকে ‘সালাতুল আওয়াবীন’ বলে। ‘সালাতুল আওয়াবীন’ স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহ্ সনদে প্রমাণিত রয়েছে। হযরত হুযাইফা রাযি. বলেন, আমি হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে মাগরিবের নামায পড়লাম, তারপর তিনি এশা পর্যন্ত (নফল) নামায পড়েছেন। আল্লামা মুনযিরী রহ. ও আল্লমা দিম্য়াতী রহ. বলেন, উক্ত হাদীসটিকে ইমাম নাসাঈ রহ. জায়্যিদ ও সহীহ্ সনদে বর্ণনা করেছেন। এমনিভাবে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর, সালমান ফারসী, ইবনে উমর, আনাছ ইবনে মালেক প্রমুখ সাহাবী রাযি. এবং তাদের পরবর্তী তাবেঈন, তাবে তাবেঈন থেকেও উক্ত নামায পড়া প্রমাণিত রয়েছে।
তবে উক্ত নামাজের নির্দিষ্ট রাকাত এর সংখ্যাবিশিষ্ট হাদীসগুলো সহীহ্ নাকি দুর্বল এ ব্যাপারে মুহাদ্দিসীন থেকে দু’ধরনের মতামত পাওয়া যায়। তাছাড়া মুহাদ্দিসগণ এ ব্যাপারে এক মত যে, ফাজাইলের ক্ষেত্রে জয়ীফ হাদীসের উপরও আমল করা জায়েজ, বরং মুস্তাহাব। দেখুন, ইমাম নবভী রহ. এর কিতাবুল আজকার পৃষ্ঠা : ৩৬
হাদীস শরীফে উক্ত নামাযের বিভিন্ন সংখ্যা বর্ণিত হয়েছে। প্রশ্নে উল্লেখিত বিশ রাকাতের হাদীসটি হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত হয়েছে। হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি মাগরিবের নামাযের পর এমনভাবে ছয় রাকাত নামায পড়বে যে, নামাযের মধ্যে আল্লাহর যিকির ছাড়া অন্য কোন কথা বলে না তাহলে এ ছয় রাকাত নামাযে তার জন্য ১২ বছর নফল ইবাদত করার সমপরিমাণ ছাওয়াব হবে। সহীহ্ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং : ১১৯৫
আল্লামা যফর আহমদ উসমানী রহ. বলেন, উক্ত হাদীসটিকে ইবনে খুজাইমা রহ. তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে উল্লেখ করাটাই এ কথার প্রমাণ বহন করে, এ হাদীসটি তাঁর নিকট সহীহ। যদিও ইমাম তিরমিযী রহ. হাদীসটিকে ‘জয়ীফ’ বলেছেন। তবে তাদের এ মতানৈক্য হাদীসটির উপর আমল করার জন্য প্রতিবন্ধক নয়। কারণ, জয়ীফ হলেও তা ফাজাইলের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য।
উল্লেখিত বর্ণনা থেকে বুঝা যায়, ‘সালাতুল আওয়াবীন’ সর্বনিম্ন ছয় রাকাত আর সর্বোচ্চ বিশ রাকাত। আল্লাহ পাক আমাদেরকে পূর্বসূরীদের ন্যায় উক্ত নামাযের পাবন্দি করার তৌফিক দান করুন! আমীন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য : কোন কোন হাদীসে ‘সালাতুল আওয়াবীন’ নামটি صلاة الضحى তথা চাশতের নামাজের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়েছে। দেখুন, বুলূগুল মারাম-
১১২
অতএব صلاة الضحى কেও ‘সালাতুল আওয়াবীন’ বলা যাবে।
আল-মাতজারুর রাবেহ- ৮৪; সহীহ ইবনে খুযাইমা-২/২০৭, হাদীস নং : ১১৯৫; আল-মুসান্নাফ-৪/২৬৭, হাদীস নং : ৫৯৭১; মাআরিফুস্ সুনান- ৪/১১৪, ১১৩, ১১৪
২৬২. প্রশ্ন : কতটুকু সম্পদ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকলে নামায ছাড়া যাবে ?
উত্তর : এক দেরহাম তথা ৩.৬১৮ গ্রাম রূপার মূল্যমান সম্পদ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকলে নামায ছাড়ার অবকাশ আছে। মারাকিল ফালাহ- ৩৭২; আল-মাবসূত- ২/৩
উত্তর : এক দেরহাম তথা ৩.৬১৮ গ্রাম রূপার মূল্যমান সম্পদ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকলে নামায ছাড়ার অবকাশ আছে। মারাকিল ফালাহ- ৩৭২; আল-মাবসূত- ২/৩
জানাযা
আব্দুল মান্নান
স্বামীবাগ, ঢাকা
২৬৩. প্রশ্ন : আমাদের এলাকার মসজিদের পশ্চিম পাশে সদ্য খরিদকৃত জায়গার মধ্যে আমরা লাশ গোসল ও জানাযা দেওয়ার জন্য মসজিদের দেওয়ালের সাথে পিলার, ছাদ ও দেওয়াল দিয়ে এমনভাবে একটি রুম তৈরি করি যার এককোণে লাশ গোসলের বন্দোবস্ত করি, অপরকোণে জানাযার নামায আদায় করার জন্য সুব্যবস্থা করি, যাতে করে ইমাম সাহেব মেহরাব থেকে সরে গিয়ে মসজিদের মধ্যে দাঁড়িয়েই লাশের সিনা বরাবর এসে জানাযার নামায আদায় করতে পারেন এবং মুসল্লিগণও অন্যত্র না সরে মসজিদের মধ্যেই নিজ নিজ জায়গায় দাঁড়িয়ে জানাযা নামায আদায় করতে পারেন। কিন্তু বর্তমানে সমস্যা হলো-ইমাম সাহেব মসজিদের মধ্যে যে স্থানে এসে দাঁড়িয়ে জানাযা নামায পড়াবেন, সেখান থেকে (ইমাম সাহেবের সামনের দিকে) লাশের খাটিয়াটি চার ফুট (৪) দূরত্বে রাখতে হবে। ইমাম সাহেবের আরও কাছাকাছি লাশটি রাখার কোনই সুযোগ নেই।
এমতাবস্থায় জানাযার নামায পড়লে তা আদায় হবে কিনা?
উত্তর : প্রশ্নোক্ত অবস্থায় জানাযার খাটটি ইমাম থেকে চার ফুট(র্৪) দূরত্ব রেখে জানাযার নামায আদায় হয়ে যাবে।
আল-ফাতাওয়াল হিন্দিয়া- ১/২২৫; আদ্-দুররুল মুখতার- ২/২০৮, ১০৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া- ১/৭২৬
আব্দুল মান্নান
স্বামীবাগ, ঢাকা
২৬৩. প্রশ্ন : আমাদের এলাকার মসজিদের পশ্চিম পাশে সদ্য খরিদকৃত জায়গার মধ্যে আমরা লাশ গোসল ও জানাযা দেওয়ার জন্য মসজিদের দেওয়ালের সাথে পিলার, ছাদ ও দেওয়াল দিয়ে এমনভাবে একটি রুম তৈরি করি যার এককোণে লাশ গোসলের বন্দোবস্ত করি, অপরকোণে জানাযার নামায আদায় করার জন্য সুব্যবস্থা করি, যাতে করে ইমাম সাহেব মেহরাব থেকে সরে গিয়ে মসজিদের মধ্যে দাঁড়িয়েই লাশের সিনা বরাবর এসে জানাযার নামায আদায় করতে পারেন এবং মুসল্লিগণও অন্যত্র না সরে মসজিদের মধ্যেই নিজ নিজ জায়গায় দাঁড়িয়ে জানাযা নামায আদায় করতে পারেন। কিন্তু বর্তমানে সমস্যা হলো-ইমাম সাহেব মসজিদের মধ্যে যে স্থানে এসে দাঁড়িয়ে জানাযা নামায পড়াবেন, সেখান থেকে (ইমাম সাহেবের সামনের দিকে) লাশের খাটিয়াটি চার ফুট (৪) দূরত্বে রাখতে হবে। ইমাম সাহেবের আরও কাছাকাছি লাশটি রাখার কোনই সুযোগ নেই।
এমতাবস্থায় জানাযার নামায পড়লে তা আদায় হবে কিনা?
উত্তর : প্রশ্নোক্ত অবস্থায় জানাযার খাটটি ইমাম থেকে চার ফুট(র্৪) দূরত্ব রেখে জানাযার নামায আদায় হয়ে যাবে।
আল-ফাতাওয়াল হিন্দিয়া- ১/২২৫; আদ্-দুররুল মুখতার- ২/২০৮, ১০৫; ইমদাদুল ফাতাওয়া- ১/৭২৬
ইমাম, দস্তরদী বড় মসজিদ
নরসিংদী
২৬৪. প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির দাফনের পর দোআ করা জায়েয আছে কিনা? একজন আলেমকে বলতে শুনেছি, দাফনের পর দোআ করা জায়েয নেই। এ কথা সঠিক কিনা?
উত্তর : মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর তার জন্য দোআ করা মুস্তাহাব, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়াসাল্লাম নিজে দোআ করেছেন এবং সাহাবায়ে কেরাম রাযি.দেরকেও দোআ করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন, নিচে এ বিষয়ের দুটি হাদীস উল্লেখ করা হল-
১. উসমান রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবীজি যখন মৃত ব্যক্তির দাফন থেকে ফারেগ হতেন, তখন কবরের নিকট অবস্থান করতেন এবং সাহাবায়ে কেরামদেরকে বলতেন, তোমরা তোমাদের (মৃত) ভাইয়ের জন্য ইস্তেগফার কর এবং দোআ কর যেন আল্লাহ তায়ালা তাকে সওয়ালের জওয়াব প্রদানে মজবুত রাখেন, কেননা এখনই তাকে সওয়াল করা হবে। সুনানে আবু দাউদ-২/৪৫৯, হাদীস নং: ৩২২১; মুস্তাদরাকে হাকেম- ১/৩৭০
২. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদীস আছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আব্দুল্লাহ যিন-নাজাদাইন রাযি.কে দাফন করে ফারেগ হলেন, তখন কেবলামুখী হয়ে দু’হাত উঠিয়ে দোয়া করলেন। ফতহুল বারী- ১২/৪৩১
উল্লেখিত হাদীস দ্বারা প্রামাণিত হয়, দাফন করার পর দোআ করা নতুন বিষয় নয় বরং তা নবীজির আমল ছিল। সুতরাং ‘জায়েয নয়’ বলে মন্তব্য করা সঠিক নয়।
উল্লেখ্য, জানাযার নামাযের পর দাফনের পূর্বে দোআ করা বিদআত ও না জায়েয। সুতরাং তা পরিহার করতে হবে।
সুনানে আবূ দাউদ- ২/৪৫৯; ফাতহুল বারী- ১২/৪৩১; রদ্দুল মুহতার- ২/২৩৭
নরসিংদী
২৬৪. প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির দাফনের পর দোআ করা জায়েয আছে কিনা? একজন আলেমকে বলতে শুনেছি, দাফনের পর দোআ করা জায়েয নেই। এ কথা সঠিক কিনা?
উত্তর : মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর তার জন্য দোআ করা মুস্তাহাব, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়াসাল্লাম নিজে দোআ করেছেন এবং সাহাবায়ে কেরাম রাযি.দেরকেও দোআ করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন, নিচে এ বিষয়ের দুটি হাদীস উল্লেখ করা হল-
১. উসমান রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবীজি যখন মৃত ব্যক্তির দাফন থেকে ফারেগ হতেন, তখন কবরের নিকট অবস্থান করতেন এবং সাহাবায়ে কেরামদেরকে বলতেন, তোমরা তোমাদের (মৃত) ভাইয়ের জন্য ইস্তেগফার কর এবং দোআ কর যেন আল্লাহ তায়ালা তাকে সওয়ালের জওয়াব প্রদানে মজবুত রাখেন, কেননা এখনই তাকে সওয়াল করা হবে। সুনানে আবু দাউদ-২/৪৫৯, হাদীস নং: ৩২২১; মুস্তাদরাকে হাকেম- ১/৩৭০
২. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত একটি দীর্ঘ হাদীস আছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আব্দুল্লাহ যিন-নাজাদাইন রাযি.কে দাফন করে ফারেগ হলেন, তখন কেবলামুখী হয়ে দু’হাত উঠিয়ে দোয়া করলেন। ফতহুল বারী- ১২/৪৩১
উল্লেখিত হাদীস দ্বারা প্রামাণিত হয়, দাফন করার পর দোআ করা নতুন বিষয় নয় বরং তা নবীজির আমল ছিল। সুতরাং ‘জায়েয নয়’ বলে মন্তব্য করা সঠিক নয়।
উল্লেখ্য, জানাযার নামাযের পর দাফনের পূর্বে দোআ করা বিদআত ও না জায়েয। সুতরাং তা পরিহার করতে হবে।
সুনানে আবূ দাউদ- ২/৪৫৯; ফাতহুল বারী- ১২/৪৩১; রদ্দুল মুহতার- ২/২৩৭
২৬৫. প্রশ্ন : একজন মাইয়্যেতের একাধিক জানাযার নামাজ পড়ার হুকুম কী? অনুরূপভাবে একই ব্যক্তি একই মাইয়্যেতের জানাযায় একাধিকবার শরীক হওয়ার হুকুম কি ?
উত্তর : একটি লাশের উপর একাধিকবার জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হওয়া শরীয়ত অনুমোদিত নয়। তবে অভিভাবকের অজান্তে বা তার নিষেধ অমান্য করে অন্য কেউ পড়লে অভিভাবক ইচ্ছা করলে পুনরায় জানাযা পড়তে পারবে। উক্ত জানাযায় কেবলমাত্র তারাই অংশগ্রহণ করতে পারবে যারা পূর্বের জানাযায় শরীক ছিল না। সুতরাং যারা পূর্বের জানাযায় শরীক ছিল তাদের জন্য অভিভাবকের সাথে দ্বিতীয় বার জানাযায় অংশগ্রহণ করা জায়েয নেই।
আদ্-দুররুল মুখতার- ২/২২৩; বাদায়েউস সানায়ে- ২/৪৭; আহসানুল ফাতাওয়া- ৪/২১৩
উত্তর : একটি লাশের উপর একাধিকবার জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হওয়া শরীয়ত অনুমোদিত নয়। তবে অভিভাবকের অজান্তে বা তার নিষেধ অমান্য করে অন্য কেউ পড়লে অভিভাবক ইচ্ছা করলে পুনরায় জানাযা পড়তে পারবে। উক্ত জানাযায় কেবলমাত্র তারাই অংশগ্রহণ করতে পারবে যারা পূর্বের জানাযায় শরীক ছিল না। সুতরাং যারা পূর্বের জানাযায় শরীক ছিল তাদের জন্য অভিভাবকের সাথে দ্বিতীয় বার জানাযায় অংশগ্রহণ করা জায়েয নেই।
আদ্-দুররুল মুখতার- ২/২২৩; বাদায়েউস সানায়ে- ২/৪৭; আহসানুল ফাতাওয়া- ৪/২১৩
মসজিদ ও ওয়াকফ
আবুল কাসেম হাওলাদার
সিরাজদিখান, মুন্সিগঞ্জ
২৬৬. প্রশ্ন : আমাদের এলাকায় একটি মসজিদ আছে যাতে আমরা ছয় বাড়ির মানুষ নামাজ আদায় করে থাকি। এতে জুমা ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হয়। ইমামও নির্ধারিত আছে, এতে জায়গাও যথেষ্ট পরিমাণে আছে। তবে দুই বাড়ির লোকজনের জন্য বর্ষাকালে মসজিদে আসতে সমস্যা হয়। তাই তারা চাচ্ছে, হয়ত বর্ষাকালে মসজিদে যাতায়াতের জন্য ছোট একটি রাস্তা বানাবে অথবা পুরাতন মসজিদ ভেঙ্গে রাস্তার পাশে তাদের সুবিধামত নতুন করে মসজিদ নির্মাণ করবে অথবা পুরাতন মসজিদকে তার আপন স্থানে বহাল রেখে রাস্তার পাশে আরেকটি মসজিদ বানাবে, যা পুরাতন মসজিদ থেকে চারশত গজ দূরত্বে। আমাদের জানার বিষয় হল, এই অবস্থায় পুরাতন মসজিদ ভেঙ্গে কিংবা পুরাতন মসজিদ বহাল রেখে নতুন করে মসজিদ নির্মাণ করার অবকাশ শরীয়তে আছে কিনা? জানালে উপকৃত হব।
উত্তর : যে স্থান একবার শরয়ী মসজিদ হিসাবে গণ্য হয় তা কেয়ামত পর্যন্ত মসজিদ হিসেবেই বহাল থাকে। এতে সর্বদা নামায চালু রাখা আবশ্যক। অতএব প্রশ্নোক্ত মসজিদ ভেঙ্গে অন্য কোথাও স্থানান্তর করা জায়েয নেই। আর উক্ত মসজিদে যেহেতু বর্ষাকালে দুই বাড়ির লোকজনের জন্য মসজিদে যাতায়াতে সমস্যা সৃষ্টি হয় তাই মসজিদে আসা-যাওয়ার জন্য একটি রাস্তা বানিয়ে নিবে যাতে বর্ষাকালে নির্বিঘ্নে মসজিদে আসা-যাওয়া করা যায়। উক্ত মসজিদে যেহেতু পর্যাপ্ত পরিমাণে জায়গাও রয়েছে এবং নামাজ পড়তে কোন সমস্যা হয় না তাই ভিন্ন করে নতুন মসজিদ বানানোর প্রয়োজন নেই।
আল-বাহরুর রায়েক- ৫/৪২১; তাফসিরে কুরতুবী- ফতোয়া মাহমূদিয়া সূত্রে ২১/৩৫০
আবুল কাসেম হাওলাদার
সিরাজদিখান, মুন্সিগঞ্জ
২৬৬. প্রশ্ন : আমাদের এলাকায় একটি মসজিদ আছে যাতে আমরা ছয় বাড়ির মানুষ নামাজ আদায় করে থাকি। এতে জুমা ও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হয়। ইমামও নির্ধারিত আছে, এতে জায়গাও যথেষ্ট পরিমাণে আছে। তবে দুই বাড়ির লোকজনের জন্য বর্ষাকালে মসজিদে আসতে সমস্যা হয়। তাই তারা চাচ্ছে, হয়ত বর্ষাকালে মসজিদে যাতায়াতের জন্য ছোট একটি রাস্তা বানাবে অথবা পুরাতন মসজিদ ভেঙ্গে রাস্তার পাশে তাদের সুবিধামত নতুন করে মসজিদ নির্মাণ করবে অথবা পুরাতন মসজিদকে তার আপন স্থানে বহাল রেখে রাস্তার পাশে আরেকটি মসজিদ বানাবে, যা পুরাতন মসজিদ থেকে চারশত গজ দূরত্বে। আমাদের জানার বিষয় হল, এই অবস্থায় পুরাতন মসজিদ ভেঙ্গে কিংবা পুরাতন মসজিদ বহাল রেখে নতুন করে মসজিদ নির্মাণ করার অবকাশ শরীয়তে আছে কিনা? জানালে উপকৃত হব।
উত্তর : যে স্থান একবার শরয়ী মসজিদ হিসাবে গণ্য হয় তা কেয়ামত পর্যন্ত মসজিদ হিসেবেই বহাল থাকে। এতে সর্বদা নামায চালু রাখা আবশ্যক। অতএব প্রশ্নোক্ত মসজিদ ভেঙ্গে অন্য কোথাও স্থানান্তর করা জায়েয নেই। আর উক্ত মসজিদে যেহেতু বর্ষাকালে দুই বাড়ির লোকজনের জন্য মসজিদে যাতায়াতে সমস্যা সৃষ্টি হয় তাই মসজিদে আসা-যাওয়ার জন্য একটি রাস্তা বানিয়ে নিবে যাতে বর্ষাকালে নির্বিঘ্নে মসজিদে আসা-যাওয়া করা যায়। উক্ত মসজিদে যেহেতু পর্যাপ্ত পরিমাণে জায়গাও রয়েছে এবং নামাজ পড়তে কোন সমস্যা হয় না তাই ভিন্ন করে নতুন মসজিদ বানানোর প্রয়োজন নেই।
আল-বাহরুর রায়েক- ৫/৪২১; তাফসিরে কুরতুবী- ফতোয়া মাহমূদিয়া সূত্রে ২১/৩৫০
মুহাম্মদ খলিলুর রহমান
কুমিল্লা
২৬৭. প্রশ্ন : জনৈক ব্যক্তি তার বড় ভাইয়ের একাউন্টে টাকা জমা রাখত। এক পর্যায় মোটা অংকের টাকা জমা হওয়ার পর বড় ভাই তাকে এই টাকা দিয়ে জমি কেনার পরামর্শ দেয় এবং নির্দিষ্ট একটি জমির কথা বলে। ছোট ভাই এই জমির ব্যাপারে অবগত হয়ে বড় ভাইকে তা কেনার জন্য সম্মতি দেয়। তখন বড় ভাই এ জমিটি ক্রয় করে নিজের নামে দলিল পত্র করে নেয়। ছোট ভাই বিষয়টি জানতে পেরে বড় ভাইয়ের নিকট তার জমা টাকা দিয়ে কেনা জমি তাকে হস্তান্তর এবং তার নামে জমির দলিল পত্র করার দাবী জানায়। বড় ভাই তাতে অস্বীকার করে এবং বলে, তুমি আমার নিকট কোন টাকা জমা রাখনি। তোমার টাকা দিয়ে আমি জমি কিনি নাই বরং আমার টাকা দিয়ে কিনেছি।
উভয়ের মাঝে বাকবিতণ্ডার পর ছোট ভাই বলে উঠল, ‘এই জমি আমি মসজিদের জন্য দিয়ে দিলাম’ তার এই কথা উপস্থিত অনেকে শুনেছে । বড় ভাই তখন বলল, তুমি এটা কি করলে তুমি নিজেও ভোগ করতে পারলে না আমাকেও দিলেনা।
ছোট ভাই দীর্ঘক্ষণ চুপ থাকার পর বলল, আচ্ছা ঠিক আছে আপনি এই পরিমাণ টাকা মসজিদে দিয়ে দিবেন। এখন আমার জানার বিষয় হল এই জমি এখন কার হবে, ছোট ভাইয়ের না বড় ভাইয়ের? নাকি মসজিদের জন্য ওয়াকফ হয়ে গেছে? বিস্তারিত জানিয়ে উপকৃত করবেন।
উত্তর : প্রশ্নোক্ত মাসআলায় বড় ভাই ছোট ভাইয়ের পক্ষ থেকে উকিল হিসাবে এবং তার নির্দেশনা মতে ঐ জমি ক্রয় করেছে। সুতরাং ঐ জমির মালিক ছোট ভাই। ‘সে নিজের জমি মসজিদের জন্য দান করে দিয়েছে’ এ কথা বলার পরও এই জমি তার মালিকানা থেকে বের হয়নি। কেননা এই কথা বলার দ্বারা ‘আমি এই জমি মসজিদের জন্য দিয়ে দিলাম’ ওয়াক্ফ সম্পন্ন হয়না। যতক্ষণ না সে এই জমি মোতাওয়াল্লির নিকট সোপর্দ না করে।
সুতরাং সে এখন তার কথা প্রত্যাহারও করতে পারবে এবং সে এই জমির ব্যাপারে অন্য লেনদেনও করতে পারবে।
বাদায়েউস সানায়ে ৫/৩৩; আল-ফাতাওয়াল হিন্দিয়া- ২/৪১২; ফাতাওয়া মাহমূদিয়া- ২১/৫৯
কুমিল্লা
২৬৭. প্রশ্ন : জনৈক ব্যক্তি তার বড় ভাইয়ের একাউন্টে টাকা জমা রাখত। এক পর্যায় মোটা অংকের টাকা জমা হওয়ার পর বড় ভাই তাকে এই টাকা দিয়ে জমি কেনার পরামর্শ দেয় এবং নির্দিষ্ট একটি জমির কথা বলে। ছোট ভাই এই জমির ব্যাপারে অবগত হয়ে বড় ভাইকে তা কেনার জন্য সম্মতি দেয়। তখন বড় ভাই এ জমিটি ক্রয় করে নিজের নামে দলিল পত্র করে নেয়। ছোট ভাই বিষয়টি জানতে পেরে বড় ভাইয়ের নিকট তার জমা টাকা দিয়ে কেনা জমি তাকে হস্তান্তর এবং তার নামে জমির দলিল পত্র করার দাবী জানায়। বড় ভাই তাতে অস্বীকার করে এবং বলে, তুমি আমার নিকট কোন টাকা জমা রাখনি। তোমার টাকা দিয়ে আমি জমি কিনি নাই বরং আমার টাকা দিয়ে কিনেছি।
উভয়ের মাঝে বাকবিতণ্ডার পর ছোট ভাই বলে উঠল, ‘এই জমি আমি মসজিদের জন্য দিয়ে দিলাম’ তার এই কথা উপস্থিত অনেকে শুনেছে । বড় ভাই তখন বলল, তুমি এটা কি করলে তুমি নিজেও ভোগ করতে পারলে না আমাকেও দিলেনা।
ছোট ভাই দীর্ঘক্ষণ চুপ থাকার পর বলল, আচ্ছা ঠিক আছে আপনি এই পরিমাণ টাকা মসজিদে দিয়ে দিবেন। এখন আমার জানার বিষয় হল এই জমি এখন কার হবে, ছোট ভাইয়ের না বড় ভাইয়ের? নাকি মসজিদের জন্য ওয়াকফ হয়ে গেছে? বিস্তারিত জানিয়ে উপকৃত করবেন।
উত্তর : প্রশ্নোক্ত মাসআলায় বড় ভাই ছোট ভাইয়ের পক্ষ থেকে উকিল হিসাবে এবং তার নির্দেশনা মতে ঐ জমি ক্রয় করেছে। সুতরাং ঐ জমির মালিক ছোট ভাই। ‘সে নিজের জমি মসজিদের জন্য দান করে দিয়েছে’ এ কথা বলার পরও এই জমি তার মালিকানা থেকে বের হয়নি। কেননা এই কথা বলার দ্বারা ‘আমি এই জমি মসজিদের জন্য দিয়ে দিলাম’ ওয়াক্ফ সম্পন্ন হয়না। যতক্ষণ না সে এই জমি মোতাওয়াল্লির নিকট সোপর্দ না করে।
সুতরাং সে এখন তার কথা প্রত্যাহারও করতে পারবে এবং সে এই জমির ব্যাপারে অন্য লেনদেনও করতে পারবে।
বাদায়েউস সানায়ে ৫/৩৩; আল-ফাতাওয়াল হিন্দিয়া- ২/৪১২; ফাতাওয়া মাহমূদিয়া- ২১/৫৯
মসজিদ কমিটিবৃন্দ
২৬৮. প্রশ্ন : আমরা শেরপুর জেলার অন্তর্গত নকলা উপজেলার কলাপাড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। আমাদের এই গ্রামে একটি বড় মসজিদ রয়েছে। এই মসজিদের অনেক নিজস্ব ভূমি আছে। মসজিদের পশ্চিম পার্শ্বে যে ভূমি আছে তা মসজিদের কোন কাজে লাগে না। এমতাবস্থায় মসজিদ কমিটি এই খালি জায়গায় অস্থায়ী/স্থায়ীভাবে মসজিদ হেফাজতের জন্য হাফিজিয়া মাদ্রাসা নির্মাণ করতে পারবে কি?
উল্লেখ্য, উক্ত জায়গা দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে। বর্তমানে তা মসজিদের কাজে লাগছে না এবং ভবিষ্যতেও কাজে লাগার কোন সম্ভাবনা নেই। এভাবে খালি পড়ে থাকলে অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমতাবস্থায় তাতে মাদরাসা নির্মাণ করা হলে উক্ত জায়গারও সংরক্ষণ হবে মসজিদও আগের চেয়ে ভালভাবে আবাদ হবে।
উত্তর : প্রশ্নোক্ত বর্ণনা থেকে প্রতীয়মাণ হয়, উক্ত জায়গায় মাদ্রাসা হলে মসজিদের জায়গাও সংরক্ষিত হবে মসজিদও ভালভাবে আবাদ হবে। এ বিবেচনায় মাদ্রাসাটি মূলত ‘মাসালিহে মসজিদ’ বা মসজিদের স্বার্থেরই সংশ্লিষ্ট। সে মতে উক্ত জায়গায় মসজিদের অর্থায়নে হোক কিংবা আলাদা অর্থের মাধ্যমে হোক তাতে হাফিজিয়া মাদরাসা নির্মাণ করার অবকাশ আছে।
তবে একথা খেয়াল রাখতে হবে, উক্ত জায়গায় মাদরাসা নির্মাণ করার অনুমতি দেয়া হলেও তা মসজিদের মালিকানায়ই থাকবে। এজন্য ভবিষ্যতে মসজিদের অর্থের প্রয়োজন হলে কিংবা তা সম্প্রসারণের দরকার হলে মসজিদকে ভাড়া পরিশোধ করতে হবে অথবা মসজিদের জন্য উক্ত জায়গা ছেড়ে দিতে হবে।
নেজামুল ফাতাওয়া- ৪/৪৭; ফাতাওয়া দারুল উলূম দেওবন্দ- ১৩/৩৯৭; কেফায়াতুল মুফতী- ৭/১০০
২৬৮. প্রশ্ন : আমরা শেরপুর জেলার অন্তর্গত নকলা উপজেলার কলাপাড়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। আমাদের এই গ্রামে একটি বড় মসজিদ রয়েছে। এই মসজিদের অনেক নিজস্ব ভূমি আছে। মসজিদের পশ্চিম পার্শ্বে যে ভূমি আছে তা মসজিদের কোন কাজে লাগে না। এমতাবস্থায় মসজিদ কমিটি এই খালি জায়গায় অস্থায়ী/স্থায়ীভাবে মসজিদ হেফাজতের জন্য হাফিজিয়া মাদ্রাসা নির্মাণ করতে পারবে কি?
উল্লেখ্য, উক্ত জায়গা দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে। বর্তমানে তা মসজিদের কাজে লাগছে না এবং ভবিষ্যতেও কাজে লাগার কোন সম্ভাবনা নেই। এভাবে খালি পড়ে থাকলে অবৈধভাবে দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমতাবস্থায় তাতে মাদরাসা নির্মাণ করা হলে উক্ত জায়গারও সংরক্ষণ হবে মসজিদও আগের চেয়ে ভালভাবে আবাদ হবে।
উত্তর : প্রশ্নোক্ত বর্ণনা থেকে প্রতীয়মাণ হয়, উক্ত জায়গায় মাদ্রাসা হলে মসজিদের জায়গাও সংরক্ষিত হবে মসজিদও ভালভাবে আবাদ হবে। এ বিবেচনায় মাদ্রাসাটি মূলত ‘মাসালিহে মসজিদ’ বা মসজিদের স্বার্থেরই সংশ্লিষ্ট। সে মতে উক্ত জায়গায় মসজিদের অর্থায়নে হোক কিংবা আলাদা অর্থের মাধ্যমে হোক তাতে হাফিজিয়া মাদরাসা নির্মাণ করার অবকাশ আছে।
তবে একথা খেয়াল রাখতে হবে, উক্ত জায়গায় মাদরাসা নির্মাণ করার অনুমতি দেয়া হলেও তা মসজিদের মালিকানায়ই থাকবে। এজন্য ভবিষ্যতে মসজিদের অর্থের প্রয়োজন হলে কিংবা তা সম্প্রসারণের দরকার হলে মসজিদকে ভাড়া পরিশোধ করতে হবে অথবা মসজিদের জন্য উক্ত জায়গা ছেড়ে দিতে হবে।
নেজামুল ফাতাওয়া- ৪/৪৭; ফাতাওয়া দারুল উলূম দেওবন্দ- ১৩/৩৯৭; কেফায়াতুল মুফতী- ৭/১০০
মসজিদ কমিটি, রায়পুরা
২৬৯. প্রশ্ন : কোন মসজিদের পাশে এ পরিমাণ দূরত্বে নতুন আরেকটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়, একটি মসজিদের নামাযের ইক্বামত, ক্বিরাত ও তাকবীর অন্য মসজিদ থেকে শুনা যায়। জানার বিষয় হলো নতুন মসজিদে জুমাসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়লে সহীহ হবে কি? নতুন মসজিদে দান করা সহীহ হবে কি?
উত্তর : যদি দ্বিতীয় মসজিদটি প্রথম মসজিদকে অনাবাদ করার উদ্দেশ্যে এবং ঝগড়া-ঝাটি করার জন্য না হয়ে থাকে বরং মুসল্লিদের নামাযের জায়গা সঙ্কুলান না হওয়ার কারণে বা প্রয়োজনের কারণেই কাছাকাছি হয়ে থাকে তাহলে এত কাছে মসজিদ নির্মাণে কোন দোষ নেই। তাতে জুমুআ, জামাত এবং তাতে দান করা সহীহ ও সাওয়াবের কাজ হবে।
বি: দ্র: তবে এক মসজিদের ইক্বামত, ক্বেরাত ও তাকবীর অন্য মসজিদের মুসল্লিদের নামাজের ব্যাঘাত ঘটালে নামাযের সময় সামান্য পরিমাণ আগ পিছ করা যেতে পারে।
আদ্-দুররুল মুখতার- ২/১৪৪, ১৪৫; আল-ফাতাওয়াল হিন্দিয়া- ৫/৩৭০
২৬৯. প্রশ্ন : কোন মসজিদের পাশে এ পরিমাণ দূরত্বে নতুন আরেকটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়, একটি মসজিদের নামাযের ইক্বামত, ক্বিরাত ও তাকবীর অন্য মসজিদ থেকে শুনা যায়। জানার বিষয় হলো নতুন মসজিদে জুমাসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়লে সহীহ হবে কি? নতুন মসজিদে দান করা সহীহ হবে কি?
উত্তর : যদি দ্বিতীয় মসজিদটি প্রথম মসজিদকে অনাবাদ করার উদ্দেশ্যে এবং ঝগড়া-ঝাটি করার জন্য না হয়ে থাকে বরং মুসল্লিদের নামাযের জায়গা সঙ্কুলান না হওয়ার কারণে বা প্রয়োজনের কারণেই কাছাকাছি হয়ে থাকে তাহলে এত কাছে মসজিদ নির্মাণে কোন দোষ নেই। তাতে জুমুআ, জামাত এবং তাতে দান করা সহীহ ও সাওয়াবের কাজ হবে।
বি: দ্র: তবে এক মসজিদের ইক্বামত, ক্বেরাত ও তাকবীর অন্য মসজিদের মুসল্লিদের নামাজের ব্যাঘাত ঘটালে নামাযের সময় সামান্য পরিমাণ আগ পিছ করা যেতে পারে।
আদ্-দুররুল মুখতার- ২/১৪৪, ১৪৫; আল-ফাতাওয়াল হিন্দিয়া- ৫/৩৭০
মান্নত ও কসম
২৭০. প্রশ্ন : এক ব্যক্তি মান্নত করল, তার ছেলে যদি বিদেশে যেতে পারে তাহলে অমুক বড় হুজুরকে ছেলের প্রথম মাসের বেতনের টাকা দিয়ে দিবে। তার ছেলে বিদেশে গিয়েছে।
জানার বিষয় হলো উক্ত ব্যক্তির মান্নত সহীহ হয়েছে কিনা? সহীহ হলে ঐ হুজুরকেই দিতে হবে না অন্য কাউকে দিলেও চলবে ?
উত্তর : যে হুজুরকে দেওয়ার মান্নত করা হয়েছে তিনি যদি গরিব (তথা নেসাব পরিমাণ মালের মালিক না) হন তাহলে উক্ত মান্নত সহীহ হয়েছে।
অতএব প্রথম মাসের বেতন পরিমাণ টাকা উক্ত হুজুরকে বা অন্য কোন গরিব ব্যক্তিকে দিয়ে দেওয়া ওয়াজিব। তবে উক্ত হুজুরকে দেওয়া উত্তম।
আর যদি উক্ত হুজুর ধনী হন তাহলে মান্নত সহীহ হয়নি। তাই এ কারণে কোন কিছুই ওয়াজিব হয়নি।
আদ্-দুররুল মুখতার- ৩/৭৩৮; বাদায়েউস সানায়ে- ৪/২৩৫; আল-বাহরুর রায়েক- ২/৫২০
২৭০. প্রশ্ন : এক ব্যক্তি মান্নত করল, তার ছেলে যদি বিদেশে যেতে পারে তাহলে অমুক বড় হুজুরকে ছেলের প্রথম মাসের বেতনের টাকা দিয়ে দিবে। তার ছেলে বিদেশে গিয়েছে।
জানার বিষয় হলো উক্ত ব্যক্তির মান্নত সহীহ হয়েছে কিনা? সহীহ হলে ঐ হুজুরকেই দিতে হবে না অন্য কাউকে দিলেও চলবে ?
উত্তর : যে হুজুরকে দেওয়ার মান্নত করা হয়েছে তিনি যদি গরিব (তথা নেসাব পরিমাণ মালের মালিক না) হন তাহলে উক্ত মান্নত সহীহ হয়েছে।
অতএব প্রথম মাসের বেতন পরিমাণ টাকা উক্ত হুজুরকে বা অন্য কোন গরিব ব্যক্তিকে দিয়ে দেওয়া ওয়াজিব। তবে উক্ত হুজুরকে দেওয়া উত্তম।
আর যদি উক্ত হুজুর ধনী হন তাহলে মান্নত সহীহ হয়নি। তাই এ কারণে কোন কিছুই ওয়াজিব হয়নি।
আদ্-দুররুল মুখতার- ৩/৭৩৮; বাদায়েউস সানায়ে- ৪/২৩৫; আল-বাহরুর রায়েক- ২/৫২০
ওয়ালী উল্লাহ
২৭১. প্রশ্ন : এক ব্যক্তি তার বন্ধুকে বলল, যদি আমি তোমার সাথে কথা বলি তাহলে আমি মুসলমান না। সে ঐ বন্ধুটির সাথে কথা বলেছে। এখন কি সে কসম ভঙ্গকারী হবে? কথা বলার দ্বারা কি সে মুসলমান থাকবে ?
উত্তর : যদি এই ব্যক্তি জাহেল হয় এবং এই বিশ্বাস রাখে, এ রকম করার পর কসম ভঙ্গকারী কাফের হয়ে যায়, তাহলে সে কসম ভঙ্গ করার দ্বারা কাফের হয়ে যাবে। আর যদি এ বিশ্বাস না থাকে বরং এটাকে শুধু কসম মনে করে। তাহলে সে এ কথা বলার দ্বারা কসম ভঙ্গকারী হয়ে যাবে এবং তার কসমের কাফ্ফারা দিতে হবে।
আদ্-দুররুল মুখতার- ৩/৭১৭, ৭১৮; আল-হেদায়া- ২/৪৮১; বাদায়েউস সানায়ে- ৩/১৬
২৭১. প্রশ্ন : এক ব্যক্তি তার বন্ধুকে বলল, যদি আমি তোমার সাথে কথা বলি তাহলে আমি মুসলমান না। সে ঐ বন্ধুটির সাথে কথা বলেছে। এখন কি সে কসম ভঙ্গকারী হবে? কথা বলার দ্বারা কি সে মুসলমান থাকবে ?
উত্তর : যদি এই ব্যক্তি জাহেল হয় এবং এই বিশ্বাস রাখে, এ রকম করার পর কসম ভঙ্গকারী কাফের হয়ে যায়, তাহলে সে কসম ভঙ্গ করার দ্বারা কাফের হয়ে যাবে। আর যদি এ বিশ্বাস না থাকে বরং এটাকে শুধু কসম মনে করে। তাহলে সে এ কথা বলার দ্বারা কসম ভঙ্গকারী হয়ে যাবে এবং তার কসমের কাফ্ফারা দিতে হবে।
আদ্-দুররুল মুখতার- ৩/৭১৭, ৭১৮; আল-হেদায়া- ২/৪৮১; বাদায়েউস সানায়ে- ৩/১৬
আনিসুর রহমান
২৭২. প্রশ্ন : এক ব্যক্তি মান্নত করল, যদি আমার অমুক উদ্দেশ্য হাসিল হয় তাহলে এত তারিখ থেকে এত তারিখ পর্যন্ত দশটি রোযা রাখব। এখন ঐ ব্যক্তির উদ্দেশ্যটি হাসিল হয়েছে, তবে উক্ত দিনগুলো শেষ হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও সে রোযা রাখে নি। অতএব আমার জানার বিষয় হলো ঐব্যক্তি কাযা করবে না কাফ্ফারা দিবে ?
উত্তর : ঐ ব্যক্তির উপর উক্ত দশটি রোযা কাযা করা ওয়াজিব। কাফ্ফারা ওয়াজিব হবে না।
আল-ফাতাওয়াল হিন্দিয়া- ১/২৭৩; তাতারখানিয়া- ৩/৪৩৬; বায্যাযিয়া১/৬৯
২৭২. প্রশ্ন : এক ব্যক্তি মান্নত করল, যদি আমার অমুক উদ্দেশ্য হাসিল হয় তাহলে এত তারিখ থেকে এত তারিখ পর্যন্ত দশটি রোযা রাখব। এখন ঐ ব্যক্তির উদ্দেশ্যটি হাসিল হয়েছে, তবে উক্ত দিনগুলো শেষ হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও সে রোযা রাখে নি। অতএব আমার জানার বিষয় হলো ঐব্যক্তি কাযা করবে না কাফ্ফারা দিবে ?
উত্তর : ঐ ব্যক্তির উপর উক্ত দশটি রোযা কাযা করা ওয়াজিব। কাফ্ফারা ওয়াজিব হবে না।
আল-ফাতাওয়াল হিন্দিয়া- ১/২৭৩; তাতারখানিয়া- ৩/৪৩৬; বায্যাযিয়া১/৬৯
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন