বুধবার, ৮ জুলাই, ২০১৫

পবিত্রতা

পবিত্রতা
২৭৩. প্রশ্ন : গোসলের সময় চুলের বেণী খোলা ফরজ কি না?
উত্তর : মহিলাদের বেণী না খুললেও যদি গোসলের সময় চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছে যায় তাহলে বেণী খোলার প্রয়োজন নেই। চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছানোই যথেষ্ট। আর পুরুষদের জন্য সর্বাবস্থায় বেণী খুলে চুলের আগা-গোড়া সর্বত্র পানি পৌঁছানো ফরজ। ইলাউসসুনান-১/১৩০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া-১/৬৫
নামায
২৭৪. প্রশ্ন : মহল্লার মসজিদে একবার জামাত হওয়ার পর দ্বিতীয়বার জামাত করার হুকুম কী?
উত্তর : মহল্লার যে মসজিদে নির্ধারিত ইমাম মুআজ্জিন রয়েছে সেখানে মহল্লাবাসী একবার জামাতের সঙ্গে নামায আদায় করার পর দ্বিতীয় জামাত করা মাকরূহে তাহরীমি। তবে মসজিদ যদি মহল্লার না হয় অথবা মহল্লার মসজিদে ইমাম মুআজ্জিন নির্ধারিত না থাকে কিংবা অন্য মহল্লার লোক প্রথম জামাত আদায় করে থাকে তাহলে মহল্লাবাসীর জন্য দ্বিতীয় জামাত করা জায়েয। আর যদি দ্বিতীয় জামাতে ইমাম মেহরাব থেকে সরে অন্যত্র দাঁড়িয়ে আযান, ইকামত ব্যতীত জামাত আদায় করে তাহলে মাকরূহে তানযিহী (অনুত্তম) হবে। রদ্দুল মুহতার-২/৫২২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া-১/১৪০
২৭৫. প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির কাযা নামায ও কাযা রোযার ফিদিয়া কী দ্বারা আদায় করবে এবং কী পরিমাণ আদায় করবে? মৃত ব্যক্তির কাযা নামায বা কাযা রোযাসমূহের কিছু ফিদিয়া দিতে সক্ষম আর কিছু ফিদিয়া দিতে সক্ষম নয় অথবা একেবারেই ফিদিয়া দিতে সক্ষম নয়, এ অবস্থায় ওয়ারিশগণের করণীয় কী?
উত্তর : কাযা নামায ও রোযার ফিদিয়া হল, প্রতিদিন বেতেরসহ ছয় ওয়াক্ত নামায হিসেব করে প্রতি ওয়াক্ত নামায বা প্রতিটি রোযার জন্য পৌনে দুই সের (১৬৩৬ গ্রাম) গম বা আটা অথবা তার মূল্য কিংবা সাড়ে তিন সের খেজুর বা যব অথবা তার মূল্য গরীব-মিসকিনকে মালিক বানিয়ে দিবে অথবা কোন গরীবকে দুই বেলা পেট ভরে খানা খাওয়াবে।
মৃত ব্যক্তি যদি নামায, রোযার ওসিয়ত করে গিয়ে থাকেন এবং তার সম্পত্তিও থাকে তবে তার রেখে যাওয়া সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ থেকে ফিদিয়া দেয়া ওয়ারিশদের উপর ওয়াজিব। আর সম্পদ যদি রেখে না যায় অথবা সম্পদ রেখে গিয়েছে ঠিকই কিন্তু অসীয়ত করেনি তাহলে এক্ষেত্রে ওয়ারিশদের উপর ফিদিয়া আদার করা ওয়াজিব নয়। ওয়ারিশদের সামর্থ্য থাকলে মরহুমের নাজাতের জন্য ফিদিয়া আদায় করে দেয়া উত্তম। আর যদি সামর্থ্য না থাকে তাহলে মরহুমের জন্য দুআ ও ইস্তেগফার করবে যেন আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করেন। আদ্দুররুল মুখতার-২/৭২; আলবাহরুর রায়েক-২/৩৬৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া-১/১৮৪
মসজিদ-মাদরাসা-ওয়াকফ
ইকবাল হাসান
২৭৬. প্রশ্ন : ক. কোন ব্যক্তি মসজিদের গাছের ফল খেয়ে ফেলল অথবা মসজিদের কোন জিনিস ব্যবহার করল। যেমন, মসজিদের বিদ্যুৎ দিয়ে কাপড় ইস্ত্রি করল বা মোবাইল চার্জ দিল। এরপর লজ্জার দরুন বা অপারগতার কারণে মসজিদ কমিটির হাতে এর মূল্য পরিশোধ না করে মসজিদের দান বাক্সে দিয়ে দিল। এতে মূল্য পরিশোধ হবে, নাকি তাকে মসজিদ কমিটির হাতেই তা অর্পণ করতে হবে?
খ. যদি কেউ মসজিদের কোন জিনিস এই মনে করে নিয়ে যায় বা ব্যবহার করে যে, তার ন্যায্য মূল্য সে পরবর্তীতে কমিটির হাতে বা দান বাক্সে পরিশোধ করে দিবে, তাহলে তার জন্য ঐ জিনিস ব্যবহার করা জায়েয হবে কি না?
উত্তর : (ক. খ.) যে বস্তু মসজিদের জন্য ওয়াক্ফ করা হয়েছে তা সর্বদা মসজিদের কাজেই ব্যবহৃত হবে। মসজিদের প্রয়োজন ব্যতীত অন্য কোন কাজে বা কারো ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করা জায়েয নেই। এমনকি বিক্রি করা, ভাড়া দেওয়া, ধার দেওয়াও না জায়েয। অতএব মসজিদের কোন বস্তু যতই ক্ষুদ্র বা কম মূল্যের হোক না কেন তা মসজিদের কাজ ছাড়া মূল্য বা ভাড়ার বিনিময়েও ব্যবহার করা যাবে না।
তবে মসজিদের ফল ন্যায্য মূল্যে ক্রয় করে নিতে পারবে। ক্রয় না করে ভক্ষণ করা নাজায়েয। এতদসত্তে¡ও যদি মসজিদের ফল ক্রয় না করে খেয়ে ফেলে বা মসজিদের অন্য কোন বস্তু ব্যবহার করে ফেলে তাহলে তার ন্যায্য মূল্য পরিশোধ করে দেওয়া ওয়াজিব। এক্ষেত্রে মসজিদ কমিটির হাতে দেওয়া জরুরী নয়; মসজিদের দান বাক্সে পৌঁছে দিলেও আদায় হয়ে যাবে। আদ্দুররুল মুখতার-৪/৩৫১-৩৫২; তানভীরুল আবসার-৬/১৮২, ১৮৩
বিবাহ-তালাক-ইদ্দত
২৭৭. প্রশ্ন : আমি কিছুদিন আগে ১২০০০ (বার হাজার) টাকা মহরানায় বিবাহ করেছি। জানার বিষয় হল, সর্বনিম্ন মহর হিসেবে আমার বিবাহ কি শুদ্ধ হয়েছে? বর্তমানে ফাতেমী মহরের পরিমাণ কত আর মহরে জাওয়ায (সর্বনিম্ন মহর যা দ্বারা বিবাহ শুদ্ধ হবে তার) পরিমাণই বা কত?
উত্তর : দুই জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে যদি বিবাহরে ইজাব-কবুল হয়ে থাকে তাহলে আপনার বিবাহ শুদ্ধ হয়েছে। মহরানা কম বেশি নির্ধারণ করার সঙ্গে বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার কোন সম্পর্ক নেই। মহর নির্ধারণ না করেও যদি যথা নিয়মে বিবাহ করে তাহলেও বিবাহ হয়ে যাবে। তখন মহরে মিস্ল ওয়াজিব হবে। আপনার মহরানা যদি বিয়ের সময় মেয়ের অভিভাবকদের সম্মতিক্রমে নির্ধারিত হয়ে থাকে তাহলে তা-ই ধার্য হবে। অন্যথায় তারা মহরে মিস্ল পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পারবে। মহরের সর্বনিম্ন পরিমাণ হল ১০ দেরহাম যাতে ৩০.৬১৮ গ্রাম রূপা হয়।
মহরে ফাতেমীর পরিমাণ সম্পর্কে কয়েকটি অভিমত রয়েছে। এর মধ্যে সতর্কতাপূর্ণ মতানুসারে মহরে ফাতেমীর পরিমাণ হল ৪০০ মিসকাল বা ১৫০ তোলা যাতে ১৭৪৯.৬০ গ্রাম হয়। মিরকাত-৬/৩৩০; বাদায়েউস সানায়ে-২/৫৬১
মুহা. আবূ বকর ছিদ্দীক
২৭৮. প্রশ্ন : বর্তমানে আমাদের সমাজে বিবাহ-শাদীতে চার, পাঁচ, আট, দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মহরানা ধার্য করা হয় যা ছেলের সামর্থ্যরে চেয়ে অনেক বেশি। এ বিষয়ে মেয়ের অভিভাবককে জিজ্ঞেস করা হলে বলে, ‘মোটা অঙ্কের মহরানা এজন্য ধার্য করা হয় যেন ছেলে কখনো মেয়েকে ছেড়ে দিলে আমরা ছেলে থেকে এ টাকা উসূল করে নিতে পারি এবং এত মোটা অঙ্কের টাকা প্রদান করতে পারবে না এই ভয়ে সে স্ত্রীকে তালাক দিবে না।’ এমতাবস্থায় ছেলে আংশিক মহরানা আদায় করে থাকে।
আমার জানার বিষয় হল, মোটা অঙ্কের মহরানা ধার্য করে সামান্য কিছু পরিশোধ করার নিয়মটা শরীয়ত সম্মত কি না?
উত্তর : মহরানা স্ত্রীর অধিকার। শরীয়ত এর প্রতি অত্যন্ত গুরুত্ব আরোপ করেছে। তাই শরীয়ত মহরানার সর্বনিম্ন সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে তবে ঊর্ধ্বের কোন সীমা উল্লেখ করেনি। এজন্য স্বামী বা উভয় পক্ষ কর্তৃক যা নির্ধারিত হবে তাই মহর ধার্য হবে। সুতরাং মহরানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ছেলের সামর্থ্যরে প্রতি লক্ষ রেখে ঐ পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত, যা সে বাস্তবেই আদায় করতে সক্ষম। সামাজিক প্রথার অনুসরণ করে অথবা প্রশ্নে উল্লিখিত উদ্দেশ্যে চাপ প্রয়োগ করে ছেলের সামর্থ্যরে অধিক মহরানা নির্ধারণ করা তার প্রতি জুলুম করার নামান্তর।
কেননা, যা নির্ধারণ করা হবে তা আদায় করা ছেলের উপর ওয়াজিব। যদি নির্ধারিত মহরানা আদায় করার নিয়ত না থাকে এবং বাস্তবেও আদায় না করে তাহলে পরকালে সে ব্যাভিচারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। অতএব প্রশ্নে উল্লিখিত প্রথাটি সম্পূর্ণ শরীয়ত পরিপন্থী। এটা পরিহার করা আবশ্যক।
উল্লেখ্য, ন্যায়সঙ্গত কারণে স্বামীর জন্য স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অধিকার রয়েছে, যা শরীয়ত তাকে দিয়েছে। তাই তাকে চাপে রেখে উক্ত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা শরীয়ত সম্মত নয়। আবূ দাউদ-১/২৮৭; আদ্দুররুল মুখতার-৩/১০২; আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব-৩/৫১
২৭৯. প্রশ্ন : আমি স্ত্রীর সঙ্গে রাগ করে তাৎক্ষণিভাবে বুঝানোর জন্য বললাম, ‘তুমি যদি এখন আমার কথা না মেনে চলো এবং ভাব ধরে থাকো তাহলে তুমি তালাক।’ এরকমভাবে তালাক শব্দ তিনবার বলি। এরপর সে তৎক্ষণাৎ আর আমার কথা অমান্য করেনি কিন্তু কয়েকদিন পরে অমান্য করে। সে এখন বলছে, আমাকে তুমি সারা জীবনের জন্য তালাকের কথা বলেছিলে।
উল্লেখ্য, ‘তুমি যদি এখন আমার কথা না মেনে চলো’ বলে ঝগড়ার সময়টা বুঝানো উদ্দেশ্য ছিল।
আমার এখন জানার বিষয় হল, এক্ষেত্রে আমার কথা গ্রহণযোগ্য হবে, নাকি আমার স্ত্রীর কথা গ্রহণযোগ্য?
উত্তর : যদি স্ত্রী তার কথার স্বপক্ষে সাক্ষী পেশ করতে পারে তাহলে তার কথাই গ্রহণযোগ্য হবে এবং তিন তালাক পতিত হবে। আর সাক্ষী না থাকলে কসমসহ স্বামীর দাবি গ্রহণযোগ্য হবে। আদ্দুররুল মুখতার-২/৩৫৬; ফাতহুল কাদীর-৪/১১১
মুআমালা-লাদেন
শাব্বির আহমদ
ধীৎপুর, মেঘুলা, দোহার
২৮০. প্রশ্ন : আমি একজন ব্যবসায়ী। আমার ক্যাশ টাকা নেই। আমি কিছু লোক থেকে বাইয়ে মুদারাবার শর্তে লাভ-লোকসানের ভিত্তিতে টাকা গ্রহণ করি। শরয়ীভাবে মুনাফার কাউকে ৭০% কাউকে ৮০% মুনাফা দেয়ার চুক্তি হয়। আলহামদুলিল্লাহ এভাবে দুই তিন বছর ভালভাবেই কেটে যায়। এক মাস, দুই মাস, তিন মাস পর পর মুনাফা প্রদান করতাম। কিন্তু ঘটনাক্রমে একপর্যায়ে আমি ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হই। আমার ও অন্যান্যদের মূলধনসহ ব্যবসা বিলুপ্ত হয়ে যায়। যারা আমাকে বাইয়ে মুদারাবার শর্তে শরয়ীভাবে টাকা দিয়েছিল তারা এখন আমার কাছ থেকে মূলধন ফেরত চাচ্ছে। এমনকি হুমকি ধমকিও দিচ্ছে। কেউ কেউ তো এ পর্যন্ত যত মাস অতিবাহিত হয়েছে তার লভ্যাংশেরও দাবি করছে। এমতাবস্থায় শরীয়তের ফায়সালা কী?
উত্তর : মুদারাবা কারবারে মুদারিব তথা কারবারীর উপর লোকসান চাপানো নাজায়েয, জুলুম ও অন্যায়। মুদারাবা কারবারে লোকসান হলে তা মূলধন থেকে যাবে। হযরত আলী রাযি. মুদারাবা কারবার সম্পর্কে বলেন, মূলধন থেকে ক্ষতিপূরণ করতে হবে আর লাভ বণ্টন করা হবে তাদের (পুঁজিদাতা ও কারবারী) মধ্যকার চুক্তি অনুসারে। বুখারী-১/৩০৩; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক : ৮/১৫০৮৭
২৮১. প্রশ্ন : জীবিত মুরগী ওজন করে বিক্রি করা জায়েয কি না?
উত্তর : জীবিত মুরগী ওজন করে নিখুঁতভাবে তার ওজন পরিমাপ করা কঠিন। কেননা প্রানী কখনো নিজেকে হালকা করে রাখে আবার কখনো ভারী করে রাখে তা সত্ত্বেও এটা যেহেতু একটি সম্ভাবনা বা বাস্তব হলেও এটা সামান্য পরিমাণে অস্পষ্টতা মাত্র। আর এ সামান্য অস্পষ্টতা বেচা-কেনার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক নয়। তাই ক্রেতা বিক্রেতার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে জীবিত মুরগী ওজন করে বিক্রি করা জায়েয আছে। রদ্দুল মুহতার-৪/৫২৯, ৫৩০; আদ্দুররুল মুখতার-৪/৫০২,৫০৩
মুহাম্মদ সালমান
ইসলামপুর, ঢাকা
২৮২. প্রশ্ন : করিম দোকান থেকে ৯ টাকা মূল্যে কোন কিছু ক্রয় করে বিক্রেতাকে ১০ টাকা প্রদান করল। বিক্রেতা তাকে এক টাকা ফেরত দেয়ার পরিবর্তে তার দোকান থেকে এক টাকা দামে বিক্রি হয় এমন একটি চকলেট প্রদান করল। শরীয়তের দৃষ্টিতে এ লেনদেন বৈধ কি না?
উত্তর : প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত লেনদেন সহীহ হবে যদি ক্রেতা সন্তুষ্ট থাকে। কারণ বিক্রয় এর অর্থই হল, ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের সন্তুষ্টিতে একটি বস্তুকে অপর একটি বস্তুর দ্বারা পরিবর্র্তন করা। প্রশ্নে উল্লিখিত লেনদেনে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েরই নীরব সমর্থন থাকে। অতএব তা জায়েয ও বৈধ। আলবাহরুর রায়েক- ৫/৪২৯; বাদায়েউস সানায়ে- ৪/৩১৯
আব্দুস সুবহান
বি, বাড়ীয়া
২৮৩. প্রশ্ন : ক. মানিক আমাকে ব্যবসা করার জন্য ৬০,০০০ (ষাট হাজার) টাকা দেয়। আমাদের মাঝে এ চুক্তি হয় যে, ব্যবসায় লাভ হলে লাভের ৪০% তাকে দিব আর ৬০% আমি নেব। কিন্তু ক্ষতি হলে সম্পূর্ণ ক্ষতি সে বহন করবে। ব্যবসার এ পদ্ধতি কি শরীয়ত সম্মত?
খ. যদি আমি মানিকের কাছ থেকে ৬০,০০০ (ষাট হাজার) টাকা এই শর্তে গ্রহণ করি যে, আমি এ টাকা যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে ব্যবসায় খাটাব এবং লভ্যাংশের তিন ভাগের এক ভাগ তাকে দিব ও দুই ভাগ আমি নিব। ব্যবসা শুরু করার পর ৬০,০০০ (ষাট হাজার) টাকার সাথে আমি কিছু বিনিয়োগ করি। অবশেষে লভ্যাংশের এক তৃতীয়াংশ লাভ তাকে অনুমান করে দিই। তাহলে এ পদ্ধতিতে আমাদের ব্যবসা সহীহ হবে কি না? সহীহ না হলে সহীহ পদ্ধতি কী হতে পারে?
উত্তর : ক. প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিতে ব্যবসা করা শরীয়ত সম্মত।
খ. এক্ষেত্রে আপনার বিনিয়োগকৃত অর্থের সম্পূর্ণ লভ্যাংশ আপনি পাবেন। অবশিষ্ট ৬০,০০০ (ষাট হাজার) টাকার লভ্যাংশ পূর্বচুক্তি (এক তৃতীয়াংশ মানিক সাহেবের ও দুই তৃতীয়াংশ আপনার) অনুযায়ী বণ্টিত হবে। কিন্তু মানিক সাহেবকে অনুমান করে লাভ দেয়া জায়েয হবে না।
উল্লেখ্য, মানিক সাহেবকে তার বিনিয়োগকৃত অর্থের অনুপাত অপেক্ষা বেশি লভ্যাংশ প্রদান করা যাবে না। অতএব আপনি যদি ১,৮০০০০ (এক লাখ আশি হাজার) টাকার অধিক বিনিয়োগ করে থাকেন তাহলে মানিক সাহেবকে লভ্যাংশের এক তৃতীয়াংশ প্রদান করা যাবে না। মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক- ১৫০৮৭; বাদায়েউস সানায়ে- ৫/ ১৩৩, ১৩৬
জায়েয-নাজায়েয
মুহাম্মদ মুজ্জাম্মেল
২৮৪. প্রশ্ন : জানাবাত (তথা গোসল ফরজ হওয়া) অবস্থায় কুরআন শরীফ টাইপ করা ও দুনিয়াবী কোন কাজে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় কম্পিউটারে কুরআন শরীফের তিলাওয়াত শোনা জায়েয কি না?
উত্তর : জানাবাত (তথা গোসল ফরজ হওয়া) অবস্থায় কুরআন শরীফ টাইপ করা জায়েয নেই। কোন কাজে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় কুরআন শরীফের তিলাওয়াত চালু রাখা বেআদবী। যখন কুরআন তিলাওয়াত হবে তখন তা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করা জরুরী। ফাতাওয়া হিন্দিয়া-১/৯৩; আদ্দুররুল মুখতার-১/৫৪৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া-৫/৩৬৫
মুহা. নূরুল আমীন
অস্ট্রেলিয়া
২৮৫. প্রশ্ন : আমি কুরআন শরীফের অর্থ বুঝি না। যখন আরবীতে কুরআন শরীফ পড়ি তখন কিছুই বুঝি না যে, কুরআন কী বলছে। আমার কাছে কুরআন শরীফের বাংলা অনুবাদ আছে। কুরআনের অনুবাদ পড়লে মনে হয়, আমি কুরআন বুঝে পড়ছি। আল্লাহর প্রত্যেকটি কথা ভালোভাবে বুঝছি। যেমনটা অন্য অনুবাদ পড়লে আমরা বুঝি। আমার জানার বিষয় হল, আমি যদি কুরআন শরীফের বাংলা অনুবাদ পড়ি তাহলে কি কুরআন পড়া হবে? আমার কুরআন খতম কি কবুল হবে? আমি কি পূর্ণ সওয়াব লাভ করব?
উত্তর : কুরআন শরীফের শুধু অনুবাদ পড়লে কুরআন পড়া হবে না। এতে কুরআন পড়ার অথবা কুরআন খতম করার সওয়াব পাওয়া যাবে না। কারণ, কুরআন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ আরবী বাক্য ও অর্থের সমষ্টির নাম। আরবী ছাড়া শুধু অর্থকে কুরআন বলা হবে না; বরং কুরআনের তরজমা বা অনুবাদ বলা হবে। সুতরাং কুরআন তিলাওয়াতের অথবা খতমের যত ফজিলত বর্ণিত হয়েছে তা শুধু কুরআনের মূল আরবীর সঙ্গেই খাছ (নির্দিষ্ট)। তাই শুধু অনুবাদ পড়ার দ্বারা বর্ণিত ফজিলত অর্জিত হবে না। মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা-৫/৪৩৩; রুহুল মাআনী-১২/৪৯৫;
আবিদুর রহমান
২৮৬. প্রশ্ন : আত্মহত্যাকারীর জন্য ইসালে সওয়াব করা কি জায়েয?
উত্তর : আত্মহত্যাকারী কাফের নয়; বরং ফাসেক। তাই অন্যান্য মুসলিম মাইয়্যেতের মতো তার মাগফিরাতের জন্য ঈসালে সওয়াব করা জায়েয। রদ্দুল মুহতার-২/২১১; তাতারখানিয়া-৩/৫৬; আহসানুল ফাতাওয়া-৪/১৯৬
মুহা. আব্দুল হালীম
২৮৭. প্রশ্ন : পুরুষের জন্য স্বর্ণ ও রূপার আংটি ব্যবহার করার শরয়ী বিধান কী?
উত্তর : পুরুষের জন্য স্বর্ণের আংটি ব্যবহার করা জায়েয নেই। তবে এক মিসকাল তথা সাড়ে ৪ মাশা বা ৪.৩৭৪ গ্রামের চেয়ে কম পরিমাণ রূপার আংটি ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। বুখারী-২/৮৭১; রদ্দুল মুহতার-৯/৫১৭; ফাতাওয়া মাহমূদিয়া-২৮/৩৭
২৮৮. প্রশ্ন : রক্ত বিক্রয় করা জাযেয কি না?
উত্তর : রক্ত বিক্রয় করা জায়েয নেই। কারণ, শরীয়তের দৃষ্টিতে রক্ত বিক্রয়যোগ্য পণ্য নয়। আদ্দুররুল মুখতার-৭/২৩৫; আলবাহরুর রায়েক-৬/১১৫
ইসমাঈল
২৮৯. প্রশ্ন : বিভিন্ন স্থানে ও মাদরাসাতে অনেক সময় দেখা যায়, ভাল ভাল পোশাক-পরিচ্ছদ ও ব্যবহারের উপযোগী সামান-পত্র যেখানে সেখানে বা ময়লার ডাস্টবিনে পড়ে থেকে নষ্ট হতে থাকে। মালিকের কোন সন্ধান পাওয়া যায় না এবং মালিককে খুঁজে বের করাও সম্ভব হয় না। ফলে এই সমস্ত জিনিস সেখানে পড়ে থেকেই নষ্ট হয়। জানার বিষয় হল, এমতাবস্থায় কোন স্বচ্ছল ব্যক্তি কিংবা গরীব মানুষ তা ধুয়ে মুছে নিজের কাজে ব্যবহার করে এবং ইচ্ছা রাখে যে, যখন তার মালিক আসবে তখন তা তাকে দিয়ে দিবে তাহলে তার তা ব্যবহার করা জায়েয হবে কি না?
উত্তর : যদি কেউ কোন মূল্যবান বস্তু পড়ে থাকতে দেখে এবং তার আশঙ্কা হয় যে, বস্তুটি এখানে পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যাবে তখন তার কর্তব্য হল, সে বস্তুটি মালিকের কাছে পৌঁছিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে উঠিয়ে সংরক্ষণ করা। অতঃপর ঘোষণা করতে থাকা। মালিক পাওয়া গেলে তা তাকে ফেরত দেওয়া। অন্যথায় যদি এমন ধারণা হয় যে, এ বস্তুটির মালিক আর এটির অনুসন্ধান করবে না, অথবা প্রকৃত মালিকের সন্ধান পাওয়া যাবে না, তাহলে বস্তটি কোন গরীব-মিসকীনকে সদকা করে দিবে।
আর যদি সংরক্ষণকারী নিজে গরীব হয় তাহলে নিজেও ব্যবহার করতে পারবে। ধনী ব্যক্তি তা ব্যবহার করতে পারবে না। তবে সর্বাবস্থায় পরবর্তীতে যদি মালিক এসে হাজির হয় এবং সদকার অনুমোদন না করে তাহলে উক্ত বস্তুর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আলবাহরুর রায়েক-৫/ ২৬৫; আদ্দুররুল মুখতার-৪/২৭৮

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন