রোযাদারের দয়া এখন তরঙ্গায়িত হবে :
দয়া আল্লাহ্র একটি বিশেষ নেয়ামত ও অনুগ্রহ। সবাই এ গুণে গুণান্বিত হয় না। আল্লাহ যাদেরক এ গুণ দান করেন, তাদেরক ধন্য করেন। তারা আল্লাহ্র বিশেষ বান্দায় গণ্য হন। দয়ালু বান্দায় গণ্য হন। সুতরাং দয়ালু যারা দয়াময়ের প্রিয়ভাজন তারা। আজকাল এই দয়া-গুণের বড়ো সঙ্কট। অনেক মানুষের ভিড়েও একজন দয়াবান খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কারণ কী? কারণ তো অবশ্যই আছে। কারণ ছাড়া কিছুই হয় না, কিছুই ঘটে না। এই যে মানুষ দয়ামায়াহীন হয়ে যাচ্ছে, নিষ্ঠুর হয়ে যাচ্ছে বরং নিষ্ঠুর দানবে পরিণত হচ্ছে, তার কারণ হলো, গোনাহ ও পাপাচার। গোনাহ ও পাপ হৃদয়কে কঠিন করে দেয়। একেবারে পাথর বানিয়ে দেয়। পাপীরা কখনো কখনো পাথরের কঠোরতাকেও হার মানায়। ইরশাদ হয়েছে—
ثُمَّ قَسَتْ قُلُوبُكُمْ مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ فَهِيَ كَالْحِجَارَةِ أَوْ أَشَدُّ قَسْوَةً
'তারপর তোমাদের হৃদয় কঠিন হয়ে গেলো। পাথরের মতো, অথবা তার চেয়েও কঠিন।'
ثُمَّ قَسَتْ قُلُوبُكُمْ مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ فَهِيَ كَالْحِجَارَةِ أَوْ أَشَدُّ قَسْوَةً
'তারপর তোমাদের হৃদয় কঠিন হয়ে গেলো। পাথরের মতো, অথবা তার চেয়েও কঠিন।'
মানুষের দয়ামায়াহীন হয়ে যাওয়ার আরেকটা কারণ হলো, সামান্য কিছু ধন-সম্পদ ও বিত্ত-বৈভবের মালিক হলেই সে অহঙ্কারী হয়ে ওঠে। স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠে। আল্লাহ মানুষের এই চরিত্রটা বর্ননা করেছেন এভাবে-
كَلَّا إِنَّ الْإِنسَانَ لَيَطْغَى. أَن رَّآهُ اسْتَغْنَى
'বস্তুত: মানুষ সীমালঙ্ঘনকারী হয়েই থাকে। কারণ সে নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করে।'
كَلَّا إِنَّ الْإِنسَانَ لَيَطْغَى. أَن رَّآهُ اسْتَغْنَى
'বস্তুত: মানুষ সীমালঙ্ঘনকারী হয়েই থাকে। কারণ সে নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করে।'
অতিরিক্ত আত্মতুষ্টিও মানুষের দয়ামায়াহীন হয়ে ওঠার একটি কারণ। এ সব মন্দ গুণ থেকে বের হয়ে আসার জন্যে এবং ঈমান ও সৎকর্মে হৃদয়কে সজ্জিত করার জন্যেই বছর ঘুরে ঘুরে আসে রমজান।
রোযাদার সবচে' বড় দয়ালু। ক্ষুধা কী জিনিস, তা সে ভালোই জানে। পিপাসায় মানুষের কী কষ্ট হয়, তাও তার অজানা নয়। সারা দিন খাদ্যহীন-পানিহীন কষ্ট-প্রহরে জ্বলতে থাকা রোযাদার এ জন্যেই অন্যের কষ্ট বোঝে। অন্যের ক্ষুধায় কষ্ট পায়। অন্যের পিপাসায় কাতর হয়। বাড়িয়ে দেয় দয়ার হাত। মমতার হাত। সাহায্যের হাত। রোযাদারের এ গুণ যদি সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়তো! আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
اللهم من ولي من أمر أمتي شيئا فشق عليهم فاشقق عليه، ومن ولي من أمر أمتي شيئا فرفق بهم فارفق به
'হে আল্লাহ! আমার উম্মতের শাসনভার লাভ করার পর যারা তাদের সাথে কঠোরতা করে তুমিও তাদের সাথে কঠোরতা করো আর যারা তাদের সাথে নম্র আচরণ করে, তুমিও তাদের সাথে নম্র আচরণ করো।'
اللهم من ولي من أمر أمتي شيئا فشق عليهم فاشقق عليه، ومن ولي من أمر أمتي شيئا فرفق بهم فارفق به
'হে আল্লাহ! আমার উম্মতের শাসনভার লাভ করার পর যারা তাদের সাথে কঠোরতা করে তুমিও তাদের সাথে কঠোরতা করো আর যারা তাদের সাথে নম্র আচরণ করে, তুমিও তাদের সাথে নম্র আচরণ করো।'
নবীজী আরো বলেছেন:
من ولاه الله أمرا من أمر أمتي فاحتجب دون حاجتهم وخلتهم وفقرهم ، احتجب الله دون حاجته وخلته وفقره يوم القيامة
'আল্লাহ কাউকে আমার উম্মতের শাসনভার দান করার পরও সে তাদের প্রয়োজন পূরণ করতে ব্যর্থ হলে, তাদের সমস্যার সমাধানে এগিয়ে না এলে, তাদের অভাব ও দারিদ্য বিমোচনে উদ্যোগ গ্রহণ না করে নিরুদ্যোগ বসে থাকলে আল্লাহ্র কেয়ামতের দিন তার প্রয়োজন, সমস্যা ও দারিদ্র দূর করবেন না।'
من ولاه الله أمرا من أمر أمتي فاحتجب دون حاجتهم وخلتهم وفقرهم ، احتجب الله دون حاجته وخلته وفقره يوم القيامة
'আল্লাহ কাউকে আমার উম্মতের শাসনভার দান করার পরও সে তাদের প্রয়োজন পূরণ করতে ব্যর্থ হলে, তাদের সমস্যার সমাধানে এগিয়ে না এলে, তাদের অভাব ও দারিদ্য বিমোচনে উদ্যোগ গ্রহণ না করে নিরুদ্যোগ বসে থাকলে আল্লাহ্র কেয়ামতের দিন তার প্রয়োজন, সমস্যা ও দারিদ্র দূর করবেন না।'
এই-যে দয়া— এর অঙ্গন অনেক বিস্তৃত। এ অঙ্গনে অবদান থাকতে হবে শিক্ষকের, ইমামের, শাসকের। যিনি শিক্ষক, তিনি ছাত্রদের সাথে মায়া-মমতা ও স্নেহ-ভালোবাসার বন্ধন গড়ে তোলবেন। ছাত্রদের ভালোবাসাও অর্জন করবেন। তাঁর কাছে ছাত্ররা যাতে সহজে পৌঁছতে পারে— সে পন্থা বাতলে দেবেন। ছাত্রদেরকে উপকৃত হওয়ার বিভিন্ন সুযোগ তৈরী করে দেবেন। আর বিনিময় প্রত্যাশা করবেন শুধু আল্লাহ্র কাছে। আর আল্লাহ তখন তাঁকে বিনিময়ও দেবেন নিজের শান মুতাবিক।
লক্ষ্য করো আল্লাহ তাঁর রাসূলের প্রশংসা করেছেন কীভাবে—
. فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظّاً غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ
'আল্লাহ্র দয়ায় (হে নবী!) আপনি তাদের প্রতি কোমল-হৃদয় হয়েছেন! যদি আপনি রূঢ় ও কঠোর-চিত্ত হতেন তারা আপনার আশ-পাশ থেকে সরে পড়তো।'
লক্ষ্য করো আল্লাহ তাঁর রাসূলের প্রশংসা করেছেন কীভাবে—
. فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنْتَ فَظّاً غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ
'আল্লাহ্র দয়ায় (হে নবী!) আপনি তাদের প্রতি কোমল-হৃদয় হয়েছেন! যদি আপনি রূঢ় ও কঠোর-চিত্ত হতেন তারা আপনার আশ-পাশ থেকে সরে পড়তো।'
ইমাম হবেন যিনি, তিনি মুক্তাদির জন্যে উত্তম আদর্শ হবেন। কখনো তাদের অকল্যাণ-চিন্তা করবেন না। বরং তাদের সাথে মিশে যাবেন— আপন হয়ে, সুহৃদ হয়ে, বন্ধু হয়ে। আত্মীয়দের চেয়ে বড় আত্মীয় হয়ে। আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
من أم منكم بالناس فليخفف فإن فيهم الكبير والمريض والصغير وذا الحاجة
'তোমাদের মধ্যে যারা ইমামতি করে, তারা যেনো নামাযকে হাল্কা করে (ছোট ছোট সূরা দিয়ে নামায পড়ায়)। কেননা তাদের ভিতরে অনেকেই থাকে বৃদ্ধ, অসুস্থ, অল্প বয়স্ক ও প্রয়োজন-তাড়িত।'
من أم منكم بالناس فليخفف فإن فيهم الكبير والمريض والصغير وذا الحاجة
'তোমাদের মধ্যে যারা ইমামতি করে, তারা যেনো নামাযকে হাল্কা করে (ছোট ছোট সূরা দিয়ে নামায পড়ায়)। কেননা তাদের ভিতরে অনেকেই থাকে বৃদ্ধ, অসুস্থ, অল্প বয়স্ক ও প্রয়োজন-তাড়িত।'
একবার হযরত মু'আয ইবনে জাবাল রা. নামায পড়াতে গিয়ে ক্বেরাত একটু লম্বা করে ফেললেন। তখন আল্লাহ্র রাসূল অসন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে বললেন-
أفتان أنت يا معاذ؟ أفتان أنت يا معاذ ؟ أفتان أنت يا معاذ
'মু'আয! তুমি তো দেখছি গোলযোগ বাধাবে!'
أفتان أنت يا معاذ؟ أفتان أنت يا معاذ ؟ أفتان أنت يا معاذ
'মু'আয! তুমি তো দেখছি গোলযোগ বাধাবে!'
নবীজী থেকে বর্ণিত আছে যে, একবার উসমান ইবনে আবিল আ'স আস সাকাফী নবীজীকে বললেন-
يا رسول الله .اجعلني إمام قومي ، قال : أنت إمامهم واقتد بأضعفهم واتخذ مؤذنا لا يأخذ على أذانه أجرا
'হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাকে যদি ইমামতির দায়িত্ব অর্পণ করতেন!' তখন নবীজী বললেন- 'ঠিক আছে, তুমি তাদের ইমাম। তোমার মুক্তাদিদের ভিতরে সবচে' দুর্বল ব্যক্তিটির প্রতি খেয়াল রাখবে। আর একজন মুয়াজ্জিন ঠিক করো, যে আযানের বিনিময়ে কোনো পারিশ্রমিক নেবে না।'
يا رسول الله .اجعلني إمام قومي ، قال : أنت إمامهم واقتد بأضعفهم واتخذ مؤذنا لا يأخذ على أذانه أجرا
'হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাকে যদি ইমামতির দায়িত্ব অর্পণ করতেন!' তখন নবীজী বললেন- 'ঠিক আছে, তুমি তাদের ইমাম। তোমার মুক্তাদিদের ভিতরে সবচে' দুর্বল ব্যক্তিটির প্রতি খেয়াল রাখবে। আর একজন মুয়াজ্জিন ঠিক করো, যে আযানের বিনিময়ে কোনো পারিশ্রমিক নেবে না।'
আল্লাহ্র পথের দাঈ ও আহ্বানকারীরও থাকতে হবে অনেক গুণ ও বৈশিষ্ট্য। তাকে হতে হবে দয়ালু। দয়া-মায়া আর স্নেহ-ভালোবাসা দিয়ে তাকে মানুষের মন জয় করতে হবে। আল্লাহ্র দিকে তাদেরকে ডাকতে হবে। কারো সাথেই দাওয়াতের ময়দানে সে রূঢ় আচরণ করবে না। মানুষকে লজ্জিত করতে পারবে না। মানুষের বিবেক ও সম্মানবোধকে আহত করতে পারবে না। এ জন্যেই আল্লাহ হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে বলেছেন-
. فَقُولا لَهُ قَوْلاً لَيِّناً لَّعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشَى
'তোমরা তার সাথে নম্র ভাষায় কথা বলবে, এতে হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় পাবে।'
. فَقُولا لَهُ قَوْلاً لَيِّناً لَّعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشَى
'তোমরা তার সাথে নম্র ভাষায় কথা বলবে, এতে হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে অথবা ভয় পাবে।'
আরো ইরশাদ হয়েছে-
. ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ
'তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের পথে আহ্বান করো হিকমত ও সদুপদেশ দ্বারা এবং তাদের সাথে বিতর্ক-আলোচনা করো (যুক্তি-নির্ভর) সুন্দর বাচনভঙ্গিতে।'
. ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ
'তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের পথে আহ্বান করো হিকমত ও সদুপদেশ দ্বারা এবং তাদের সাথে বিতর্ক-আলোচনা করো (যুক্তি-নির্ভর) সুন্দর বাচনভঙ্গিতে।'
দেখো, আরবী ভাষার বড় কবি ইমাম শাফেয়ী কী বলেছেন:
تعمدني بنصحك في انفراد + وجنبني النصيحة في الجماعة
فان النصح بين الناس نوع + كم التوبيخ لا أرضى سماعه
فإن خالفتني وعصيت امري + فلا تجزع إذا لم تعط طاعة
'আমাকে উপদেশ দিতে চাও? তাহলে একান্তে দাও! সাবধান! মানুষের সামনে আমাকে উপদেশ দিতে যাবে না!
বিশ্বাস করো! মানুষের সামনে উপদেশ— প্রকাশ্য গালি! আমি গালি শুনতে অপছন্দ করি!
যদি আমাকে না শোনো, যদি আমাকে অমান্য করো, তাহলে বন্ধু, কান পেতে শুনে রাখো— কেউ তোমাকে মানবে না!'
تعمدني بنصحك في انفراد + وجنبني النصيحة في الجماعة
فان النصح بين الناس نوع + كم التوبيخ لا أرضى سماعه
فإن خالفتني وعصيت امري + فلا تجزع إذا لم تعط طاعة
'আমাকে উপদেশ দিতে চাও? তাহলে একান্তে দাও! সাবধান! মানুষের সামনে আমাকে উপদেশ দিতে যাবে না!
বিশ্বাস করো! মানুষের সামনে উপদেশ— প্রকাশ্য গালি! আমি গালি শুনতে অপছন্দ করি!
যদি আমাকে না শোনো, যদি আমাকে অমান্য করো, তাহলে বন্ধু, কান পেতে শুনে রাখো— কেউ তোমাকে মানবে না!'
পিতাকেও হতে হবে দয়াবান স্নেহশীল ও বন্ধু বৎসল। এ ব্যাপারে এখানে আর বেশী কিছু বলার প্রয়োজন মনে করছি না। যা বলার প্রায় সবই বলে এসেছি পেছনের পৃষ্ঠায়। শুধু বলবো- পিতা-মাতা সন্তানদের প্রতি দয়ার আচরণ করলে সন্তানদের সুকুমারবৃত্তি ও উন্নত মানসিকতা গঠনে তা বিরাট সহায়ক ভূমিকা পালন করে। পক্ষান্তরে তাদের কঠোরতা ও অপরিকল্পিত শাসন (না দুঃশাসন?) তাদের অনেক ক্ষতি করে ফেলে। অপূরণীয় ক্ষতি। নবীজী বলেছেন-
ما كان الرفق في شيء إلا زانه، وما نزع الرفق من شيء إلا شانه
'যে জিনিসে করবে দয়া সে জিনিসে ছড়াবে শোভা! আর সে জিনিস থেকে যদি ছিনিয়ে নাও মায়া দেখবে তাকে ঘিরে আছে অকল্যাণের ছায়া!'
ما كان الرفق في شيء إلا زانه، وما نزع الرفق من شيء إلا شانه
'যে জিনিসে করবে দয়া সে জিনিসে ছড়াবে শোভা! আর সে জিনিস থেকে যদি ছিনিয়ে নাও মায়া দেখবে তাকে ঘিরে আছে অকল্যাণের ছায়া!'
প্রিয় রোযাদার!
জানি তুমি ক্ষুধার্ত।
কিন্তু তুমি কি জানো, আরো কত শত মানুষ ক্ষুধার্ত?
এক লোকমা খাবার যেনো চাঁদ আকাশে হাত!
কে দাঁড়াবে তার ক্ষুধা-কাতর আঁধার চেহারাটার সামনে?
তুমি, অবশ্যই তুমি! নইলে কিসের রোযাদার হলে তুমি?!
হ্যাঁ, এও জানি, তুমি তীব্র পিপাসায় কষ্ট সময় পার করছো।
কিন্তু খবর তো রাখো, তোমার চারপাশে গিজগিজ করছে আরো ক্ষুধার্ত!
আহ! এক কাতরা পানির জন্যে তাদের কী ছটফটানি!
কে মেটাবে সেই বেসামাল পিপাসা— তুমি ছাড়া?
ঐ যে মরু পিপাসা! মেটাতে পারো শুধু তুমিই একা!
কারণ তুমি রোযাদার!
আরেকটা কথা তোমার কানে কানে!
তুমি নিজে তো পরছো অনেক সুন্দর সুন্দর আর দামী দামী পোশাক!
কিন্তু ঈদুল ফিতরের সাজ-বেলায়ও হাজারো মানুষ থাকে—
ছিন্ন মলিন পোশাকে সাঁঝ-আকাশের মতো কালো!
জানো কি তাদের কথা? জানতে হবে! কিছু একটা করতে হবে!
কারণ তুমি রোযাদার! তুমিই তো কেবল পারো—
ঈদের রাতের অন্ধকারে কয়েক জোড়া কাপড় নিয়ে দরজা তাদের খটখটাতে!
জানি তুমি ক্ষুধার্ত।
কিন্তু তুমি কি জানো, আরো কত শত মানুষ ক্ষুধার্ত?
এক লোকমা খাবার যেনো চাঁদ আকাশে হাত!
কে দাঁড়াবে তার ক্ষুধা-কাতর আঁধার চেহারাটার সামনে?
তুমি, অবশ্যই তুমি! নইলে কিসের রোযাদার হলে তুমি?!
হ্যাঁ, এও জানি, তুমি তীব্র পিপাসায় কষ্ট সময় পার করছো।
কিন্তু খবর তো রাখো, তোমার চারপাশে গিজগিজ করছে আরো ক্ষুধার্ত!
আহ! এক কাতরা পানির জন্যে তাদের কী ছটফটানি!
কে মেটাবে সেই বেসামাল পিপাসা— তুমি ছাড়া?
ঐ যে মরু পিপাসা! মেটাতে পারো শুধু তুমিই একা!
কারণ তুমি রোযাদার!
আরেকটা কথা তোমার কানে কানে!
তুমি নিজে তো পরছো অনেক সুন্দর সুন্দর আর দামী দামী পোশাক!
কিন্তু ঈদুল ফিতরের সাজ-বেলায়ও হাজারো মানুষ থাকে—
ছিন্ন মলিন পোশাকে সাঁঝ-আকাশের মতো কালো!
জানো কি তাদের কথা? জানতে হবে! কিছু একটা করতে হবে!
কারণ তুমি রোযাদার! তুমিই তো কেবল পারো—
ঈদের রাতের অন্ধকারে কয়েক জোড়া কাপড় নিয়ে দরজা তাদের খটখটাতে!
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন