اَفَرَءَیْتُمْ مَّا تُمْنُوْنَ ءَاَنْتُمْ تَخْلُقُوْنَهٗۤ اَمْ نَحْنُ الْخٰلِقُوْنَ
অনুবাদ : আচ্ছা তোমরা বলতো তোমরা যে (স্ত্রীদের) গর্ভে বীর্যপাত ঘটাও সেটাকে তোমরা মানুষ বানাও নাকি আমি বানাই? সূরা ওয়াকিয়া: ৫৮, ৫৯
তাফসীর : এই সৃস্টি জগতে বর্তমানে যা কিছু বিদ্যমান আছে এবং যা কিছু ভবিষ্যতে অস্তিত্ব লাভ করবে এসব কিছুর সৃষ্টি, সৃষ্টির পর এগুলোকে টিকিয়ে রাখা এবং এগুলোকে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত করা এসব কিছুই মহান আল্লাহ তাআলার কুদরত ও প্রজ্ঞার লীলা। যদি মাধ্যম যবনিকা মাঝখানে অন্তরায় না হত আর মানুষ এসব বস্তুর সৃষ্টির অবস্থা কোন মাধ্যম বিহীন প্রত্যক্ষ করত তাহলে ঈমান আনতে বাধ্য হত। কিন্তু আল্লাহ তাআলা যেহেতু এ জগতকে পরীক্ষার জগত বানিয়েছেন তাই প্রত্যেক বস্তুর অস্তিত্ব ও বিকাশ কোন একটি মাধ্যমের সাহায্যে লাভ হবে— এ বিধান করে রেখেছেন। আর আল্লাহ তাআলা বস্তু ও তার মাধ্যমের মাঝে এমন এক শক্তিশালী সম্পর্ক রেখে দিয়েছেন যে, যেখানেই মাধ্যমের অস্তিত্ব লাভ হয়ে যায় সেখানেই বস্তুর অস্তিত্ব লাভ হয়ে যায়। যার ফলে স্থ‚লদৃষ্টির অধিকারী ব্যক্তিরা মাধ্যমকেই প্রকৃত কারণ ধারণা করে বসে। প্রকৃত কারণ বা স্রষ্টার দিকে তাদের দৃষ্টি যায় না।
উল্লেখিত আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানবসৃষ্টির সম্মুখে যে একটি মাধ্যম যবনিকা ছিল তা উন্মোচন করে দিয়েছেন। গাফেল মানুষ যেহেতু দৈনন্দিন প্রত্যক্ষ করছে যে, স্বামী-স্ত্রীর মিলনে গর্ভ সঞ্চার হয়। অতঃপর তা মাতৃগর্ভে বড় হতে থাকে। নয় মাস পর এক সুন্দর সুঢৌল পূর্ণাঙ্গ মানুষরূপে বের হয়ে আসে। দৈনন্দিনকার গতানুগতিক এ সৃষ্টিধারা প্রত্যক্ষ করার কারণে গাফল ও শৈথিল্যপরায়ণ মানুষের দৃষ্টি এতেই নিবদ্ধ থেকে যায়। তাই আল্লাহ তাআলা শৈথিল্যের পর্দা ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে খোদ মানুষকেই সম্বোধন করে বলছেন-
اَفَرَءَیْتُمْ مَّا تُمْنُوْنَ ءَاَنْتُمْ تَخْلُقُوْنَهٗۤ اَمْ نَحْنُ الْخٰلِقُوْنَ
অর্থাৎ : তোমরা একটু চিন্তা ও ধ্যান করে দেখ, সন্তান জন্মের ক্ষেত্রে তোমাদের দখল বা হাত এছাড়া আর কি আছে যে, তোমরা কেবল স্ত্রীর গর্ভে এক ফোঁটা বীর্যপাত ঘটাও। এরপর কি ঘটতে থাকে তার কোন খবর তোমাদের আছে কি? বীর্য কি আকার ধারণ করছে, কি কি অবস্থা তার উপর দিয়ে অতিক্রান্ত হচ্ছে, কিভাবে ও কখন হাড় তৈরি হচ্ছে, গোশত তৈরি হচ্ছে, কিভাবে ও কোন নাজুক মেশিনের মাধ্যমে তার খাবার তৈরি করা হচ্ছে। অতপর তার দেহস্থ চক্ষু, কর্ণ, নাসিকাসহ অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, বাকশক্তি, বিবেক শক্তি ইত্যাদি সংযোজন করার জন্য কত ধরনের মেশিন ও যন্ত্র সে ক্ষুদ্র জগতে কাজ করছে। কিন্তু পিতা বা খোদ মাতা যার গর্ভে এমন কিছু ঘটছে তারও কি কোন খবর আছে? পরিশেষে কোন কুদরতওয়ালা ত্রিপর্দার (চামড়া, জরায়ূ ও শিশুর দেহস্থ পাতলা আবরণ) অন্ধকারে এমন সুন্দর-সুঢৌল, চক্ষু-কর্ণ ও বিবেকমান মানুষ তৈরি করেছেন এ বিষয়টি কি কখনো চিন্তা করে দেখেছ? সত্যিই গভীরভাবে যদি কেউ মানবসৃষ্টিতে মহান আল্লাহর যে সৃষ্টি নৈপুণ্য নিহিত রয়েছে তা লক্ষ করে আর সে জ্ঞানান্ধ না হয়ে থাকে তবে সে স্বতঃস্ফূর্ত বলে উঠবে—
فَتَبٰرَکَ اللهُ اَحْسَنُ الْخٰلِقِیْنَ
কতই না মহান আল্লাহ তাআলা যিনি সর্বোত্তম সৃষ্টিকর্তা।
অধিকন্তু মাতৃগর্ভে সন্তানকে প্রথম পর্যায়ে পূর্ণ রূপ না দিয়ে বরং প্রথমে বীর্যাকারে তারপর জমাট রক্তাকারে তারপর গোশত পিণ্ডাকারে এভাবে পর্যায়ক্রমে ধীরে ধীরে সৃষ্টিকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এতেও অসংখ্য হেকমত, রহস্য এবং কুদরতের নিদর্শন নিহিত রয়েছে।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাঁর এসব কুদরতের নিদর্শন দেখে উপদেশ গ্রহণ করার তৌফীক দান করুন।
তাফসীর : এই সৃস্টি জগতে বর্তমানে যা কিছু বিদ্যমান আছে এবং যা কিছু ভবিষ্যতে অস্তিত্ব লাভ করবে এসব কিছুর সৃষ্টি, সৃষ্টির পর এগুলোকে টিকিয়ে রাখা এবং এগুলোকে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত করা এসব কিছুই মহান আল্লাহ তাআলার কুদরত ও প্রজ্ঞার লীলা। যদি মাধ্যম যবনিকা মাঝখানে অন্তরায় না হত আর মানুষ এসব বস্তুর সৃষ্টির অবস্থা কোন মাধ্যম বিহীন প্রত্যক্ষ করত তাহলে ঈমান আনতে বাধ্য হত। কিন্তু আল্লাহ তাআলা যেহেতু এ জগতকে পরীক্ষার জগত বানিয়েছেন তাই প্রত্যেক বস্তুর অস্তিত্ব ও বিকাশ কোন একটি মাধ্যমের সাহায্যে লাভ হবে— এ বিধান করে রেখেছেন। আর আল্লাহ তাআলা বস্তু ও তার মাধ্যমের মাঝে এমন এক শক্তিশালী সম্পর্ক রেখে দিয়েছেন যে, যেখানেই মাধ্যমের অস্তিত্ব লাভ হয়ে যায় সেখানেই বস্তুর অস্তিত্ব লাভ হয়ে যায়। যার ফলে স্থ‚লদৃষ্টির অধিকারী ব্যক্তিরা মাধ্যমকেই প্রকৃত কারণ ধারণা করে বসে। প্রকৃত কারণ বা স্রষ্টার দিকে তাদের দৃষ্টি যায় না।
উল্লেখিত আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানবসৃষ্টির সম্মুখে যে একটি মাধ্যম যবনিকা ছিল তা উন্মোচন করে দিয়েছেন। গাফেল মানুষ যেহেতু দৈনন্দিন প্রত্যক্ষ করছে যে, স্বামী-স্ত্রীর মিলনে গর্ভ সঞ্চার হয়। অতঃপর তা মাতৃগর্ভে বড় হতে থাকে। নয় মাস পর এক সুন্দর সুঢৌল পূর্ণাঙ্গ মানুষরূপে বের হয়ে আসে। দৈনন্দিনকার গতানুগতিক এ সৃষ্টিধারা প্রত্যক্ষ করার কারণে গাফল ও শৈথিল্যপরায়ণ মানুষের দৃষ্টি এতেই নিবদ্ধ থেকে যায়। তাই আল্লাহ তাআলা শৈথিল্যের পর্দা ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে খোদ মানুষকেই সম্বোধন করে বলছেন-
اَفَرَءَیْتُمْ مَّا تُمْنُوْنَ ءَاَنْتُمْ تَخْلُقُوْنَهٗۤ اَمْ نَحْنُ الْخٰلِقُوْنَ
অর্থাৎ : তোমরা একটু চিন্তা ও ধ্যান করে দেখ, সন্তান জন্মের ক্ষেত্রে তোমাদের দখল বা হাত এছাড়া আর কি আছে যে, তোমরা কেবল স্ত্রীর গর্ভে এক ফোঁটা বীর্যপাত ঘটাও। এরপর কি ঘটতে থাকে তার কোন খবর তোমাদের আছে কি? বীর্য কি আকার ধারণ করছে, কি কি অবস্থা তার উপর দিয়ে অতিক্রান্ত হচ্ছে, কিভাবে ও কখন হাড় তৈরি হচ্ছে, গোশত তৈরি হচ্ছে, কিভাবে ও কোন নাজুক মেশিনের মাধ্যমে তার খাবার তৈরি করা হচ্ছে। অতপর তার দেহস্থ চক্ষু, কর্ণ, নাসিকাসহ অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, বাকশক্তি, বিবেক শক্তি ইত্যাদি সংযোজন করার জন্য কত ধরনের মেশিন ও যন্ত্র সে ক্ষুদ্র জগতে কাজ করছে। কিন্তু পিতা বা খোদ মাতা যার গর্ভে এমন কিছু ঘটছে তারও কি কোন খবর আছে? পরিশেষে কোন কুদরতওয়ালা ত্রিপর্দার (চামড়া, জরায়ূ ও শিশুর দেহস্থ পাতলা আবরণ) অন্ধকারে এমন সুন্দর-সুঢৌল, চক্ষু-কর্ণ ও বিবেকমান মানুষ তৈরি করেছেন এ বিষয়টি কি কখনো চিন্তা করে দেখেছ? সত্যিই গভীরভাবে যদি কেউ মানবসৃষ্টিতে মহান আল্লাহর যে সৃষ্টি নৈপুণ্য নিহিত রয়েছে তা লক্ষ করে আর সে জ্ঞানান্ধ না হয়ে থাকে তবে সে স্বতঃস্ফূর্ত বলে উঠবে—
فَتَبٰرَکَ اللهُ اَحْسَنُ الْخٰلِقِیْنَ
কতই না মহান আল্লাহ তাআলা যিনি সর্বোত্তম সৃষ্টিকর্তা।
অধিকন্তু মাতৃগর্ভে সন্তানকে প্রথম পর্যায়ে পূর্ণ রূপ না দিয়ে বরং প্রথমে বীর্যাকারে তারপর জমাট রক্তাকারে তারপর গোশত পিণ্ডাকারে এভাবে পর্যায়ক্রমে ধীরে ধীরে সৃষ্টিকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এতেও অসংখ্য হেকমত, রহস্য এবং কুদরতের নিদর্শন নিহিত রয়েছে।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাঁর এসব কুদরতের নিদর্শন দেখে উপদেশ গ্রহণ করার তৌফীক দান করুন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন