বুধবার, ৮ জুলাই, ২০১৫

আমাদের চলার পথ যারা রচনা করে গেছেন

বাংলাদেশ পাকিস্তান ভারত ও এ অঞ্চলের প্রায় আশি কোটি মুসলমান দখলদার ইংরেজ শাসনের একশ নব্বই বছরে কত ষড়যন্ত্র ও বিরোধ মুকাবালা করে যে টিকে আছে তা ভাবলেও গা শিউরে উঠবে। যদি হাক্কানী উলামায়ে কেরাম বিপ্লবী পীর মাশায়েখ ও সংগ্রামী সাধক মনীষীরা জীবনপণ যুদ্ধে লেগে না থাকতেন তাহলে এসব মুসলমানের পূর্বপুরুষরা হয় পৌত্তলিক মূর্তিপূজারী মুশরিক হয়ে যেতেন অথবা খ্রিস্টান হয়ে যেতেন। হয় তারা কঠিন বিদআতী অথবা কাদিয়ানী হয়ে যেতেন নয় তো তারা হতেন মুসলিম নামধারী পাশ্চাত্যবাদী মুরতাদমার্কা বদদীন। নিদেন পক্ষে নানা ধরনের ধর্মীয় অপব্যাখ্যা, ভ্রান্ত আকীদা ও দেশীয় অপসংস্কৃতির শিকার তাদের হতেই হত। বেশরা পীর ফকীর, আউল বাউল, চৈতন্যবাদী কোনটা তারা না হতেন। ভাবনায় ইহুদী, ভাবধারায় খ্রিস্টান, সংস্কৃতিতে হিন্দু, শিক্ষা সাহিত্যে নাস্তিক, বেশ ভূষায় বোহেমিয়ান ও আচরণে অসভ্য, এসবও তারা হতে পারতেন। কিন্তু উপমহাদেশের হাক্কানী পীর মাশায়েখ, বীর বিক্রম ওলি দরবেশ, সংগ্রামী আলেম সমাজ অসামান্য ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে তাদের ঈমান-আকীদা, ধর্মীয় ও মানবিক পরিচয় সুরক্ষিত রেখেছেন।
এসব ক্ষেত্রে আধুনিক সময়ে দারুল উলূম দেওবন্দের সন্তানদের অবদান সূর্যের মত উজ্জ্বল। বাংলাদেশের প্রথম যারা দেওবন্দ থেকে নিখুঁত ইসলামী শিক্ষা ও উচ্চমানের মানবীয় দীক্ষা গ্রহণ করে এ দেশে নবজীবনের মশাল হাতে ফিরে এসেছিলেন তাদের মধ্যে লক্ষীপুরের আল্লামা শায়খ আব্দুল্লাহ (রায়পুর) ও চট্টগ্রামের আল্লামা শায়খ আব্দুল ওয়াহেদ (হাটহাজারি) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এরপর সর্বপ্রথম চট্টগ্রাম দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী ও সিলেটের মৌলভীবাজার এলাকার বড় লেখা থানাধীন বড়খলা বশিরিয়া মাদরাসা ইত্যাদি দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু করে বিপ্লবী আলেম সম্প্রদায়ের এই কাফেলা জীবনসাধনার ময়দানে আত্মপ্রকাশ করেন। চলতি বছর শতবর্ষ পূর্তি উদযাপনরত ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জামিয়া ইউনুছিয়া এ ধারারই অন্যতম উৎসপ্রতিষ্ঠান। তৎকালীন সময়ে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সংস্কারক আলেমদের মধ্যমণিগণ প্রায় সকলেই কর্মজীবনের শুরুতে কিছুদিন হলেও জামিয়া ইউনুছিয়া ব্রাহ্মণবাড়ীয়া ছিলেন। যেমন, আধুনিক বাংলাদেশের ইলমী দাওয়াতী ফিকরী ইসলাহী ও সার্বিক জাগরণধর্মী আন্দোলনের মহান রূপকার মুজাহিদে আজম আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী রহ., মুজাহিদে মিল্লাত মাওলানা আতহার আলী রহ., আমীরে শরীয়ত হযরত মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী রহ.।
হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী প্রতিরক্ষামূলক কৌশলগত জনপদ ঢাকা। মোঘল সুবাদার খাজা ইসলাম খাঁ চিশতী রহ. প্রথম যাকে ১৬০৮ থেকে ১৬১২ সালের মধ্যকার সময়টিতে রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলেন। এরপর থেকে ঢাকা সুবে বাংলার রাজধানী, বৃটিশ বাংলার রাজধানী, পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে নতুন নতুন পরিচয়ে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্র বাংলাদেশের রাজধানী হিসেবে ঢাকা পূর্ণ মহিমা ও ঈর্ষণীয় ঔজ্জ্বল্যে নবরূপে প্রস্ফুটিত হয়। ঢাকা শব্দটি শাসক আফগানদের দান। অর্থ, প্রতিরক্ষা সেনা চৌকি। এর কাছাকাছি শব্দ ডেমরা। শুরু থেকেই ঢাকা মসজিদের জন্য বিশিষ্টতা অর্জন করে। প্রায় দেড় কোটি জনসংখ্যার মেগাসিটি তিলোত্তমা ঢাকা পৃথিবীর সর্বাধিক মসজিদ সমৃদ্ধ নগরী। অতীত কাল থেকেই একে মসজিদনগরী বলা হয়। বহু শতাব্দী আগে ইস্তাম্বুল ছিল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মসজিদনগরী। এ শতাব্দীতে পৃথিবীর স্বীকৃত অপ্রতিদ্বন্দ্বী ‘সিটি অব মস্ক’ হচ্ছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। দ্বীনি মাদরাসার জন্যও এ মহানগরী পৃথিবী বিখ্যাত। মানববিশ্বে দাওয়াত তাবলীগের সুবাদে সর্বাপেক্ষা পরিচিত উচ্চারিত ও অধিক চর্চিত প্রিয় গন্তব্য এই ঢাকা। বিশ্ব ইজতেমার সংঘটনস্থল।
ঢাকা শুরু থেকেই ইলমে দ্বীন চর্চার কেন্দ্র হিসেবে বিখ্যাত ছিল। প্রাচীন বাংলার রাজধানী সোনারগাঁও এর সুরক্ষার কাজে ব্যবহৃত চৌকি এই ঢাকা যদিও তখন রাজধানীর মর্যাদা পায়নি তথাপি সোনারগাঁয়ের অভিজাত শ্রেণীর যাতায়াত ঢাকাতেও কম বেশি ছিল। মোঘল বিজয়ের প্রাক্কালে ঢাকার শাসক আফগান বীর খাজা উসমান খান রহ. বিশিষ্ট আলেম ছিলেন। তিনি ঢাকা ও ডেমরায় মাদরাসা নির্মাণ করেছিলেন। ইসলাম খাঁ তার নামে বুড়িগঙ্গার তীরে ইসলামপুর ও নবাবপুর নামক শহর গড়ে তোলেন। আরিচা থেকে চাঁদপুর পর্যন্ত কৌশলগত সকল জায়গা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দিল্লী থেকে আগত মোঘল মুসলিম ভূতত্ত্ববিদ ও পরিবেশ বিজ্ঞানীরা সোনারগাঁয়ের কাছাকাছি চারিদিকে নদী বেষ্টিত এই ঢাকাকেই স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ নগরী রূপে রাজধানীর উপযুক্ত মনে করেন। স্থলপথে কেবল টঙ্গীর সাথে তারা ঢাকাকে একটি পাকা ব্রিজের মাধ্যমে সংযুক্ত করেন। ঢাকা শহর প্রথম কতটুকু আয়তনের হবে তা নির্ধারণের জন্য বুড়িগঙ্গায় সুবাদার খাজা ইসলাম খাঁ চিশতী তার রাজকীয় বজরায় ডঙ্কা পেটানোর মাধ্যমে শব্দ সৃষ্টি করেন। এ আওয়াজ পোস্তগোলা থেকে হাজারীবাগ পর্যন্ত অপরদিকে জিঞ্জিরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত শোনা যায়। অনেকে অজ্ঞতা বশত বলেন, ঢাক পিটিয়ে এ শহরের সীমানা নির্ধারিত হওয়ায় এর নাম ঢাকা। মূলত এ কথা সত্য নয়। কেননা যখন নৌকার ডঙ্কা পেটানো হয় অথবা যুদ্ধের ঢেরা পেটানো হয় তখনও এবং এর বহু শতাব্দী আগেও এ শহরের নাম ছিল ঢাকা। তাছাড়া সেদিন পেটানো হয়েছিল ডঙ্কা বা ঢেরা, ঢাক নয়। একদল আন্দাজ করে বলেন, ঢাকায় নাকি প্রচুর ঢাক গাছ ছিল এজন্য শহরটির নাম ঢাকা। আমি বলি, এখন একটিও ঢাক গাছ নেই কেন। তাছাড়া বাংলাদেশের আর কোন বড় শহরের নাম গাছের নামে নয় কেন। এসব কথার কোন মানে হয় না। একটি মত এমনও আছে যে, ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে ঢাকার নাম। একথা সঠিক হওয়ার কোন কারণ নেই। কেননা একটি শহর আবাদ হওয়ার পরই ভক্তরা এ ধরনের নাম দিয়ে থাকেন। যেমন, দিল্লীশ্বরী, ভারতেশ্বরী। এখানে দিল্লী আগে, ভারত আগে এরপর যুক্ত হয়েছেন ইশ্বরী। তাহলে ঢাকা আগে এরপর হলেন ইশ্বরী। প্রাচীন ঢাকা শহরেরই এক কোণে কোন ভক্ত নির্মাণ করেন ঢাকেশ্বরী মন্দির।
ইসলাম খাঁ চিশতী মোঘল যুগের প্রথম রাজধানী ঢাকায় স্থাপন করেন ইসলামিয়া মাদরাসা। প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পর নিকট অতীতে একে নবরূপে স্থাপন করেন নবাব সলীমুল্লাহ। যিনি হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. এর একান্ত ভক্ত ও গুণগ্রাহী ছিলেন। বহুচেষ্টা তদবীর করে একবার তিনি হযরত থানভী রহ. কে ঢাকায় নিয়ে আসেন। তখন হযরত থানভী রহ. ইসলামের খেদমত করার জন্য তাকে বিশেষ দোয়া করে যান এবং দ্বীনি কাজে ব্যয় করার জন্য দুই শত টাকা হাদিয়া দেন। কথিত আছে যে, হযরত থানভী রহ. কে বহনকারী নবাবের ফিয়াট গাড়িটি নবাব সাহেব শ্রদ্ধাবশত আর ব্যবহার করেননি। এটি যেন নবাব পরিবারের কোন সদস্য তার অজান্তে আনন্দভ্রমণ বা বিলাসিতার কাজে ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য তিনি গাড়িটি বুড়িগঙ্গার পানিতে ডুবিয়ে দেন। পীরের প্রতি ছিল তার এমনই অন্ধভক্তি।
বাংলার স্বাধীনতা যখন বিলুপ্ত। ইংরেজ শাসকরা ঢাকার হর্তাকর্তা। তখন কিছু আলেম এখানে দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারে যথেষ্ট কোরবানী পেশ করেন। হযরত সাইয়্যেদ আহমদ শহীদ রহ. এর মুজাহিদ আন্দোলনে ঢাকার যেসব জাঁবাজ সাথী অংশগ্রহণ করেন তাদের অনেককেই নির্যাতনের শিকার হতে হয়। একটি নাম এখানে উল্লেখ না করলেই নয়। তিনি বংশালের হাজী বদরুদ্দীন, যিনি বাংলাদেশ থেকে মুজাহিদদের জন্য অর্থ সাহায্য নিয়ে বালাকোটের পথে যাওয়ার সময় দিল্লীর কাছাকাছি ট্রেনে বৃটিশ গোয়েন্দাদের হাতে গ্রেফতার হতে হতে বেঁচে যান। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়েই তিনি অর্থ সম্পদসহ ট্রেনের কোন অংশে আত্মগোপন করেন। পুরো ট্রেন থামিয়ে অসংখ্য পুলিশ ও গোয়েন্দা পূর্ব খবরের ভিত্তিতে তাকে উদ্দেশ্য করে তল্লাশি চালায়। তিনি মুজাহিদদের নিকট বাংলাদেশী মুসলমানের এই আমানত পৌঁছে দেয়ার জন্য এবং ধরা পড়লে নিশ্চিত মৃত্যু এড়াতে নিজেই নিজের একটি চোখ নষ্ট করে ফেললেন। কাপড় পোড়া ছাই লাগিয়ে রক্ত বন্ধ করেন এবং চেকিংয়ে একজন চক্ষুবিহীন অন্ধ ব্যক্তি যিনি চিকিৎসার জন্য পশ্চিমের কোন শহরে যাচ্ছেন এ পরিচয়ে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে বালাকোট পৌঁছে যান। ঢাকার মানুষ তখন তাকে জাতীয় বীর ও কিংবদন্তীর নায়ক হিসেবে স্মরণ করত। ১৮৫৭ সালে মহাবিপ্লবের সময় ঢাকার আলেমগণ সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তখন প্রচুর আলেম ও স্বাধীনতাকামী দ্বীনদার মানুষ হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হন। এর নয় বছর পর ভারতের উত্তর প্রদেশে প্রতিষ্ঠিত হয় দারুল উলূম দেওবন্দ। শুরুর দিকেই সেখান থেকে ফারেগ হয়ে আসেন লেখার শুরুতে উল্লেখিত দুই অগ্রপথিক ফাযেলে দেওবন্দ। এরও বহু বছর পর ঢাকায় দেওবন্দের যে কাফেলা নবপর্যায়ে দ্বীনি তৎপরতা শুরু করেন তারাই আধুনিক ঢাকার দ্বীনি কর্মকাণ্ডের স্বার্থক রূপকার।
ইতিহাসের নায়ক তিন প্রতিভা ঢাকায় বিপ্লবী আলেম সমাজের পথিকৃত। তারা হলেন, মুজাহিদে আজম হযরত আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী রহ., হযরত মাওলানা আব্দুল ওয়াহহাব পীরজী হুজুর রহ. ও হযরত মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর রহ.। ঢাকা সূত্রাপুরে কোন এক বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তির সহায়তায় হযরত থানভী রহ. এর এই তিন খলীফা দ্বীনের কাজ শুরু করেন। এরপর মোঘলদের পরিত্যাক্ত একটি সৈন্যশিবির বড় কাটরাকে কেন্দ্র করে দ্বীনি মাদরাসা কায়েম করেন। জিঞ্জিরার জনৈক ইলমদোস্ত ব্যক্তির ওয়াক্ফকৃত স্থানে তারা প্রতিষ্ঠা করেন হোসাইনিয়া আশরাফুল উলূম মাদরাসা। দাতা ব্যক্তিটির নামেই এর নাম হয় হোসাইনিয়া। এদেশের প্রথম প্রজন্মের বিখ্যাত ও সুযোগ্য আলেমদের শীর্ষ ব্যক্তিরা বড় কাটরা থেকেই ফারেগ হন।
কিছুদিন পর মোঘলদের স্মৃতিবহ লালবাগ কেল্লাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় জামিয়া কোরআনিয়ার যাত্রা। লালবাগ শাহী মসজিদকে ঘিরে অল্প কিছু জায়গা নিয়ে হযরত ফরিদপুরী রহ. এর কাজ শুরু করেন। কথা ছিল গোটা লালবাগ কেল্লাটি নিয়েই স্থাপিত হবে দেশের প্রথম কওমী বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু ইসলামবিরোধী নানা পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে আইয়ুব সরকারের সাথে দ্বিমত করায় ছদর সাহেব হুযুরকে ওয়াদামত কেল্লাটি দেয়া হয়নি। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ‘জামিয়া’ নামটি ব্যবহার করেন মুজাহিদে মিল্লাত মাওলানা আতহার আলী রহ.। ১৯৪৫ সালে তিনি কিশোরগঞ্জে জামিয়া ইমদাদিয়া স্থাপন করেন। ১৯৫০ সালে জামিয়া কোরআনিয়া নামকরণ করেন হযরত ছদর সাহেব হুযুর। এটি দেশের দ্বিতীয় জামিয়া। লালবাগ থেকেও বাংলাদেশের প্রখ্যাত ও সুযোগ্য বহু আলেম ফারেগ হন। হযরত ফরিদপুরী ছদর সাহেব হুজুর নামে খ্যাত ছিলেন। তিনি বুড়িগঙ্গা তীরে ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ মাদরাসারও প্রতিষ্ঠাতা। বর্তমানে এর নাম জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম। দেশের প্রখ্যাত ও সুযোগ্য বহু আলেম জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ এর ফারেগ। এরপর হযরত হাফেজ্জী হুজুর কামরাঙ্গীর চরে জামিয়া নূরীয়া নামে নতুন আরেকটি দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন। ছদর সাহেব হুজুরের অন্যতম প্রিয়ছাত্র বড় কাটরা মাদরাসার শ্রেষ্ঠ সন্তান শায়খুল হাদীস আল্লামা আজীজুল হক প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন ও বিকশিত করেন মুহাম্মদপুর জামিয়া মোহাম্মদীয়া, সাত মসজিদ জামিয়া রাহমানিয়া ও ঢাকা উদ্যান জামিয়াতুল আজীজসহ বেশ কিছু দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বড় কাটরার আরেক কৃতি সন্তান হযরত মাওলানা আশরাফ আলী রহ. প্রতিষ্ঠা করেন ময়মনসিংহ জামিয়া ইসলামিয়া। তিনি হযরত শাইখুল হাদীসের সহপাঠী ও আল্লামা যফর আহমদ উসমানী রহ. এর খলীফা। বাংলাদেশে দাওয়াত ও তাবলীগে প্রথম দিককার যিম্মাদার আলেমগণের তিনি অন্যতম।
আজকের ঢাকায় দেওবন্দী ভাবধারার শত শত মাদরাসা সেদিনের সেই তিন অগ্রপথিকেরই স্বপ্নের ফসল। দারুল উলূম দেওবন্দের অন্য আরো কিছু কৃতি সন্তানের প্রচেষ্টায় যাত্রাবাড়ী, মাদানীনগর, মালিবাগ, খিলগাঁও চৌরাস্তা, চৌধুরী পাড়া, তেজগাঁও, মিরপুর- ৬, ১৩, ১৪, আরজাবাদ ইত্যাদিসহ অসংখ্য ছোট বড় মাদরাসায় রাজধানী ঢাকা সমৃদ্ধ। মহানগরের বাইরে বৃহত্তর ঢাকায় কেবল দাওরায়ে হাদীস পর্যায়ের মাদরাসাই শতাধিক। হাজারো মসজিদের ইমাম খতীব, শত শত মাদরাসার মুহতামিম, শাইখুল হাদীস, মুহাদ্দিসীন, মুফতীয়ানে কেরাম ও বিভিন্ন স্তরের উলামা মাশায়েখ মূলত সেই তিন মনীষীরই রূহানী সন্তান। আমরা আধুনিক বাংলাদেশের গর্বিত রাজধানী ঢাকার দ্বীনি পরিকাঠামোর নির্মাতা এই তিন পিতৃপুরুষের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করি। আল্লাহ তাদেরকে উপযুক্ত বদলা দান করুন এবং অনাগত দিনের প্রতিটি প্রজন্মকে তাদের অবদান স্মরণ ও তাদের মহান আদর্শ অনুসরণের তৌফিক দিন।
-মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন